জানুয়ারি ৩১, ২০২৩

আন কাট শিট।[Uncut sheet] এবং প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]

বিষয়: আন কাট শিট।[Uncut sheet] এবং প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]

Uncut sheet: অনেক দেশের ব্যাংক ই সংগ্রাহকদের জন্য আন কাট শিট (নোট গুলু কাটার আগে) বাজারে ছাড়ে। আন কাট শিট যে কোন সংখ্যার হতে পারে,তবে সর্বোচ্চ সংখ্যা সব সময় সেই নোটের রেগুলার প্রিন্টিং প্রসেসের উপর নির্ভর করে। সাধারনত তা সর্বোচ্চ ৬০ টি পর্যন্ত দেখা যায়। তবে কিছু কিছু দেশ ৭২ টি পর্যন্ত করেছে।
সেখানে প্রতিটি নোট স্ব স্ব ভাবে লিগ্যাল টেন্ডার এবং প্রত্যেক্টির আলাদা সিরিয়াল নাম্বার ও থাকে। এক কথায় বলতে গেলে নোট ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়ার ঠিক আগের ধাপ হচ্ছে প্রিন্টেড শিট থেকে কেটে সেগুলো বান্ডিলবদ্ধ হওয়া, যা ধাপ টি আন কাট শিটের বেলা অগ্রাহ্য করা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি চান সেই শিট থাকে সঠিক আকারে নোট গুলু কেটে নিয়ে সেই দেশে বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জে ব্যাবহার করতে পারবেন।

কোন কোন দেশ সেগুলো রোল হিসেবে,কোন কোন সময় শিট হিসেবে,কোন কোন সময় ফ্রেমে বা বিশেষ চ্যারিটি ফাংশনে এই ধরনের আন কাট শিট ছেড়ে থাকে। 
সকল দেশের নোট ই যে বৈধ ভাবে আন কাট শিট হিসেবে পাওয়া যাবে তেমন টা নয়। অনেক দেশ ই তাদের একটি প্লেট থেকে তৈরি করা শেষের দিকের নোট গুলু কে আন কাট শিট হিসেবে ছেড়ে দেয় কারন সেগুলোর মান প্রথম দিককার ছাপার তুলনায় ভালো থাকে না। আবার কখনো রাস্ট্রিয় কোষাগারে অর্থ সংগ্রহের জন্য আন কাট শিট রিলিজ করা হয়।
আন কাট শিট দেখলে আপনি সেই নোটের নাম্বারিং এ কোথায় কোন নাম্বার বা নোটের পজিশন পড়ে তা জানতে পারবেন। তাছাড়া ফেস ভ্যালুর তুলনায় সেই সকল শিটের মূল্য সবসময়ই বেশী তাই সংগ্রাহকদের মধ্যে চাহিদাও থাকে।
গ্রেডিং এ আন কাট শিটের আলাদা ক্যাটাগরিও আছে যা গ্রেডিং এবং  বিক্রয় মূল্যে আলাদা প্রিমিয়াম ডেকে আনে।

☝🏾প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]
হাতি মরলেও লাখ টাকা,কথা টির এর চেয়ে যথাযথ ব্যাবহার বোধহয় কালেক্টরদের জন্য অন্য কোথাও হতে পারে না।
যে কোন মেশিনের কাজের সময়, বিভিন্ন ত্রুটির কারনে ডিফেক্টিভ মালামাল যেমন তৈরি হয়,তেমনি নোট প্রিন্টিং এ ও বিষয়টি ঘটে। তার মধ্যে যেগুলো দগরা পড়ে সেগুলো কে অনেকে প্রিন্টারস্ ওয়েস্ট বা প্রিন্টারের বর্জ বলে। আর যেগুলো ধরাপড়ে না সেগুলো বাজারে এরর বা ত্রুটি পূর্ণ নোট হিসেবে পরিচিত। 

এরর নোটের ব্যাতিক্রমে, প্রিন্টারের বর্জ শিট হিসেবে আসতে পারে আবার একটি নোট হিসেবেও আসতে পারে, তবে কাটা যেহেতু সব শেষের কাজ তাই অনেক ক্ষেত্রেই সেই বর্জ কর্তন পর্যায়ে যাওয়ার আগেই ধরা পড়ে এবং অপসারন করা হয়। যেহেতু মধ্যবর্তী ধাপেই ধরা পড়ে তাই এরর নোটের চেয়েও সেখানে বেশী গুরুতর ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা থেকে যায়। যেখানে হয়তো সিরিয়াল নাম্বার মিসিং বা স্বাক্ষর মিসিং বা ইন্টাগ্লিও মিসিং বা নিরাপত্তা স্ট্রিপ মিসিং, বা কালার ঠিক নেই বা এক দিকে প্রিন্টিং বা ক্ষতিগ্রস্ত  বা এংরেভিং এ ত্রুটি ইত্যাদি থাকে।

কোন কোন সময় দেখা যায় কোন দেশ কোন একটি সিরিজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে (সেটা ডাকাতির জন্য হোক আর নিরাপত্তার স্বার্থে হোক)। তখন অন্যান্য কালেক্টেবল সিরিজের মতো সেই সিরিজের আন কাট শিট ও চাহিদা সম্পন্ন হয়ে যায়।

জানুয়ারি ১২, ২০২৩

মুদ্রা [Currency], নোট [Note] এবং ব্যাংক নোট [Bank note]

☝🏾মুদ্রা [Currency] কি?

কোন বিনিময় এবং পরিশোধের মাধ্যমকে মুদ্রা বলা যায়। মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস দেখলে সময়ের ধারার সাথে সাথে যথাক্রমে তিনটি প্রধান প্রকরন উঠে আসে।

১) পণ্য মুদ্রা (Commodity money)

২) ঘোষিত মুদ্রা (FIAT money)

৩) ডিজিটাল এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা

পণ্য মুদ্রা (Commodity money): যখন কোন দুস্প্রাপ্য ধাতব বস্তুর মূল্য নির্ধারিরন করে তাদের বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করা হয় তখন তাদের Comodity money বলা হয়। অতীতে সোনা,রূপা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি কয়েন গুলু ছিলো Commodity money. যেহেতু ধাতু গুলু নিষ্কাশন কঠিন এবং দুর্লভ তাই মুল্য দুষ্প্রাপ্যতার উপর নির্ভর হয়ে রয়ে যায়।

 এরপর আসে, ঘোষিত মুদ্রা যুগ (FIAT moey): যেখানে রাষ্ট্র বা সরকার ঘোষনা করে যে আজ থেকে এই কাগজ বা ধাতুর মূল্য ‘এতো’ নির্ধারণ করা হলো। তা সে যে ধাতু বা কাগজ ই হোক না কেন। এই যুগে ই ‘নোট’ বা কাগজী মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। ফলে এখানে মুদ্রা মূল্য কেবল বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে রয়ে যায়।

তারপর শুরু হয় ডিজিটাল এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা (Crypto currency): এতো দিন পর্যন্ত মুদ্রার একটি সাধারন বৈশিষ্ট ছিলো যে তা বস্তুগত অর্থাৎ হাতে ধরা ছোঁয়া যায়। এই যুগে পদার্পণের পর মুদ্রা তার বস্তুগত আকার আকৃতি ছেড়ে ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল জগতে পদার্পণ করে। যা সাধারণত কম্পিউটারের সাহায্যে কোন কঠোর শর্ত পূরনে তৈরি এবং হাতবদল হয়। এই পর্যায়ে মুদ্রার মূল্য চাহিদা এবং যোগানের উপর নির্ভরশীল হয়।

☝🏾নোট [Note] কি?

প্রাথমিক দিকে বানিজ্যিক ব্যাংক গুলু থেকে মসলা বা লবনে, সোনা বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রা অথবা মতো কোন চাহিদাসম্পন্ন বস্তু কে বিনিময়/পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি পত্র দেয়া হতো। যেখানে লিখা থাকতো যে বহনকারীকে চাহিদা মাত্র এই প্রতিশ্রিতি পত্রের প্রেক্ষিতে এখানে উল্লেখিত পরিমান আইনবদ্ধ মুল্য [Legal tender] (তৎকালীন সময়ে যা সোনা বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রার ওজন সমপরিমান) দিয়ে পরিশোধ করা হবে। এই শপথ/প্রতিশ্রুতিটি একটি *কাগজে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান হিসাবরক্ষকের সাক্ষর সহ লিখা থাকতো। এই টার্ম টি আমরা এখনো ব্যাবহার করি যেমন [Could you please note it down for me] . এই Note ই সেই Note.

পরবর্তীতে সেই বানিজ্যিক ব্যাংক সমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় ,জাতীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গিয়েছে। যেখানে তাদের মূল আদর্শ ছিলো যে কেউ কখনো কোন ‘নোট ’ বা ‘প্রতিশ্রুতি পত্র ’ নিয়ে আসলে তাদের যেন [Legal Tender] দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখা যায়। অর্থাৎ প্রথম দিককার সকল ‘নোট’ ই এক সময় মুল্যবান কয়েন/ধাতব মুদ্রা [Legal Tender] দ্বারা সমর্থিত ছিলো। অন্য ভাবে বলতে গেলে নোট কে আসল মুদ্রা হিসেবেই ধরা হতো না। মূলত পরিবহন সুবিধার স্বার্থেই নোট ব্যাবহার শুরু হয়েছিলো যা একটি প্রতিশ্রুতি পত্র ছাড়া অন্য কিছু না।

একসময় যখন ব্যাংক গুলু সেই আদর্শ কে ত্যাগ করে তাদের ইচ্ছামতো ধাতু এবং কাগজী নোট জারি করে ঘোষনা দিলো যে ‘’আজ থেকে এই ধাতব/কাগজের টুকরোর দাম ‘এতো’ নির্ধারিত হলো’’, তখন থেকেই প্রকৃতভাবে শুরু হলো FIAT money তথা ব্যাংক নোটের ব্যাবহার।

অতএব কাগজে লিখিত সকল মুদ্রা যা ধাতব মুদ্রার/কয়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাবহ্রিত হতো তাদের নোট বলা যায়। সেই যুক্তিতে ব্যাংক নোট; কেবল এক ধরনের কাগজী মুদ্রা। মানে সকল কাগজী মুদ্রা ব্যাংক নোট নয় কিন্তু সকল ব্যাংক নোট ই কাগজী মুদ্রা।

 

☝🏾ব্যাংক নোট কি? [Bank note]:

নোট হচ্ছে, একটি *কাগজী (এখানে কাগজী শব্দ টি জেনারালাইস করা হচ্ছে) প্রতিশ্রুতি পত্র যা সধারন্ ত কোন একটি *অনুমোদিত (এখানে অনুমোদন শব্দটি জেনারালাইস করা হচ্ছে) ব্যাংক বা সত্তা দ্বারা জারি করা বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে তাই অনেক সময় ‘ব্যাংক নোট’ শব্দটি ‘নোট’ শব্দের সাথে  উতপ্রত ভাবে ব্যবহৃত হয়।

সাধারন,বৈশিষ্ট বিবেচনায় নোটের অন্য একটি সংজ্ঞা দাঁড় করানো যায়। এমন একটি অধাতব (কাগজ,কাপড়,পলিমার ইত্যাদি) বিনিয়োগ/বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম যা কোন রাজনৈতিক সত্তা দ্বারা কঠোর নিয়ন্ত্রনের ভেতরে জাড়ি করা হয়,যেখানে অনুমোদনকারীর স্বাক্ষর, সীমিত ক্রমিক সংখ্যা [Serial number],আইনি সমর্থন, ভবিষ্যতে মূল্য পরিশোধযোগ্যতার প্রতিশ্রুতিমূলক বার্তা [Promissory clause] ইত্যাদি সহ কিছু সাধারন উপাদান অবশ্যই থাকে।

উল্লেখ্যঃ ব্যাংক নোট Credit certificate, Cheque, coin, Credit note , Travellers cheque, Token, Tickets, Stamps, Exonumia ইত্যাদি থেকে আলাদা।

 

 

জানুয়ারি ১১, ২০২৩

প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency],আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue],উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত মুদ্রা [Salvage Looted money]

প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency] কোন মুদ্রার/নোটের মূল কাজ বিনিময় প্রথা হিসেবে ব্যাবহার হওয়ার সাথে সাথে/পরিবর্তে তা যদি একটি রাস্ট্রের জনগনের মধ্যে কোন বার্তা/ভাবধারা প্রচাররে(মনোবল গঠন,পরিবর্তন বা নষ্ট করার) ব্যাবহার হয় তখন তাদের প্রোপাগান্ডা কারেন্সি বলে। এটা হতে পারে কোন গ্রাফিটি, অভার প্রিন্ট, ছবি বা লিখার মাধ্যমে বা আকাশ থেকে অগনিত মুদ্রা বৃষ্টির মাধ্যমে, ইতিহাস সাক্ষি। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই একসময় সেই সকল কারেন্সি বাজার থেকে তুলে নেয়া হয় বা জব্দ করা হয়। ফলে তা প্রপাগান্ডা কারেন্সি সংগ্রাহকদের মধ্যে কেবল ঐতিহাসিক কারনেই নয় বরং দুর্লভ্যতার কারনেও সমাদৃত। সাধারণত, যখন কোন প্রতিরোধী বাহীনি/মিত্র বাহিনী/শোষিত গোষ্ঠী; স্বাধীনতা এবং সারবভৌমত্বের স্বার্থে; তাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি ভাবধারা এবং মনোবল গঠন করার চেষ্টা করে। অন্য দিকে শত্রু/বহিঃশত্রু/আক্রমনাত্বক বাহিনী চেষ্টা করে সেই ভাবধারা/ অর্থনীতি/ মনোবল নষ্ট করার। যেমনঃ ১৯৪২ এ তৎকালীন জাপান (সাম্রাজ্যবাদী) যখন ফিলিপাইনে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে তখন তারা ফিলিপিন প্রশাসন থেকে জারি করা সকল নোট এবং কয়েনকে বায়জাপ্ত করে দেয়। কিন্তু যুদ্ধ চালানোর স্বার্থে বিভিন্ন সত্তা (প্রতিরোধ বাহীনী/ফিলিপাইনের কমনওয়েলথ সরকার, প্রাদেশিক,উপ প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ) তাদের নিজস্ব নোট জারি করা শুরু করে। যা বিনিময় মূল্যের খাতিরে খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও সার্বভৌমত্বের ভাবধারা প্রকাশ এবং ছাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।ফিলিপিনি পেসোর আদলে সেই মুদ্রা কে ‘গেরিলা পেসো’ বলা হতো। প্রচারের সরঞ্জাম হিসাবে ব্যাবহার হওয়ার কারনে সেই ‘গেরিলা পেসো’ জাপানিদের রোষানলের সম্মুখীন হয়েছিলো ফলে তা তা বহন করা অবৈধ ঘোষণা হয় । এমনকি যাদের কাছে এই ধরনের নোট পাওয়া যেত তাদের জন্য হয়রানী,গ্রেফতারি এবংমৃত্যুদন্ডের মতো শাস্তিও অবাক কিছু নয়। যুদ্ধপরবর্তী কালীন সময়ে , ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার সেই সকল অন্তর্বর্তীকালীন সকল নোট ‘গেরিলা পেসো’ কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে জমা নেয় এবং নতুন নোট জারি করে। গুপ্ত ম্যাসেজ/লুকনো বার্তা [Hidden meaning]- এই ক্যাটাগরি টি প্রোপাগান্ডা ক্যাটাগরির কাছাকাছি হলেও সুক্ষ পার্থক্য হচ্ছে -এখানে কোন একটি জাতি/দল/গোষ্ঠি কে উদ্দেশ্য করে, সাধারন ডিজাইনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। যখন এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে এবং যদি দেখা যায় এই অস্বাভাবিকতা কেবল কিছু নোটেই আছে তখন তা সংগ্রাহকদের বিশেষ আগ্রহের কারন হয়ে দাঁড়ায়। আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue] কোন রাস্ট্রের / সরকারের বা আইনি সত্ত্বার দ্বারা আপদকালীণ সময়ে বের করা মুদ্রা কে ইমারজেন্সি ইস্যু মুদ্রা বা [Emergency Currency] বলা হয়। দাঙ্গা, ধর্মঘট,অবরোধ, বিক্ষোভ,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সন্ত্রাস,নাশকতা, জিম্মি পরিস্থিতি , মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি কে নোটাফিলির ভাষায় আপদকাল ধরা হয় এবং আমি এদের ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করছি। ১) অর্থনৈতিক ২) রাজনৈতিক এবং ৩) সামরিক অর্থনৈতিকঃ উদাহরনঃ কোন দেশের অর্থনীতিতে মূদ্রা ভারসাম্য হারালে (স্বল্পতা,আধিক্য,স্ফীতি,বিচ্যুতি ইত্যাদি) ঘটলে সেই রাষ্ট্র বা আইনি সত্তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে তারা তাদের বর্তমান মুদ্রাকে বিসর্জন দিয়ে নতুন মুদ্রা প্রচলন করবে। কিন্তু কখনও কখনও দেশ ব্যাপি এই পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়তো সম্ভব হয় না। তখন সীমিত পরিসরে বা অলিখিত ভাবে একটি মুদ্রা সম ব্যাবস্থা গড়ে উঠে যেমনটা Genmany (Notegeld), Zimbabwe (Emergency bearer cheque) ইত্যাদির ক্ষেত্রে দেখা যায়। সামরিকঃ কোন সামরিক শক্তির প্রভাবে যে মুদ্রা জারি হয়। নোটাফিলির স্বার্থে এদেরও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ অবরোধকালীন,যুদ্ধাপরাধী ক্যাম্প,সশস্ত্র বাহিনী,রাজবন্দীশিবির,সংখ্যালঘু বন্দীশিবির ইত্যাদি। ক্যাম্প মানিঃ সাধারণত যেকোন হাজত, শংশোধনাগার, মিলিটারি ক্যাম্প বা বন্দী শিবির ইত্যাদি গুলুতে খুব একটা মুদ্রার প্রচলন দেখা যায় না। তাই কখনও কখনও কোন এই ধরনের সংস্থাপনায় বাইরে থেকে আসা বা ভেতরেই বিকশিত হওয়া কোন বিনিময় মাধ্যম মুদ্রা হিসেবে স্বকৃত হয়। যা সংরাহকদের জন্য আলাদা একটি ক্যাটাগরি। যেমনঃ যখন ফিলিপাইনে সামরিক পরাজয় অনিবার্য ছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ, অনেক অনেক সেন্টাভো এবং পেসো মুদ্রা কাবালো উপসাগরে [Caballo Bay] ফেলে দেয়। যদিও তৎকালীন জাপানি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবন্দীদের বাধ্যকরে কয়েনগুলু পুনরুদ্ধার করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কিছু মুদ্রা পকেটে রেখে ক্যাম্পে নিয়ে যায় যা ক্যাম্প এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন ও ফিলিপিনো বাহিনীকে বিতরন করা হয়। যদিও তা যথষ্ট না হওায় পরবর্তীতে প্রতিরোধ বাহিনীকে অন্য ভাবে মুদ্রা জারি করতে হয়েছিলো। সশস্ত্র বাহিনীর থাকাকালীন অবস্থায় মুদ্রা আবার দুই ধরনের হতে পারে- যুদ্ধকালীন এবং শান্তিকালীন। ক্ষেত্র বিশেষে এদের Pre-Surrender and Post-surrender currency হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্য একটি ক্ষেত্রে Post-war administration currency বলা হয়। যুদ্ধকালীন অবস্থার মুদ্রা আবার কয়েক ধরনের হতে পারে- Guerilla issue, Invasion issue, Occupation issue রাজনৈতিকঃ যেমনঃ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় যখন ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার পলাতক সরকার [Absconded government] ছিলো *যা অনেকের ভাষায় নির্বাসনে [Exile] ছিলো তখন তারা Guerrilla Pesos নামে মুদ্রা বের করেছিলো। খন্ড যুদ্ধকালীন অবস্থায় এই কারেন্সি গুলু আসে বিধায় এগুলু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপদকালীন মুদ্রা ধরা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং সামরিক কিছু কিছু ঘটনা সম্পৃক্ত থাকার কারনে কিছু প্রকরন ওভারল্যাপ করতে পারে। কোন আইনি সত্তার [Legal entity] কর্তৃত্বে প্রচলতি বা প্রচলন পূর্ববর্তী/পরবর্তী মুদ্রা যা কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হয় তা ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারনে অনেক সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। ইতিহাসে ট্রেন লুট থেকে শুরু করে,টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক মুদ্রা ই বিভিন্ন সময়ে সংগ্রাহক বাজারে উঁকি দিয়েছে, যা চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া গিয়েছে সেটার ভিত্তিতে ভাগ করলে সংগ্রাহকদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী আছে যা উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত উদ্ধারকৃত মুদ্রা [Salvage Currency]: প্রাপ্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এদের ২ ভাগে ভাগ করছি খনন [Excavation]: Hidden treasure (Purpose treasure hunt, Accidental discovery) অভিজান [Expedition]: Ship rake (Plane crash, Shipwreck, Trainwreck) লুন্ঠনকৃত [Looted] (Looted by a group from the authorised custodian of the currency)