ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৩

সংগ্রহের আইটেমে ছত্রাকের আক্রমণ বা আমন্ত্রন [Everything to know about mold in collection]

 ছত্রাক [Mold] সম্পর্কে কিছু ধারনাঃ

 

সাধারণত জৈব উপাদান কে/এ ছত্রাক এর উপস্থিতি বা আক্রমণ দেখা যায়।  উদাহরন হিসেবে লোহা,তামা বা পাথরে সাধারণত ছত্রাক আক্রমণ দেখা যায় না। তাই যারা কাগজ,কাপড় বা চামড়া সম্পর্কিত আইটেম সংগ্রহ বা সংরক্ষন করেন তাদের জন্য ছত্রাক একটি মাথাব্যাথার বিষয়।

খাদ্যার পর,  অক্সিজেন এবং আদ্রতা ছত্রাকের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস । এর সাথে স্বাভাবিক উষ্ণতা (২৫°- ৩৫°) যদি পায় তাহলে ত খুব ই ভালো। এর সাথে যদি সেখানে হালকা আসিডিক আবহাওয়া (PH 6-7) থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

আপনার অর্গানিক  আইটেমের সংগ্রহে কিন্তু এর প্রায় সবগুলু ই থাকে। কাগজে থাকে স্টার্চ এবং গ্লোকোজ যা খাদ্য, ক্রান্তিয় অঞ্চলের দেশে স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং আদ্রতা যা মোল্ডের জন্য প্রায় আদর্শ,আর বাতাসের বা আইটেমে উপস্থিত ক্যামিকেল যা অনেক সময় ই কিছু টা অম্লিও/আসিডিক থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে এই আসিডের পরিমান বাড়তে থাকে অথবা; আইটেম যে স্লিভে রেখেছেন সেটা হয়তো সময়ের সাথে সাথে ভেঙ্গে ভেঙ্গে আপনার আইটেমে এসিড ছড়াচ্ছে যা মোল্ড স্পোরের জন্য আতিথিয় পরিবেশ। তাই মোল্ড সমস্যা সমাধানের জন্য এই বিষয়গুলুর উপর জোড় দেয়া উচিৎ। তবে প্রতিটি বিষয়ের আবার আদর্শ সীমা [Optimal limit] আছে যা অতিক্রম করলে অন্য দিকে হিতে বিপরীত হতে আরে।

যেমন আপনি যদি প্রোটিন নির্ভর কোন আইটেম যেমন সিল্ক, পালক, লোম,মুক্তা, চামড়া চুল, প্রাণীজ উপাদান ইত্যাদি কে এমন কোন পরিবেশে রাখেন যা খুবই ক্ষারীয় তাহলে সেই আইটেমে থাকা ফ্যাটি এসিড এবং স্কিন টিস্যু ভেঙ্গে আইটেম ডিকম্পোজ হওয়া শুরু করে। বা আইটেমের স্বাভাবিক আসিডের সাথে সহজেই বিক্রিয়া করে আইটেম কে লবনের মতো উপাদানে ভেঙে দেয়। তাই সকল ধরনের সংরক্ষন প্রনালীতে ই এক্সপার্ট পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

 

আবার তাপমাত্রা খুব বাড়িয়ে দিলে বা আদ্রতা খুব কমিয়ে দিলে হয়তো মোল্ড গ্রোথ থেমে/কমে যাবে, কিন্তু আইটেম থেকে অপরিহার্য জলীয় উপাদান ও শুকিয়ে কোষ দেয়াল ভেঙে আইটেম ডিকম্পোজ হওয়া শুরু করবে। বা আইটেম ভঙ্গুর হয়ে যাবে।

 

আবার, অক্সিজেন একদম সরিয়ে দিলে বা তাপমাত্রা খুব কমিয়ে রাখতে চাইলে, প্রথমত তা  খুবই ব্যায়বহুল, দ্বিতীয়ত আইটেম প্রদর্শন এবং পর্যবেক্ষণ সময় বিশেষ ব্যাবস্থা নিতে হবে, এবং চিরকালই এই বিশেষ ব্যাবস্থার মধ্যে আইটেম রাখতে হবে, চতুর্থত বিশেষ এই নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া থেকে বের করলেই আইটেমের আবার মোল্ড এটাক বা ডিকম্পোজিশন শুরু হবে। তাই সংগ্রাহক সামগ্রী কে চাপ,তাপমাত্রা,আদ্রতা,আলো,ক্যামিকেল ইত্যাদির সুক্ষ ব্যালেন্সের মধ্যে রাখলেই তা দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকবে। এজন্য একজন খুব ভাল সংগ্রাহক একজন যত্নশীল নিরাময়ক ও বটে।

 

এখন যদি মোল্ডের সমস্যা হয়েই যায় তাহলে কিভাবে কি? (Restoration)

 

 

আপনার উচিৎ একজন ডাক্তার দেখান যিনি এই আইটেম কে নীরিক্ষন করে চিকিৎসা করবেন। তবে সাময়িকের জন্য অনেকে নিচের প্রসেস টি ফলো করতে পারেন।

 

            প্রথমে; আইটেমের আদ্রতা কে কমিয়ে আনুন। সেটা সিলিকা জেলের ব্যাবহারে বা শুকনা চাউল ব্যাবহারে হোক বা বিয়াদ্রতিকরন যন্ত্রের [Dehumidifier ] এর মাধ্যমে ই হোক না কেন। তারপর সম্ভব হলে অম্লতাকে [Acidity] কমিয়ে আনুন; সেটা হয়তো চক পাউডার ব্যাবহার করে করতে পারেন বা বাফারড এনক্লোজারে রেখে করতে পারেন।  তারপর অক্সিজেন [Oxygen] কে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। সেটা হয়তো কিচেন ভ্যাকুয়াম ব্যাবহার করেও করতে পারবেন।

            কেউ হয়তো তার এক ধাপ এগিয়ে বেকিং পাউডারের সাহায্যে মোল্ড মারার চেষ্টা করতে পারেন বা তাপমাত্রা উঠানামা করিয়ে মোল্ড সারানোর কথা ভাবতে পারেন;কিন্তু তখন প্রসেসটি বিশেষায়িত প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যা আমার কিউরেশন সম্পর্কিত বইয়ে পাবেন।  

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৩

নকল টাকা এবং জাল টাকা নিয়ে দুটি গল্প[Counterfeit and frogery,How they can be more valuable than the original]

 

সাধারন ভাষায়, নোটে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট যা থাকার কথা; তা না থাকলেই সেটাকে নকল নোট বলা হয়। তবে জাল নোটে হতে গেলে সেটা একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট থাকতে হবে যা হচ্ছে -সেই নোট টির মটিভ বা বাজারে চালানোর প্রচেষ্টা।

রিপ্রোডাকশন [Reproduction] বা প্রতিরূপ তৈরিকরনঃ ইংল্যেন্ডের অল্ড বেইলি আদালত থেকে স্বীকৃত কিছু শর্ত মতে কোন বস্তুর প্রতিরূপ কখনোই আসল বস্তুর দামের চেয়ে বেশী হতে পারবে না এবং প্রতিরূপ টি প্রকৃত আইটেম থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে দেখতে আলাদা হবে।

জেনেশুনে নিজের কাছে নকল নোট রাখা আইনত অবৈধ। কারন আপনি আইনপ্রশাসনের কাছে সহজেই এটা প্রমান করতে পারবেন না যে আপনি সেটা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করার জন্য রাখেন নি।

 

কোন কোন ব্যাংকে এই প্রথা প্রচলন আছে যেখানে কোন কাউন্টারে নকল নোট দিলে সেটা তারা রেখে দেবে, আপনার নাম পরিচয় নথিভুক্ত করে আপনাকে সেটার একটা রশিদ দেবে। কোন এক লেনদেনে ৪ টির বেশী নকল নোট পাওয়া গেলে পুলিশ ষ্টেশনে প্রতিটি লেনদেনের আলাদা আলাদা রিপোর্ট ব্যাংক কত্রিপক্ষের জমা দিতে হবে। কোন কোন দেশের আইন অনুসারে সেই নোট পুলিশের কাছে জমা না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দেয়া হয়। তবে যে কোন ক্ষেত্রেই গ্রাহকের কাছ থেকে নকল নোট নেয়ার পর প্রতিষ্ঠান কে একটি রশিদ দিতেই হবে।

প্রতিটি দেশ এবং রাষ্ট্র ই তার দেশের নোট কে জাল হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে যায়। একারনেই সহসাই একটি জাল নোট বাজারে পাওয়া যায় না। ফলে একজন সংগ্রাহকের ভাষায়, কোন নোট নকল হওয়া মানেই কিন্তু এটা নয় যে সেটা অর্থহীন। বিশেষ করে তার পেছনে যদি একটি ইতিহাস থেকে থাকে। এই নিয়ে দুটি গল্পঃ

একটি হচ্ছে “Boggs Note”.  ১৯৮০ দশকের মাঝ দিকে, J.S.G Boggs নামে একজন আমেরিকান আর্টিস্ট যিনি ইংল্যেন্ডে চলে এসেছিলেন তার করা কিছু চিত্র কর্ম যা ব্রিটিশ ৫ পাউন্ডের আদলে ছিলো বিধায় সেগুলু পরবর্তীতে “Boggs Note” নামে পরিচিত হয়। একসময়; তিনি বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কেনাকাটার পর দোকানদার দের একটি আসল ৫ পাউন্ডের নোট এবং একটি তার করা ড্রয়িং দিয়ে বলতে যেটা তাদের ইচ্ছা তারা নিতে পারে। তবে দোকানদার যেটাই নেয় তাকে বাকি খরিদমূল্য রেখে বাকি টাকা ফেরত দিতে হবে। তারপর জনাব “বগস” সেই ফেরত দেয়া খুচরা এবং তার রশিদ দুটোই নিজের কাছে রেখে দিতো। 

একসময় তার যখন এক্সিবিশন হতো,তার গ্যালারি সেই সকল দোকানদার থেকে সেই সকল নোট আবার কিনে নিতো (অধিকাংশ সময়েই অতরিক্ত দামে) এবং প্রদর্শনীতে তিনটি আইটেম (সেই হাতে আঁকা নোট, তার পরিবর্তে ফেরত পাওয়া খুচরো এবং সেই লেনদেনের রশিদ) একসাথে প্রদর্শিত হতো। উনার এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ছিলো শিল্প, মুদ্রা এবং এদের ব্যাবহারকে একীভূত করা। এটা প্রমান করার জন্য যে; শিল্প দিয়েও কোনকিছু কেনাকাটা করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু হওয়ার পর উনি গভর্নরের কাছে দুইবার চিঠিও লেখেন তার কাজ কে চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য। কিন্তু সেটা না করে বরং তার গ্যালারিতে পুলিশ হানা দেয় তার তার প্রায় সব শিল্পকর্ম গুলুকে জব্দ করে। সেগুলুর ভিত্তিতে “Bank of England” ১৯৮৭ সালে তার বিরুদ্ধে নোট জালিয়াতির মামলা আনে। সেই মামলাতে জনাব “বগস” জিতে যান কারন তার উকিল আদালতের জুরিদের মাধ্যমে; প্রতিরূপ [Reproduction] টার্ম টি সেই দিন আইনি ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। এবং প্রমান করেন যে “বগেস” কোন রিপ্রোডাকশন তৈরি করছেন না বা জাল নোট ও তৈরি করছেন না। এগুলু কেবল ই শিল্পকর্ম।  এর পর সেই হারের লজ্জা থেকে ইংল্যান্ড তার ব্যাংক নোটে ডিজাইনে সংশোধন আনে এবং কপিরাইট চিহ্ন সহ একটি সতর্কতা বার্তা যুক্ত করে যা এখন অনেক দেশেই নোটেই দেখতে পাওয়া যায়। ফলে কখনো এই ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্যাংক; কারো বিরুদ্ধে জালিয়ালির মামলা না জিতলেও কপিরাইট ভঙ্গের মামলা দিতে পারে।

কয়েকবছর পর ব্রিটিশ মিউজিয়াম “জাল বস্তু” বিষয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। যেখানে “বগেসের” একটি চিত্রকর্ম স্থান পায়। যা পরবর্তীতে “বগেস” ব্রিটিশ মিউজিয়াম কে দান করেন। ১৯৯০ এ জনাব “বগস” এর পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এবং সাথে তার প্রায় সকল শিল্প কর্ম সাথে নিয়ে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত এর কিছুদিন পরেই উনার একটি স্টুডিও তে আবারো যুক্তরাজ্যের সিক্রেট সার্ভিস হানা দেয় এবং সকল আইটেম জব্দ করে। এর ফলে খোলা বাজারে বগসের আর কোন সেই ৫ পাউন্ডের ছবি পাওয়া যায় নি। ফলে তা অনেক সংগ্রাহকের আকাঙ্ক্ষার বস্তু হিসেবে রয়ে যায়।

 

দ্বিতীয় গল্প টি হচ্ছে- Banksey Note বা প্রিন্সেস ডায়ানা নোট নামে অনেকের কাছে পরিচিত।

২০০০ সালের দিকে ইংল্যেন্ডের এক ব্যাংক্সি [Banksy] ছদ্দনামধারী একজন আর্টিস্ট রাস্তা ঘাটের গ্রাফিটি আঁকাআঁকি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার ই একটি শিল্পকর্মের নাম হয় “বেঙ্কক্সি নোট”। যেখানে নোট টি দেখতে তৎকালীন ইংল্যান্ডের ১০ পাউন্ডের মতো দেখতে কিন্তু সেখানে রানী এলিজাবেথের বদলে রাজকন্যা ডায়ানার ছবি সহ বেশ কিছু পার্থক্য ছিলো। তাই অনেকে নোট টি কে বলে [Di faced Tenner]. অনেকে আবার জাল ব্যাঙ্কসি টেনার [Banksey fake Tenner] ও বলে। কিন্তু এখন সেই ব্যাঙ্কসির জাল নোটই আসল টি পাওয়া দুস্কর। কারন স্ক্রিন প্রিন্টিং এবং অফসেট প্রযুক্তির ব্যাবহারে নোট টি অনেক পরিমানে ছাপা হলেও আর্টিস্টে এবং তার কাজের জনপ্রিয়তার জন্য সংগ্রাহক সমাজে নোট টি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

বহুল জনপ্রিয়তার কারনে বাজারে সেই ব্যাংক্সির প্রায় সকল নোট এবং কাজের ই আবার জাল কপি বের হয়। তাই প্রথমে  Picture on wall [POW] নামে এবং পরবর্তীতে “Pest Control” নামে একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংক্সির মতো অনেক আর্টিস্টের কাজের আসলত্ব যাচাই করার জন্য সনদ দিয়ে থাকে।  

 

ব্যাংক্সির কাজ অনেকটা স্বৈরাচার বিরোধী শিল্পের আওতায় পড়ে এবং যেসকল আর্টিস্টগন আভিজ্যাত্য বিরোধী [Anti elitist] আর্টের সাথে যুক্ত তাদের মধ্যে ব্যাঙ্কসি [Banksy] একজন অজ্ঞাতনামা গ্রাফিটি আর্টিস্ট হিসেবে । তিনি নাম করেছেন তার ছদ্দনাম,অজ্ঞাতনাম পরিচয় এবং রহস্য সৃষ্টি করে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৩

নিরাপত্তা সুতা [Security thread]

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

প্রথম দিক কার নিরাপত্তা সুতা ছিলো একটি সিল্কের/কটনের সুতার মতো এবং সলিড(Stitched বা ভাঙ্গা ভাঙ্গা না)। তারপর আধুনিক নিরাপত্তা সুতার ডিজাইন ১৮৪৮ সালে পেটেন্ট হলেও কোন পেটেন্ট পাব্লিকের জন্য উন্মুক্ত হতে ১০০ বছর লাগে বিধায় ১৯৪৮ সালের দিকে প্রথম নিরাপত্তা সুতা সহ ব্যাংকনোট বের হয়। আধুনিক নিরাপত্তা সুতা সিল্ভার বা এলুমিনিয়াম ধাতুর তৈরি হলেও ক্রমশ তার নোট জালকারীদের জন্য আর চ্যালেঞ্জ থাকে না। তাই পরবর্তীতে প্লাস্টিক সহ অন্যান্য পদার্থ দিয়ে তৈরি স্বচ্ছ, রঙ্গিন, চকচকে, ইত্যাদি আরো অনেক ফিচার সহ সলিড এবং ভাঙ্গা ভাঙ্গা থ্রেড প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটে যেখানে নোটের এক পাশে মনে হয় সেলাইয়ের মতো কিন্তু অন্য পাশ থেকে দেখলে থ্রেড টি সম্পূর্ণ ভাবে নোটের কাগজে ঢুকানো মনে হবে।

এর পর ক্রমশ নিরাপত্তা বাড়ানোর স্বার্থে চিকন সুতা থেকে মোটা ফিতা,প্রশস্ত ফিতা থেকে আরও প্রশস্ত ফয়েলে প্রযুক্তি বিবর্তিত হয়,যেখানে সিকিউরিটি থ্রেড কেবল আকৃতিগত ভাবে না বরং সাথে প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত হতে থাকে। আধুনিক সময়কালে মাইক্রোলেন্সিং প্রযুক্তি বেশ জনপ্রিয় যেখানে একটি নোট কে নাড়াচাড়া করলে রিবন/ফয়েলে প্যাটার্ন টিকে ভেতরে একটি ত্রিমাত্রিক তলে নাড়াচাড়া হতে দেখা যায়।

আধুনিক থ্রেডগুলি ধাতু, প্লাস্টিক বা অন্য কোনও উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য, কোন কোন দেশের নোটে একটি থ্রেড সহ ফয়েল বা রিবনের উপস্থিতিও পর্যন্ত দেখা যায়। এমন অনেক মেশিন আছে যেখানে গণনা এবং শনাক্ত করার জন্য থ্রেড মেশিন রিডেবল ও হতে পারে।

 

নোটাফিলিতে ব্যাবহারঃ

তাই এই প্রযুক্তির বিবর্তন দেখাও আমরা নোটাফিলিতে নোটের সিরিজ বা সময়কাল ধারনা করতে পারি। কোন এক দেশের অন্যান্য নোটের সাথে তুলনায় অন্য নোটের মূল্যমান তুলনায় ও ব্যাবহার করতে পারি, কেননা নোটের যত বেশী মূল্যমান থাকবে সেখানে স্বভাবতই নিরাপত্তাও ততো বেশী থাকবে। নোটাফিলিতে কি ধরনের নিরাপত্তা সুতা বা ফিতা ব্যাবহার হয়েছে, সেটা কি একটানা বা অবিচ্ছিন্ন না ভাঙ্গা ভাঙ্গা , সেটা কি দুই দিক থেকেই কাগজের ভেতরে বন্দী নাকি এক দিক ভাঙ্গা ভাঙ্গা দেখা যায়, একটি দৃশ্যমান অংশ থেকে অন্য অংশের দুরত্ব কতো, প্রশস্ততা কেমন, ইত্যাদি নানান বিষয় সেই নোটের ভিবিন্ন ভ্যারাইটি দেখায় যা আলাদা আলাদা উৎপাদন বা প্রকাশের ইশারা দেয়। যেহেতু সংগ্রাহক রা আইটেমের প্যাটার্ন খুজতে এবং সেগুলুকে নিজের মতো গুছাতে ভালোবাসে, তাই সংগ্রাহক মহলে সেই সকল প্রকরন আলাদা আলাদা গুরুত্ব পায়।

 

প্রযুক্তি উন্নতির কারনঃ

অর্থ যেদিন থেকে তৈরি হয়েছে, অর্থ জালকারীও হয়তো তার পর দিন ই তৈরি হয়েছে। ইতিহাসের শুরু থেকেই কিছু আসাধু মানুষ এই পদ্ধতিতে লোক ঠকিয়ে আসছে। হয়তো এ কারনেই প্রযুক্তি দিনকে দিন উন্নত হচ্ছে।

থ্রেড, যা সাধারণত একটি নোটের কাগজ তৈরি হওয়ার সময় (মন্ড অনস্থায়) ; নোটের উপরে থেকে নীচে ঢোকানো হয়/দেখা যায়, আলোতে ধরলে একটি কালো রেখা ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না। তাই প্রথম দিকের জালকারীরা এই বিষয়টি কে নকল করার জন্য তাদের নোটে একটি কালো রেখা আঁকত।  কম আলোতে ধোঁকা দেয়ার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী কৌশল ছিলো৷

এর পর যখন রিবন/ফয়েল এর মতো প্রযুক্তি আসে,তখন সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কম্পিউটার এবং ব্যাবহার দক্ষতার ও বিকাশ হয়। একটা সময় আসে যেখানে আসাধু ব্যাক্তিরা নোট কে স্ক্যান করে সেই ফয়েল বা/রিবন জাল নোটে প্রিন্ট করে বাজারে ছাড়ে, যা অনেক অনভিজ্ঞ চোখ কে ফাকি দিতে পারে।

এর পর একসময় যখন দেখা যায় কোন কোন জালকারী নোটে ব্লিচ করে এক নোটের মূল্যমান পরিবর্তন করে বড় মূল্যমান বসাচ্ছে তখন অন্যান্য নিরাপত্তা ফিচারের সাথে সাথে সুতার মধ্যে মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। যেখানে নিরাপত্তা সুতার ডিনমিনেশন বা এমন কিছু লেখা থাকে যা কেবল সেই মূল্যমানের নোটে ই থাকবে।

বিশেষত, যখন সলিড থ্রেড প্রচলিত ছিলো ; তখন অনেক জালকারী নোট থেকে কৌশলে থ্রেড বের করে সেই নোট বাজারে চালাতো কারন অনেকেই তাড়াহুড়ার কারনে থ্রেডের দিকে নজর দিতো না। আর অন্য দিকে সেই সকল থ্রেড আবার সাধারন নোটে লাগিয়ে সেগুলুকে আসল হিসেবে চালানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতো।

তাই ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ড Stitched thread (ভাঙা নিরাপত্তা থ্রেড,*যাকে আপনারা অনেকে কাঁথা  সেলাই থ্রেডও বলেন) সহ একটি ২০ পাউন্ডের নোট নিয়ে আসে যেখানে নিরাপত্তা সুতা বুননের মতো দেখা যায়। তখনকার ,সিকিউরিটি থ্রেডের জন্য এটি ছিলো সর্বাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট। তাই যদি ইতিহাস কে সত্য মানা হয় তাহএল এর আগের দেখা সকল নোট যেখানে সলিড থ্রেড না হলে কিছু টা ভাঙ্গা ভাঙ্গা থ্রেডের মতো দেখা যায় তা কেবল গুনগত মানের অবহেলা, এমনিতে আলাদা ভ্যারাইটি নয়।

যদিও পরবর্তীতে জালকারীরা কেবল তাদের জাল মুদ্রার উপর সুপার-গ্লূ  দিয়ে ড্যাশের একটি সিরিজ তৈরি করে বাজারে আবার লোক ঠকাতে শুরু করে। তাই তখন পর থ্রেডের উপর মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির কাজ শুরু হয়। এই মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তি প্রথমে সলিড থ্রেডের উপর আসে তার পর স্টিচড থ্রেডের উপরও আসে।

 

কিছু আধুনিক প্রযুক্তি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম সমূহঃ

কোম্পানি

প্রযুক্তির নাম

যে নোটে ব্যাবহার হয়েছে

De La Rue

Active

 

De La Rue

Cleartext

 

De La Rue

Depth

 

De La Rue

FACET

 

De La Rue

Gemini

 

De La Rue

Ignite

 

De La Rue

Kinetic StarChrome

 

De La Rue

Magform

 

De La Rue

Nexus

 

De La Rue

Optiks

 

De La Rue

StarBright

 

Loisenthal

ColourSHift/ColourFix

 

Loisenthal

InVisio

 

Loisenthal

LaserCut

 

Loisenthal

LEAD

 

Loisenthal

Pole

 

Crane

Rapid

 

Crane

Motion

 

Crane

BREEZE

 

Nanotech

KolourDepth

 

Nanotech

KolourOptic

 

Nanotech

M2

 

Giesecke & Devrient

Galaxy

 

Giesecke & Devrient

RollingStar

 

Fabriano

Janus

 

CCL Secure

Horizon

 

CCL Secure

MAGred

 

Oberthur Fiduciaire

STARsheen MULTI

 

 

 

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৩

ফুটো কয়েন (মাঝখানে ছিদ্রযুক্ত কয়েন) এর কাহিনী [Story of hole coin(Coin with centre hole)]

ধরুন আপনি এমন একটা সময়ে বসবাস করছেন যে সাধারন মানুষ হিসেবে আপনি গননা জানেন না আবার লেখালেখিও জানেন না। কিন্তু আপনার কাছে মুদ্রা (ধাতব) আছে খরচ বা ধার দেয়ার জন্য। তো কিভাবে লেনদেন টি হবে?কিভাবে ধার দেয়ার/করার প্রমান রাখবেন?

 

বলা হয়ে থাকে, চিন (China) এ প্রথম মাঝখানে ছিদ্র যুক্ত কয়েন প্রচলন শুরু হয়। আপনার কাছে কেউ টাকা চাইলে সে একটি রশি/দড়ি নিয়ে আসবে বা আপনি আপনার কাছে থাকা দড়িতে কিছু কয়েন ঢুকিয়ে তাকে দেখিয়ে দিলেন যে কয়টি কয়েন আপনি দিচ্ছেন বা সে নিচ্ছে। তার পর রশির শেষ মাথায় গিট দিয়ে দিলেন।

 এখন  তাকে কয়েন দেয়ার সময় এই রকম দুটি রশি/দড়ি তৈরি করে, একটি রাখলেন আপনার কাছে অন্য টি সে নিয়ে গেলো। তারপর কিছু পুরনিমা/অমাবস্যা/ বা শীত/ বর্ষা আসার পর সে যখন আপনার কয়েন আপনাকে ফেরত দিতে আসবে তখন তার দড়ি/রশি এবং আপনার রশি দুটো ই মিলিয়ে দেখে কয়েন ফেরত নিলেন।

এই ছিলো ছিদ্র যুক্ত কয়েন বাজারে আসার প্রাথমিক কারন। এছাড়াও পরিবহনের সুবিধা, মালার মতো অলঙ্কার হিসেবে, ধাতুর পরিমান কমানো, সহজে দেখেই চেনার জন্য, সহজে কোন বস্তুর দাম জানানো, ধার দেনার প্রমান রাখা ইত্যাদি কারন তো আছে ই, যা পরবর্তীতে ধীরেধীরে বিবর্তিত হয়েছে।

দেখবেন কোন কয়েনের ভেতরের ছিদ্র টা গোল না হলে চারকোণা, তার কারন ইতিহাসবিদ রা বলেন যে, কেন যেন রশি/দড়ি তে লাগানোর পর ঘুরতে না থাকে।  

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৩

কেন আধুনিক কাগজ দ্রুত নষ্ট হয়ে , আধুনিক কাগজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস [Reason for deterioration of modern paper]

 কীভাবে অ্যাসিডিক কাঠের পাল্প কাগজ শুরু হলো?

 

আমেরিকায় কাগজের ইতিহাসের প্রথম দিকের আমেরিকান কাগজ প্রস্তুতকারীরা সীমিত পরিসরে টেকসই কাগজ তৈরি করতো। যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বাহ্যিক ক্যামিকেল ব্যাবহার হতো এবং তুলা এবং লিনেনের পুরনো কাপড় ব্যবহার হতো,আজকালের মতো কাঠ ব্যাবহার হতো না। কোন যান্ত্রিক উপায় ব্যাবহার না হওয়ায়, তুলা এবং লিনেনের আঁশ গুলু খুব ছোট ছোট করা হতো না। আমেরিকান হাতে তৈরি এই প্রথম দিকের কাগজে লম্বা সেলুলোজ ফাইবার এবং সামান্য গ্রেইন থাকতো, ফলে সেই দীর্ঘ আঁশযুক্ত কাগজগুলিকে অস্বাভাবিকভাবে মজবুত এবং টেকসই হতো।

লেখার সময় ব্লিডিং ছাড়াই যেন কাগজে কালি বসতে পারে তার জন্য প্রাণীজ আঠা এবং জেলটিন আবরণ যোগ করা হতো।

প্রথমদিককার সেই সকল শীটগুলুতে প্রান্ত পালকের মত অমসৃণ বা অলঙ্কৃত থাকতো। ১৫শ শতকের পর থেকে অনেক পেপার প্রস্তুতকারক তাদের তৈরি কাগজে জলছাপ রেখে দিতো নিজেদের মার্ক রাখার জন্য। কাগজের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারনে প্রযুক্তির উন্নিতি দ্রুত হতে থাকে। ১৮০৬ সালে কাগজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মন্ডের রেজিনকে থিতিয়ে প্রসারিত করার জন্য তুঁতে [Alum] ব্যবহার শুরু হয়। তুঁতেরাসায়নিক ভাবে অ্যাসিডিক এবং ধোয়ার প্রক্রিয়া থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সরিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন বাড়লেও অন্তিম ফলাফলের কাগজের  স্থায়ীত্ব কমে যায়।

শিল্প বিপ্লবের সময় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি কাগজ তৈরিতে খাটো ফাইবারযুক্ত কম টেকসই কাগজের প্রচলন এবং চাহিদা শুরু হয় যার উৎপাদন বেশী। সেগুলু খবরের কাগজ, যুদ্ধের লিফলেট, বন্দরের মাসিক রিপোর্ট, থিয়েটারের নাটকের বিজ্ঞাপন ইত্যাদির কাজে ব্যাবহার হতো।  ক্রমে অ্যালাম/রেসিনের সাথে, ক্লোরিন তথা ব্লিচ যুক্ত করার ফলে কাগজের তন্তু আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কাগজের অম্লতা, বিবর্ণতা এবং ভঙ্গুরতা দেখা দেয়,কিন্তু কাগজের অধিকাংশ কাগজের প্রয়োজন ই যেহেতু স্বল্পকালীন ছিলো তাই এটা তখনকার জন্য খুব বড় মাথা ব্যাথা ছিলো না। সেজন্যই এখন সেগুলু কনজারভেটরদের জন্য ভোগান্তির কারন।

এই উপাদানগুলির প্রতিটি আমেরিকান কাগজের আয়ুষ্কাল হ্রাস করতে প্রভাব রেখেছে। আধুনিক কাগজের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় একক কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় র‍্যাগ এবং লিনেন ব্যাবহার বাদ দিয়ে কাঠ/গাছ থেকে কাগজের মন্ড প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া কে। র‍্যাগ,লিনেন বা তুলার ন্যাকড়ার তুলনায়, কাঠ অনেক বেশী ছিলো এবং সস্তাও ছিল, যা কাগজ তৈরির জন্য এটিকে ফাইবারের একটি অন্যতম উৎস হিসেবে তুলে ধরে।

 

মন্ড থেকে তৈরি কাগজ [Wood pulp] এ তিনটি প্রধান সমস্যা তৈরি হয়ঃ

বিশেষকরে; গুড়া করা মন্ড থেকে তৈরি পেপারের ফাইবার গুলু তুলনামূক ছোট সাইজের হয়ে যায় তাই সেগুলুর সংযোগে তৈরি কাগজ এমনিতেই দুর্বল হয়ে যায়।  কাগজের মন্ডে উচ্চ লিগ্নিনের উপস্থিতির কারনে কাগজে আসিডিটি, কাগজ ময়লা মনে হওয়া, দাগ হয়ে যাওয়া, অন্য জিনিসে দাগ লাগার সম্ভাবনা, ক্রমে ক্রমে কাগজের আয়ু কমে যাওয়া  ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।  কাগজের উচ্চ আসিডিটি কাগজের ভঙ্গুরতা এবং বিবর্ণতার অন্যতম কারন যদি না সেগুলুতে ক্ষারীয় উপাদান সংযোগ করা অম্লতাকে আসাড় করা হয়।