মার্চ ২১, ২০২৩

Living personalities on Banknote (Autocracy,Totalitarianism and Dictatorship)

 

একটি দেশের নোট প্রায়শই একটি দেশের পরিচয় এবং সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে একই সাথে একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ প্রদর্শন করে। এমন কিছু উদাহরণও রয়েছে যেখানে ব্যাঙ্কনোটে এমন ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য রয়েছে যারা স্বৈরশাসক বা স্বৈরাচারী ছিলেন। নোটাফিলিতে আমরা বিশেষত তাদের শাসনামলে প্রকাশ করা ব্যাংক নোটে তাদের ছবি দেখে সেগুলুর পেছনের গল্প জানার চেষ্টা করি । ব্যাপারটি যদিও ছোটখাট বিষয় মনে হতে পারে, তবে অনেকেই এটিকে থিম হিসেবে অনুশীলন করে আসছে।

যদিও কেউ কেউ যুক্তি দেন যে এটি দেশের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, তবে অন্যরা বিশ্বাস করে যে এটি কর্তৃত্ববাদী নেতাদের মহিমান্বিত করে এবং বিশ্বকে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে যে দেশটি এখনও তার কর্তৃত্ববাদী অতীতের সাথে আবদ্ধ বাঁ আবদ্ধ হতে  চলছে।

ব্যাঙ্কনোটে স্বৈরশাসকের সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হল সাদ্দাম হোসেন, যিনি তার সময়কার ইরাকি দিনারগুলিতে ছিলেন। আরেকটি উদাহরণ হল মুয়াম্মার গাদ্দাফি, যাকে তার সময়ের লিবিয়ান দিনারে দেখা যায়।

স্বৈরশাসক বা স্বৈরশাসকদের বৈশিষ্ট্যযুক্ত ব্যাঙ্কনোটের ব্যবহার শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সীমাবদ্ধ নয়।

 

এখানে আমি বহুমতের ভিত্তিতে স্বীকৃত স্বৈরশাসক বা স্বৈরাচারীদের মটিফ সহ ব্যাঙ্কনোটের দেশ গুলুর একটি  তালিকা তৈরি করেছিঃ

 

Saddam Hussein - Iraqi Dinar (1986-2003)

Muammar Gaddafi - Libyan Dinar (1971-2011)

Bashar al-Assad - Syrian Pound (1971-present)

Kim Il-sung - North Korean Won (1947-1992)

Saparmurat Niyazov - Turkmenistani Manat (1993-2009)

Vladimir Lenin - Soviet Ruble (1918-1924)

Francisco Franco - Spanish Peseta (1939-1975)

Idi Amin - Ugandan Shilling (1971-1979)

Mobutu Sese Seko - Congolese Franc (1971-1997)

 

অধিকাংশ সময় ই রাজতন্ত্রে সেই দেশের রাজা/রানির ছবি তাদের জীবৎকালেই মটিফ হিসেবে দেখা যায়। তবে কম সংখ্যক দেশেই জীবিত ব্যাক্তির ছবি নোটে প্রকাশ করা হয়েছে। আমার হিসেবে এটি তেল দেয়া এবং অহমিকার একটি প্রদর্শন।

যাইহোক, এমনও কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে যেখানে জীবন্ত মানুষের ছবি মটিফ হিসেবে ব্যাঙ্কনোটে আছে; যেখানে তারা দাবি করে যে তারা স্বৈরশাসক বাঁ সেই দেশটি রাজতান্ত্রিকও নয় কিন্তু চরিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে তারা অত্যন্ত বিতর্কিত। যেমন শ্রীলঙ্কা থেকে মাহিন্দা রাজাপাকসে, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা ইত্যাদি। ইতিহাস দেখলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নব্য স্বাধীন হওয়া দেশের বড় বড় রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাগনও সেই দেশের নোটে তাদের জীবৎকালেই স্থান পেয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান। 

মার্চ ০৩, ২০২৩

ত্রুটি[Error] এবং প্রকরনের [Varity/Variation] পার্থক্য কিভাবে করবেন?

 

প্রকরন [Variety]: সাধারণত কোন নোটের ছোট ছোট কোন পরিবর্তন এবং স্বাক্ষর পরিবর্তনকে প্রকরণ ধরা হয়। তবে অবশ্যই তা পরিমান যোগ্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ হতে হবে। তবে এর সাথে সাথে আমি মনে করি কিছু অতিরিক্ত শর্ত যোগ হলে সংজ্ঞাটি আরও স্পষ্ট হয়। যেমনঃ সময়ের সাথে সাথে এর কোন মূল্যমান সম্পৃক্ত তাৎপর্য থাকতে হবে। পরিবর্তন টি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য মূলক হতে হবে, এরর বা ত্রুটি হলে তা ভেরিয়েশন বা প্রকরণ হিসেবে বলা যাবে না।

এখন ত্রুটি[Error]  এবং প্রকরনের [Varity] পার্থক্য কিভাবে করবেন?

প্রকরণ হবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং প্রায় সব সময় ই আইটেমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে করা হয়। অন্য দিকে ত্রুটি [Error] সব সময়ই অনিচ্ছাকৃত। এবং সব সময় না হলেও অনেক সময় ই তা আইটেমের নেতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। যেমনঃ কোন নোটের সিকিউরিটি ফয়েলের কিছু অংশ মিসিং, বাঁ কোন শব্দের হয়তো একটি বানান ভূল  এখন এটাকে প্রকরণ বলা ভূল হবে কারন সেটা আইটেমের সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন করে এবং সিকিরিটি ফয়েল এবং শুদ্ধ বানান যে কারনে ব্যাবহার হয় তার উপযোগীতাকে ব্যাহত করে। অতয়েব হাজার/লাখ/কোটি খানেক নোট এই ফিচারে বের হলেই সেটা একটা প্রকরন/ভ্যারাইটি হিসেবে গন্য হবে না।

তবে হ্যাঁ, যদি সংগ্রহের বিস্তারের খাতিরে আপনি যদি সেগুলুকে একটি প্রকরণ মনে করেন তাহলে আমার কি বলার থাকতে পারে।

অন্য দিকে কোন কারনে কোন শব্দ বাঁ বাক্য পরিবর্তন বাঁ সংশোধন হলে সেটা নোটাফিলির সংগ্রাহক রা প্রকরণ হিসেবে ধরে নেন। যেমনঃ বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোটে “শিল্পী” এর জায়গায় “শিল্পাচার্য” শব্দের প্রতিস্থাপন।  

যেহেতু নোট,কয়েন,স্ট্যাম্প,পাসপোর্ট ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ কঠোর মান নিয়ন্ত্রনের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়, তাই সেগুলুর যেকোন প্রকরণ ই সংগ্রাহকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়। আর সেই প্রকরনের কত গুলু পিস/নমুনা বাজারে ছাড়া হয়েছে এবং কত গুলু বর্তমানে বাজারে আছে তার উপর সেই প্রকরণ গুলুর দুর্লভ্যতা নির্ভর করে যা পরবর্তীতে “দাম” হিসেবে অনুবাদিত হয়।

আমার পরামর্শঃ

আপনি যদি প্রকরণ ধরে সংগ্রহ করেন তাহলে আপনার জন্য Define& Refine থিওরি ফলো করা উত্তম। যেখানে প্রথমে আপনি আপনার সংগ্রহের থিম কে নির্ধারণ [Define]করবেন এবং অতঃপর মেন্টর বাঁ পিয়ার ডিসকাশনের মাধ্যমে সেটাকে পরিশোধন [Refine] করবেন। উদাহরনঃ কোন একজন সংরাহকের ধারনা তার কাছে সবচেয়ে দামী/বড়/ছোট/কম দামী নোট/কয়েন/স্ট্যাম্প আছে। এখন যদি সকল বিশেষন ই স্থান,কাল,পাত্র ভেদে আপেক্ষিক। তাই এদের সংজ্ঞাও কে ব্যাখ্যা করছে,কার কাছে ব্যাখ্যা করছে সেই হিসেবে পরিবর্তন হয়। তাই একজন জ্ঞ্যানী সংগ্রাহক হিসেবে আপনার সংগ্রহের দৈর্ঘ,প্রস্থ গভীরতা ইত্যাদি জানার দ্বায়িত্ব আপনার।

প্রকরনের এর কোন স্বীকৃত সংজ্ঞা না থাকায় আমি  স্টিভেনস পওার ল [Steven’s power law] অনুসারে বলবো- দৃশ্যমান পৃষ্ঠের ডিজাইনে কমপক্ষে ০.৭% পরিবর্তন কে লক্ষণীয় পরিবর্তন ধরা যায় এবং প্রকরেরন শর্তে পড়লে সেটাকে প্রকরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমাকে যখন কোন প্রতিযোগীতাতে আমন্ত্রন করা হয় আমি মনে মনে এটাকে সেই সূক্ষ লাইন হিসেবে রাখি যা সাধারন সংগ্রাহকগন অতিক্রম করেন না।