ডিসেম্বর ৩১, ২০২২

পলিশ করা কয়েন বুঝার উপায়। পর্ব-১.[How to recognise polished coin (Hand polishing)]

বিষয়ঃ পলিশিং এবং তা বুঝার উপায়।

ধাতু পরিস্কারের সবচেয়ে ব্যাবহৃত ৩ টি পদ্ধতি হচ্ছে-
ক) পলিশিং
খ) ডিপিং, এবং 
গ) লেসার স্ক্রাবিং বা সাব্লিমেশন
প্রথম টি হচ্ছে মেকানিকাল, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ক্যামিক্যাল এবং শেষেরটা সবচেয়ে আধুনিক যা ব্যাখ্যা করতে আলাদা একটা পোস্ট করা হবে।

কোন ধাতু 'পলিশ/পালিশ' করা মানে হচ্ছে,ঘষামাজার মাধ্যমে তার উপরের পরত টি কে উঠয়ে নিচের সংরক্ষিত পরতটি কে ফুটিয়ে তোলা। এই কাজ টি দুই ভাবে করা যায়-মেশিন দিয়ে এবং হাতের সাহায্যে। যে ভাবেই করুন বা হাতে করুন দুটির ফলাফল ই এক তবে প্রশিক্ষিত চোখ কোনটি ই এড়াবে না। কারন দুটি কাজের ই আলাদা আলাদা আলামত থেকে যায়।
এই পোস্টে আমি হাতের সাহায্যে করা পলিশিং এর ব্যাপারে কথা বলবো।

যেভাবেই পলিশিং করা হোক সাধারণ তা পলিশিং কম্পাউন্ড ব্যাবহারের মাধ্যমে হয়। যা সাধারণত দুই ধরনের হয় পেস্ট এবং বার। বার ব্যাবহার হয় যখন কাজ টি মেকানিক্যাল (রোটারি টুলের সাহায্যে )  ভাবে করা হয়। হাতের মাধ্যমে কায়িক ভাবে করলে পেস্ট ব্যাবহার করা সহজতর। আমি দুটোই ব্যাবহার করেছি যখন এনগ্রেরেভিং প্র‍্যাকটিস করতাম। তাই আমার কিছু পুরোনো ছবি দিয়ে ই এই পোস্ট সাজালাম। পলিশিং কম্পাউন্ডের ব্যাপারে আরো কয়েকটি পোস্ট লেখা যাবে,যা আপনারা আগ্রহ দেখালে পোস্ট করবো।এখানে সেই আলোচনায় গেলাম না।

হাতের পলিশিং অনেক সময় সাপেক্ষ। কাজ শেষে অনেক মাইক্রস্কোপিক স্কার তৈরি হয়;যা ছবি তে দেখিয়েছি। এই স্কার প্যাটার্ন দেখেই বুঝা যায় যে আইটেমে কোন পলিশিং করা হয়েছে কি না এবং করা হলে সেটা কি ধরনের (*হাতে বা রোটারি টুল দিয়ে)। 

এখানে আমি কপার নিকেলের একটি কয়েনে কাজ এবং ব্রঞ্জের একটি কয়েনে কাজ পাশাপাশি দেখালাম।
তাছাড়া,অভিজ্ঞতা এবং ধৈর্য ছাড়া কাজ করলে আনাচে কানাচে (বিভিন্ন অক্ষরের ফাঁক ফোকরে) যাকে আমরা গ্রুভ[Groove] বলি,পুরোনো সারফেস রয়ে যায় যা খুব কাছে থেকে দেখলে বুঝতে পারবেন।
এছাড়াও,প্রচুর অভিজ্ঞতা ছাড়া পলিশিং করলে,অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইটেমের ন্যাচারাল লাস্টার যাকে আমরা ক্লক হুইল এফেক্ট [clock wheel effect ] বলি তা নষ্ট হয়ে যায়,*এটা ভিডিওর মাধ্যমে অন্য পোস্টে বুঝতে হবে।

তবে, ডিপিং এবং সাব্লিমেশনের সাথে তুলনা করলে পলিশিং এর কিছু সুবিধা ও আছে। পোস্ট বড় হয়ে যাওয়ার কারনে আর বিস্তারিত লিখলাম না।সব গুলু ব্যাবহার করার অভিজ্ঞতা থাকায় আমি তুলনা টানতে পারি,তাই মন খুলে প্রশ্ন করুন।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২২

কিভাবে বুঝবেন আপনার নোট টি ওয়াশ করা বা ট্রিটমেন্ট করা কি না।[How to find out if a note is washed] Part -2

প্রথমে এই নিয়ে আমি যে লেখা গুলু লিখেছি সেগুলো পড়ুন। তার পর না বুঝলে প্রশ্ন করুন। চ্যাট বা টেলিফোনে এসব বুঝানো অনেক কঠিন।এগুলো ব্যাবহারিক অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞ্যান। তাত্বিকভাবে বুঝানো প্রায় অসম্ভব। তারপরও আরও কিছু টোটকা দিলাম বুঝার চেষ্টা করুন।

আমি বাংলাদেশে আসলে সরাসরি দেখা করেও প্রশ্ন করতে পারেন।

এখানে যা দেখিয়েছি-
১) প্রেস করলে এবং কঠোর রাসায়নিক ব্যাবহার করে নোট পরিস্কার করলে ইবটাগ্লিও প্রিন্টিং এর কালি ক্ষয় হয়ে যায়। নোটে মলিন ভাব চলে আসে,নোটের কাগজে মরা মরা ভাব চলে আসে, অনেক সময় ই তা আর কড়কড়ে থাকে না।(*যাকে আমরা ইংরেজীতে Limp বলি)।
২) ক্যামিকেল এবং হিট ব্যাবহার করলে কালি তে সুক্ষ্ম ফাটল বা Crack দেখা দেয় যা আমি আমার মাইক্রোস্কোপের ছবি থেকে দেখালাম।ভালো করে খেয়াল করুন।
৩)হিট প্রেস করলে নিরাপত্তা ফয়েল কিছুটা শেপ চেঞ্জ করে, কুচকে যায়,বিবর্ন হতে পারে,যা ছবিতে আমি তুলনা দেখালাম।
৪) কঠোর ক্যামিকেল ব্যাবহারে নোটের UV ফিচার সহ আরও অন্যান্য ফিচার নষ্ট হতে পারে যা নোটের সামগ্রিক কালেকশন ভ্যালু কে এফেক্ট করে। যা ছবিতে তুলনা দেখালাম।
৫) একটি পুরোনো নোট যা দেখতেও পুরোনো সেটা কে সেলার যতো ই টোকা দিয়ে কসরত করে দেখাক তা প্রেসেড্ নোট।কারন আপনার জন্য নিশ্চয়ই ৩০ বছর ধরে পুরোনো নোট টা কারো পকেটে গিয়ে ভাজ না হয়ে বসে থাকে নি,অতয়েব কমন সেন্স ব্যাবহার করুন।খুব কাছে থেকে দেখলে ভাগের দাগ দেখতে পাবেন।
৬) কলমের কালি যদি পেন্সিলের মতো মলিন বা ছাড়া ছাড়া দেখা যায় তাহলে সেটা কে ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে বুঝতে হবে। কারন নিশ্চয়ই কেউ আপনি সংগ্রহ করবেন বলে আলতো করে কলম দিয়ে নোটের গায়ে লিখে নি।সাধারণ মানুষ কলম দিয়ে নোটে লিখলে বেশ চাপ দিয়েই লিখে থাকে।এমনকি প্রেস করলে সেই চাপ ও গায়েব হয়ে যায় কিন্তু সেই কলমের কালি আবছা ভাবে থেকে যায়।ছবিতে দেখুন।

এমন আরো অনেক বিষয় আছে যা অভিজ্ঞতালব্ধ ব্যাবহারিক জ্ঞ্যান, চাইলেই লিখে শেখানো সম্ভব না। তবে প্র‍্যাক্টিস করতে করতে বুঝতে এবং শিখতে পারবেন।


ডিসেম্বর ২১, ২০২২

পুরনো নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য [Things to consider before buying ancient banknotes ]

যদিও আমি আন্তর্জাতিক এবং আধুনিক ব্যাংক নোটের অনুরাগী তবে,পুরনো নোট কেনার আগে নিচের বিষয় সমূহ আমি লক্ষ্য করবো-
১)সেই নোট এর বিস্তারিত জানবো এবং পড়বো যে কি কি ধরনের সিকুরিটি ফিচার ছিলো তখনকার সময়ে সেই দেশে যা ব্যবহার হতে পারে,এবং রেফারেন্স কালেক্ট করবো মেলানোর জন্য ।
২) পেডিগ্রি (রেপুটেড সেলার) ৩) নোটের কাগজের স্পর্শ অনুভূতি ( কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সম্ভব)
৪) জলছাপ (যদি থাকে,যা থাকাটা স্বাভাবিক)
৫) সিকুরিটি থ্রেড ( প্রথম যখন এগুলো প্রচলন হয় তখন সলিড ছিলো) তার পর স্টিচ্ড এবং মাইক্র প্রিন্ট এর থ্রেড এসেছে।
৬) নোটে প্রিন্টিং এর গুন গত মান আতসী কাঁচ দিয়ে পরিক্ষা, জল পরিক্ষা, লাইম টেস্ট,মেলামাইন টেস্ট, পেন টেস্ট ইত্যাদি নানা বিধ পরিক্ষা আছে।
কিছুটা আধুনিক হলে UV টেস্ট,ইনফ্রারেড টেস্ট,
৭) সাইজ মাপবেন,পুন্খানুপুনখ ভাবে।
৮) অন্য একটি সেম নোট থাকলে তার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
৯) মুদ্রন কোয়ালিটি এবং ডিজাইন হবে স্পষ্ট এবং ছোট হওয়া সত্বেও লেখা পড়া যাবে।(দেখার জন্য ম্যেগ্নেফাইং গ্লাস ব্যাবহার করুন).
৯) বিজ্ঞদের মূল্যবান পরামর্শ নিতে পারেন,যা ফ্রি পাওয়ার আশা করবেন না।(It costs to learn,so why give free,and if you got something good;you should charge for it and pay for it)
১০) ডিজিটাল হেল্প নিতে পারেন।
আরও অনেক কিছু আছে যা বলা সময় সাপেক্ষ।এই নিয়ে সেমিনার করা যেতে পারে।

আগের কিছু কিছু নোটে এম্বোসিং বা ডিবসিং থাকতে পারে, যা নিজেও একটি নিরাপত্তা ফিচার।
কোন কোন কাগজ লাইম,মেলামাইন ইত্যাদির দ্বারা ট্রিটেড হতো

After some were counterfeited in 1695, the Bank of England had to find a way to secure them. So beginning in 1697, the Sutton Courtenay Mill, in Berkshire south east England, manufactured watermarked paper with a loop pattern for the Bank's smaller denomination banknotes.

নভেম্বর ১৯, ২০২২

banknote album and pages

বিষয়ঃ এলব্যাম পেজ এবং তাতে বিনিয়োগের পূর্বে যা ভাবা উচিৎ। 

যারা বাংলা/থাই/ বা যেই পলি ই ব্যাবহার করে আসছে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বলছি। এগুলো আপনার নোট বা কয়েন দীর্ঘ কালীন সংরক্ষণের জন্য তৈরি হয় নি। কেবল পরিবহনে জন্য সস্তা মাধ্যম, তাই অজ্ঞানতার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।

এলব্যামঃ 
কি ভাব্বেন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যে কোথায় কিভাবে সংগ্রক্ষন করবেন?আপনি কি সংরক্ষন করবেন ,সেটি আপনার কাছে কিধরনের অর্থ বহন করে,সেটিকে কিভাবে প্রদর্শন করতে চান? সেটির আসল মুল্য কত? আপনি কতো দিন তা সংরক্ষণ করতে চান এমন অনেক প্রশ্নে।
আসুন জানি যে কি কি ভাবার আছে।

☝️নোট আলব্যাম গুলুকে ব্যাবহার যোগ্যতার ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করে নিচ্ছি
Refillable /Binder album (এগুলো তে নতুন পেজ সংযোজন করা যায়,ফলে এডভান্সড্ দের জন্য) 👌🏿
Fixed album (এগুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক পেইজ থাকে,সাধারনত নবীনদের জন্য প্রথমিক এলব্যাম হিসেবে উপযোগী।)

☝️Binder আলব্যাম গুলুকে সাইজের ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করে নিচ্ছি
Optima (ছোট পেজের সাইজ গুলুর জন্য )
Vario (মাঝারি পেজের সাইজ গুলুর জন্য )
Grande (বড় পেজের সাইজ গুলুর জন্য ) 👌🏿

☝️রিফিল প্রকৃয়ার ভিত্তিতে Binder এলব্যাম গুলু সাধারণ চার ধরনের দেখা যায়।
Turn bar 
Spring back
Ring 
Bolt binder

☝️সাইজের ভিত্তিতে ফিক্সড্ এলব্যাম গুলু কয়েক ধরনের দেখা যায়
Pocket size (প্রতি পেজে একটি করে নোট)

☝️উপাদানে ভিত্তিতে এলব্যাম গুলুকে 
PVC (সাধারন মান)
Mylar or polyester (অধিকতর ভালো মান)
Archival grade (সবচেয়ে ভালো মান,যা PVC free,Acid free,Lignin free,PH nutral,Acid free) 👌🏿

☝️Ring এর সংখ্যার ভিত্তিতে অনেক ধরনের রিফিলেবল রিং এলব্যাম পাওয়া যায়

২,৩,৪,৮,১২ (তবে দাম,মজবুতি এবং কাজের ভিত্তিতে ৪ রিং এর গুলু সবচেয়ে জনপ্রিয়) 👌🏿

☝️রিং স্টাইল দুই ধরনের দেখা যায়
D,O

☝️আলব্যাম পেজের স্ট্যানর্ডাড এর প্রকরনের ভিত্তিতে কয়েক ধরনের এলব্যাম দেখা যায়
PCCB (MINGT)

☝️বাহ্যিক সুরক্ষার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা যাবে
With Sleev/Slipcase (আদ্রতা,তাপ,পোকা,ধোঁয়া,ধূলা ইত্যাদি থেকে বেশী সুরক্ষা দেয়)👌🏿
Without Sleev

☝️পকেটের ভিত্তিতে এলব্যাম পেজ অনেক সাইজের পাওয়া যায়
১,২,৩,৪,৬,৮,১০,১৩ (তবে আধুনিক নোটের ক্ষেত্রে আমি ৩ পকেটের পেজ গুলু ব্যাবহার করি বেশীরভাগ ক্ষেত্রে)👌🏿

☝️আভ্যন্তরীণ কাঠামোর ভিত্তিতে ফিক্সড এলব্যাম গুলু দুই ধরনের
Stiched (সেলাই করা)
Fused (গলিয়ে লাগানো)

☝️পটভূমির বা পার্টিশন উপর ভিত্তি করে আলব্যামে সাজানোকে দুই রকম ভাবে রাখা যায়
Clear/Transparent  sheet
Black/White paper back  

কিছু মিথ সমাধানঃ
বাইন্ডারের ক্যাপাসিটি থেকে বেশি নোট রাখা টা বাইন্ডারের স্পাইনের জন্য ক্ষতিকর।
বাইন্ডারের সিলেক্টিভ কোয়ালিটি দেখতে বাইন্ডারের ম্যাটেরিয়াল, ক্লোসিং মেকানিসম, পেইজ এভেইলাবলিটি ইত্যাদিও দেখুন।
কোন নোট যেন কোন পকেট থেকে উঁকি না দিয়ে থাকে।প্রতিটি নোট তার স্ব স্ব পকেটের ভেতরের খোলা প্রান্ত থেকে কমপক্ষে প্রায় ৪ মিমি ভেতরে থাকবে।
টাইট পকেটে নোট বার বার ঢুকালে বা বের করলে আইটেমের চারিদিকের সুক্ষ ভাবে ক্ষয় হয়। কর্নার গুলু ভোতা হয়ে যায়।
যে কোন সাধারন প্লাস্টিক সামগ্রির মধ্যে উৎসগত ভাবে এসিডিক উপাদান থাকে।
বিশেষ করে PVC যা সময়ের সাথে সাথে ভেংগে গায়ে লেগে থাকা আইটেমের সাথে বিক্রিয়া করে। এই কারনে বহুদিন হয়ে গেলে জলের বোতল যেমন হলুদ হয়ে যায়,তেমন ভাবে এলব্যাম পেইজ ও হলুদ হয়। 
আমি ব্যেক্তিগত ভাবে ইলাস্টিক ব্যান্ড থাকে এমন বাইন্ডার গুলু পছন্দ করি
আপনার আইটেম যতো ভারী হবে ততো বেশী রিং এর বাইন্ডার ব্যাবহার করা ভালো যেনো পেজের উপর চাপ না পড়ে। এজন্যই ৩/৪ রিংগের বাইন্ডার গুলু সবচেয়ে জনপ্রিয়। 
চেষ্টা করুন বাইন্ডার কভার টি ফায়ার রেসিস্টেন্ট এবং PH নিরপেক্ষ থাকে। আর কাগজের তৈরি হলে লিগ্নিন এবং ব্লিচ মুক্ত প্রকৃয়ায় তৈরি। 

☝️মিউজিয়াম গ্রেড বা আর্কাইভাল গ্রেড বলতে কি বুঝায়?
যখন কোন উপাদান,তার সংস্পর্শে থাকা অন্য কোন উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে না বা নিরপেক্ষ থাকে সেগুলো সাধারনত সংরক্ষণ করা সহজতর। এজন্যই  এই বৈশিষ্ট্য গুলুকে দীর্ঘকালীন সংরক্ষণের জন্য যৌক্তিক মনে করা হয়। যেমন এসিড ফ্রি, PH নিউট্রাল, লিগ্নিন ফ্রি, আদ্রতা ভারসাম্যপূর্ণ, সফট্নার ফ্রি, UV প্রতিরক্ষা সম্পন্ন ইত্যাদি সুবিধা থাকে। এক কথায় যে কোন কঠোর ক্যামিকেল মুক্ত সংরক্ষণের উপাদানের উপর দীর্ঘমেয়াদি (২০ বা তদুর্ধ বছরের) সংরক্ষণের জন্য ভরসা করা যায়।

☝️আমার সব আইটেম কে ই কি দামী পাউচে বা এলব্যামে সংরক্ষণ করতে হবে?
সেটা অনেকটা ই আপনার ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য, বর্তমান সামর্থ,ইচ্ছা, সিরিয়াস্নেস এর উপর নির্ভর করবে। 

বাজারে আবার বিভিন্ন ধরনের ওয়ালেট আছে যার ব্যাবহার উপযোগীতা নিয়ে আরও একটি পোস্ট লেখা যাবে। আমার দেখা কিছু ব্রান্ডের নাম দিলাম যা কোন ক্রম অনুসারে নয়। আপনি নিজে যা ভালো বুঝবেন তা ব্যাবহার করুন। ফলাফলের দ্বায়িত্ব আপনার। 
BCW, Safeguard, Schulz, Ultra pro,Columbia, Supersafe, Lighthouse,Linder ইত্যাদি। ভালো ব্রান্ড দেখে কিনবেন। আবার প্রতিটি ধরনের পেজের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে যা এই নিয়ে গবেষণা না করলে জানবেন না।

☝️আমার সব আইটেম কে ই কি দামী পাউচে বা এলব্যামে সংরক্ষণ করতে হবে?
সেটা অনেকটা ই আপনার ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য, বর্তমান সামর্থ,ইচ্ছা, সিরিয়াস্নেস এর উপর নির্ভর করবে। 


এক দিনেই সংগ্রাহক হওয়া যায় না [You can't be a collector just buy purchassing everything in one go]

বিষয়ঃ টেপ সংগ্রহ এবং সংগ্রাহক হতে হলে কিছু পূর্বশর্ত।

টেপ কিঃ যে কোন কিছুর সংগ্রহের আগে আপনাকে তার সংজ্ঞা জানতেই হবে। সংগ্রহের প্রেক্ষিতে অর্থ ধরলে 'টেপ' হচ্ছে একটি সরু লম্বা (প্রস্থের চেয়ে দৈর্ঘ বড়) ফিতার মতো উপাদান যা সাধারন গোলাকার (রোল) আকারে বাজারজাত করা হয় এবং প্রধানত কোন কিছু ধরে রাখা,রেকর্ড রাখা,ঢাকা,আটকে রাখা,সীল করা ইত্যাদি ধরনের কাজে ব্যবহার হয়।

সংগত কারনেই এটাও অনেকে সংগ্রহ করে থাকেন।যা আজকের টপিক না। টপিক হচ্ছে আপনি কি চাইলেই ২ দিনে/২ মাসে সংগ্রাহক হতে পারেন?

আমার অন্য লেখায় আমি ব্যাখ্যা করেছি যে একজন সংগ্রাহকের গুনাবলী সমূহ এবং চেনার উপায়। আমি মনে করি না যে আপনি কোন একদিন মনে হলো আর কোথাও থাকে কয়েকটি আইটেম যোগাড় করে হাঁকিয়ে বেড়াতে পারবেন যে আপনি সেই আইটেমের সংগ্রাহক। এর জন্য আপনাকে সময়,মনযোগ,উৎসর্গ এবং বিসর্জন দিতে হবে।
ছবির টেপ গুলু আমি কেবল এক দোকান ঘুরেই পেয়েছিলাম এবং আরও হয়তো হাফ ডজন টাইপের ছিলো যার ছবি তুলি নি।

এখন সেগুলো সেখান থেকে কিনলেই কি আমি বলতে পারবো যে "আমি একজন টেপ সংগ্রাহক"? আমি মনে করি "না"। এমন আপনার পরিচিত হয়তো অনেকেই আছেন যারা ক্যামেরা,কলম,রাবার,নোট,কয়েন,ম্যাচ বক্স,কার্ড,চিঠি,লাঠি বা পত্রিকার আরও কতো হাবিজাবি জিনিস হয়তো কোন এক দিন বা এক মাসে হকার্স মার্কেট বা গিফট্ হিসেবে কোথাও থেকে পেয়ে বসেছেন এবং ভাবা শুরু করেছেন যে " আমিও xyz সংগ্রাহক"। আমি এই চিন্তা ধারার সংশোধন করতে চাই।

☝️যেমনটি আমি আগেও বলেছি, সংগ্রহ একটি চলমান প্রক্রিয়া বা ডাইনামিক স্প্রেক্ট্রাম। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে আপনার সংগ্রহ সমৃদ্ধ হলে,সেই সংগ্রহ নিয়ে আপনার গভীর অনুরাগ এবং ধারনা থাকলে, সংগ্রহ জগতের সাথে আপনার যোগাযোগ থাকলে আপনি সেই স্প্রেক্ট্রামে পড়বেন,অন্যথায় আপনি এর বাইরে থেকে যাবেন হয় জমারু হিসেবে বা ব্যাবসায়ী হিসেবে।

☝️এটা স্পষ্ট হওয়া দরকার যে একজন খুব বড়/ভালো সেলার/ডিলার হলেই যে সে খুব ভালো মানের সংগ্রাহক হবে এমন টা মোটেও না। আর একজন বড় সংগ্রাহক হওয়া মানেই যে সে একজন উৎকৃষ্ট মানের সংগ্রাহক হবেন এটাও নিশ্চিত না।

☝️তাহলে কি অল্প সময়ে কিছুই সম্ভব না?
হাঁ সম্ভব, তবে সেজন্য আপনাকে হয় অনেক পড়াশোনা করতে হবে অথবা যাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভাড়ি তাদের থেকে অনুগ্রহ পেয়ে নিজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময়কে সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব। বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অনলাইন,অফলাইন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা,রেপুটেশন তৈরি করা ইত্যাদি হচ্ছে এই পথ কে ত্বরান্বিত করার পথ।

☝️এই লেখার সারাংশঃ
একদিনে (বা অল্প সময়ে) কেউ সংগ্রহক হতে পারে না। বা বাল্ক লোডের/কিলোওয়ারের আইটেম কিনে আপনি সংগ্রাহক হতে পারবেন না। এবং প্রতিবেশীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেই "স্বাক্ষর সংগ্রাহক" হতে পারবেন না। তাহলে সকল জুতার ব্যাবসায়ীই/মুচি ই জুতার সংগ্রাহক হয়ে যেতো।


নভেম্বর ১৮, ২০২২

নোট ইস্ত্রি এবং আদ্রতাকরনের মাধ্যমে সোজা করা [dry treatment on banknote]

বিষয়ঃ নোট ইস্ত্রি করা, ড্রাই ট্রিটমেন্ট করা, 

☝️তাৎপর্যঃ কেন আপনার আইটেম গ্রেডিং করালে ৭০ পাবে না?আইটেম কে ইস্ত্রি করলেই ভাঁজ দূর হয়ে যায়? কিভাবে বুঝবেন আপনার নোট টি আপনার কাছে আসার আগে কিভাবে ছিলো?

☝️পটভূমিঃ যারা গ্রেডিং সম্পর্কে জানেন তারা এটাও জানেন যে ৭০ হচ্ছে সর্বোচ্চ নাম্বার যা একটি নোট তার অবস্থার জন্য পেতে পারে।
আপনার চোখে অনেক নোট UNC হলেও তার মানে এই না যে তা সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়ার যোগ্য। প্রতিটি নাম্বারে পেছনে যে অনেক গুলু নির্ধারনী ফ্যাক্টর থাকে তার মধ্যে অন্যান্য -সেই নোটের অবস্থা (নোট টি কি কখোনও কোন ভাবে ভাজ হয়েছিল কি না, কোন দিন ইস্ত্রি করা, স্টিম এবং স্ট্রেইট ট্রিটমেন্ট করা হয়েছিল কি না।
এই নিয়ে আমাকে ইনবক্সে প্রশ্ন করায় আমি এখানে সবার উদ্দেশ্য কম কথায় কিছু ধারনা দিচ্ছি।
যে কোন আইটেম আয়রন/ইস্ত্রি করে ভাজ দূর করার চেষ্টা করলেই তা সম্ভব হয় না। 

☝️কারন ভাঁজ কি?
ভাঁজ হচ্ছে বস্তুর এক সাইডের সংকোচন এবং অন্য সাইডের প্রসারন। ফলে যে সাইড প্রসারিত হয় সে সাইডে  সুক্ষ ফাটল তৈরি হয় যা খালি চোখে আপনি দেখবেন না। এজন্যই কোন জিনিস বার বার ভাঁজ করতে থাকলে এক সময় সেটা দু টুকরো হয়ে যায়।

☝️অনেক নবীন প্রবীন সংগ্রাহকগন ই তাদের আইটেম কন্ডিশন কে বুস্ট দেয়ার জন্য বা অবস্থার উন্নতি দেখানোর জন্য ইস্ত্রি দিয়ে ঘষা দিয়ে সুপারফিশিয়াল ভাঁজ দূর করার প্রচেষ্টায় থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যে আপ্নারা যত যা কিছুই করুন, বেশিরভাগ সময় ই তা ধরা পড়া সম্ভব। তবে সেজন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।এই পোস্টে তার ই ছোট ধারনা দিচ্ছি।যারা বুঝার বুঝে নেবেন।

☝️কোন আইটেম কে কোন দিক থেকে ইস্ত্রি করছেন,কতো তাপমাত্রায় সেই আইটেম টির তন্তু হাল্কা হয়, কতো আদ্রতায় সেই তন্তুর ভেতরে পানি ঢুকে এসবের উপর ভিত্তি করে সেই আইটেম বিভিন্ন ভাবে বেঁকে যায়। যেমন একটি নোট কে আড়াআড়ি ভাবে ইস্ত্রি করলে ফলাফল এবং সোজাসোজি ভাবে ইস্ত্রির ফলাফল আমি ছবিতে দেখিয়েছি।

☝️তাছাড়া ইস্ত্রি করলে নোটের সার্বিক ইন্টাগ্লিও লেখার উচ্চতা কমে যায়, যা যখন আমার নোট গুলুকে ১০০ এক্স জুমে দেখি তখন সহজে ধরতে পারি। এমনকি প্রফেশনাল ভাবে না করলে এক এক জায়গায়  কালির উচ্চতা এক এক রকম হয় যা দেখে গ্রেডিং কারী তো বুঝেই বরং প্রশিক্ষিত চোখ থেকে সেটা এড়ায় না।

☝️কৃত্তিম ভাবে ইস্ত্রি এবং হিউমিডিফাই করলে যেহেতু নোটের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন যায়গা থেকে বেঁকে যায় তার সহজেই আমাদের বুঝায় যে কোন ব্যাবহ্রিত নোট টি ইস্ত্রি বা আদ্রতাকরনের মধ্যে দিয়ে গেছে। এটা করার প্রফেশনার পথ আছে যা আমি ব্যাবহার করি কিন্তু সেই আলোচনা লিখে বুঝানো সম্ভব না।

☝️একটা নোট বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে বেঁকে যায় কেনো?
নোটে ছাপার কালির পরিমান, জলছাপের কারনে কাগজের পুরুত্বে, নিরাপত্তা সুতা ইত্যাদির কারনে নোটের পৃষ্ঠ দেশ হোমোজেনাস না। ফলে এক এক অংশের সংকোচন প্রসারন এক এক হারে হয়। তাছাড়া কন্সারভেশনের সময় আমি এটাও লক্ষ্য রাখি যে নোটের কোন অংশ টি কতো দ্রুত ঠান্ডা হচ্ছে বা আদ্রতা হারাচ্ছে।  কোন অংশ টি মনে রাখবেন একজন প্রশিক্ষিত সংগ্রাহক একটা নোট পর্যবেক্ষন করে বলতে পারবে যে সে নোট টা কোন এই ধরনের ফিজিক্যাল ট্রিটমেন্ট এর মধ্যে দিয়ে গেছে কি না।

☝️কোন নোট এভাবে সমতল জায়গায় রেখে সাইড থেকে লাইট ধরলে সহজেই এব্রো থেব্রো যায়গা গুলু ধরা পড়ে এবং ইস্ত্রি বা আদ্রতাকরন টাইপের ট্রিটমেন্টের আলামত ধারনা করা যায়। টর্চ এভাবে ধরে আলো ফেলার প্রকৃয়াটির আলাদা একটি নাম ও আছে। যা রইলো আজকের পাঠক ধাঁ ধাঁ।

☝️এভাবে টর্চ ধরলে/আলো ফেললে আপনি আগের কোন ভাঁজ সারাই করা হয়ে থাকলে তার ও আলামত পেয়ে যেতে পারেন।

☝️ছবির নোট গুলু আমার কাছে একজন নিয়ে এসেছে কিছু কনসারভেশন ওয়ার্ক এর জন্য। তাই সেগুলোকে উদাহরণ হিসেবে দেখালাম।
এখানে আলোচনা করলাম "কি" দেখা হয়। "কিভাবে" দেখা হয় সেটা লিখে বুঝানো মুশকিল। তাই কখোনও লাইভে আসলে বা সরাসরি আলোচনা হলে জানতে পারবেন।তবে আশাকরি এতো টুকু আপনাকে ইনফর্মড্ ডিসিশন নেওয়ার জন্য সাহায্য করবে।

☝️এই আলোচনার উদ্দেশ্য এটা নয় যে কাজ টি ভালো না খারাপ। উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা যে "আপনি যা করছেন তার কতো গভীর পর্যন্ত আপনি বুঝছেন?"। তবে আরো বিস্তারিত জানতে প্রশ্ন করুন,শেয়ার করুন, অংশগ্রহণ করুন।

নভেম্বর ০৪, ২০২২

সংগ্রহে আসার আগে একটি নিশ্ নির্ধারণ করা [Deciding a niche before coming onto collection]

অনেকের জন্যই সংগ্রহের নিশ্ নির্নয় একটি গভীর, জটিল প্রক্রিয়াহতে পারে। কি সংগ্রহ করবেন তার একটি জনারা নির্ধারন করার সময় বিবেচনা করার অনেক বিষয় আছে।  
আমি বলবো তিনি বেসিক নিয়ম দিয়ে আপনি শুরু করুন।
১) আপনাকে এমন কিছু সংগ্রহ করতে হবে যা আপনি উপভোগ করেন, 
২) এমন কিছু যা আপনার বাজেটের মধ্যে আছে এবং 
৩) এমন কিছু যা আপনি খুঁজে পাবেন।  

তবে আপনি যদি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজেন, তাহলে আপনি আরও চ্যালেঞ্জিং কিছু সংগ্রহ করার কথা বিবেচনা করতে চাইতে পারেন যেমন বিভিন্ন ধরনের চিত্রশিল্প, উচ্চ-মানের কার্ডের ডেক বা বিদেশী স্ট্যাম্প, রত্ন পাথর, ফসিলের নমুনা ইত্যাদি ।  আপনি যাই সিদ্ধান্ত নিন না কেনো,প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনাকে সেই বিষয় টি উপভোগ করতে হবে,তা না হলে যদি কেবল কমার্শিয়াল চিন্তা নিয়ে সংগ্রহে নামেন তাহলে কেবল বিক্রেতা/ডিলার ই রয়ে যাবেন,কোন দিন অ সংগ্রাহক হতে পারবেন না।

আধুনিক মনোবিজ্ঞান অনুসারে আপনি যদি সব ই জমান তাহলে কোন টিতে ই খুব মনযোগ দিতে পারবেন না,গভীরে যেতে পারবেন না। মনে রাখবেন এটা আপনার শখ আর শখ পোষন করতে সময়, এবং  ভালোবাসা প্রয়োজন তাহলেই পরিশ্রম কে আর পরিশ্রম মনে হয় না। যখনই দেখবেন আপনার শখের কাজ কে পরিশ্রম মনে হচ্ছে তখন বিরতি নিন এবং এই লাইনে যারা অগ্রগামী তাদের সাহায্য নিন।

সফলতার সংজ্ঞা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। কেউ লোক দেখানো কে সফলতা মনে করে,কেউ প্রদর্শনী আয়োজন করা কে সফলতার শিখর মনে করে আবার কেউ বই প্রকাশ করাকে সফলতার পাহাড় মনে করে। যেহেতু বিষয়টি আপেক্ষিক তাই এই নিয়ে আপনি আপনার নিজের একটি রোড ম্যাপ তৈরি করুন যে "৩ বছর পর পর আপনি কোন মাইল ফলক টি অতিক্রম করতে চান"। গন্তব্য নির্নয় করে এগুনো নিয়ে আমার আলাদা লেখা আছে,চাইলে পড়তে পারেন। তবে ব্যেক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি; সংগ্রহ জগতে কমপক্ষে একটি বিশেষত্ব নিয়ে না এগুলে এক সময় হতাশা চলে আসবে। যার অনেক নমুনা হয়তো ফেসবুক গ্রুপ গুলুতে মাঝে মাঝে দেখেছেন, কেউ তার সংগ্রহের একটি বড় অংশ বিক্রি করে দিতে চাইছে বা সেই ট্র‍্যাকে আর এগুতে পারছে না বা অনেক সময় দিয়েও বিশেষ কোন মনঃশান্তি পাচ্ছে না। 
নিজের কাজের পর্যালোচনা এবং আত্ম-বিশ্লেষণ  আপনার মানসিক ভবিষ্যদ্বাণীগুলি সঠিক এবং সত্য তা নিশ্চিত করার দুর্দান্ত উপায়। আপনিই কেবল বুঝেন যে আপনার ঠিক কি সংগ্রহ করা উচিৎ, কতো দিনের মধ্যে এবং কেনো। 

সাধারণত,যখন সংগ্রহের কথা আসে, সংগ্রাহকরা প্রথমে যে জিনিসগুলি সন্ধান করেন তা হল: সংগ্রহযোগ্য মান, বিরলতা এবং পছন্দসইতা৷  সংগ্রহ মূলধারার (কয়েন,মেডেল,নোট,টিকেট ইত্যাদি) হতে পারে আবার প্রথাগত নাও হতে পারে যেমন ( বিভিন্ন ধরনের টেপ/সেলো টেপ/আঠালো টেপ) যেখানে হয়তো সেই নিশে্ র অনুরাগী অনেক কম। 
আকাঙ্ক্ষা সবসময় মূল্যের সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে। কি ধরনের বস্তু সংগ্রাহক আইটেম হতে পারে এবং পারে না তা নিয়ে আমার আলাদা লেখা আছে। বিরলতা সর্বদা একটি পছন্দসই বৈশিষ্ট্য নাও হতে পারে, তবে এটি প্রায়শই একটি মূল্যবান বৈশিষ্ট্য হিসাবে দেখা হয়।
এই কারণে আপনার সংগ্রহের নিশ্ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।  আপনার সংগ্রহ খুঁজে বের করা, তালিকাবদ্ধ করা এবং বিক্রি করার সময় আমরা বিবেচনা করার কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব অন্য লেখায়।
নতুন কেউ এই সংগ্রহ জগতে পদার্পন করার আগে এগুলো ভাবুন,আলোচনা করুন, পরামর্শ নিন তাহলে অনেক অনেক দূর যেতে পারবেন, তা না হলে শিঘ্রই একটা সময় আসবে যে এগিয়ে যাওয়া একটা "কাজ" মনে হবে। আর স্বভাবসুলভ ভাবে আমরা কেউ ই ফল পাওয়ার জন্য কাজ করতে আগ্রহী না। আশাকরি লেখাই আপনাকে ভাবতে সাহায্য করবে।

নভেম্বর ০১, ২০২২

বিষয়ঃ ধাতুর বর্ণ পরিচয় এবং প্রথম দেখা। [First look at metallic object collection and identification]

 বিষয়ঃ ধাতুর বর্ণ পরিচয় এবং প্রথম দেখা।

বিশেষকরে আপনি যদি ধাতব জিনিস সংগ্রহ করে যেমনঃ কয়েন, পুরোনো তৈজস ,অস্ত্রশস্ত্র, ব্যাবহার সামগ্রি ইত্যাদি তাহলে সেগুলুর পর্যবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণে আপনাকে দৃষ্টিগত দিক থেকে সাহায্য করার জন্য অনেক গুলুর বাসিস টার্ম আছে। আমাকে যখন আমার মা এবং স্ত্রী জিজ্ঞাসা করে এসেছে যে তোমার কি রং পছন্দ আমি এই প্রশ্নে বিভ্রান্ত হয়েই এসেছি। যেমন রং শব্দ টি আপনার কাছে যততা সরল আমার কাছে ততটা সরল না। এবং মনে করি অনেকেই এই দ্বন্দে ভূগেছেন। আমাদের চোখে কোন বস্তুর রং ঘটন হয় বেশ কয়েকটি উপাদানের সমন্বয়ে। তা আপনি কাসা,তামা বা রুপা যে কোন সামগ্রির ই অনুরাগী হোন না কেন প্রথম দর্শনে সেটির রং ই আপনার চোখে পড়বে।

আমি কথা বলবো রঙের চারটি অংশ নিয়ে-

১) রং পরিবার [Hue],

২) আভা [Tint],

৩) ছায়া [Shade] এবং

৪) বর্ণ [Tone] ।

আপনারা যেহেতু জানেন আমি বিশ্লেষন মূলক লেখা লিখতা পছন্দ করি তাই মনে করি এখান থেকে শুরু করা প্রয়োজন।

এখন আমার অন্য লেখা গুলুতে আমি যদি কোন ধাতুর সারাই,যাচাই,সংরক্ষন বা  প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে যাই তাহলে এই টার্ম গুলু অহরহ আসবে।

কিভাবে সংগ্রাহক হিসেবে এই জ্ঞ্যান গুলু আপনার কাজে আসবে?

যখন আপনি কোন ধাতব সামগ্রি সংগ্রহ করবেন তাতে কি ধাতু ব্যাবহার হয়েছে, কেন সেটাই ব্যাবহার হয়েছে, কি পরিমানে ব্যাবহার হয়েছে, কোন খুঁত থাকলে তা সারাই করার প্রক্রিয়া, সেই সামগ্রির তাৎপর্য, গুরুত্ব,সেটা প্রথমে দেখতে কেমন ছিলো এবং এখন কেমন থাকে উচিত,সংরক্ষন প্রণালী ইত্যাদি বুঝার এবং বুঝানোর জন্য আপনার এই জ্ঞ্যান কাজে লাগবে। এই সিরিজ টি প্রকাশ করার আগে আমি জানতে চাচ্ছি এর জনপ্রিয়তা কেমন। তাই যদি মনে করেন এই নিয়ে লেখা দেখতে চান তাহলে কমেন্টে জানান।

অক্টোবর ২৯, ২০২২

ওয়াশ করা নোট? কেনো? কখন? [Washed note? why and when]

☝️প্রথমে বুঝুন ওয়াশ/ট্রিটমেন্ট  মানে কি?

সাধারন ভাষায় যদিও ওয়াশ (ধোয়া/ধৌতকরণ,ট্রিটমেন্ট ) শব্দটি মানে যে কোন তরল দিয়ে পরিস্কার করা বুঝায়,তবে কালেক্টেবল আইটেমের (নোটের) ক্ষেত্রে নোট কে ক্যামিকেলি ট্রিট করে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি বা অবস্থা উন্নয়েনের প্রচেষ্টা কে ওয়াশ করা বলা হয়। অর্থাৎ কেবল সাবান জল দিয়ে ধুলে বা স্টিম আয়রন দিয়ে ইস্ত্রি করলেই তা ওয়াশ করা বা ট্রিটমেন্ট করা বলা যায় না। এখানে সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং অবস্থা উন্নয়ন দুটি কিন্তু আলাদা প্রসেস এবং ফলাফলও আলাদা। *যদিও কোন অর্গানিক আইটেম (নোট) ইস্ত্রি করা এবং কোনটা কি ধরনের ক্যামিকেল দিয়ে ধোয়া তা সে সাবান হোক আর টুথপেষ্ট হোক তা নির্নয়ের উপায় আছে কিন্তু এই পোস্টের উদ্দেশ্য সেটা না।

☝️ওয়াশ শব্দটা ব্যাবহারের পূর্বশর্ত হচ্ছে কঠোর ক্যামিকেলের ব্যাবহার। কঠোর ক্যামিকেল মানে হচ্ছে এমন ক্যামিকেল যা বস্তুর উপাদান কে গঠনগত ভাবে প্রভাবিত করে। যেমন স্থায়ী গন্ধ পরিবর্তন ,উপরিস্তরের আবরন পরিবর্তন, ওজনে বা পুরুত্বে পরিবর্তন,বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচারের পরিবর্তন , ইত্যাদি। 

বাজারের পাওয়া যাওয়া পুরনো অনেক নোট ই পরিস্কার করা এবং ট্রিটমেন্ট করা। 

☝️ট্রিটমেন্ট করার দুটি প্রধান কারন কি?
১) অবক্ষয় প্রতিরোধ 
২) অবস্থার উন্নয়ন

☝️এতে কি আইটেমের দাম কমে যায়?
উপর টা সংক্ষেপ না। একজন সংগ্রাহক সবসময় চেষ্টা করে তার আইটেম তার কাছে আসার সময় যেমন ছিলো, তার চেয়ে ভালো না করতে পারলেও যেন অনেক অনেক সময় কমপক্ষে আইটেমটি কে সেই অবস্থায় রক্ষা করা যায়। উদাহরণঃ একটি AUNC আইটেম কে UNC তে পরিবর্তন না করতে পারলেও একজন সংগ্রাহক কমপক্ষে AUNC conditions এই রাখতে চাইবে। 
এখন ট্রিটমেন্ট যদি অবক্ষয় প্রতিরোধের জন্য পেশাদারী ভাবে করানো হয় তাহলে আইটেমের দাম তাতে কুপ্রভাব পড়বে না।
অন্য দিকে যদি ট্রিটমেন্ট যদি,হেলাফেলা ভাবে করা হয় কেবল অবস্থার বাহ্যিক সৌন্দর্যের স্বার্থে; তাহলে আইটেমের দামের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

☝️পেশাদার ট্রিটমেন্ট কি?কিভাবে বুঝবেন আপনার আইটেমের ট্রিটমেন্ট পেশাদার ভাবে করা হয়েছে না কি এম্যাচিয়ুর ভাবে করা?
ট্রিটমেন্ট (সংস্কার) পেশাদ্বারিত্বের প্রভাব
পেশাদ্বারী সংস্কার সাধন করার জন্য ধৈর্য, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা,জ্ঞ্যান ইত্যাদি বেশ কিছু নিশ্ গুনের প্রয়োজন হয়। কেবল কগজের উপর সেলো টেপ লাগাতে পারলে আর আঠা লাগানো পেশাদার সংস্কারকের কাজ না। 
একজন সংস্কারক আইটেমের উপাদানের গঠন,বিভিন্ন ক্যামিকেলে সেটার পরিবর্তন, বিভিন্ন অবস্থায় তার দৃঢ়তা, টেপের ক্যামিকেল,কালির ক্যামিকেল, গ্লাভসের ক্যামিকেল, ল্যাবের আবহাওয়া,কাগজে কালির গভিরতা,বিভিন্ন ধরনের দাগের উৎস এবং নিরাময় , ইত্যাদি অনেক কিছুর জ্ঞ্যান রাখেন বা চর্চা করেন। উদাহরণঃ ব্রিটিশ মিউজিয়ামে কয়েকটি বইয়ের কিউরেশনের হওয়ার সময় তারা বইয়ের কাগজ+কালির উপাদান এবং তা কোন ক্যামিকেলে কি ধরনের বিক্রিয়া করতে পারে সেটা বিবেচনা করে কিউরেশন প্ল্যান তৈরি করতে যেমন দেখেছি তা সত্যিই সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য। পেশাদার ট্রিটমেন্টের অনেক গুলু শর্ত আছে,নিয়ম আছে যা সময়ের অভাবে এখানে লেখা সম্ভব না। তবে এটা না বললেই না; যে কোন পেশাদার ট্রিটমেন্ট রিভার্সেবল। এবার আপনি আপনার আইটেম টি হাতিয়ে যাচাই করে নিন।

☝️ট্রিটমেন্ট করা কি "খারাপ"?
সেটা একটা বিতর্কিত ব্যাপার। তবে এটার সহজ ব্যাখ্যা এভাবে দেয়া যায় যে-আপনার প্রকৃয়া এবং  উদ্দেশ্য বলে দেবে যে আপনার আইটেমের ট্রিটমেন্ট করা ভালো না খারাপ। প্রকৃয়ার কথা তো আগেই বললাম।
উদ্দেশ্যঃ আপনি কি ক্রেতা কে না জানিয়ে কন্ডিশন ভালো বানাচ্ছেন? আপনি কি ক্রেতা কে বিভ্রান্ত করে বেশি দামের বিক্রির জন্য আইটেমের অবস্থার উন্নতি করছেন?আপনি কি আপাতত উন্নয়ন করছেন যা কিছু দিন পর ই মলিন হয়ে নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসবে?আপনার ট্রিটমেন্ট কি অপেশাদারিত্বের সাথে করা?( উপরের প্রশ্ন গুলোর কোনটার উত্তর "হাঁ" হলে এই প্রশ্নের উত্তর "খারাপ")। যেমনঃ ব্লিচিং, স্টিমিং, স্ট্রেইটেনিং, টোনিং ইত্যাদি। *প্রতিটি বিষয়ে আমার আলাদা আলাদা লেখা আছে।

☝️কখন ট্রিটমেন্ট ভালো/দরকারী?
সাধারণত বলা হয় "prevention is better than cure" অর্থাৎ সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সমস্যার সমাধান থেকে উত্তম। এখন আপনি যদি ক্ষয় এড়াতে না পারেন তাহলেই কেবল সমাধান/ট্রিটমেন্টে যেতে পারেন। তা ও জানতে হবে কিছু করার আগে। এবং ৯৯.৯% মানুষ তার আইটেমের সম্পর্কে একজন কিউরেটরের/সংস্কারকের মতো নলেজ রাখে না। 
একজন সংস্কারক বুঝেন যে কখন সংস্কার প্রয়োজন, কিভাবে প্রয়োজন, কেনো প্রয়োজন।এটা নিয়ে প্রচুর বই আছে। চাইলে পড়ে জ্ঞ্যান বাড়াতে পারেন। সাধারণত আইটেমের ভবিষ্যত ক্ষয় প্রতিরোধ ট্রিটমেন্টের সৎ উপলক্ষ।

☝️পেশাদারী ট্রিটমেন্ট বা সংস্কার সাধনের পূর্বশর্ত?
তবে সংক্ষেপে বললে - যখন কোন ঐতিহাসিক বস্তুর ক্রমাগত ক্ষয়ক্ষতি (আমি অন্য লেখায় ৮/৯ টি কারন লিখেছি) হতে থাকে  তখন ই কেবল সেটি কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের জন্য সংস্করণ করা হয়,যেখানে অবক্ষয়ের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা নেয়া হয়। বিক্রি বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য নয়। যেমনঃ ডিএসিডিফিকেশন,হিউমিডিফিকেশন,সাবস্ট্রেট স্ট্রেংথিনিং,ফিলিং গ্যাপ্স ইত্যাদি। *এর প্রতিটি টপিক নিয়ে আলাদা আলাদা লেখা আছে আমার।

কিউরেটরের মধ্যে কিছু নিয়ম আছে যা আমাদের পরিক্ষায় কেস স্টাডি হিসেবে ছিলো যেমনঃ যথাসাধ্য সেই আইটেমের অরিজিনাল রুপ ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়,ক্ষয় প্রাপ্ত আইটেমটার ডিজিটাল প্রফাইল তৈরি করে সাথে সংরক্ষণ করা হয়, আগের অবস্থায় যেন ফেরত যাওয়া যায় এমন ভাবে সংস্করণ করা হয়,সংস্করনের যৌক্তিকতা নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয়, কেবল প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ কিউরেটরই এই কাজ করবেন, আইটেম যদি পৃথিবিতে ১ পিস ই থাকে তাহলে কিউরেটর কিমিটির মাধ্যমে কিউরেশন প্ল্যান করা হয় ইত্যাদি। 
আপনারা জানতে চাইলে এই নিয়ে বিস্তারিত লেখা যাবে।

"কিভাবে বুঝবেন আপনার নোট টা ওয়াশ করা বা ট্রিটেড" "কোন ধরনের ট্রিটমেন্ট আইটেম কে কিভাবে প্রভাবিত করে" উত্তর গুলু ব্যাবহারিক জ্ঞ্যানের মাধ্যমে দিলে ভালো বুঝবেন তবে সেটা নিয়ে আলাদা লেখাও আছে।

অক্টোবর ২১, ২০২২

ব্যাংক নোট পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি এবং গ্যাজেট এর ব্যবহার [uses of technology on observing a banknote ]

একজন সংগ্রাহক হিসেবে আইটেম পর্যবেক্ষনে প্রযুক্তির ব্যাবহার।
নোটাফিলিতে প্রযুক্তির ব্যাবহার অধ্যায় কে তিন টি সেগমেন্টে ভাগ করেছিলাম (সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং পর্যবেক্ষন)। এখানে বলবো "পর্যবেক্ষনে প্রযুক্তির/গেজেটের ব্যাবহার"। এখানে সব বলা সম্ভব না তাই কিছু লিখলাম।

আমার পেশাদারী জীবনে আমি চাইলেই স্প্রেক্ট্রোমিটার বা ইলেক্ট্রনিক স্প্রেক্ট্রস্কোপের মতো হাই এন্ড ডিভাইস ব্যাবহার করতে পারলেও,বাসায় ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে,স্থান ভেদে আমি আলাদা আলাদা ঘরোয়া প্রযুক্তি ব্যাবহার করি।যার কিছু ধারনা দেবো। চাইলে আপনারাও বিভিন্ন গেজেট ব্যাবহার করে নতুন জ্ঞ্যানের জানালা খুলতে পারেন।

মোবাইল মাইক্রস্কোপঃকোন আইটেম (বিশেষতঃস্ট্যাম্প,নোট,কয়েন ইত্যাদির) সুক্ষ ভাবে দেখতে আমি নিজস্ব ব্যাবহারের জন্য কয়েকটি ডিভাইস ব্যাবহার করলেও মোবাইলের মাইক্রস্কোপ যা সব সময়ই সাথে থাকে সেটি হচ্ছে "Oppo find x3 pro" যা দিয়ে আমি কাগজে কালির উচ্চতাকে পর্যন্ত ফুটিয়ে তুলতে পারি। এছাড়া "Clip on macro lense" ব্যাবহার করি যখন কাছে থেকে ছবি ফোকাসে রাখতে হবে। আর "jewellers loupe" ব্যাবহার করি যখন আইটেম পরিস্কার,ট্রিটমেন্ট,খোদাই ইত্যাদি করি,সেখানে পরিমাপের প্রয়োজন হয় আর আমার লুপে LED light এবং Scale দু'টি ই আছে।

ইনফ্রারেডঃ কোন আধুনিক আইটেমের (নোট,পেইন্টিং,স্ট্যাম্প,চেক, ইত্যাদির)নিরাপত্তা ফিচার পর্যবেক্ষন এবং কোন টেম্পারমেন্ট হয়েছে কি না (আগের কলমের দাগ,দাগ উঠানো,ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি) র জন্য এবং ছবি তুলতে আমি
Phasm full spectrum light ব্যবহার করি।এটা একইসাথে আমাকে ইউ ভি, ইউ আর এবং সাধারন আলোতে ছবি তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও আমি 850nm এবং 940nm দুটি তরংগ দৈর্ঘের ই আলাদা আলাদা ইনফ্রারেড ফ্ল্যাশলাইট ব্যাবহার করি বিভিন্ন আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে।

ক্যামেরাঃ প্রথমত সাধারন সকল ছবি নিজের মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তুলি,তাছাড়া প্যানাসনিক লুমিন্স পয়েন্ট এন্ড শুট মডিফাইড ফুল স্প্রেক্ট্রাম ক্যামেরা মাঝে মাঝে ব্যাবহার করি।

ইনফ্রারেড হিট সেন্সরঃ কোন আইটেমের (বিশেষ করে কয়েনের এবং মেটাল) উপাদান,গঠন গত ত্রুটির ইত্যাদি বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষনের জন্য আমি স্বতন্ত্র ডিভাইস হিসেবে
"HTi HT 301 Mobile Phone Thermal Imager" ব্যাবহার করি। যা দিয়ে সহজেই কোনটা রুপা,কোন টা এলুমিনিয়াম, তামা, ইত্যাদি ধারনা করা যায়। কেননা প্রতিটি ধাতুর তাপ পরিবাহীতার গতি আলাদা আলাদা। তাছাড়া কোন আইটেমের (এন্টিক,এনক্লোসড্) ফাটল বা ক্র‍্যাক থাকলে সেটাকে X-rey করানোর আগে আমি চাইলেও সেটার পুরুত্ব,সম্ভাব্য ফাটল ইত্যাদি গবেষণা বাসায় ই সম্পন্ন করতে পারি।

ময়েশ্চার মিটার (সুক্ষতা ০.৫)- যা দিয়ে কোন নোট এর আদর্শ আদ্রতা,নিয়মিত আদ্রতা,ম্যাটেরিয়ালের স্বাস্থ্য, ক্যামিকেল এক্সপোজার লেভেল ইত্যাদি পরিক্ষা করি। এমনকি কোন এলবামে রেখেছি তার আদ্রতাও পরিক্ষা করি।

গার্ডিয়ান পলিমার ডিটেক্টর- কি ধরনের পলিমার সাবস্ট্রেট এবং তাতে মুদ্রনের প্রভাব নীরিক্ষা করার জন্য এটা ব্যাবহার করি।

বাই স্প্রেক্ট্রাম ইউ ভি ফ্ল্যাশ লাইট (365 nm, 395 nm) দুটি আলদা ধরনের UV আলোতে আলাদা আলদা রকম আইটেমের নিরাপত্তা ফিচার গুলু ফুটে উঠে। তাই আমি আলাদা আলাদা লাইট ব্যাবহার করি।
ডুয়েল স্প্রেক্ট্রাম আই আর ফ্ল্যাশ লাইট-এটা পারত এক ই কাজ করে তবে আমি অন্যান্য কাজের জন্য দুটি আলাদা স্প্রেক্ট্রাম রেখেছি যা কোন নোটের IR profile বুঝতে কাজে লাগাই।

পি এইচ মিটার- কোন আইটেমের কি ধরনের ক্যামিকেল এক্সপোজার হয়েছে তার ধারনা নেয়ার জন্য এই প্রসেস ব্যাবহার করি।যদিও খুব কম ই এটা করা লাগে,তবে ডিগ্রেডেশন,রাস্ট,ড্যাম্প,স্পট ইত্যাদির সূত্র বুঝার জন্য এই প্রসেস টি আমায় অনেক সাহায্য করে।

ম্যাগনেটিক ইন্ক ডিটেক্টর- কোন নোটে ম্যাগ্নেটিক ইনক প্রফাইল আছে কি না,থাকলে আনুমানিক কোথায় সেটা জানার জন্য।

ডিজিটাল ক্যালিপার্স (সুক্ষতা ০.০০১ মি মি)- যা কোন আইটেমের পুরুত্ব মাপতে কাজে লাগাই।

লাইট বোর্ড /whatermark লাম্প- জলছাপ দেখতে এবং তার ছবি তুলতে অনেক সহায়তা করে।

ডিভাইস ব্যতীত অন্যান্য যেসকল প্রযুক্তি গুলো আমি ব্যবহার করি -আয়োডিন পেন,লিটমাস পেপার (আইটেমে কেমিক্যাল এর উপস্থিতি এবং অম্লত্ব এবং ক্ষরত্ব তো নির্ণয়ের জন্য),অ্যাসিটোন কিট, মেলামাইন কিট ইত্যাদি আরো নানান ডিভাইস।

অক্টোবর ১৮, ২০২২

Toy car/model car collection

মানুষ কেনো Toy/Model car/items সংগ্রহ করে?

যারা গাড়ির মতো একটি আধুনিক প্রযুক্তির ধারাবাহিক উত্তরোত্তর বিকাশ এবং এগুলো নিয়ে মুগ্ধ তারা সাধারণ [Toy car]  কালেকশন করেন।

কেনো এগুলু কালেক্টেবল?
সাধারনত,যে কোন খেলনা কোম্পানিই চাইলেই যে কোন গাড়ির মডেলর মিনিয়েচার (ক্ষুদ্র সংস্করন) বানাতে পারে না। এর জন্য অনেক লুপ হোল,অনুমোদন,মেধা সত্ব চুক্তি,ডিজাইন ভেরিফিকেশন ইত্যাদির মাধ্যমে যেতে হয়।কোন নির্দিষ্ট মডেলের 'টয় কার' একটি সীমিত সংখ্যায়ই বের হয়। তার পর আর সেই মডেলর কোন 'টয় কার' বানানো হয় না।ফলে উৎপাদনের উপর একাটি সীমা প্রয়োগ হয়,যার ফলে তা কেবল খেলনা হিসেবে বিবেচিত না হলে 'সংগ্রাহক আইটেম' হিসেবে বিবেচনা হওয়া শুরু হয়।

শর্ত কি?
সংগ্রাহক আইটেমের শর্ত নিয়ে আমার আলাদা লেখা আছে সেগুলোর পাশাপাশি 'টয় কার' এর উপর আরও কিছু সাধারন শর্ত আরাপ হয়।যেমনঃ কোন রেপুটেড উৎপাদকের থেকে তৈরি হওয়া। ফলে মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন সংখ্যার সঠিক তথ্য, ডিজাইনার বা আর্টিস্টের রেপুটেশন ইত্যাদির যথাযথ প্রচারনার। যেমন কোন নাম না জানা গন হারে উৎপাদিত ফ্যাক্টরির তৈরি,বা অপরিচিত/অখ্যাতিমান শিল্পির দ্বারা তৈরি 'টয় কার' কে আপাত দৃষ্টিতে কালেক্টেবল বলা যাবে না। এজন্যই অনেক শিল্পি বিভিন্ন প্রদর্শনী/মেলা র আয়োজন/অংশগ্রহণ করেন যেন সেই খ্যাতি অর্জন করতে পারেন। তাহলে তার জীবনের এক সময় বা মৃত্যুর পর তার ডিজাইন করা বা বানানো প্রোডাক্ট হয়তো কালেক্টেবল হতে পারে।

একজন 'টয় কার' সংগ্রাহকের কি জানা উচিৎ?

প্রকৃত ভাবে;খেলনা গাড়ি যারা সংগ্রহ করেন তাদের কাছে "LS collectibles" একটি পরিচিত নাম যাদের ফ্যাক্টরি জার্মানিতে। আমি সেখান থেকেই এই তথ্য গুলু পেয়েছি। আর তাদের অনেক অনুমোদিত রিটেইলার দের মধ্যে "RM Toys" একটি যা যুক্তরাজ্যে।
'টয় আইটেম' সংগ্রাহকদের কাছে নিচের শব্দ গুলো এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ত তথ্য সমূহ অতীব পরিচিত হবে। যেমনঃ Scale size,Ratio,Model,Boxed,Mint,SKU,Color name,Material,Production number and quantity ইত্যাদি।

কেবল ধারনার জন্য বলছিঃ "মডেল টয়" জগতে "Ratio" দিয়ে বুঝানো হয় প্রকৃত বস্তুর থেকে কত গুন ছোট।  অর্থাৎ ধরুন আসল গাড়িটির আয়তন ১০QM সেখানে খেলনা গাড়িটির আয়তন হয়তো তার  2%. সেই ক্ষেত্রে রেশিও আসবে 1ঃ50.এখন বিভিন্ন সংগ্রাহকের নিশ্ থাকতেই পারে যে তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির খেলনা,নির্দিষ্ট ব্রান্ড,নির্দিষ্ট রেশিও, নির্দিষ্ট কন্ডিশন, নির্দিষ্ট থিমের "টয় কার/প্লেন/ট্রেন/ বোট ইত্যাদি সংগ্রহ করবেন।
এই নিয়ে আরাও অনেক অনেক লেখা সম্ভব.


অক্টোবর ০১, ২০২২

বিষয়ঃ আইটেম সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনীতে আলো পড়ার সময় এবং তীব্রতার ।[Curation and preservation of items of organic origin on the basis of the expoaure to light]

বিষয়ঃ আইটেম সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনীতে আলো পড়ার সময় এবং তীব্রতার ।
কথা বলবো আলোর তীব্রতা এবং সময়ের সাথে সাথে আইটেমের উপর এর প্রভাব নিয়ে।যারা তাদের আইটেম নিয়ে একদিন মিউজিয়াম দেবেন ভাবছেন বা ইতিমিধ্যে টেবিল গ্লাসের নিচে বা দেয়ালে পলি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন প্রদর্শনীর জন্য তাদের এই লেখাটি বিশেষ ভাবে পড়া উচিত।

সাধারণ যে কোন অর্গানিক (প্রানীজ উৎপাদ) আইটেমের উপর আলোর প্রভাব ইন-অর্জানিক( অপ্রানীজ উৎপাদ) আইটেমের থেকে বেশী হয়।তাই কাপড় বা কাগজ জাতীয় উপাদানের উপর আলোর প্রভাব লক্ষনীয়। অতয়েব এই লেখাটি বিশেষ করে নোটাফিলি,ফিলাটিলি,বিব্লিওফিলি, স্ক্রিপ্টোফিলির মতো সংগ্রহের অনুশীলন যারা করেন তাদের সবচেয়ে বেশী কাজে আসবে।

হতো দেখবেন,মিউজিয়ামে জানালা থাকে না বা থাকলে তা বন্ধ/দূরে থাকে। নিরাপত্তার পর এর প্রধান কারন আলোর নিয়ন্ত্রণ।

নিচের ছবিতে আমি "কিউরেটর থমাস হাডসনের" অনুসারে বাৎসরিক কতো ঘন্টা কত প্রবল আলোতে কোন আইটেম রাখতে পারবেন তার একটা গাইড লাইন দিলাম। এটি বাংলায় আমার বইয়েও পাবেন।
এছাও কালার টেম্পারেচার, UV এক্সপোজার,ফিল্টার,আলোর বিচ্ছুরন এবং বিক্ষেপন নিয়ে আমার আলাদা আলাদা লেখা আছে।
একজন সংগ্রাহক কেবল আইটেম কিনে ই বসে থাকেন না।তিনি ভবিষ্যতের একজন ইতিহাস সংরক্ষক। তাই একজন ভালো সংগ্রাহক এই বিষয় গুলু মাথায় রাখবেন এবং জানার ইচ্ছা জাগিয়ে রাখবেন।


সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

কিছু কিছু পুরোনো আইটেমের দাম বেশি আবার কোন জিনিসের দাম পুরোনো হলেও কম কেনো? [why there is cost disparity between various old items]

কিছু কিছু দেশের পুরোনো নোটের দাম অনেক বেশী আবার কিছু কিছু দেশের পুরোনো নোটের দাম বেশ কম কেনো?

এক কথায় বললে বাজারে বের হওয়ার পরিমান এবং তখনকার আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সেই আইটেমের মূল্যের হারের উপর সেই আইটেমের বর্তমান দাম অনেক খানি নির্ভর করে

আসুন দেখি বেশী কখন কখন হয়?

🫴 ধরুন তখনকার জন্য সেই নোট সীমিত সংখ্যার ছাড়া হয়েছিলো এবং সেটার তখন অনেক *মূল্য ছিলো।
🫴ধরুন তখন সেই নোট তার নিজের সিরিজের সবচেয়ে বড় নোট গুলুর মধ্যে একটি ছিলো
🫴ধরুন তখন সেই নোটে নতুন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসা হয়েছিল ফলে জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব
🫴ধরুন প্রযুক্তিগত দিক থেকে সেই নোটে তখন নতুনত্বের ছোয়া এসেছিলো
🫴ধরুন একটি নতুন দেশ,তখনকার ছোট এবং নাজুক অর্থনীতিতে সেই নোট অনেক বড় ব্যাপার ছিলো
🫴ধরুন বের হওয়ার পর পর ই,কোন না কোন কারনে বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়েছিলো।
🫴ধরুন নোট টি বায়জাপ্ত হয়ে যায় নি,অর্থাৎ চাইলেই যে কোন সময় চালানো যেতো,তাহলে যে সেই সময়ে এটাতে বিনিয়োগ করে এটাকে ভালো কন্ডিশনে সচল রেখেছে সে তো তার বিনিয়োগর উপর মুনাফা চাইবে ই,যা দাম বাড়ায়।
🫴ধরুন বের করার রাস্ট্র, সময়,অবস্থা বিশ্ব আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কোন জনপ্রিয়/ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটেছিলো।(যেমন জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন-অন্তর্বর্তী সরকার,তত্ত্বাবধায়ক সরকার,অভ্যুত্থান,গনজাগরন, ইত্যাদি) হয়ে থাকলে
🫴সেই সময়ে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা স্বরনে নোট/আইটেম বের হলে তার গুরুত্বের কারনে সেই নোটের/আইটেমের গুরুত্বও প্রভাবিত হতে পারে,ফলে সংগ্রাহকদের মধ্যে চাহিদা প্রভাবিত হয় যার ফলে দাম প্রভাবিত হয়।
🫴ধরুন হয়তো সেই শাশনামল বেশ ছোট ছিলো,ফলে সেই আইটেম কম বের হয়েছিলো ফলে তা বাজারেও সচরাচর পাওয়া যায় না।
🫴 ধরুন সেই সময়ের দেশের অর্থনীতির অবস্থা বিচারে এই আইটেম এই কন্ডিশনে থাকার কথা না,ব্যাবহ্রিত হয়ে যাওয়ার কথা,কিন্তু কেউ সেটাকে যত্ন করে সংরক্ষন করেছে।
🫴ধরুন সেই সময়ের প্রিন্টার,মিন্ট,স্বাক্ষরকারী, রাস্ট্র,ডিজাইনার বা সংস্লিষ্ট কোন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সত্বা আর অস্ত্বিত্বে নেই। তার মানে তা আর একই ভাবে তৈরি করা সম্ভব না। ফলে যোগান সীমিত।
🫴ধরুন কোন দ্বীপ, দূরবর্তী দেশ,বা রেস্ট্রিকটেড কারেন্সি পলিসি আছে এমন দেশ,

☝️সাধারনত যেসকল আইটেম সহজেই জাল/নকল করা যায় সেগুলোর দাম সময়ের সাথে সাথে কমে। তাই পুরনো যে সকল আইটেমে উন্নত সিকিউরিটি ফিচার ছিলো সেগুলোর দাম এখনো বেশী।তাছাড়া সাধারণত ছোট ডিনমিনেশনের আইটেমের তুলনায় বড় ডিনমিনেশনের আইটেম বাজারে কম ছাড়া হয়। তাই পুরোনো ছোট ডিনমিনেশনের আইটেমের দামের সেই আমলের বড় ডিনমিনেশনের আইটেমের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশী থাকে।

এবার পুরোনো আইটেমের দাম কম কখন বা কিভাবে হয়?
🫴হয়তো তখন এই আইটেম প্রচুর সংখ্যায় বের হয়েছিলো (*বিভিন্ন কারনে হতে পারে)
🫴হয়তো দ্রুত গতিতে প্রচুর আইটেম প্রয়োজন হওয়ায় সেটাতে বিশেষ কোন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নেই
🫴হয়তো দ্রুত গতিতে প্রচুর আইটেম বের হওয়ায় গুনগত মানের দিক থেকে অতটা ভালো না
🫴হয়তো বাজারে এখনো প্রচুর সেই আইটেম ভালো কন্ডিশনে পাওয়া যায়
🫴 হয়তো যখন প্রথম বের হয়েছিলো, তখন খুব দ্রুতই মূদ্রা স্ফীতির স্বিকার হয়েছিলো
🫴হয়তো বের হওয়ার সময় এর প্রাথমিক মূল্যই কম ছিলো
🫴 হয়তো বের হওয়ার সময় সাথে অনেক জাল কপি ও বাজারে এসেছিলো
🫴 হয়তো বের হওয়ার সময় প্রচুর যায়গা থেকে স্বিকৃতি পায় নি।
🫴 হয়তো বের করার রাস্ট্র, সময়,অবস্থা বিশ্ব আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে অতটা জনপ্রিয়/ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটে নি।
🫴হয়তো সেই শাশনামল বেশ লম্বা ছিলো,ফলে সেই আইটেম প্রচুর বের হয়েছিলো ফলে তা বাজারেও অহরহ পাওয়া যায়।
🫴হয়তো সেই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বহিঃবিশ্বে অংশগ্রহণের হার কম/ধীর গতি।

এবার এই "হয়তো" এবং "ধরুন" গুলু ব্যাবহার করে আপনি আপনার দেশের বা যে কোন দেশের অধিকাংশ ধরনের আইটেমের দাম বিশ্লেষণে কিছুটা সাহায্য পাবেন। বিস্তারিত আমার অন্যান্য লেখাতে ভেংগে ভেংগে দেয়া আছে।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২

প্রাথমিক ধারনঃ সংগ্রাহক হিসেবে ;ধাতব মুদ্রা বিশেষত মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ [Investment in Gold nad precious metal 001]

যারা ধাতব মূদ্রা সংগ্রহ করেন বা বিনিয়োগের কথা মাথায় রেখে সংগ্রহ করবেন।বিষয়ঃ স্বর্ন (সোনা)।  Gold

অন্যান্য সম্পদের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকার কারনে ধাতুতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ঝুকি সম্পন্ন। প্রথমে এটা সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি ধাতুতে বিনিয়োগ করবেন কি না,তারপর চিন্তা করুন যে কোন ধাতু।
সংগ্রাহক+বিনিয়োগকারী দের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধাতু গুলুর মধ্যে স্বর্ন,রৌপ্য এবং প্লাটিনাম এই তিনটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে।

💥কেন স্বর্নে বিনিয়োগ করবেন?
দীর্ঘকালীল বিনিয়োগের বিনিয়োগে ভালো ফলাফলের ইতিহাসঃ গত ৪০-৫৯ বছরের ইতিহাসে স্বর্নের দাম বাৎসরিক গড়ে ১০% করে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক ভাবে গৃহিতঃবিশ্বের যে কোন জায়গায় এর দাম স্থির এবং বেচা কেনা করা সহজ।
মূল্য ধরে রাখার ক্ষমতাঃ স্টক বা শেয়ার বা কাগজী মুদ্রার থেকে স্বর্নের মূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রবনতা অনেক ভালো,ইতিহাস তার সাক্ষি।
সৌন্দর্যঃ সময়ের সাথে সাথে এটা কোন বিক্রিয়াতে লিপ্ত হয় না বলে দেখতে চীরকাল চকচকে সুন্দর লাগে এবং সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কোন ব্যাবস্থা নিতে হয় না।
এছাড়াও ট্যাক্স সুবিধা,ভ্যাট সুবিধা,রাখার সুবিধা,সুবিধা মতো অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা,যে কোন প্রয়োজনে ক্যাশ করার সুবিধা,বিমা সুবিধা,মান নিরাপত্তা,বন্ধকি রাখার সুবিধা ইত্যাদি।

💥স্বর্নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুই ভাবেই বিনিয়োগ করা যায়। এখানে কথা বলবো প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ নিয়ে।
স্বর্নে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ করার তিনটি প্রধান রুপ আছে-
১) কয়েন
২) বার
৩) অলংকার

☝️বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েনের দুটি রুপ আছে যা জানা দরকার- Bullion এবং Numismatic

Bullion- এখানে কোন আইটেমের দাম তার মধ্যে লিখা ডিনমিনেশনের উপর নির্ভর না করে তাতে  উপস্তিত মূল্যবান ধাতুর দামের উপর নির্ভর করে।

Numismatic- এখানে কোন আইটেমের দাম তাতে উল্লেখিত ডিনমিনেশিনের উপর নির্ভর করে।

☝️বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বারের ও দুটি রুপ আছে যা জানা দরকার- Minted এবং Cast

Minted- শিল্পীর দ্বারা ডিজাইন করা,সুন্দর চৌকশ দেখতে উৎকৃষ্ট মানের প্যাকেটেজাত ধাতব বিস্কিট।

Cast- ঢালাই করা,ফিনিশিং ততো টা ভালো না ফলে উৎপাদন খরচ কম।

☝️বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অলংকারকেও দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- দেশী(হাতে বানানো), বিদেশী (মেশিনে বানানো)।

এখন আপনি বার কিনবেন,নাকি কয়েন। কোন টার কি সুবিধা অসুবিধা তা নিয়ে আলাদা লেখা লিখা যাবে। আবার শেয়ার,নাকি ধাতু নাকি সঞ্চয়পত্র কোন টি আপনার করা উচিৎ সেটা অন্য আলোচনা।আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আনি বলবো,আপনার বিনিয়োগের পোর্টফোলিও বিভিন্ন খাতে ভাগ করে রাখুন।
সৌজন্যেঃ www.trust-collector.com

থিম,সেম ডেনো (যেমনঃ১ ডেনো) এবং কন্সট্যান্ট এর ভূমিকা। [Theme:1 Denomination and significance of 'CONSTANT' in collection]

বিষয়ঃ থিম,সেম ডেনো (যেমনঃ১ ডেনো) এবং কন্সট্যান্ট এর ভূমিকা।
টার্গেট অডিয়েন্সঃ 
নোট সংগ্রাহকদের মধ্যে ডিনমিনেশন সংগ্রহ করা একটি পরিচিত থিমের মধ্যে একটি। তারমধ্যে তুলনামূলক কম খরচে উল্লেখযোগ্য ফলাফল প্রদর্শন করা যায় বিধায় অনেকেই ১ ডিনমিনেশন সংগ্রহ করেন। এই লেখা টি তাদের জন্য তাদের আরো অ্যাডভান্স লেভেলের গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। ইতিমিধ্যে যারা ১ ডেনো করছেন,অনেকখানি করেছেন,এক জায়গায় গিয়ে আটকে গিয়েছেন বা সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিক নির্দেশনা প্রয়োজন তারা আশা করি উপকৃত হবেন।

যেকোনো সংগ্রহে "কন্সট্যান্ট" নামে একটি শব্দ আছে বাংলা অর্থ হচ্ছে চিন্ময়।অর্থাৎ সংরহের সময় এমন একটি শর্ত বা সীমা অতিক্রম করা যাবেনা। বিভিন্ন থিমের গভীর বিশ্লেষণে কিছু কিছু থিমকেই কনস্ট্যান্ট ধরা যায়। কিন্তু সংগ্রহকে ভালোভাবে ব্যাবস্থাপনার জন্য বেশিরভাগ থিমেরি এক বা একাধিক কনস্ট্যান্ট প্রয়োজন হয়। 

যারা 1 ডিনমিনেশনের নোট সংগ্রহ করেন কিছু প্রস্তাবিত কনস্টান্ট হচ্ছে সাল, মহাদেশ,সংখ্যা বা পরিমান,সাইজ, মূল্য ইত্যাদি।

পরবর্তি প্রসংগঃ কন্সট্যান্ট কি উদাহরণ সহ।
সাফল্যের জন্য অনেকে তাদের সফর কে ছোট ছোট মাইল ফলকে ভাগ করে। কন্সট্যান্ট হচ্ছে সেই সকল ছোট মাইল ফলক।নমুনা সহ বললে যেমন আপনি একটা নির্দিষ্ট সালের বাইরে যাবেন না বা একটি নির্দিষ্ট মহাদেশ কে কম্পলিট করবেন বা কোন নির্দিষ্ট মূল্যের বাইরে যাবেন না বা কোন সাব থিম কম্পলিট করবেন ইত্যাদি। 

উদাহরণঃ ১ ডিনো থিমে সাল কে যদি কন্সট্যান্ট ধরেন।
আপনি যে দেশের ই ১ ডিনো নোট সংগ্রহ করেন না কেন,হয়তো সেই ১ ডিনোর অনেক গুলু ভেরিয়েশন বা সিরিজ বের হয়েছিলো যা স্বাক্ষর, সাল, সিরিজ,ডিজাইন, প্রিন্টার, সাইজ,ওভারপ্রিন্ট, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, মূদ্রন সংখ্যা ইত্যাদি ভেরিয়েবল এর ভিত্তিতে আলাদা আলাদা। অজ্ঞতার সাথে সংগ্রহ চালিয়ে গেলে এখানে দুইটা সিনারিও প্লে করতে পারে- হয় আপনি যদি অনেক/সব গুলু ভেরিয়েবল কে টার্গেট করছেন বা হয়তো কোন ভেরিয়েবল কে মাথায়ই নিচ্ছেন না। দুটি অবস্থান থেকেই কিন্তু আপনি পিছিপে পড়বেন।

সিনারিও ১ঃ বেশী ভেরিয়েবল রাখলে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখতে অনেক সময় লাগে,সেই ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনার অভাবে কখোনও কখনো সে ক্ষেত্রে সংগ্রাহক; আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।হয়তো একসময় উল্লেখযোগ্য কিছু করেই উঠতে পারে না যেখানে তার মানসিক শান্তি সাম্যাবস্থায় আসে। আওব সময়ই তার মনে "নেই নেই,চাই চাই" চিন্তা থাকে।

সিনারিও ২ঃ কোন ভেরিয়েবল না থাকলে সংগ্রহ এমন অগুছালো ভাবে গড়ে উঠে যে পরবর্তীতে কোন ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে তার প্রশান্তি আনতে পারে না,কারন অন্যের গুছানো কিন্তু ছোট সংগ্রহ যখন দেখবেন তখন নিজের টা দূর্বল মনে হতে পারে। ভেরিয়েবলের ছাড়া সংগ্রহ করলে সংক্ষেপে কাউকে আপনার সংগ্রহ বুঝাতে পারবেন না। কোন এক্সিবিশনে বা সমাবেশে নির্দিষ্ট করে বলতে/দেখাতে পারার কিছু থাকবে না।

করনীয়ঃ লেখাটি লেখার আগে লক্ষ্য করেছি বেশীরভাগ সংগ্রাহকই এটি টার্ম টা ভাবেন না বা ভেবে এগুচ্ছেন না। তাই নিজের কনস্ট্যান্ট টা ভাবুন,নির্ধারন করুন,প্রয়োজন হলে আলোচনা করুন,পরামর্শ আদান প্রদান করুন যে কোথায়,কিভাবে কি করলে;শুধু ভ্রমনই সন্তোষজনক হবে না সাথে সাথে একটি গন্তব্যেও দ্রুত পৌছাবেন।




সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২২

সংগ্রাহকের গুনগতমান,দেশি বিদেশী সংগ্রাহকদের মধ্যে পার্থক্যঃ[Quality of collectors and difference]

 সংগ্রাহকের গুনগতমান,দেশি বিদেশী সংগ্রাহকদের মধ্যে পার্থক্যঃ

মানের কথা বলতে গেলে পার্থক্যের কথা বলতে হয়। “সংগ্রহ” যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই একটি সময় এবং খরচ সাপেক্ষ শখ তাই ছাপোষা ভাবে বলতে গেলে এটা বলে ভূল হবে না যে, যে দেশের মানুষের অর্থ এবং সময় তুলনামূলক বেশী সে দেশে শৌখিনতা করা এবং “সংগ্রহ” নামক শখ টা কে প্রশ্রয় দেয়া তুলনামূলক সহজ তাই তা ম্যাচিয়ুর হয়েছে অনেক আগে থাকে। কারন সেখানের জীবন যাত্রা সেই রকম শখে সময় এবং অর্থ ঢালার মতো ফ্লেক্সিবল।আর তাছাড়া যে দেশে এখনো বেকারত্বের হার এতো বেশী,দারিদ্রের কষাঘাতে মানুষ পিষ্ট হয় প্রতিদিন,দ্রব্য মূল্যের কারনে ভাল মন্দ খেতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যায়;সেখানে শখ এবং শৌখিনতা গ্রো করা কঠিন। তাই সেখানে ব্যাবসায়িক চিন্তা ভাবনা আগে আসবে যা আপনি নিশ্চই দেখতে পাচ্ছেন।

তাই অনেক বহিঃ বিশ্বের দেশেই এই রকম অনেক শখ তুলনামূলক অনেক আগে থেকেই ডেভলাপ করেছে এবং ফলে সেখানের সংগ্রাহক সমাজও বাংলাদেশের তুলনায় তুলনামূলক ম্যাচিয়ুর বাঁ পরিপক্ক।

ম্যাচিয়ুর হওয়ার মানে, তাঁরা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন কায়দা কানুন,আচার,ব্যাবহার,গেট টুগেদার,নিয়ম তন্ত্র ,সোসাইটি,সংঘ,গাইড লাইন, ক্যটালগ,মাসিকি,ম্যাগাজিন,পলিসি,ইত্যাদি ডেভলাপ করার সময় এবং সুযোগ পেয়েছে,যেদিক থেকে বাংলাদেশ এখনো শৈশবে।

 

ফলে কি হয়েছে?

ফলে সেখানে যে সকল সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে তাঁদের সেই সকল পরিবেশে এক্সপোজার বেশী হয়েছে এবং তুলনামূক অধিকত গুন গত মান সম্পন্ন সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে বাঁ হচ্ছে বাঁ সুযোগ পাচ্ছে।

 

মান কিভাবে আলাদা করা যায়?

সাহায্য করার মনোভাব (একে অন্যের লেজ ধরে টানে না)বরং কাস্টমার ফরোয়ার্ড করে।

কোয়ালিটি প্রডাক্ট এবং সার্ভিসের জন্য অর্থ খরচ করার ফ্লেক্সিবালিটি থাকে,তাই করে।

অধিকাংশ সময় কর/সরকারি শুল্ক দিয়ে মালামাল ক্রয় করে,কারন সেটা বৈধ।

আয়ের উৎস কর নিয়মিত পরিশোধ করে,কারন সেটা বাধ্যতামূলক।

বিক্রয় কর বাঁ লাইসেন্সের যেহেতু ব্যাবস্থা থাকে তাই লাইসেন্স ভুক্ত ব্যাবসা হওয়ার/করার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

প্রফেশনার বডির অস্ত্বিত্ব এবং সাথে যুক্ত থাকার কারনে প্রফেশনার এটিচিয়ুড,ইটিকেট,কায়দা কানুন,আইন শৃঙ্খলা ইত্যাদিতে নলেজ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।

সময় এবং মনমানসিকতার ফ্লেক্সিবলিটি থাকার কারনে তাঁরা এই নিয়ে সময় কাটানো,অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং পড়াশুনার সময় এবং সুযোগ বেশী পায়।  

সংগ্রহের পন্য কোথায় কিভাবে ভালো ভাবে সংগ্রহের রাখতে হবে তা জানতে এবং এই ক্ষাতের পেছনে তুলনা মূলক বেশী অর্থ ব্যায় করে।

এখানে গিফট দিয়ে মিত্রতা করা লাগে না (উপহার দিয়ে নির্বাচনে ভোট পাওয়া লাগে না)। ভালো মানুষের এমনিই সাপোরটার থাকে।

নেটওয়ার্কিং; বিভিন্ন মেলা,এক্সিবশন যেহেতু বেশী হয় তাই সেগুলুর মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং বাঁ কেন্দ্রীয় আলোচনা ব্যাবস্থা শক্ত থাকে।

অর্থের ফ্লেক্সিবলিটি যেহেতু বেশী থাকে তাই কেবল সংখ্যার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে মানের দিকে গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ থাকে।

বিশ্বায়ন এবং প্রাযুক্তিক উৎকর্ষের কারনে আন্তর্জাতিক এক্সপোজার বাড়ানোর সুযোগ বেশী থাকে।

 

তো এখন কি করনীয়ঃ

এই সকল কারনে দেখা যায় অনেক সময় ই একজন বিদেশী সংগ্রাহকের মতো একই পরিমানের সংগ্রহ একজন দেশি সংগ্রাহক করতে তুলনা মূলক কম অর্থ ব্যায় করে। এর মানে এই না যে তাঁদের প্রচেষ্টা কম বাঁ বেশী, আমি বলবো সময় এবং সামর্থ্যের পার্থক্যের কারনে দেশী সংগ্রাহকগন একটু পিছিয়েই থাকে। আর দেশী মাধ্যম গুলুতে অতিরিক্ত ব্যেবসায়ী স্যাচুরেশনের কারনে সবার ই একটা লেজ টানাটানির অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। এর বড় একটা কারন,যে তাঁদের শেখানোর কেউ নেই যে কিভাবে এই লাইনে নেভিগেট করা উচিৎ। আর শেখানোর থাকলেও তাঁদের সেটা শেখার আগ্রহই নেই। তাই সকলকে শেখা এবং শেখানোর জন্য মন-মানসিকতা উন্মুক্ত রাখার আমন্ত্রন জানাচ্ছি। তা না হলে শিশু সমাজ শিশু ই থাকবে বহুদিন।

একমত হলে বাঁ না হলে কমেন্ট করতে পারেন

 

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২২

কালেক্টরদের জন্য ভোক্তা অধিকার আইনের আলোকে ৮ টি আদর্শ. [Consumer rights under the light of collection and collector correspondence]

 কালেক্টরদের জন্য ভোক্তা অধিকার আইনের আলোকে ৮ টি আদর্শ। (খসরা নীতি)

 

ভোক্তা কে?

আপনি যদি কারো থেকে যে কোন পন্য বাঁ সেবা কিনেন তাহলে আপনি একজন ভোক্তা এবং আপনার কিছু অধিকার আছে।

আপনার কিছু অধিকার আছে যা সংগ্রহ জগতের আলোকে আমি তুলে ধরছি। তাই এগুলু কখনো ক্ষুন্ন হলে অধিকার আদায়ে সোচ্চায় হোন এবং আওয়াজ তুলুন। আমি সাথে আছি বলেই এগুলু জানাচ্ছি।

১) নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করণঃ এমন পন্য,এমন ভাবে,এমন জায়গায় বিক্রি করা যাবে না যা জীবন এবং সম্পত্তির উপর ঝুঁকিপূর্ণ।

২) তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করণঃ ভোক্তা পন্য কেনার আগে সেই পন্যের মূল্য,সংখ্যা, গুনগত মান,প্রাপ্তি সময়কাল ইত্যাদি জানার অধিকার রাখে।

৩) পছন্দ করার অধিকারঃ ভোক্তা কে কোন ঠাসা করে কোন পন্য নিতেই হবে এমন অবস্থায় ফেলা যাবে না। তাকে বিভিন্ন চয়েজ দিতে হবে।

৪) অভিযোগ শোনানোর জায়গাঃ কোন ক্রেতার সমস্যা থাকলে তাকে ব্যান/ব্লক করে,গায়েব করে

দেয়া যাবে না।তাকে অভিযোগ করার স্থান দিতে হবে।

৫) মৌলিক চাহিদার অধিকারঃ ভোক্তাকে মৌলিক যা যা তথ্য/পন্য বুঝিয়ে দেয়ার তা দিতে হবে।

৬) সমস্যা সমাধানের জন্য সহায়তাঃ ভোক্তার সমস্যাকে শুনে তাকে কোন না কোন  ধরনের প্রতিকার প্রস্তাব করতেই হবে।না হলে তাঁরা পরবর্তী ধাপে অভিযোগ টি নিয়ে যেতে পারে।

৭) ভোক্তা অধিকার জানার অধিকারঃ কোন ভোক্তা তাঁর অধিকার জানতে চাইলে তাকে তা জানতে দিতে হবে।

৮) সুস্থ পরিবেশের অধিকারঃ ভোক্তা কে নিরাপদ জায়গায় আসা/থাকা/কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

 

এখানে আমি সারফেস লেভেল থেকে ভোক্তা হিসেবে আপনার অধিকারের চর্চা করলাম। আপনার সমাজকে পরিস্কার করতে প্রথমে আপনার ই এগিয়ে আসতে হবে।

আপনার সাথে অন্যায় হলে প্রথমে বিক্রেতা কে জানান ,সমাধান না পেলে সেই ক্রেতা যে প্লাটফর্মে ব্যাবসা করেছে সেই প্লাটফর্মকে জানান উত্তর না পেলে তারপর সেই প্লাটফর্মে বিক্রেতাকে নিয়ে পাব্লিক পোস্ট দিন তাঁর প্রতিবন্ধকতা থাকলে তারপর সেই প্লাটফর্ম সম্পর্কে বাইরে অন্য প্লাটফর্মে পোষ্ট দিন তারপরও সমাধান আশা করলে আইনের সহায়তা নিন।যার প্রতিটি ধাপে আমি সাহায্য করবো যদি প্রয়োজন হয়।

 

কোন চ্যালেঞ্জ করার আগে CPRA (2009) স্টাডি করুন।

আগস্ট ৩০, ২০২২

ক্যাটালগবদ্ধ করন এর গুরুত্ব। ( Cataloging items and their significance. Part-1)

বিষয়ঃ আইটেম হাতে পাওয়ার পর কি কি করা যায়।
(ধাপঃ ক্যাটালগবদ্ধ করন পর্ব-১)

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, যে একজন সংগ্রাহক (যারা নোট সংগ্রহ করেন তাদের নিয়ে উদাহরণ।) শুধু একটি আইটেম নিজস্ব সংগ্রহে এনেই যে ক্ষ্যান্ত হয়ে যায় না।
🏳️‍🌈সেটি র প্যাকেট খোলা থাকে শুরু করে, গননা,প্রকৃতত্ব যাচাই, প্রশংসা করা, গর্ব বোধ করা, আনন্দ শেয়ার করা,যথাযথ ভাবে এ্যলবামে সাজানো, ক্যটালগবদ্ধ করন এবং পরবর্তী অন্বেষণে বের হওয়া একটি আনুষ্ঠানিকতার মতো বিধি যা হয়তো আমার মতো অনেকেই করে থাকেন। কারো কারো জন্য ধাপ কম বেশী হতে পারে।  🏳️‍🌈

💥ক্যাটালগবদ্ধ করা কেনো জরুরি?
আপনি কোন পথে কতোটা এগুতে পেরেছেন এবং কতো টা বাকি আছে তা বুঝার জন্য আপনার একটা ক্যাটালগ থাকতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এখন সেই ক্যাটালগ আপনার নিজের তৈরি করা থিম নিয়ে হতে পারে অথবা ইতিমধ্যে করা অন্যের স্বিকৃত বা জনপ্রিয় কোন ক্যাটালগ আপনি অনুসরণ করতে পারেন। *সংগ্রাহক মানে আপনার একটা ক্যাটালগ থাকবেই।

💥আপনি যেগুলু কে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন তা কেনো দিচ্ছেন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আপনার ক্যাটালগে। ক্যাটালগ ছাড়া এগিয়ে যাওয়া অন্ধকারে অন্ধের অভিজানের মতো। আপনি ছাড়া আপনার সংগ্রহের গুরুত্ব কেউ ই বুঝবে না। আর এক সময় আপনি নিজেও না বুঝতে পারেন যে কেনো সেই সময় আপনি এভাবে ভেবে এরকম ভাবে করেছেন। তাই আপনাকে কমপক্ষে নিজের জন্য একটি রুলবুক ফলো করতেই হবে। তা হলে এক সময় আপনি নিজেকেই বুঝ দিতে পারবেন না আপনার একসময়ের কৃত কর্মের কারন।

💥ভবিতব্য কে মাথায় রেখে সংগ্রহ করাঃ আপনি চির কাল থাকবেন না। আপনার পরে যারা এই সংগ্রহ স্পর্শ করবে তাদের কাছে আপনার ফিলোসোফি স্পষ্ট করার জন্য একটি ক্যাটালগ অত্যাবশ্যক।

💥ক্যাটালগে কি কি থাকতে পারে তা অনেক গভীরে আলোচনা করা যায়। তবে অল্প কথায় বললে যা যা রাখা যায় তার কিছুর সংক্ষিপ্ত ধারনা দিচ্ছি। দেশ, ডিনমিনেশন, সাল, স্বাক্ষর, নাম্বার,অবস্থা, স্বিকৃত কোন ক্যাটালগ নাম্বার যা দিয়ে অন্য কেউ সেটাকে চিহ্নিত করতে পারবে ইত্যাদি আপনার ক্যাটালগের অংশ হতে পারে। কিন্তু সিরিয়াস হলে এই লিস্ট কে ফুলপেজ ফর্মের মতো বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আপনি সাজাতে পারবেন। যা নিয়ে আলাদা পোস্ট করা যাবে।

💥আমি কি কি রাখি?
আমি অলশ, তাই শুরু থেকেই আমি অন্যের প্রকাশিত ক্যাটালগ বই অনুসরণ করে সরাসরি সেই বইয়েই আমার নিজের আইটেম লিপিবদ্ধ করে আসছি। সৌভাগ্যক্রমে একসময় সেই বইয়ের সহরচনাকারী হিসেবে যখন নিজেকে পাই তখন তা আমার জন্য আরোও সহজ হয়ে যায়। আমি ১৯৬২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত যা ই সংগ্রহ করেছি তার প্রতিটি আমি আমার নিজের ভার্শনে একটি একটি করে টিক√ চিহ্ন দিয়ে সংগ্রহ করে এসেছি। ফলে অনিচ্ছা সত্বেও কখনোই আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি একাধিক আইটেম সংগ্রহ করি নি। এমনকি আমি সিরিয়াল ধরে নতুন থেকে পুরনোর দিকে কোন ক্যাটালগ নাম্বার বাদ দিয়ে এগিয়ে চলছি। ফলে আমার একটি সলিড সিরিজ ক্রম তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ ১৯৬৪ সাল থেকে একটি দেশের সকল সিরিজের সকল নোট এক পিস করে কম্পলিট করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছি।

💥আমার মতো, হয়তো আপনার ক্যাটালগও কোন দিন কম্পলিট হবে বা হবে না। তবে আপনি যদি ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করেন তাহলে এর চেয়ে ভালো উপায় আর নেই। আর লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না এমনকি কোন কারনে বিরতি বা বাধা আসলে সহজেই যতোটা হয়েছে ততোটা নিয়ে খুশি থাকবেন বা চাইলে জীবনে অন্য ধাপে গিয়ে নিজে বা অন্য কারো মাধ্যমে সেখান থেকে কন্টিনিউ করাতে পারবেন। অন্যথায় কোথাও বিরতি, বাধা আসলে শুরু করার আগা মাথা কিছুই পাবেন না।

💥ক্যাটালগবদ্ধ করাতে আমি কি কি তথ্য সংরক্ষণ করতে পারি?
উত্তরটা আমার ব্যাক্তিগত- (কবে,কতো দিয়ে,কোথা থেকে কিনেছি),(কতো নাম্বার এলবামে এই নোট টি আছে),(সাথে আগের এবং পরের সিরিজের প্রতিটি নোট আছে কি না),সেই নোটের (সাল,আকার,থিম,কালার টোন),ডিনমিনেশন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষর ও প্রিন্টার। এইসকল তথ্য আমি চাইলেই বের করতে পারি। যার কারনে আমি আমার নিজের ক্যাটালগে একবার চোখ না বুলিয়ে একটি আইটেম ও ব্যাক্তিগত সংগ্রহের জন্য সংগ্রহ করি না।

সৌজন্যেঃ www.trust-collector.com


আগস্ট ২৮, ২০২২

বিষয়ঃ ডাটা নিরাপত্তা। পাব্লিক ভাবে তথ্য প্রকাশ করার অসুবিধা। পর্ব-১[Data security and drawback of personal information published on Public domain]

বিষয়ঃ ডাটা নিরাপত্তা। পাব্লিক ভাবে তথ্য প্রকাশ করার অসুবিধা। পর্ব-১

কুরিয়ার এর রশিদ দেয়া আরেকটি বিশাল ব্যাপার,যা অনেকেই পাব্লিক ভাবে করে থাকেন। আপনি হয়তো আপনার রেপুটেশন বাড়ানোর জন্য এসব করেন কিন্তু এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি ই বেশি হয়।
বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে সময় এবং ডাটার মূল্য অর্থের চেয়ে বেশী। তাই কেউ আপনার থেকে ডাটা চুরি করতে পারলে তা আপনার জন্য লস।ব্যেক্তি ক্ষেত্রে একজনের দ্বায়বদ্ধতা তেমন একটা থাকে না যে সে আপনার ডাটা নিয়ে কি করবে। তাই কোন গ্রুপ এডমিনের কাছে আপনার সেন্সেটিভ ডাটা দেয়া টা আপনার নিজের জন্য ঝুকিপূর্ণ। কারন তারা মানুষ। ব্যাক্তি ক্ষেত্রে আপনার কোন ডাটা চুরি হলে তার জন্য কাউকে আপনি চাইলেই দ্বায়বদ্ধ করতে পারবেন না। অন্য দিকে একটি কোম্পানি থেকে ডাটা চুরি হলে তার জন্য সেই কোম্পানিগুলোর একটা দ্বায়বদ্ধতা থাকে।
এখন ডাটা বলে কি বুঝি?
নাম,বাবার নাম,মার নাম,ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ব্যাংক নাম্বার,গোপন পিন নাম্বার,আপনার অফিসের ঠিকানা ইত্যাদি সকল তথ্যের বা ইনফরমেশন যা থেকে বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ তথ্য উদঘাটন করা যাবে তা ই "ডাটা"।
কিছু ক্ষেত্রে কিছু তথ্য না দিলেই না। কিন্তু কারো আপনার জন্ম তারিখ, বাসার ঠিকানা,কোন ব্যাংক,কোথায় কাজ করেন, কবে ভ্রমনে থাকবেন,মা বাবার নাম ইত্যাদি জানার প্রয়োজন নেই। এমনকি সে গ্রুপ এডমিন হলেও না। কারন কোন সাধারন গ্রুপের ই কোন প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নেই। কোন সাধারন গ্রুপের ই কোন ডাটা সংরক্ষণ এবং ব্যাবহার পলিসি নেই যা তারা আপনাকে দেখাতে বাধ্য। অতয়েব যারা শুধু সেলার কোড বা নমিনেশন পাওয়ার জন্য নাম সর্বস্ব বিভিন্ন গ্রুপে বা এখানে সেখানে নিজেদের আইডি কার্ডের ছবি,বাসার ঠিকানা ইত্যাদি ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের কপালে দুঃক্ষ আছে।
আমি বলছি না যা আপনার গ্রুপের এডমিন বা মডারেটর রা আপনার ডাটা বিক্রি করে ঘরে চাল,ডাল কিনবে কিন্তু এটা কি তারা নিশ্চিত করতে পারবে যে আপনার ডাটা যা আপনি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তা তারা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুরক্ষিত রাখতে পারবে?

অনেকে আবার খামের ছবি দিয়ে প্রাপ্তি পোস্ট দেন। সেটা তো আরেকটা ঝুকিপূর্ণ কাজ,কারন সেখানে ঠিকানা যদি পুরোপুরি দেখা যায় তাহলে এটা নিয়ে মনে হয় বেশী বলার প্রয়োজন নেই।
যারা বিদেশী খাম,ব্যাবহ্রিত খাপ,দলিল, বিক্রি করেন তাদের জন্য এটা বিশেষ ভাবে মনে রাখা উচিৎ যে 'ঠিকানা হচ্ছে একটি --(OIRI)Only IF Required Information.তাই GDPR আইনের আওতার যথার্ত প্রয়োজন ছাড়া অন্যের ঠিকানা বা এই ধরনের (OIRI) শেয়ার করা আইনত নিষিদ্ধ। 

এখন যদি বলেন-"আমি ভাই বাংগালী, এসব আইন টাইন মানি না" তাহলে লেখাটি পড়িয়ে আপনার সময় নষ্ট করানোর জন্য আমি দুঃক্ষিত। 

এখন  আপনি ভাবুন আপনার ডাটার মূল্য আপনার কাছে কতটা। লেখা টি প্রাসংঙ্গিক মনে হলে,শেয়ার করুন।

সৌজন্যেঃ www.trust-collector.com

আগস্ট ২৩, ২০২২

Polymer banknotes and some of the special ones.

পলিমার নোটের মধ্যে যা পেয়েছিঃ

ডিনমিনেশনের দিক; সবচে বড় ;বাজারে চলতি নোট (২০০৩)ভিয়েত্নামের ৫০০০০০ ডং

ডিনমিনেশনের দিক থেকে; সবচে বড়; রদ হয়ে যাওয়া নোট (২০০৩)রোমানিয়া ১০০০০০০ লেই

ফেসভ্যালুর দিক থেকে; সবচেয়ে ছোট ;বাজারে চলতি নোট (২০০৯) নাইজেরিয়া ৫ নাইরা (বাংলায় প্রায় ১ টাকা)

ফেস ভ্যালুর দিক থেকে, সবচেয়ে বড়, ইউরোপের চলতি নোট স্কটল্যান্ড ১০০ পাউন্ড এবং (জিব্রাল্টার,) ১০০ পাউন্ড

ফেস ভ্যাল্যর দিকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্মারক চলতি নোট (জিব্রাল্টার,) ১০০ পাউন্ড

ফেস ভ্যাল্যর দিকে সার্ক ভুক্ত দেশ গুলুর মধ্যে সবচেয়ে বড় চলতি নোট মালদ্বীপ ১০০০ রুপিয়া

কালেক্টর ভ্যালুর দিক থেকে বর্তমানে সবেচেয়ে কম দেখা যায় যে দুটি আধুনিক স্মারক নোট- মালদ্বীপ ৫০০০ রুপিয়া ,(২০১৮) রোমানিয়া ১০০ লেই 

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম পাওয়া যাওয়া স্মারক নোট (২০০০) চিন ১০০  , মালদ্বীপ ৫০০০ রুপিয়া

দৈর্ঘের দিক থেকে সবচেয়ে লম্বা নোট ব্রুনাই ১০০০০ ডলার (১৮০ মিমি)

দৈর্ঘের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট নোট এঙ্গোলা ২০০ (১১৮ মিমি)

প্রস্থের দিক থেকে সবচেয়ে বড় চলতি নোট ব্রুনাই ১০০০০ ডলার (৯০ মিমি)

প্রস্থের দিক থেকে সবচেয়ে বড় স্মারক নোট থাইল্যান্ড ১৯৯৬ ৫০০ বাথ (৯১ মিমি)

প্রস্থের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট নোট এঙ্গোলা ২০০ (৬২ মিমি)

সবচেয়ে বেশী পলিমার নোটে যে সংখ্যা দেখা যায় (১ এবং ৫)

সবচেয়ে কম সংখ্যায় প্রিন্ট করা স্মারক নোট ২০১৫এর স্কটল্যান্ড ৫ পাউন্ড (সংখ্যা ৪০ পিস)

প্রস্থের দিক থেকে সবচেয়ে বড় নিউম্যেস্মেটিট প্রডাক্ট ২০২১এর রোমানিয়ার ১৮৮১ এর একটি রেপ্লিকা (৯৫ মিমি)

প্রথম আধুনিক পলিমার নোট আসে ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার হাত ধরে ১০ ডলার

ইউরোপে, প্রথম আধুনিক পলিমার নোট আসে ১৯৯৯ সালে রোমানিয়ার থেকে ২০০০ লেই 

সবার প্রথম নোটের প্রস্থ বরাবর ফুল ট্রান্সপারেন্ট ওইন্ডো আসে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৫ ডলার

সবচেয়ে বেশী দেশের পলিমার নোট বানায় ডে লা রু,

সবচেয়ে বেশী পলিমার নোটের সাবস্ট্রেটের নাম সেইফ গার্ড

আগস্ট ১৭, ২০২২

সংগ্রাহক হিসেবে খরচ করার প্রবণতা এবং দারিদ্র্যের সম্পৃক্ততা [correlation between spending as a collector and poverty ]

একজন সংগ্রাহক হিসেবে প্রায় ই আমরা লোভে পড়েই হোক বা নেশার টানেই হোক বা প্রতিপত্তি বজায় রাখার কারনেই হোক,নানা সময় না না আইটেম কেনার ঝুঁকে ঝুঁকে পড়ি। কখনো কিনে আবার অনুশোচনা করি যে সেটা এই আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেনা ঠিক হলো কি না।
ব্যাক্তিগত ভাবনা থাকে বলছি, যখন সেটা কমপক্ষে দুটি করে কেনার ক্ষমতা আপানার থাকবে তখন কিনলে অনুশোচনা কম হবে। তা ডিল যত ভালোই হোক আপনার মানসিক স্বাস্থের চেয়ে একটা আইটেম কখোনোই মূল্যবান হতে পারে না। এতে যদি আপনার সংসারে আশান্তি হয়, এক বেলা খাবার কম খেতে হয়, কাপড় ধোয়ার সাবান না কিনতে পারেন তাহলে সেই ভাবে সংগ্রহ না করাই শ্রেয়।
কেন এবং কিভাবে?
যখন আপনি কোন দামী জিনিস কেনেন সেটা আপনার মস্তিস্কে একটু হেডেক নিয়ে থাকে (যদি কিছু হয়,কিভাবে মেন্টেইন করবো,যদি হারিয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়,ক্ষতি হয় ইত্যাদি) । তারমানে তখন আপনি এক দিকে সেই বস্তু টির দাশ হয়ে যান।
অন্য দিকে যখন সেই বস্তু টি দুটি করে কেনার ক্ষমতা আপনার থাকবে,অথচ আপনি কেবল একটি ই কিনবেন তখন সেই বস্তুটির উপর আপনার একটি স্বাধীনতা কাজ করে যার ফলে সেটি কোন কারনে হাত ছাড়া হলেও আপনার ভেংগে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কারন মানসিক ভাবে আপনি একটি শক্ত অবস্থানে থেকেই সেটা প্রথমে অর্জন করেছিলেন।
বিনিয়োগের ভাষায় একটি কথা আছে- একটি ঝুড়ি তে আপনার সকল ডিম না রাখাই ভালো। অর্থাৎ যদি বিনিয়োগ হিসেবে আপনি সংগ্রহ করেন তাহলে পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের সেক্টরেও বিনিয়োগ করুন।
অন্য দিকে এই ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসুন যে "টাকা থাকলেই বড় সংগ্রাহক হওয়া যায়" আর "বড় সংগ্রাহক মানেই বড় লোক"। দুটি ভূল ধারনা কারন যথাযথ ডেডিকেশন থাকলে হয়তো টাকা অতটা ম্যাটার করে না। আর যথাযথ টাকা থাকলেই ফালতু কেউ ২০ টাকার নোট কিনে লকারে রেখে দেবে না। বড় ব্যাবসায়ীদের অন্যতম একটা গুন যে তারা ভবিষ্যৎ ভাবে এবং সঞ্চয় এর তুলনার বিনিয়োগে মননিবিষ্ট হয়। এবং পজিটিভ ডেবট্ (ঋণ) থাকে।
উপদেশঃ *ঋণের উপর কিন্তু ট্যাক্স হয় না।
প্রীতম চক্রবর্তী। Pretom Chakraborty

আগস্ট ১৩, ২০২২

যে সকল বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন সেলারের শপে এক ই পন্যের দাম আলাদা আলাদা হতে পারে [Factors contributing to price difference between sellers for same product]

 ভোক্তার কাছে আসতে আসতে পন্যের দাম কিভাবে পরিবর্তন হয়?

✔️ রাস্তায় প্রডাক্ট মিসিং হলে বাকি পন্যের দামের উপর সেটার প্রভাব পড়ে
✔️সরকারী ইম্পোর্ট খরচ/ ডাক মাশুল আরোপ হলে
✔️ডলার/আন্তর্জাতিক মুদ্রার রেট পরিবর্তন হলে
✔️বাজারে মুদ্রা স্ফীতি হলে
✔️আন্তর্জাতিক বাজারে সেই আইটেমের চাহিদা বাড়লে
✔️আন্তর্জাতিক বাজারে সেই আইটেমের দাম বাড়লে
✔️হয়তো এক জনের আগের কেনা,অন্য জনের পরের কেনা
✔️খুচরা কিনে বিক্রি করলে
✔️স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেড়ে গেলে,যোগান ঠিক রাখার জন্য দাম বেড়ে যেতে পারে
✔️আইটেম এর সাপ্লাই সাময়িক ভাবে কম হলে
✔️বিদেশ থেকে আইটেম আনার খরচ
✔️কেউ হয়তো আগের স্টক কিনেছে কমে,অন্যে হয়তো পরের স্টক পেয়েছে একটু বেশীতে।
✔️যে কমে দিচ্ছে সে হয়তো প্রি অর্ডার নিচ্ছে (তার কাছে মাল নাই)
✔️আনুসাংগিক ব্যাবসার খরচ
✔️কে কত পিস কিনছে
✔️কে কত বিনিয়োগ করেছে এই স্টকে
✔️উৎস থেকে কতো দামে ছাড়া হচ্ছে আইটেম
✔️আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা,ফলে ব্যাববহুল শিপং মেথড
✔️যে দেশের আইটেম সেই দেশে মানুষের যাওয়া আসার হার কমা বা বাড়া
✔️পুঁজিবাদ (এক চেটিয়া ব্যাবসা বা সিন্ডিকেট)
✔️আইটেমের কৃত্তিম সংকট তৈরি করা
✔️বেশী হাত হয়ে আইটেম আসা
✔️ছোট ব্যাবসায়ীর ছোট ব্যাবসা,ছোট রিস্ক,ছোট দ্বায়বদ্ধতা
✔️খুব ভালো জায়গা থেকে আইটেম না খোঁজা
✔️গ্রুপ এডমিন,সিনিয়র,রেগুলার বায়ার ইত্যাদি লোকদের সৌজন্য উপহার দেয়া তে যা খরচ আসে,এক সময় সেগুলো কিন্তু দোকানের পন্যের দামের সাথে যুক্ত হয়।
✔️রেপুটেশন, ইনফ্লুয়েন্স ইত্যাদি বজার রাখার জন্য খরচ
✔️বুস্ট বা বিজ্ঞাপন খরচ
✔️ট্রান্সেকশন খরচ
✔️বাজার সম্পর্কে সীমিত জ্ঞ্যান
ইত্যাদি আরো নানা ফ্যাক্টর
যারা মনে করেন, 🚩বিদেশী নোট কেন হাজার টাকা দিয়ে কিনবো?🚩এতো দাম আবার হয় নাকি?🚩এর চেয়ে দামী আর হতে পারে না🚩অনেক বেশী চেয়ে ফেলেছে🚩হাস্যকর দাম -সেই সকল মহা পন্ডিতদের বলছি গনসমালোচনা না ডেকে একবার সেলারের কাছে আপনার মতামত ব্যাক্ত করুন। সেলার হয়তো আপনাকে তার ব্যাখ্যা দেবে। এটা কে পাব্লিক ইস্যু বানানো শুধুমাত্র নিচ মনমানসিকতা পরিচয়ই না বরং অপেশাদারিত্বের লক্ষন।