এপ্রিল ১৯, ২০২৩

[Coin testing, whether real of fake] কয়েন আসল কিনা নকল কিভাবে বুঝবো?

 Tests to check coins:

As a coin collecting expert, detecting fake coins is a crucial skill to have. There are various ways to detect fake coins, ranging from basic to advanced methods. In this chapter, we will discuss the most effective techniques and equipment for detecting fake coins.

  1. Basic Tests

1.    a. Visual Inspection - The first and easiest way to detect a fake coin is through visual inspection. Look for any discrepancies in the design or shape of the coin. Be sure to examine both sides of the coin.( Design: The design on a genuine coin will be sharp, clear, and detailed, with no signs of wear or damage.

2.    Lettering: The lettering on a genuine coin will be crisp and legible, with no signs of wear or damage.

3.    Mint marks: Genuine coins will have mint marks that are correctly positioned and appropriate for their date and mint.

4.    Metal composition: The metal composition of a genuine coin will be consistent with the known composition of that particular denomination and year.

5.    Surface: The surface of a genuine coin will be smooth and free of scratches, dents, or other signs of damage.

6.    Color: The color of a genuine coin will be consistent with its known metal composition and will not appear artificially toned or colored.

)

7. Edge Lettering  - Some coins have edge lettering, which can be used to verify the authenticity of the coin. Use a magnifying glass to examine the edge lettering and compare it to a genuine coin. You use a 10x zoom loop for that.

b. Weight Test - Most counterfeit coins have a different weight than genuine coins. Use a coin scale to weigh the coin and compare it to the weight of a genuine coin of the same type.

c. Magnet Test - Some counterfeit coins are made of different materials than genuine coins and are magnetic. Place a magnet near the coin and see if it is attracted to it. You use a magnet slide to test that.

d. Sound/Strike Test - Toss the coin and listen to the sound it makes. A fake coin will have a different sound than a genuine coin. You can use a Ping tester and mobile app for that.

e. Diameter and Thickness Test - This test involves measuring the diameter and thickness of the coin to ensure it matches the specifications of the genuine coin. To perform this test, you will need a calliper or micrometre.

g. Cross referencing with catalogue book: There are certain catalogue books available where the picture of the coin is given with real-world size. You can cross reference your coin there as well.

  1. Advanced Tests

a. Microscopic Examination - Use a loupe or microscope to examine the surface of the coin. Look for any signs of casting or other irregularities.

b. Electric Resistance Test - This test measures the electrical resistance of the coin to determine its conductivity. This method can be used to detect coins made from different metals than the genuine coin. To perform this test, you will need an electrical resistance meter, such as a digital multimeter.

c. Thermal Conductivity Test - This test measures the thermal conductivity of the coin to determine its composition. This method can be used to detect coins made from different metals than the genuine coin. To perform this test, you will need a thermal conductivity tester, such as a thermal conductivity meter.

 

d. Ultraviolet (UV) Light Test - Some genuine coins have special features that can only be seen under UV light. Use a UV light to examine the coin and look for any unique markings.

e. Specific Gravity Test - This test involves measuring the specific gravity of the coin to determine its composition. This requires specialized equipment, such as a specific gravity balance.You can also use the string method.

f. X-ray Fluorescence (XRF) Test - XRF testing is a non-destructive method of analyzing the composition of a coin. This method requires specialized equipment, which can be expensive.

g. Electric Conductivity Test - This test measures the electrical conductivity of the coin to determine its composition. This method requires specialized equipment, such as an electrical conductivity meter.

h. Chemical Testing - Chemical testing involves using chemicals to determine the composition of the coin. This method is not recommended for beginners and should only be done by professionals.

i. Acid Testing - This test involves applying a small amount of acid to the surface of the coin to determine its composition. This method is not recommended for beginners and should only be done by professionals. To perform this test, you will need a set of testing acids, such as nitric acid and hydrochloric acid. It’s generally considered a destructive test as it may leave mark on the coin.

Conclusion:

Detecting fake coins is a crucial skill for coin collectors. By using a combination of basic and advanced tests, collectors can determine the authenticity of a coin. It is important to invest in quality equipment and take the time to learn how to use it properly. Remember, if something seems too good to be true, it probably is. Always be cautious when purchasing coins from unknown sources and consult with a professional if you have any doubts about the authenticity of a coin.

এপ্রিল ১৩, ২০২৩

ব্যবহৃত নোট সংগ্রহ করার সাইড ইফেক্ট [side effect of collecting used note ]

ব্যাবহৃত নোট সংগ্রহ করার সাইড এফেক্ট

সংরক্ষণের অসুবিধা: নোটগুলি কাগজ বা পলিমার দিয়ে তৈরি, যা আলো, আর্দ্রতা এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণগুলির সংস্পর্শে আসার কারণে সময়ের সাথে সাথে ক্ষয় হয়।  যে সকল সংগ্রাহক তাদের সংগ্রহের মূল্য সংরক্ষণ করতে চান তাদের এসিড-মুক্ত পাউচ বা অ্যালবামে সংরক্ষন করলেও নোটে থাকা ময়লা, দূষণ এবং এসিডের কারনে কেবল সেই নোট না বরং তাদের সংস্পর্শে আসা অন্যান্য আইটেম ও ক্রমান্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। নতুন নোটের তুলনায় তাই তাদের সংরক্ষন সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হতে পারে এবং সেগুলোর সংরক্ষণে অতিরিক্ত মনোযোগ প্রয়োজন।

 নান্দনিক মূল্য: কিছু সংগ্রাহক তাদের নান্দনিক গুণাবলী যেমন তাদের নকশা, রঙ বা ঐতিহাসিক তাত্পর্যের জন্য ব্যাংকনোটকে মূল্য দেয়।  যাইহোক, ব্যবহৃত ব্যাঙ্কনোট সংগ্রহ করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ এতে দাগ, দাগ বা অন্যান্য অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে যা তাদের মূল ফিচার থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। সংগ্রাহকদের তাদের সংগ্রহের গুণমান নিশ্চিত করতে আরও ব্যয়বহুল বা বিরল নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। 

বিনিয়োগের মূল্য: যদিও কিছু ব্যাংক নোট সময়ের সাথে সাথে মূল্যবান হতে পারে, বিশেষ করে বিরল বা ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য নমুনা, বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ব্যাঙ্কনোট সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।  ব্যাঙ্কনোটের বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট এবং অস্থির, এবং সংগ্রাহকদের বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য রিটার্ন উপলব্ধি করার জন্য বছরের পর বছর বা এমনকি কয়েক দশক ধরে তাদের নমুনাগুলি ধরে রাখতে হবে।  সেখানে অনেক বছর রাখার পর যখন দেখবেন অন্য কেউ সেটি ভালো কন্ডিশনেই রেখেছিলো কিন্তু আপনি এতো গুলু রাখার পরও ভালো দাম পাচ্ছেন না,কারন বাজারে আপনার কন্ডিশনের আইটেমের চাহিদা নেই,সেক্ষেত্রে কি করবেন?তবে মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক ইভেন্টগুলির কারনে সংগ্রাহক বাজারে বিভিন্ন কন্ডিশনের ব্যাঙ্কনোটের মূল্য প্রভাবিত হতে পারে, তাই তাদের ভবিষ্যতের মূল্য অনুমান করা কঠিন করে তোলে। তবে অন্যান্য সব ফ্যাক্টর কে কন্সটেন্ট ধরলে নতুনের চাহিদা সব সময়ই পুরোনোর চেয়ে বেশী থাকবে।

পুরোনো না হলে নোট জাল হতে পারে: এই মনমানসিকতা অজ্ঞতার লক্ষন। আপনার পুরোনো জিনিস ভালো লাগ্লে আপনি সেটা সংগ্রহ করেন,আমার।কিছু বলার নেই কিন্তু "দেখতে পুরোনো হলে সেটার জাল হওয়ার আশংকা কম" সেটা বলা ভূল হবে। আমার পরামর্শ রইলো যে আপনি যে এই বিষয়ে জানে তার সাথে পরামর্শ করুন। 

এই পয়েন্টগুলি ব্যাঙ্কনোট সংগ্রহের জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জগুলিকে হাইলাইট করে, বিশেষত যখন এটি ব্যবহৃত ব্যাঙ্কনোট সংরক্ষণ, নির্বাচন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আসে।  যাইহোক, শখের প্রতি অনুরাগী সংগ্রাহকদের এই  অসুবিধাগুলি, তাদের অনন্য এবং মূল্যবান সংগ্রহ তৈরির মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে পারেন। যেমন কোন একটি থিম কম্পলিট করা বা কোন।একটি সেট কম্পলিট করা। সেই ক্ষেত্রে অনেক সময় একটু দূর্বল নোট ও সেটে।বা থিমে থাকার কারনে সার্বিক ভাবে ভালো মূল্যায়ন নিয়ে আসে। পুরোনো কন্ডিশনে সংগ্রহ করার আবার ইতিবাচক দিক ও আছে যা অন্য আলোচনার বিষয়। 

এপ্রিল ০৮, ২০২৩

Authentication of old banknotes (Example: Bangladeshi 2 Taka First series)

বিষয়ঃ বাংলাদেশের প্রথম সিরিজের ১ টাকার নোট (যাকে আপনারা অনেকে ম্যাপ সিরিজ বলে থাকেন) তা নিয়ে বিভ্রান্তি গুলু দূর করা।

একজন স্বতন্ত্র সরকারী মন্ত্রনাদানকারী হিসেবে আজকে আমার ল্যাবে একটি নোট প্রত্যয়নের জন্য আসে।সেটির নিরীক্ষা সনদ দেয়ার সময় অনেক ধরনের পরীক্ষা করেছি,যেমনটি আমি সচরাচর করি। বিভিন্ন স্তরের পরিক্ষা নিরীক্ষার পর প্রকাশযোগ্য কিছু ফলাফল আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।  আশাকরছি যারা শিখতে চান তারা শিখতে পারবেন।

ছবি ১) দেখুন নোট টির চারিদিক,পরিসীমা,কাটিং,কাজের সূক্ষতা,সাবলীলতা।
ছবি ২) এই নোটে লেদওয়ার্কের সূক্ষ কাজ আছে যা সাধারন প্রিন্টারে করলে লেপ্টে যাবে।
ছবি ৩) এই লেদওয়ার্কের কাজের জন্য মেশিন ব্যাবহার করা।হয়েছে যে এর প্রান্ত ভাগের কাজের জ্যামিতিক প্যাটার্ন দেখলেই অনুধাবন করা যায়।
ছবি ৪) কমলা থেকে সবুজ রঙের যে পরিবর্তন সেটা স্মুথ,হটাৎ করে না। গ্রেজুয়াল ট্রাঞ্জিশন।
ছবি ৫) এই নোটে যে কমলা রঙ এর ব্যাবহার দেখা যায় তা কোন প্রিন্টারের না, কারন প্রিন্টারের মুদ্রন কে এতো কাছে থেকে দেখলে RGB ( Red,Green,Blue) রঙের মিশ্রনে তৈরি বলে বুঝা যায়।
ছবি ৬) বাকি সম্পূর্ণ নোট টি অফসেট প্রিন্ট হলেও নোটের সিরিয়াল নাম্বারটি লিথোগ্রাফিক প্রিন্ট যা কাছে থেকে দেখলে  টেক্সচার দেখে বুঝতে পারবেন।
ছবি ৭) নোট টির ওজন প্রায় ০.০১৬ আউন্স বা ৬.৯ গ্রেইন এর কাছাকাছি। (*১০% উঠানামা করতে পারে)।
ছবি ৮) প্রবাহিত আলোতে দেখলে এই নোটের দুই পাশের মুদ্রন ই একই স্থানে শুরু হয় এবং শেষ হয়। যা "Perfect register" ফিচার নামে পরিচিত।
ছবি ৯) UV আলোতে কোন অতিরিক্ত ফিচার দৃশ্যমান হয় না বা গায়েব হয় না।
ছবি ১০) দুটি আলাদা তরঙ্গ দৈর্ঘের ইনফ্রারেড রশ্মির আলোতে দেখলেও এই নোটের কোন কিছু অদৃশ্যমান থাকে না বা অতিরিক্ত কিছু দৃশ্যমান ও হয় না।
ছবি ১১) আনুবিক্ষনিক স্তর থেকে দেখলে এই নোটের ফাইবার সাধারন কাগজের ফাইবার থেকে বড় এবং মোটা।
ছবি ১২) এই নোটের সাবস্ট্রেটে ছোট ছোট সবুজ সুতোর টুকরো খুজে পাওয়া যায়।
ছবি ১৩) এই নোটের সাইড গুলুর কাটিং আনুবিক্ষনিক X-Ray তরঙ্গে দেখলে সাধারন কাগজের কাটিং থেকে স্নুথ দেখা যাবে।
ছবি১৪) সাধারন কাগজ UV আলোতে তে অতি উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করে, এই নোটের সাবস্ট্রেট UV অনুজ্বল থাকে।
ছবি১৫ঃ এই নোটের মুদ্রন স্পেক্ট্রোমাইক্রস্কোপে দেখলে যে কোন রঙ পিওর এবং সাবস্ট্রেটে শোষিত দেখা যাবে,অন্য দিকে একটি রঙের অন্য কিছু যা কোন প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করা সেটাতে তিন রঙের মিশ্রন CMY (Cyan, magenta, yellow) দেখা যাবে যা প্রিন্টারের উপরে নির্ভর করে কখনো কাগজের উপর দানা হিসেবে বসে থাকে কখোনো শোষিত হয়।


ভিডিও ১)  আয়োডিন পেন দিয়ে এই নোটে দাগ বসে না,কিন্তু সাধারন কাগজে দাগ বসে।
ভিডিও ২) এই নোটে কোন চৌম্বকীয় কালির ব্যাবহার নেই,থাকলে এই ম্যাগ্নেটিক ফিন্ড ডিটেক্টরে আওয়াজ হতো।


বিঃদ্রঃ সকল পরিক্ষার ফলাফল পাব্লিক ভাবে প্রকাশ করা উচিৎ না। তাই যা প্রকাশ করা যথাযথ মনে হয়েছে তা প্রকাশ করলাম। তবে এর বাইরের আমি আর ৫ টি টেস্ট করেছি যার ফলাফল আমার কাছে আছে। তবে আশাকরি এর মাধ্যমে সকলের বিবাদ ভঞ্জন হবে,এবং সন্দেহ দূর হবে। পরামর্শের জন্য কমেন্টে প্রথম যোগাযোগ করুন।

এপ্রিল ০৭, ২০২৩

[Everything to know about grading,What,How,Why]গ্রেডিং কি কেন কিভাবে।

সংগ্রহ জগতে “গ্রেডিং” শব্দটি উতপ্রতো ভাবে জড়িত কারন এটি কেবল আইটেমটির অবস্থাকেই দর্শায় না বরং আইটেম টি কি আসল কি না তা ও সর্বজন স্বীকৃত ভাবে প্রত্যয়ন করে। ফলে তার মান তথা দাম নির্ণয়নে সুবিধা হয়। ধরুন আপনি কোন আইটেম কিনবেন, আপনার ভাষ্যমতে সেটি অবস্থা আপনি আপনার বিজ্ঞাপনে ১০ এ আপনি ৯ বললেন। কিন্তু আইটেম কেনার পর ক্রেতা অসন্তুষ্ট কারন তার চোখে এই আইটেমের অবস্থা মান ১০ এ ৭ পাচ্ছে। এখন অবস্থা মান বাঁ সৌন্দর্য যেহেতু আপেক্ষিক তাই এখানে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই ধরণের বিভ্রান্তি গুলুকে সমাধানের উদ্দেশ্যেই গ্রেডিং সার্ভিস গুলুর আবির্ভাব। কারন একটি সুনামধন্য গ্রেডিং কোম্পানি সেই পন্যের অবস্থা নিরপেক্ষ ভাবে দেখে একটি নাম্বার দেয় এবং গ্যারেন্টিও দেয় যে পণ্য টি আসল যার বিস্তারিত পরবর্তীতে অনলাইনে যাচাই ও করা যায়।

এখানে আমরা গ্রেডিং কি,একটি আইটেমের কি কি দেখে গ্রেডিং করা হয়,মূল্য নির্ণয়ের চতুরমূখি সূত্র, তার আসলত্ব নির্ণয়, কি ধরণের আইটেম গ্রেডিং করানো যায়,কেন গ্রেডিং করা হয়, অবস্থাশুমারি থেকে দুর্লভ্যতা নির্ণয়, ইত্যাদি বুঝার চেষ্টা করবো।

 

গ্রেডিং কিঃ সাধারন ভাষায়; আপনি কোন আইটেম কেনার/বিক্রির সময় আইটেমের অবস্থা বিচার করাকে গ্রেডিং বলা হয়। তবে সংগ্রহ জগতে- কোন কোম্পানি(তৃতীয় পক্ষ)যারা কেবল এই কাজ ই করে তাদের নিরপেক্ষ বিচার কে “গ্রেডিং” বলা হয়। বিভিন্ন আইটেমের জন্য আলাদা আলাদা গ্রেডিং কোম্পানি আছে। এটা এক দিকে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে ই মানসিক শান্তি দেয় যে নিরপেক্ষ এবং প্রফেশনাল কেউ এই আইটেম টি একটি অবস্থা মান নির্ণয় করে দিয়েছে,যার কোন দিক থেকেই স্বার্থ নেই।

 

মূল্য নির্ণয়ের চতুর্মুখি সূত্রঃ কোন সংগ্রাহক আইটেমের দাম নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে সাধারন সংগ্রাহকদের জন্য ; কোন কোম্পানির স্বরনাপন্ন না হয়ে নিজে থেকে সহজে দাম বের করার একটি সাধারন প্রসেস হচ্ছে এটি।

অনেকেই জেনেশুনে বাঁ অবচেতন মনে নিজের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এই সূত্র ব্যাবহার করে আসছেন। সেটি হচ্ছে আইটেমটির অবস্থা, আইটেমটির দুর্লভ্যতা,বাজারে আইটেমটির চাহিদা এবং সংস্লিষ্ট আইটেমটির কোন ঐতিহাসিক গুরুত্ব; এই চারটি ফ্যাক্টরের গুনফল। এর যে কোন একটির মান শূন্য (০) হলে মোট ফলাফল শূন্যের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা বেশি। যদিও এক এক জনের কাছে এক একটি ফ্যাক্টরের প্রাধান্য বেশি।

 

অবস্থাশুমারীঃ কোন আইটেম কোন গ্রেডে কতো পিস একটি বাজারে আছে তার লগ কে অবস্থাশুমারী [Condition Census] বলা হয়। অভিজ্ঞ সংগ্রাহক এবং ডিলারদের জন্য মূল্য নির্ণয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স।

 

কি ধরণের আইটেম গ্রেডিং করাবো/ করানো যায়ঃ যদি মনে করেন আপনার আইটেমের উল্লেখযোগ্য কোন মূল্য আছে,আপনার আইটেম টি অনন্য এবং আপনি তা সর্বজনবিদীত ভাবে প্রমান করতে চান তাহলে গ্রেডিং করাতে পারেন। আজকাল অনেক ধরণের আইটেমের জন্য গ্রেডিং [Third Party Grading ] সার্ভিস আছে। যেমন কয়েন,নোট,স্ট্যাম্প, কমিক বই, গেমিং কার্ড ইত্যাদি।

 

গ্রেডিং প্রসেসঃ সেটা এক এক ধরণের আইটেম এবং কোম্পানির উপর নির্ভর করে আলাদা আলাদা। তবে সাধারন ভাবে বললে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আইটেমের সার্বিক অবস্থা, আইটেম টি আসল কি না, আইটেম টির বিস্তারিত, আইটেম টি দুর্লভ্যতা ইত্যাদি দেখা হয়। তারপর কয়েকজন স্বতন্ত্র ভাবে তাদের বিবেচনা থাকে আইটেম টি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নাম্বার দেয় যা পরবর্তীতে গড় হিসাবের মাধ্যমে একটি অন্তিম নাম্বারের রুপ নেয়।

 

সৌন্দর্য যদিও আপেক্ষিক। তবে গ্রেডিং এর ক্ষেত্রে যেহেতু অবস্থা ভেদে মান আলাদা হয় তাই কিছু কিছু বিষয় বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা হয়।

১) কাগজের গুনগত মান [Paper quality]: নোটের আসল কাগজ যেমন শক্ত,মজবুত, খসখসে, ঝকঝকে, অমলিন থাকার করা সেরকম আছে কি না। না হলে তার থেকে কত টুকু বিচ্যুতি হয়েছে।

২) কেন্দ্রীকরন [Centering]: সমগ্র ডিজাইন টি নোটের মধ্য ভাগে সুসম ভাবে অবস্থিত হতে হবে। অন্যথায় সেটির গ্রেড খারাপ হবে।

৩) পরিসীমা [Margins]: চারিদিকে সমান পরিসীমা থাকতে হবে। যা প্রশস্ত,আনুপাতিক এবং ত্রুটিবিহীন হতে হবে।

৪) মুদ্রণের গুনগত মান [Printing quality]: মুদ্রন হতে হবে স্পষ্ট,পরিস্কার,ঝকঝকে, এবং ত্রুটিবিহীন।

৫) রং [Color]: রং হতে হবে উজ্বল এবং ঝকঝকে। কোন প্রকার বিবর্ণতা, লেপ্টে যাওয়া, ঝলসে যাওয়া ভালো নাম্বার পায় না।

৬) সিরিয়াল নাম্বার [Serial number]: সিরিয়াল নামার হবে স্পষ্ট,পঠনযোগ্য,যথাযথ যায়গায় বসানো এবং লেপ্টানো না।

৭) সার্বিক রূপ [Overall appearance]: নোট টি দেখে সারবক ভাবে দৃষ্টিনন্দন হবে এবং কোন বিভ্রান্তিকর ত্রুটি বিহীন।

৮) প্রান্তভাগ [Corner]: নোটের প্রতিটি কোন থাকবে ৯০ ডিগ্রি কোনে এবং তীক্ষ্ণ (ভোতা নয়)। ভোতা প্রান্ত ব্যাবহারিত নোটের একটি বৈশিষ্ট।

৯) খোদাইয়ের কাজ [Embossing]: নোটের যেসকল ফিচার উত্থিত থাকার কথা যেমন অন্ধ বিন্দু,ইন্টাগ্লিও প্রিন্টিং এর জায়গা গুলু,বিভিন্ন সিল এবং সিরিয়াল নাম্বারের জায়গাগুলু সেগুলু স্পষ্ট এবং তীক্ষ্ণ ভাবে যেন উত্থিত থাকে।এটি বিভিন্ন প্রিন্টিং প্লেটের মানের উপর নির্ভর করে।

১০) ভাঁজ করা [Folding]: ভাঁজ বিভিন্ন ধরণের হয়। এমন কি নতুন বান্ডেল রাখার খামখেয়ালীর উপর নির্ভর করে UNC নোটেও ডেউ খেলানো ভাঁজ পড়তে পারে। যাকে অনেকে কাউন্টিং ফোল্ড বলে।যা একদম নতুন বান্ডেলের নোট মেশিন দিয়ে বার বার গননার সময় তৈরি হতে পারে।

১১) নাড়াচাড়ার আলামত [Handling]: এছাড়াও একদম নতুন নোটও যদি খালি হাতে ধরা হয় তাহলে হাত থেকে তেল,ময়লা এবং বাতাস থেকে দূষণ নোটের গায়ে লেগে যেতেই পারে।

১২) ইস্ত্রি করা বাঁ চাপ দিয়ে সমান করা [Pressing]: কোন নোট কে ইস্ত্রি করা হয়েছে কি না তার আলামত যদি পাওয়া যায় তাহলে তা এমনিতেই সেই নোটের গ্রেডের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৩) সারাই করা [Restoration]: কোন নোটের সারাইয়ের কাজ নোটের গ্রেড কে ভিষন ভাবে আহত করে, এমন সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলে সেই নোট কে আসল বলে গন্য ই করা হয় না অনেকসময়।

১৪) দাগ [Stain]: সেটা খামখেয়ালি ভাবে নাড়াচাড়া হোক বাঁ রাখার যায়গার দুর্বলতা হোক, নোটে কন ধরনের দাগ যা নোট প্রথম বের হওয়ার সময় ছিলো না, এমন তৈরি হলে তা অটমেটিক ভাবে সেই নোটের গ্রেড কমিয়ে দেয়।

১৫) ছেঁড়া [Tears]: কোন ছেঁড়া বাঁ কাটা থাকলে সেটা কতো টা এবং কি ধরণের তা নোটের গ্রেডের উপর বিভিন্ন লেভেলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৬) জলছাপ [Watermark]:জলছাপ ভালো ভাবে বুঝা যায় কি না, যেখানে যেভাবে থাকার কথা সেখানে সেভাবে আছে কি না এসব কোয়ালিটি কন্ট্রোলের ব্যাপার,যা একটি UNC নোট কেও ভিবিন্ন গ্রেডে স্থান দেয় অবস্থান এবং স্পস্টতা ভেদে।

১৭) লেখালেখি [Annotation]: সেটা হোক কোন কলমের ফালতু লেখা বাঁ কোন বিখ্যাত ব্যাক্তির স্বাক্ষর, যদি সেটির কোন খুব ভালো এবং নির্ভরযোগ্য প্রমান এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব না থাকে তাহলে সেই নোটের কন্ডিশন ভালো হলেও তার আকর্ষণ কমে যাবে ফলে গ্রেডও কম হবে।

১৮) পরিষ্কার করা [Washing]: নোটের কাগজ শক্ত করার জন্য কি মাড় দেয়া হয়েছে? কোন দাগ উঠানোর জন্য কি ব্লিচ বাঁ এসিড ব্যাবহার করা হয়েছে? কোথাও ই রাবার দিয়ে ঘষাঘষি করা হয়েছে? ইত্যাদি ফ্যাক্টর নোট ধৌত করার আলামত হিসেবে ধরা হয়। তখন গ্রেডিং এ নাম্বার কম পাওয়া যায়।

নিচে কিছু গ্রেডিং কোম্পানির নাম উদাহরন হিসেবে দেয়া হলোঃ

 

1)   Professional Coin Grading Service (PCGS)

2)   Numismatic Guaranty Corporation (NGC)

3)   Sports Card Guaranty (SGC)

4)   Beckett Grading Services (BGS)

5)   Certified Guaranty Company (CGC)

6)   Certified Sports Guaranty (CSG)

7)   Comics Guaranty (CG)

8)   World Banknote Grading (WBG)

9)   Paper Money Guaranty (PMG)

10) Professional Sports Authenticator (PSA)

 

বিভিন্ন কোম্পানির গ্রেডিং এর মানদন্ড আলাদা আলাদা। তার কিছু নমুনা নিচে দেয়া হলোঃ

1)    International Bank Note Society (IBNS): তারা তাদের প্রকাশনায় নোটের কন্ডিশন কে ৯ টি মানে ভাগ করেছে। (Uncirculated, About Uncirculated, extremely Fine, Very Fine, Fine, Very god, Good, Fair, Poor)

2)    PSA/DNA Autograph Grading standards: নান্দনিকত্ব এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে তারা স্বাক্ষরের অবস্থাকে ১০ টি মানে ভাগ করেছে। (GEM-MT10, MINI 9, NM-MT 8, NM7, EX-MT 6, EX5, VG-EX 4, VG 3, GOOD2, PR-FR 1, )

3)    Sheldon Coin Grading Scale  for Coin: যেখানে অব্যাবহ্রিত কয়েন কে Perfect Uncirculated, Superb Gem Uncirculated, Gem Uncirculated, Choice Uncirculated, Select/Choice Uncirculated, Uncirculated (MS60-MS70 পর্যন্ত) ১০ টি গ্রেডে ভাগ করা হয়। এবং ব্যাবহ্রিত কয়েন কে Choice About Uncirculated, About Uncirculated, Choice Extremely Fine, Extra Fine, Choice Very Fine, Very Fine, Choice Fine, Fine, Choice Very Good, Very Good, Choice Good, Good, About Good, Fair, Poor এই সকল শ্রেনীতে ভাগ করা হয়। 

4)    Sheldon Coin Grading Scale  for Banknotes:১৯৪০ এর শেষ ফিকে ডঃ উইলিয়াল শেল্ডন [William Sheldon] গ্রেডিং এর একটি মানদন্ড প্রস্তাব করেন যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভাবে জনপ্রিয়তা এবং স্বীকৃতি পায়। যেখানে ১ থেকে ৭০ পর্যন্ত নাম্বার দেয়া হয়। যেখানে সবচেয়ে ভালো অবস্থার নোট কে ৭০ এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থার নোট কে ১ ধরে নাম্বার দেয়া হয়।

5)    Adjectival Grade: শেল্ডন গ্রেডিং স্কেল প্রবর্তন হওয়ার আগে Gem Uncirculated, Uncirculated, About Uncirculated, Extremely Fine, Very Fine, Fine, Very good, Good এই কয়েকটি বিশেষন দিয়েই কেবল একটি নোটের অবস্থা বুঝানো হতো। যা সরল হলেও সূক্ষ ছিলো না।

6)    Traditional Coin Grading System: এটি একটি সরলীকৃত রূপ যেখানে Proof, FDC, Brilliant Uncirculated, Uncirculated, Extremely Fine, Very fine, Fine এই কয়েকটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়।

সংগ্রাহক হিসেবে আইটেমের “চতুর্মুখি মূল্য নির্ধারণ” একটি অপরিহার্য অনুশীলন। এটি কেবল আপনাকে একজন ভালো সংগ্রাহক হতেই সাহায্য করবে না বরং সংগ্রহের ব্যাপারে বিভিন্ন গুরুত্ব সিদ্ধান্ত নিতেও আপনাকে পথ প্রদর্শন করবে। নোটের কোন অস্বাভাবিক ত্রুটি যেমনঃ পিন হোল, গজাল ছিদ্র,জং, পেন্সিলের দাগ, আঠা, টোনিং ইত্যাদি হয়তো নোটের গ্রেড কে আকাশ পাতাল উঠানামা করাবে না তবে, পরিচ্ছন্ন লেনদেনের স্বার্থে সেগুলুকে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা এবং যথাযথ মূল্য চাওয়াটা প্রফেশনাল বিক্রেতার লক্ষন।

 

কোন গ্রেডিং করা আইটেমের থেকে কি কি তথ্য জানা যায়?

যদিও সেটা আইটেম এবং কোম্পানি অনুযায়ী আলাদা আলাদা। কিছু কোম্পানি তাদের নাম, আইটেমের ক্যাটালগ নাম্বার,আইটেমের উৎপাদন সাল, আইটেমের সিরিয়াল নাম্বার ইত্যাদি দেয়। আবার কিছু কিছু কোম্পানি নোটের ডিনমিনেশন, কোন জলছাপ ব্যাবহার হয়েছে, সিরিয়াল নাম্বারের কোন বিশেষত্ব থাকলে, দেশের নাম, কন্ডিশন গ্রেডিং স্কোর, তাদের সিস্টেমে আইটেমের নিবন্ধন নাম্বার ইত্যাদি প্রকাশ করে।

কিছু কিছু কোম্পানি আইটেমের ডিজাইনারের নাম, আইটেমের কোন স্বাক্ষর থাকলে স্বাক্ষরকারির নাম এবং স্বীকৃতি, আইটেম তৈরি হওয়ার ফ্যাক্টরির নাম ,কোন অন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ্য এবং থিমেটিক তথ্যও প্রকাশ করে।

আবার কোন কোন কোম্পানি এটি আসল হওয়ার সনদ পৃথক ভাবে প্রকাশ করে।

 

গ্রেডিং এর কিছু নেতিবাচক দিকঃ অনেক সস্তা আইটেম গ্রেডিং করিয়ে বিশেষ লাভ পাওয়া যায় না। তাছাড়া সবসময় যে গ্রেডিং পক্ষাপাতশূন্য হয় সেটাও না। যদিও চেষ্টা করা হয় আন্তর্জাতিক ভাবে একটি মান রক্ষা করার তবে কখনো কখনো এক ই আইটেমের দুটি আলাদা সময়ে গ্রেডিং করিয়ে আলাদা নাম্বার পাওয়ার নজির আছে। যদিও গ্রেডিং হওয়ার কথা অব্জেক্টিভ তবে এতে হিউম্যান ফ্যাক্টর থাকার কারনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সাব্জেক্টিভ হয়ে যায়। আবার অনেকে আইটেম স্পর্শ করা পছন্দ করেন। গ্রেডিং করালে যেহেতু আইটেম কি একটি বন্ধ ক্যাপ্সুলে ফেরত পাওয়া যায় তাই এজন্যও অনেকে গ্রেডিং পছন্দ করেন না। এছাড়া গ্রেডিং করার পর নোট কে আল্ব্যামে রাখা মুশকিল। সেগুলুকে তখন বক্সে বাঁ ফ্রেমে রাখতে হয়ে। প্রদর্শন করাতে গিয়ে জায়গা এবং সময় বেশি প্রয়োজন হয়। আর গ্রেডিং এর অতিরিক্ত খরচ তো আছে ই। তাই চেষ্টা করবেন যদি গ্রেডিং করানো হয় তাহলে যেন নামী কোম্পানি থেকে তা করানো হয়।

অন্যদিকে একজন সংগ্রাহকের চোখে নোটের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা অন্যরকম। আমি আমার দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করলাম।

শৈল্পিক মূল্যায়নঃ একটি ব্যাংক নোট কে তার নকশা এবং সেটি কিভাবে নোটে ফুটে উঠেছে তার দেখা হয়। শিল্পকর্মরে গুনগত মান শিল্পীর কাজের সুক্ষতা,খুঁটিনাটিতে মনযোগ দেয়া ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।

রঙের ব্যাবহারঃ রঙের যথাযথ ব্যাবহার একটি মোটামুটি ডিজাইনকেও ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারে।সেজন্য কালার হুইল সহ আরও নানান মেথড আছে যার যথাযথ ব্যাবহারে একটি সাধারন নোটও অসাধারন হয়ে উঠে। নোটের সার্বিক ডিজাইনের সাথে রঙের সামঞ্জস্য রাখাও একটি ফ্যাক্টর।

ডিজাইনঃ গোল্ডেন রেশিও,রঙের মনস্তত্ব, কম্পোজিশন, প্রপোরশন, কন্ট্রাস্ট, রিপিটিশন, হাঁয়ারাকি, সিম্লিসিটি,ইউনিটি, ব্যালেন্স,মুভমেন্ট, টেক্সচার ইত্যাদি অনেক বিষয়ের সমন্বয়ে একটি ভালো ডিজাইন তৈরি হয়। এছাড়া কোন নোট মনে লাগার জন্য ডিজাইনে নতুনত্ব থাকাটাও অনেকের অবচেতন মনে থাকে। আবার অনেক আইটেমের উপস্থিতিতে বিভ্রান্তি বাঁ বিশৃঙ্খলাও যেন তৈরি না হয়।

নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনঃ কোন নতুন নোট যদি কোন অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট নিয়ে প্রবর্তিত হয়/বাজারে আসে তাহলে সেটা অনেক সংগ্রাহকের অনুসন্ধিৎসার অধিকারী হয়।

প্রতিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বঃ একটি ব্যাংক নোট যখন সেই রাষ্ট্রের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রদর্শন করে তখন তা অনেকের চোখেই অন্যন্য সুন্দর মনে হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রতীকের ব্যাবহার ঐতিহাসিক ব্যাক্তির প্রতিকৃতি নোটের সার্বিক গাম্ভীর্য কে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশেষত যারা থিমেটিক সংগ্রহ করে তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠে।

ব্যাবহারযোগ্যতাঃ নোটের ব্যাবহার হতে হবে সহজ,যেন বেশিরভাগ মানুষ সেটার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করতে পারে। একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমেশনের নোটের আলাদা আলাদা রং, সহজবোধ্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট, অন্ধদের সুবিধার জন্য থাকা চিহ্ন ইত্যাদি এর উদাহরন।

টাইপোগ্রাফিঃ যেকোন লেখার ফন্টের ডিজাইন এবং সাইজ হবে এমন যা সাধারন জনগন পড়তে এবং বুঝতে পারে। নোটের ভাষাও এর মধ্যে একটি ফ্যাক্টর। সাধারণত যে সকল নোটে স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা (যেমনঃ ইংরেজি) থাকে তা আমার চোখে মনে হয় যে বেশি চিন্তাভাবনা করা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য তৈরি হয়েছে এবং সেই দেশ ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত।

আকার এবং আকৃতিঃ এমন নোট বানিয়ে কোন লাভ নেই যা পকেটে রাখার জন্য খুব ছোট বাঁ খুব বড়। সেটা সমসাময়িক মেশিন,মানি ব্যাগ, মানি কাউন্টার এবং অন্যান্য মেশিনে এবং স্লটে বসে কি না সেটাও দেখার বিষয়। তাছাড়া একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমিনেশনের মূল্যমান অনুযায়ী যদি তাদের সাইজ দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ অনুসারে ছোট থেকে বড় হয় তাহলে সেটাও একটা ভালো লাগার ব্যাপার। তবে    

মুদ্রণের গুনগত মানঃ নোটের লেখা,মাইক্রোপ্রিন্টিং, গিল্যেশ্যে এবং অন্যান্য সূক্ষ মুদ্রিত ছাপা গুলু হতে হবে পরিষ্কার, স্পষ্ট এবং ঝকঝকে।

 

এপ্রিল ০৫, ২০২৩

Defination of beauty of a banknote ,ব্যাংক নোটের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা

 অনেকেই বলে থাকি যে সৌন্দর্য আপেক্ষিক। এর কারনও আছে। যেমন নোটের গ্রেডিং এ একটি নোট কে এক ধরনের সৌন্দর্যের মাপদন্ডে দেখা হয় আবার, একজন সংগ্রাহকের চোখে নোটের সৌন্দর্যের অন্যরকম সংজ্ঞা। আমি আমার দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করলাম:

☝🏾শৈল্পিক মূল্যায়নঃ একটি ব্যাংক নোট কে তার নকশা এবং সেটি কিভাবে নোটে ফুটে উঠেছে তার দেখা হয়। শিল্পকর্মরে গুনগত মান শিল্পীর কাজের সুক্ষতা,খুঁটিনাটিতে মনযোগ দেয়া ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।

☝🏾রঙের ব্যাবহারঃ রঙের যথাযথ ব্যাবহার একটি মোটামুটি ডিজাইনকেও ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারে।সেজন্য কালার হুইল সহ আরও নানান মেথড আছে যার যথাযথ ব্যাবহারে একটি সাধারন নোটও অসাধারন হয়ে উঠে। নোটের সার্বিক ডিজাইনের সাথে রঙের সামঞ্জস্য রাখাও একটি ফ্যাক্টর।

☝🏾ডিজাইনঃ গোল্ডেন রেশিও,রঙের মনস্তত্ব, কম্পোজিশন, প্রপোরশন, কন্ট্রাস্ট, রিপিটিশন, হাঁয়ারাকি, সিম্লিসিটি,ইউনিটি, ব্যালেন্স,মুভমেন্ট, টেক্সচার ইত্যাদি অনেক বিষয়ের সমন্বয়ে একটি ভালো ডিজাইন তৈরি হয়। এছাড়া কোন নোট মনে লাগার জন্য ডিজাইনে নতুনত্ব থাকাটাও অনেকের অবচেতন মনে থাকে। আবার অনেক আইটেমের উপস্থিতিতে বিভ্রান্তি বাঁ বিশৃঙ্খলাও যেন তৈরি না হয়।

☝🏾নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনঃ কোন নতুন নোট যদি কোন অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট নিয়ে প্রবর্তিত হয়/বাজারে আসে তাহলে সেটা অনেক সংগ্রাহকের ই অনুসন্ধিৎসার অধিকারী হয়।

☝🏾প্রতিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বঃ একটি ব্যাংক নোট যখন সেই রাষ্ট্রের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রদর্শন করে তখন তা অনেকের চোখেই অন্যন্য সুন্দর মনে হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রতীকের ব্যাবহার ঐতিহাসিক ব্যাক্তির প্রতিকৃতি নোটের সার্বিক গাম্ভীর্য কে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশেষত যারা থিমেটিক সংগ্রহ করে তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠে।

☝🏾ব্যাবহারযোগ্যতাঃ নোটের ব্যাবহার হতে হবে সহজ,যেন বেশিরভাগ মানুষ সেটার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করতে পারে। একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমেশনের নোটের আলাদা আলাদা রং, সহজবোধ্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট, অন্ধদের সুবিধার জন্য থাকা চিহ্ন ইত্যাদি এর উদাহরন।

☝🏾টাইপোগ্রাফিঃ যেকোন লেখার ফন্টের ডিজাইন এবং সাইজ হবে এমন যা সাধারন জনগন পড়তে এবং বুঝতে পারে। নোটের ভাষাও এর মধ্যে একটি ফ্যাক্টর। সাধারণত যে সকল নোটে স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা (যেমনঃ ইংরেজি) থাকে তা আমার চোখে মনে হয় যে বেশি চিন্তাভাবনা করা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য তৈরি হয়েছে এবং সেই দেশ ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত।

☝🏾আকার এবং আকৃতিঃ এমন নোট বানিয়ে কোন লাভ নেই যা পকেটে রাখার জন্য খুব ছোট বাঁ খুব বড়। সেটা সমসাময়িক মেশিন,মানি ব্যাগ, মানি কাউন্টার এবং অন্যান্য মেশিনে এবং স্লটে বসে কি না সেটাও দেখার বিষয়। তাছাড়া একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমিনেশনের মূল্যমান অনুযায়ী যদি তাদের সাইজ দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ অনুসারে ছোট থেকে বড় হয় তাহলে সেটাও একটা ভালো লাগার ব্যাপার। তবে   

☝🏾মুদ্রণের গুনগত মানঃ নোটের লেখা,মাইক্রোপ্রিন্টিং, গিল্যেশ্যে এবং অন্যান্য সূক্ষ মুদ্রিত ছাপা গুলু হতে হবে পরিষ্কার, স্পষ্ট এবং ঝকঝকে।

  1. Artistic merit: The banknote must demonstrate excellence in its design and execution. The quality of artwork and attention to detail are important factors.

  2. Use of color: Effective use of color can enhance the banknote's design and make it more attractive. The use of color should be appropriate for the overall design and theme.

  3. Design and technical innovation: The banknote should display originality in design and incorporate new security features that make it difficult to counterfeit. The design should reflect the cultural identity of the country while maintaining a modern and contemporary look.

  4. Symbolism and cultural significance: The banknote should reflect the culture, history, and heritage of the country it represents. The use of symbolism and historical figures can add to the banknote's appeal.

  5. Accessibility and practicality: The banknote should be easy to use, handle, and recognize by the public. It should be durable and able to withstand normal wear and tear.

  6. Overall balance and harmony: The banknote design should be well-balanced and harmonious, with all elements fitting together cohesively. The design should not be cluttered or confusing.

  7. Typography: The typography and font choice should be appropriate for the overall design and theme. The font should be legible and easy to read.

  8. Size and shape: The size and shape of the banknote should be appropriate for its intended use. It should be easy to handle and fit into wallets and other standard storage solutions.

  9. Printing quality: The printing quality of the banknote should be of high quality, with clear and crisp images and text.

  10. Innovation: The banknote should be innovative, incorporating new technologies or features that set it apart from other banknotes.

এপ্রিল ০২, ২০২৩

সংবাদপত্র, ম্যাপ,পোস্টার ইত্যাদি সংগ্রহপরবর্তী সংরক্ষণ। [Collection and preservation of newspapers and posters]

বিষয়ঃসংবাদপত্র, ম্যাপ,পোস্টার ইত্যাদি সংগ্রহপরবর্তী সংরক্ষণ।

খবরের কাগজ,পুরোনো নথি,ম্যাপ এবং বিভিন্ন পোস্টার সংগ্রহ হয়তো অনেকের ই শখ হতে পারে। তবে এগুলু সাধারণত দীর্ঘকালীন সময়ের জন্য সংরক্ষন করা কঠিন কারন স্বভাবসুলভ কারনেই এগুলু তৈরি করার কাগজ খুব একটা ভালো মানের হয় না হয় না। কারন এগুলু অনেকদিন টিকে থাকার জন্য তৈরি ই করা হয় না। কাগজের ভালো মান বলতে কি বুঝায় তা অন্যান্য অধ্যায়ে পেয়ে যাবেন।

🫴🏽নিচের কয়েকটি বিষয় অবশ্যই একজন সংগ্রাহক কে জানতে হবে। যদি সবটুকু পোস্ট পড়ার ধৈর্য নাও থাকে তাহলে কমপক্ষে নিচের ৫ টি লাইন পড়ুন।

১৫ -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর তাপমাত্রা যেন তা খুব উঠানামা না করে। হিটার বাঁ দেয়ালের আশেপাশে সরাসরি রাখা যাবে না।
আদ্রতা ((RH) ৩৫-৫০% ের ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন।
সরাসরি সূর্যের আলো তথা UV লাইটের আলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
লিগ্নিন এবং তথা এসিড ফ্রি বক্সে/এনভ্লাপে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।

🫴🏽এবার আসা যাক বিস্তারিত আলোচনায়ঃ

☝🏾  রাখার জন্য যথাযথ  জায়গা বের করুনঃ একটি ঠান্ডা,শুকনা, এবং অল্প আলোর পরিবেশ খবরের কাগজ,ম্যাপ,পোস্টার,দলিল,নথি ইত্যাদি এক পৃষ্ঠার মুদ্রিত কাগজী জিনিস দীর্ঘ সময়ের জন্য রাখার জন্য উপযুক্ত জায়গা।

☝🏾 গুদাম ঘর, খাটের নিচে, চৌকির পেছনে,আলমারির উপর,গ্যারেজ,জলছাদের উপর রাখা বন্ধ করুনঃ এই এলাকা গুলু প্রায়শই ড্যাম্প,ধুলা,রান্নার ধোয়া,তেল, ছত্রাক, মাকরশা, টিকটিকি ইত্যাদি সমস্যায় পরে যায় এবং অবহেলিত হয়। ফলে কালক্রমে সেগুলু হলুদ হয়ে যায়,লেখা এবং মুদ্রন ঝাপসা হয়ে যায় আর পোকামাকড়ের ক্ষতি তো আছেই।

☝🏾  সাবধানে নাড়াচাড়া করুনঃ সরিষা,সয়াবিনের মতো আমরা মানুষেরাও একটি তেল নিঃসরণ করি। বিশেষ করে হাতের আঙ্গুল থেকে। আপনার হাতের ময়লা এবং সেই তাল যেন আপনার আইটেমে লেগে না যায় সেজন্য আইটেম ধরার আগে হাত ধুয়ে নিন।কারন সেই তেল আবার কিট পতঙ্গ এবং ছত্রাকের নাস্তা।

☝🏾 একটি স্লিভে একটি আইটেম ই রাখুনঃ এসিড মাইগ্রেশন এবং আইটেম ডেমেজ হওয়ার হাত থেকে বাচানোর জন্য একটি পকেটে একটি আইটেম ই রাখুন। অন্যথায় দুটি আইটেমের ই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

☝🏾  কোন আইটেমে কে স্লিভ/পকেটের ভেতর থেকেই প্রদর্শন করান, খুলে কারো হাতে দেয়ার প্রয়োজন নেই।

☝🏾 আইটেমকে তাদের স্ব স্ব স্লিভ/পকেটে ঢুকানোর সময়  শক্ত কিছু [Edge guard] দিয়ে আইটেমের দুই প্রান্ত কে সুরক্ষিত রাখুন।

☝🏾  পোস্টার,ম্যাপ,খবরের কাগজ, নথি,দলিল ইত্যাদি কে ভাঁজ করলে,গোল করে প্যাচালে, তাদের চিরস্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যা আমার “ভাঁজ” সম্পর্কিত লেখায় বিস্তারিত পাবেন।

☝🏾  এই ধরনের আইটেম গুলুর মুদ্রণের সময় যে ধরনের রং/কালি ব্যাবহার হয় সেগুলু সাধারণত এসিডিক হয় ফলে অনেক চেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে সেগুলু কাগজ কে নষ্ট করে ফেলবে ই। তাই “বাফারড” সেপারেটর ব্যাবহারের চিন্তাভাবনা করুন।

☝🏾  এসিড এবং লিগ্নিন ফ্রি উপাদানের গুরুত্বঃ এসিডের কারনে সময়ের সাথে সাথে কাগজে হলুদাভাব আসে এবং কাগজ দুর্বল হয়ে যায়। “লিগ্নিন” যা আধুনিক কাগজ তৈরির সময় ই কাগজে থাকে ভালো উৎপাদনশীলতার কারনে নিউজপ্রিন্টে এবং পোস্টারের কাগজ থেকে সেগুলুকে দূর করার খুব একটা চাপ নেয়া হয় না। এই লিগ্নিন ক্রমে ক্রমে ভেঙে কার্বক্সিলিক আসিডে পরিনত হয় যা স্বভাবতই আপনার আইটেমের ক্ষতি করবে।

☝🏾  এসিড,সফটনার ফ্রি পকেটঃ পলিয়েস্টার এবং পলিইথিলিন দুটোই ব্যাবহার করা যাবে কিন্তু পলিয়েস্টার হয়তো আপনার আইটেম কে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেবে। কারন পলিয়েস্টার পকেট গুলু বেশ শক্ত,তুলনামূলক কম নমনীয় যা আপনার খবরের কাগজ বাঁ পোস্টার টাইপের এক পৃষ্ঠার আইটেম গুলুকে কেবল ক্যামিকের হাত থেকে বাঁচায় না বরং অযথা ভাঁজ হয়ে যাওয়া,ভেঙে যাওয়া এবং কুচকে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। অন্যদিকে পলিইথিলিনও ভালো তবে তা বেশ নমনীয় এবং অতটা স্বচ্ছ না ফলে তা প্রদর্শন করতে হয় না এমন আইটেমের সংরক্ষনে ব্যাবহার করা যায়।

☝🏾 এছাড়া আরও এডভান্সড পর্যায়ে যেতে চাইলে আপনি বিঅম্লিকরন স্প্রে [deacidification spray] ব্যাবহার করে আইটেমের আয়ু বাড়াতে পাড়েন। স্প্রে ব্যাবহার করলে প্রায় একফুট দূর থেকে সমান ভাবে স্প্রে করতে হয়। এই স্প্রে তে কোন পানি বাঁ এমন দ্রবন থাকে না যা সরাসরি কাগজ বাঁ কালির ক্ষতি করবে। তবে সেটা একটু বিশেষায়িত জ্ঞ্যানের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন পেশাদারী সংরক্ষক বাঁ অভিজ্ঞ সংগ্রাহকের সাথে পরামর্শ বাধ্যতামূলক।

☝🏾 প্লাস্টিক ব্যাগঃ কাগজী উপাদানের শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়ার প্রয়োজন হয়। তাই আইটেম অসচেতন ভাবে বন্ধ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখলে ;সেখানে আদ্রতা আটকে যায় এবং ছত্রাক সহ অনুজীবের কলোনি [Microclimate] তৈরি হতে পারে।

☝🏾 আইটেম পরিষ্কার করাঃ যে কোন আইটেম সংগ্রহের সময় এবং সংরক্ষনের আগে সেটিকে যথাসাধ্য পরিষ্কার করে তারপর রাখা উচিৎ। সেজন্য নরম ব্রাস,কাপড়,বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত রাবার, ড্রাই ক্লিনিং স্পঞ্জ ইত্যাদি ব্যাবহার করা যায়।অন্যাথায় তা পোকামাকড় কে আকৃষ্ট করতে পারে।

☝🏾 আইটেমে কোন টেপ [Sellotape, Repairing tape] লাগানো থাকলে সেটা খুলে টেপের আঠা পরিষ্কার করে আইটেমে সম্ভব হলে যথাযথ ভাবে সারিয়ে (আর্কাইভাল টিস্যু, বাঁ আর্কাইভাল টেপ ব্যাবহার করে) তারপর সংরক্ষন করা উচিৎ। সেজন্য গরম হাওয়া,আয়রন বাঁ বিশেষ রাবার [Crepe eraser] ব্যাবহার করতে পারেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি অভিজ্ঞ কারো তত্বাবধায়নেই করা সমীচীন।

☝🏾  আইটেম কে ফ্ল্যাট ভাবে সংরক্ষন এবং পরিবহন করুনঃ অযাচিত ভাঁজ এড়ানোর জন্য আইটেম কে সংরক্ষন এবং সংগ্রহের সময় ভাঁজ মূক্ত ভাবে শুয়িয়ে রাখবেন।একটি পোস্টার,ম্যাপ,নথি বাঁ কাগজে ভাঁজ পড়ে গেলে সেটার নান্দনিকত্ব নষ্ট হয় ফলে সংগ্রাহক মহলে তার দাম কমে যায়।

☝🏾  আইটেম রাখার বক্সঃখবরের কাগজ,পোস্টার এগুলুকে বক্সে রাখলে সেটি যেন শক্ত বক্স হয় যেখানে আঠা না থাকে। কারন সেই আঠা আবার ক্ষতিকর গ্যাস ছাড়তে পারে। বক্সের ঢাকনা যেন এমন হয় যা কমপক্ষে ক্ষতিকর আলো,ধূলা,ধুয়া এবং পোকামাকড় থেকে আপনার আইটেম কে সুরক্ষা দেয়। বক্সের জোড়া গুলু মেটালিক হলে ভালো হয়,তারমানে বক্সটি মজবুত এবং আঠা শুকিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাও থাকে না। কোন কোন বক্সে বাফার ম্যাটেরিয়াল থাকে যা মাইগ্রেন্ট এসিডিটি এড়াতে সাহায্য করে। আর আইটেমের থেকে বক্স যেন একটি বড় হয় কারন বক্স থেকে আইটেম উঠাতে গিয়ে যেন আবার জায়গার স্বল্পতার কারনে আইটেমে ভাঁজ না পড়ে যায়।

☝🏾 অনেকে দেখেছি কাঠের বাঁ লোহার আলমারিতে আইটেম রাখেন,যার আবার অন্যদিকে সমস্যা। যদিও তা বেশ ব্যাহবহুল এবং অনেক সময়ের জন্য সুরক্ষা বয়ে আনে তবে সেগুলুতে ব্যাবহ্রিত রং,বার্নিশ, এনামেল পেইন্ট ইত্যাদি প্রায়শই ক্ষতিকর গ্যাস ছাড়ে যা আপনার আইটেমের ক্ষতি করতে কিন্তু ছাড়ে না। কালক্রমে সেগুলু আইটেমের আশেপাশে এসিডিক পরিবেশ তৈরি করে। তবে কন্সারভেশন গ্রেড পাউডার কোটিং করা কোন আলমারি বাঁ কেবিনেট ব্যাবহার করলে সেই বিপদ এডানো সম্ভব।

☝🏾  আর কাঠের কেবিনেটের বেলা; কাঠে ব্যাবহ্রিত রং এবং বার্নিশ আইটেমের গায়ে লেগে এসিড স্থানান্তরিত করতে পারে যাকে আমরা [Acid migration] বলি। তাই কাঠের আলমারিতে আইটেম রাখলে আইটেম এবং আলমারির মধ্যে আবার একটি “নিরপেক্ষ” কাভার ব্যাবহার করা উচিৎ।

☝🏾 ফ্রেমিংঃ যদি কোন কারনে আপনি আপনার পোস্টার বাঁ খরবের কাগজ বাঁ এই ধরনের আইটেম ফ্রেমে বাঁধান, তাহলে সূর্যের আলো থেকে সেগুলোর ক্ষতি কমানোর জন্য UV প্রতিরোধী কাঁচ বাঁ কভার ব্যাবহার করুন। অনেকে টেবিলের নিচে রেখে লোক দেখানো পছন্দ করেন। তাদের জন্যও একই পরামর্শ। তবে সর্বোপরি আলোতে যতো কম আনবেন আপনার আইটেমের জীবন ততো দীর্ঘায়িত হবে। আর ফ্রেমিং করলে আইটেমের পেছনের বোর্ড ও আবার এসিড ফ্রি কি না সেটাও দেখার বিষয়।

☝🏾  সাপোর্ট বোর্ডঃ আপনার খবরের কাগজ/পোস্টার বিশেষ করে যেগুলু বেশ পুরোনো এবং দুর্বল সেগুকে পরিবহনের সাপোর্ট বোর্ড ব্যাবহার করা বিধেয়। সেই বোর্ড যেন এসিড ফ্রি হয় তা লক্ষ্য রাখুন। অনেকে লিনেন ব্যাবহার করেন, অনেকে অন্যান “বাফারড” ফোম ব্যাবহার করে। 

☝🏾  একটির উপড় একটি আইটেমঃ একটির উপর একটি করে স্তুপ করে অনেক গুলু আইটেম একসাথে রাখবেন না। তাহলে তাদের অযথা ভাঁজ হওয়া, চাপে বিকৃত হওয়া এবং ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

☝🏾 লেবেলিংঃ প্রতিটি আইটেম কে লেবেল দিয়ে রাখুন। যেমন তারিখ,প্রকাশন,বা যেকোন সম্পৃক্ত শিরোনাম ইত্যাদি দিয়ে। এটি পরবর্তীতে আপনার সেটা খুঁজে পেতে কাজে দেবে। এই প্রসেসকে ক্যাটালগিং বলা হয়।

☝🏾 এক মুখ,দুই মুখ,তিন মুখ বাঁ চার মুখ খোলা,বিভিন্ন ধরনের পকেট বাঁ স্লিভেই আইটেম রাখ যায়। তবে তিন মুখ বাঁ দুই খোলা স্লিভেই আইটেম রাখতে দেখা যায় বেশি।

☝🏾 নাড়াচাড়ার পাশাপাশি; নিয়মিত আপনার আইটেম কে পর্যবেক্ষণ করুন এবং কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অভিজ্ঞ কারো থেকে পরামর্শ নিন।

এখানে আমি ISO স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাদুঘরে SOP অনুযায়ী সংরক্ষণ এবং সঞ্চালন যেভাবে শিখেছি তার সারাংশ দেয়ার চেস্টা করলাম।এর মধ্যে কোন পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা বিস্তারিত জানতে চাইলে কমেন্টে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।আর সময়ের কারনে আমি প্রাইভেট কন্সাল্টেশন দেয়া আপাতত বন্ধ রেখেছি।