ডিসেম্বর ২৬, ২০২১

INK and INK Technology ( কালি এবং প্রিন্টিং প্রযুক্তি)

 কালি এবং প্রিন্টিং প্রযুক্তি

যে কয়েকটি মুদ্রন প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশী ব্যাবহার হতে দেখা যায় সেগুলু হচ্ছে-

স্ক্রিন প্রিন্টিং বাঁ সিল্ক স্ক্রিনিং,অফসেট প্রিন্টিং,ইঞ্জেক্ট প্রিন্টিং,রিলিফ/ইনটেগ্লিও প্রিন্টিং,লেটারপ্রেস প্রিন্টিং- ,ইউ ভি প্রিন্টিং,লেজার প্রিন্টিং,লিথোগ্রাফিক প্রিন্টিং,ইলেক্ট্রোটাইপিং,পার্ল প্রিন্টিং,রেইন বো প্রিন্টিং,প্যাড প্রিন্টিং ইত্যাদি।

বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যাবহারের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনে কালির ব্যাবহারও লক্ষণীয়ঃ মেটামেট্রিক ইঙ্ক,ফ্লোরোসেন্ট ইঙ্ক, মেটালিঙ্ক ইঙ্ক,মেগ্নেটিক ইঙ্ক,,আল্ট্রা ভায়োলেট ইঙ্ক,থার্মাল ইঙ্ক।

 

স্ক্রিন প্রিন্টিং বাঁ সিল্ক স্ক্রিনিং

এটি এমন একটি মুদ্রণ কৌশল, যা মুদ্রণ প্লেটের মাধ্যমে কালি ঠেলে ছবি ফুটিয়ে তুলে। একটি ফ্রেমের উপর একটি সিল্ক বা নাইলন গজ থাকে। ফটোগ্রাফিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নকশা/ছবি গজে স্থানান্তরিত হয়। চাপ দিয়ে মুছার জন্য একটি স্কুইজি থাকে, হয় যার সাহায্যে গজের মধ্য দিয়ে পুরু কালি ঠেলে দেয়া হয়। কেবল যেখানে নকশা/লেখা পড়বে সেখান ছাড়া বাকি সব স্থান ভরাট থাকে ফলে কেবল গজের সেই সকল ফাক দিয়েই কালি বের হতে পারে যে গুলু নকশার সাথে যায়। সাধারণত এটি দিয়ে মনোটন প্রিন্ট হয় অর্থাৎ এক বারে এক রঙের প্রিন্টের কাজ ই হয়।

 

অফসেট প্রিন্টিংঃ

ডিজিটাল ফাইল কে তাঁদের রং অনুযায়ী তিন বাঁ চার টি মৌলিক রঙে ভাগ করা হয়। এবং প্রতিটি মৌলিক রঙের প্রেক্ষিতে একটি মেটালিক প্লেটে সেই ছবির একটি করে সংস্করন লেজারের মাধ্যমে খোদাই করা হয়।এখন ওই প্রতিটি প্লেটেকে আলাদা আলদা রঙের প্রলেপ লাগিয়ে একটি যখন সেই প্রলেপ থেকে প্রথমে একটি রাবার শিটে এবং তাঁর পর কাগজে/কোন মুদ্রন পৃষ্ঠে প্রিন্ট করা হয়,সেই প্রক্রিয়া কে অফসেট প্রিন্টিং বলে। যে কোন রং চারটি মৌলিক রং দিয়ে তৈরি করা যায়,তাই এই প্রক্রিয়াটি কমপক্ষে চার ধাপে সম্পন্ন হয়।

 

ইঞ্জেক্ট প্রিন্টিংঃIt is fully compatible with all other printing techniques and security features normally adopted for security papers.  This paper is particularly recommend for all personal ID documents: passports, ID cards, visas.

 

রিলিফ/ইনটেগ্লিও প্রিন্টিংঃ

 

 

ইনটেগ্লিও প্রিন্টিংঃ এটি একটি ইতালীয় শব্দ।মধ্যযুগে শুরু হলেও এর আধুনিকায়ন ঘটে ১৯৯৬ এ G&amp একটি কম্পিটার নির্ভর প্রক্রিয়া উপস্থাপন করে যেখানে হাই রেসুলেশনে, অর্থাৎ সুক্ষতার সাথে খোদাই করার কাজ সম্ভব হয়েছিলো। এটি এমন একটি মুদ্রন প্রণালী যেখানে কারু শিল্পের বিশেষ ব্যাবহার হয়। প্রিন্টের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ ইত্থিত অংশ প্রথমে একটি মেটাল প্লেটে খোদাই করা হয়। তারপর বেশ ঘন কালি প্রিন্টিং প্লেটে লেপ দেয়া হয়। তখন কালি দিয়ে খোদাই করা  স্থানে ভর্তি হয়ে যায় তখন উপরের পৃষ্ঠের কালি মুছে ফেলা হয় এবং যখন একে উচ্চ চাপে (৮০-১০০ kg/cm2) সাবস্ট্রেটে স্থানান্তরিত হয়। ফলে কেবল খুদাই করা স্থানের নকশা এবং সেখানের কালিই সাবস্ট্রেটে স্থানান্তরিত হয় আর চাপের কারনে সাবস্ট্রেটে কালির নকশাটি এম্বুশ (উত্থিত ভাবে)ফুটে উঠে। এই প্রক্রিয়াকে সরল করার জন্য সেই কালি এবং প্লেট কে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও নিয়ে যাওায় জরুরী। খোদাইয়ের গভীরতার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন শেড নিয়ে আসা হয়। সাবস্ট্রেট ডিফর্মেশনের (সাবস্ট্রেট প্রিন্টের সামনের এবং পিছনের দিকে উত্থিত হয়ে যাওায়) মাধ্যমেই যেহেতু প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় এবং কেবল সাবস্ট্রেতে প্রিন্টই করা হয় না বরং একে চাপ ও তাপের সমন্বয়ে কম্প্রেসও করা হয়। তাই প্রযুক্তিগত কারনে এটি একটি অন্যতম খরচ সাপেক্ষ প্রিন্টিং প্রসেস। তাছাড়া সমগ্র নোটের গায়ে এই ধরনের প্রিন্ট করলে সেটা সেটি বেশীদিন টিকবে ও না, এক নোটের সাথে অন্য নোটের ঘষাঘষির ফলে ক্ষয় দ্রুত হবে, বান্ডিলে জায়গা বেশী যাবে,এরকম আরো বেশ কিছু কারনে কেবল নির্ধারিত বিশেষ অংশ মুদ্রনেই এই প্রথা ব্যাবহার করা হয়। এটা স্পর্শ করার মাধ্যমে যাচাইযোগ্য ফিচার গুলুর মধ্যে অন্যতম।

 

লেটারপ্রেস প্রিন্টিং- এই মুদ্রন কৌশলটি অনেকটা টাইপ রাইটারের মতো কাজ করে। মুদ্রনের প্রান্ত ভাগে হ্যালো এফেক্ট তৈরি হয়। কালি একটি মুদ্রণ প্লেটের সিল থেকে থেকে সাবস্ট্রেটে মুদ্রিত হয় । যেহেতু মুদ্রণ উচ্চ চাপের (১৫ kg/cm2) অধীনে করা হয়, তাই স্ট্রোকগুলিতে সমান ভাবে কালি না ও ছড়াতে পারে। প্রতি স্ট্রোকের প্রান্ত বরাবর একটি রিম/প্রাচীরের মতো তৈরি হতে পারে যা ২০x ম্যাগ্নিফিকেশনে দেখলে সহজে বুঝা যায়, সাবস্ট্রেট ডিফর্মেশন দেখাটা প্রায় স্বাভাবিক (সাবস্ট্রেট প্রিন্টের পিছনের দিকে উত্থিত হয়ে যায়; প্রিন্টের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ ইত্থিত অংশ লক্ষ করা যায় *30x এ দেখলে)। লেটারপ্রেস প্রিন্টিং প্রায়ই ব্যাঙ্কনোটে সিরিয়াল নম্বর এবং বার-কোড মুদ্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইউ ভি প্রিন্টিং

লেজার প্রিন্টিং

লিথোগ্রাফিক প্রিন্টিং

ইলেক্ট্রোটাইপিং

পার্ল প্রিন্টিং

রেইন বো প্রিন্টিং

প্যাড প্রিন্টিংঃ সাধারণত কয়েনে দেখা যায়

 

 

 

 

 

 

ইরিডিসেন্ট ইঙ্কঃIridescent print effects are based on special inks that make the printed motif visible or invisible when the banknote is tilted. The iridescent special effect can also be enhanced with UV-fluorescent pigments, making them look different under daylight or ultraviolet light. This effect is amplified by 

বিভিন্ন ধরনের জলছাপ (Variety of watermark)

 বিভিন্ন আলাদা আলাদা ধরনের প্রক্রিয়ায় তৈরি করার ফলে বিভিন্ন আলাদা আলাদা ফলাফল লক্ষ্য করা যায়।

প্রস্তুত প্রনালীর দিক থেকে প্রধানত দুইটি প্রধান প্রসেস দেখা যজায়ঃ

ড্যান্ডি রোল প্রসেস [Dandy roll process]

সিলিন্ডার মোল্ড [Cylinder mould process]

 

ড্যান্ডি রোল প্রসেস [Dandy roll process]

১২৮২ সালে যা প্রথম ইতালিতে প্রসিদ্ধ হয়।যিও এই প্রক্রিয়াকে সহজীকরন এবং আধুনিককরন করেন জন মার্শাল [John Marshall] নামক একজন ব্যেক্তি ১৮২৬ সালে। তিনিই প্রথম বানিজ্যিক ভাবে; জলে ভেজানো ধাতব পাতের সাহায্যে কাগজে জলছাপ ফুটিয়ে তোলার কাজটি করে দেখান।

 

সিলিন্ডার মোল্ড প্রসেস [Cylinder mould ] Created in 1848

১৮৪৮ সালে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিতে আরো ভালো এবং উন্নত ভাবে জলছাপ বসানো সম্ভব হয়েছে যা আধুনিক নোট গুলুতে ব্যাবহার হচ্ছে। জলছাপে শেড/বিভিন্ন স্তরের গাড়ত্ব নিয়ে আসার জন্য; এই প্রযুক্তিতে কাগজ শুকানোর পরে আবারো এতে এম্বুশ করা সম্ভব। ফলে অন্তিম ফলাফলকে বেশ স্পষ্ট ডিটাইলস সম্পন্ন এবং ত্রিমাতৃক ভাবে ফুটিয়ে তুলা সম্ভব হয়।

 

পেপার টোনের ভিত্তিতে জলছাপ কয়েক প্রকার হয়ঃ

          সিঙ্গেল টোনঃ কাগজের তুলনার হাল্কা বাঁ গাড়ো,যেকোন এক বর্ণের হয়।

          ডুয়ো টোনঃ কাগজের তুলনার হাল্কা এবং গাড়ো দুটি বর্ণই এক সাথে দেখা যায়।

হালফ এবং মাল্টি টোনঃ[Half Tone & Multitone watermark]: ক্রমশ হাল্কা থেকে ঘন এবং ক্রমশ ঘন থেকে হাল্কা এই সকল এফেক্ট ই একটি ছাপে দেখা যায়, যা দেখতে অনেক বাস্তবসম্মত মনে হয়।

কম্বিনেশনঃ যেখানে একাধিক ধরনের জলছাপ প্রযুক্তি একসাথে ব্যাবহার হয়

হাইলাইট [Highlight watermark] বাঁ ইলেক্ট্রোটাইপ [Electrotype]ঃ বিশেষ করে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (নোটের ডিনমিনেশন/মান, সিরিজ ইত্যাদি) যখন হাইলাইট করা হয় কিন্তু তাও জলছাপের মাধ্যমে তখন এই প্রযুক্তি ব্যাবহার হয়। যদিও এতে কাগজ আরোও পাতলা হয়ে যায় তবে ফলাফল খুবই স্পষ্ট।

পিক্সেল [Pixel watermark]: মাল্টি টোন এবং হালফ টোন এফেক্টের মত অন্যান্ন বিভিন্ন  প্রযুক্তির একত্রে ব্যাবহারের মাধ্যমে ;সাধারণত পিক্সেলের মতো গাড় বিন্দু ব্যাবহার করে এই ধরনের আকর্ষক জলছাপ ফুটিয়ে তুলা হয়। এই প্রযুক্তিতে নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব যা সুক্ষতার অভাবে আগে সম্ভব ছিলো না।

কোডেড [Coded watermark]ঃ কোন কোন ক্ষেত্রে জলছাপে একটি ছবি ব্যাবহার না করে বাঁ ছবি ব্যাবহারের পাশাপাশি কাগজে টান টান ছোপ ফুটিয়ে তোলা হয়,যা সাধারণত কাগজের মজবুতি বাঁ মেশিন রিডেবল নিরাপত্তার জন্য ব্যাবহ্রিত হয়।

 

নোটের কোথায় জলছাপ আছে সেটার ভিত্তিতে আরোও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

সাধারন বাঁ সর্বত্রঃ কাগজের সব জায়গায় ই জল ছাপ থাকে

স্থানীয়ঃ নোটের একটি নির্দিষ্ট ধার্য কৃত জায়গায় থাকে

স্ট্রিপঃ একটি ব্যান্ডের মতো নোটের সম্পূর্ণ একদিক জুড়ে থাকে

কর্নার স্টোনঃ নোটের চারিদিকের চার কোনে থাকে,

 

এছাড়াও জলছাপ [Watermark]  কি ধরনের কাজ করছে তাঁর উপর ভিত্তি করে একে আরও বিভিন্ন ভাবে বিশেষায়িত করা যায় যেমনঃ Window watermark, Parameter watermark, Electrotype, ইত্যাদি।

 

জলছাপের অসুবিধা সমূহঃ কাগজ খুব মজবুত হলে জলছাপ ততটা ভালো ভাবে বসানো কঠিন হয়ে যায়। কাগজের মন্ড ভাল ভাবে পিষে বানানো হলে সে মন্ডে ফাইবার ছোট হয়ে যায় ফলে জলছাপ বসানোর সময় ছোট ফাইবার গুলু এদিক সেদিক সরাতে কোন সমস্যা হয় না  ,কিন্তু অপরদিকে ফাইবার ছোট হলে কাগজও দুর্বল হয়ে পড়ে। সে জন্য জলছাপ দেয়া কাগজের জীবনকাল সাধারণত জলছাপ ছাড়া কাগজের চেয়ে কম। এজন্যই যেসব দেশে নোটে পিন,স্টেপ্লার,সেলাই ইত্যাদি করা হয় ,তা অধিকাংশই জলছাপের জায়গায় এবং নোটের সবচেয়ে দুর্বল স্থানও সেটাই হয়।

বাজারে সহজলভ্য কিছু ক্যেমিক্যেল আছে যার মাধ্যমে জলছাপের কাছাকাছি ফলাফল লাভ করা সম্ভব,যদিও সুক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আধুনিক সমাজের দ্রুত গতির জীবনের সাথে জলছাপ নিরীক্ষণ একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া এতে হাতের অনেক বেশী নারাচাড়া করার প্রয়োজন হয়।

তাছড়া এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যাবহার করতে,নোট টি কে আলোতে ধরার প্রয়োজন,অতয়েব আবছায়া বাঁ অন্ধকার স্থানে এই প্রযুক্তি প্রায় অচল।

জলছাপ যেহেতু কাগজের তৈরির শুরুর দিকে বসানো হয় তাই এই প্রক্রিয়া পলিমার নোটের জন্য খাটে না,যদিও পলিমার নোটের জন্য আজকাল  স্যাডো ইমেজ [Shadow Image] নামে অন্য একটি প্রযুক্তির ব্যাবহার দেখা যাচ্ছে।

সবশেষে, যেহেতু এটা কেবল “ছাপ”, পূর্ণাঙ্গ “চিত্র” না যে পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠবে, তাই এ সত্বেও বাজারের আসাধু চক্র অপরিস্কার প্রিন্ট কে জল বলে চালানোর চেষ্টা করে ই যাচ্ছে। 

Watermark (জলছাপ)

জলছাপঃ[Water mark]  জলছাপ একটি অন্যতম ব্যায় সাশ্রয়ী নিরাপত্তা বৈশিষ্ট যেখানে ব্যাংক নোটের কাগজটি কে কে আলোতে ধরলে একটি ছবি আবছা ভাবে দেখা যায়,এটি একটি অন্যতম প্রাচীন বৈশিষ্টও বটে। সাধারণত এটি কাগজের পুরুত্বের পার্থক্যের কারনে হয়ে থাকে। অর্থাৎ জলছাপে যে ছবি টি থাকে কাগজের পুরুত্বের কম বেশের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।

সাধারণত ব্যাংক নোটের কাগজ পাল্প অবস্থা থেকে শিট অবস্থায় যাওায় সময় সিলিন্ডার মোল্ড প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়ে জলছাপ বসানো হয়।এটি একটি নিতান্তই সাধারন প্রক্রিয়া কিন্তু এ নিয়ে এর বেশী গভীরে লিখলে আইন প্রশাসনের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে।

তাছাড়া, যদিও প্রক্রিয়াটি তবে একটি সুক্ষ জলছাপ তৈরি করে জায়গা মতো বসানো সহজ কাজ না,বা অনেক সময় সাপেক্ষ,আর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতার কথা না হয় না ই বললাম। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ভালো জলছাপ আসাধু ব্যাক্তির জন্য সাশ্রয়ী হয় না। এজন্য ই জাল নোট খুবই উচু দ্মানের না হলে জলছাপ সাধারণত ঝাপসা ভাবে আঁকা ই থাকে।

উপরযন্তু ইতিহাসে এমন অনেক জালিয়াতী হয়েছে যেখানে একটি ডিনমিনেশনের নোট কে ব্লিচ করে অন্য একটি ডিনমিনেশন প্রিন্ট করা চালানোর চেষ্টা। সেই সকল ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে জলছাপ অপরিবর্তনীয় ছিলো অতয়েব ব্যাবহারকারী সেই নোট আলোতে ধরে বুঝতে পারতো যে সেটা কোন ছোট ডিনমিনেশনের নোট। কেননা সেই জল ছাপও পরিবর্তন করতে গেলে এই মিশন অর্থকরী ভাবে ততোটা ফলপ্রসু হয়তো হতো না। আধুনিক ব্যাংক নোটে আমরা ইলেক্ট্রোটাইপের [Electrotype] প্রযুক্তির ডিনমিনেশন দেখি যা বেশ হাইলাইট করা থাকে।


ডিসেম্বর ২০, ২০২১

বিভিন্ন দেশের কমন কাগজী মুদ্রার নাম

পাউন্ড

ফ্রাঙ্ক

দিনার

পেসো

রুপিস

রিয়্যাল

ক্রনা

শিলিং

ইংল্যান্ড

সুইজ্যারল্যান্ড

আলজেরিয়া

আর্জেন্টিনা

ইন্ডিয়া

ইউ এ ই

সুইডেন

কেনিয়া

ইজিপ্ট

কঙ্গো

বাহারাইন

চিলি

ইন্দোনেশিয়া

কাতার

ডেনমার্ক

সোমালিয়া

লেবানন

বুরুন্ডি

ইরাক

ফিলিপাইন্স

মাল্ডিভস

ইরান

নরওয়ে

টাঞ্জেনিয়া

সেইন্ট হেলেনা

মধ্য আফ্রিকা

জর্ডান

উরুগুয়ে

মরিশাস

ইয়েমেন

চেক রিপাবলিক

উগান্ডা

সুদান

রয়ান্ডা

কুয়েইত

কলম্বিয়া

নেপাল

ওমান

আইসল্যান্ড

সোমালি আইল্যান্ড

দক্ষিন সুদান

কমোরোস

লিবিয়া

কিউবা

পাকিস্তান

সৌদি আরব

ফেরো আইল্যান্ড

 

সিরিয়া

জাবুতি

মেসেডনিয়া

ডমিনিকান রিপাবলিক

সেইচেলস

 

 

 

উত্তর আইয়ারল্যান্ড

গিনি

সার্বিয়া

মেক্সিকো

শ্রী লঙ্কা

 

 

 

গারঞ্জি

পশ্চিম আফ্রিকা

তিউনেশিয়া

 

 

 

 

 

স্কটল্যেন্ড

 

 

 

 

 

 

 

জারজী

 

 

 

 

 

 

 

আইল অফ ম্যান

 

 

 

 

 

 

 

ফক ল্যান্ড আইল্যান্ড

 

 

 

 

 

 

 

জিব্রাল্টার

 

 

 

 

 

 

 


ডিসেম্বর ১০, ২০২১

কাগজ কি? What is paper?

 কাগজ কি?

বুনন বিহীন,যান্ত্রিক বাঁ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকৃত বিভিন্ন (যেমনঃ Flax, Jute, Cotton, Hemp, Straw, Esparto, Pulp, Bark ইত্যাদি) ধরনের জৈব (সাধারণত উদ্ভিদ) তন্তু দিয়ে নির্মিত নমনীয় চ্যাপ্টা পৃষ্ট যা সাধারণত মুদ্রন,লেখালেখি,মোড়ক তৈরি ইত্যাদি কাজে ব্যাবহ্রত হয়, তাকে কাগজ বলতে পারেন।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২১

পাল্পিং [Pulping] মন্ড প্রস্তুত করণ ও তাঁদের ধরন

 পাল্পিং [Pulping] বাঁ মন্ড তৈরি করা হচ্ছে কাগজ তৈরির প্রাথমিক ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মধ্যমে উদ্ভিদ আ কাঠ কে কাঠামোগত ভাবে দুর্বল করে তাকে তন্তুসার করা হয় বাঁ এর থেকে সকল ফাইবার বের করে আনা হয়।

কাঠ থেকে ফাইবার আলাদা করার কেয়াক্টি প্রথাগত প্রসেস আছে,যা সেই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে, কিছু প্রসেস আবার আধুনিক বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের ফলে ডেভলাপ হয়েছে। আমি তাঁর মধ্যে তিনটির কথা বলছি- যান্ত্রিক, মিশ্র এবং রাসায়নিক। 

যান্ত্রিক [Mechanical Pulping]

যেসকল কাজে উৎপাদিত পন্যের মজবুতির প্রয়োজন কম হয় সেখানে এই প্রাচীনতম প্রক্রিয়া ব্যাবহার করা হয়, যেমন নিউজ প্রিন্ট কাগজ, টেলিফন ডিরেক্ট্রি,ম্যাগাজিন,পেপার টাওাল, পেপারবোর্ড ইত্যাদি। উৎপাদন সস্তা এবং সাশ্রয়ী তাছাড়া পরিমাণও খুবই ভালো (প্রায় ১ কেজি কাঠ থেকে ৯০০ গ্রামের মতো মন্ড বানানো যায়)। তাই পৃথিবীর উৎপাদিত সকল কাগজের ১ চতুর্থাংশ ই এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। কাগজ সাদা করার জন্য অনেক ব্লিচ প্রয়োজন হয় তাছাড়া বেশী ব্লিচ ব্যাবহার করলে সমগ্রউতপাদন কমে যায়, তাই একে এভাবেই রেখে দেয়া হয়,কেবল মাত্র মুদ্রন উপযোগী করার জন্য যতটুকু না করলেই না ততটুকুই করা হয়। আধুনিকায়নের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়ার অসুবিধাসমূহকে খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রনের আনা হচ্ছে।

উপযোগীতাঃ চেপে আয়তন ছোট করা যায়, কালি বাঁ যেকোন কিছুর শোষণ ক্ষমতা ভালো, স্ত্যায়িত্ব কম, ক্যেমিকেলের ব্যাবহার কম অতয়েব পরিবেশ বান্ধব।

কাগজে উপস্থিত এই লিগ্নিনের কারনে সময়ের আবর্তনে বিভিন্ন কাগজ (বিশেষ করে খবরের কাগজ) হলুদাভ আভা ধারন করে।

 যান্ত্রিক পাল্পিং সাধারণত ৪ প্রকার হয়ে থাকে। 

রিফাইনার মেকানিক্যাল পাল্প [RMP]- কাঠের ছোট টুকরো গুলুকে পেষার সাথে সাথে বিভিন্ন সাইজের ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সাইজের ছাঁকনির মধ্য দিয়ে নিয়ে মিহি করা হয়।  

থার্মো মেক্যানিক্যাল পাল্প [TMP]- গরম বাস্পের ট্রিটমেন্ট করে তারপর “RMP” করা।

স্টোন গ্রাউন্ড ওড পাল্প [SGW]- কাঠের বড় টুকরো গুলুকে পিষে নরম করা হয় ।

প্রেসার গ্রাউন্ড ওড পাল্প [PGW]- গরম বাস্পের ট্রিটমেন্ট করে তারপর “SGW” করা।


মিশ্র/ তাপ-রাসায়নিক-যান্ত্রিক [Chemithermomechanical] বাঁ CTMP- যেই নাম সেই কাজ। সাধারণত পুরনাঙ্গ ক্যেমিক্যেল প্রসেসে কাঠের ভেতর খুব একটা লিগনিন অবশিষ্ট থাকে না। ফলে উৎপাদন বেশ করে যায়, তাই এই মিশ্র প্রক্রিয়ার জন্ম হয়েছে। এটাকে একটা হাইব্রিড প্রসেসও বলতে পারেন। এই  যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রথমে কাঠের টুকরো গুলুকে ক্যামিক্যেলের দ্রবনে ডুবিয়ে রাখা হয়,যদিও সেই ক্যেমিক্যেল ততটা উগ্র না যা কাঠের টুকরো গুলু থেকে লিগনিন কে ভেঙ্গে একাকার করে দিতো তাই সেলুলোজ ফাইবার গুলুর গঠনগত বিন্যাস খুব একটা নষ্ট বাঁ এলোমেলো করে না । এটি বেশহ আধুনিক প্রক্রিয়া।

রাসায়নিক পাল্পিং [Chemical pulping]-, ক্যেমিক্যেল এবং তাপ কাঠের গুড়া সমূহকে ক্যেমিকেলের দ্রবনে ডুবিয়ে রাখা হয়, যতক্ষন না সেই ক্যেমিক্যেল কাঠের টুকরো গুলুথেকে লিগনিন কে ভেঙ্গে একাকার করে দেয় যা সেলুলোজ ফাইবার গুলুর গঠনগত বিন্যাস নষ্ট করে তাঁদের এলোমেলো করে দেয়।সুবিধাঃ শক্ত পোক্ত উপাদান তঈরির জন্য এই প্রক্রিয়া ব্যাবহার হয় কেননা অবিন্যস্ত ফাইবার গুলু যখন শুকিয়ে কাগজ গঠন করে তখন এগুলু একটা আরেক্টির সাথে জট পেকে থাকে যার ফলে উৎপাদিত কাগজটি বেশ মজবুত হয়। দুইটি ভিন্ন ধরনের অনুধটক দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়,যা কাগজী আইটেম বিশেষ করে নিউমেস্মটিক এবং নোটাফিলিক কালেক্টরদের জন্য বুঝা গুরুত্বপূর্ণ।

অম্লীয় [Acidic pulping] বাঁ সালফাইট মেথড [Sulfite pulping] প্রক্রিয়াঃ আধুনিকতর প্রক্রিয়া, লিগ্নিন তাড়াতাড়ি এসিডের সাথে দ্রবিভুত হয়ে যায় ফলে নিস্কাশন সহজতর হয়, ফলে কাগজের রং হাল্কে এবং উজ্জ্বল হয়, ফলে ব্লিচ করা কম লাগে (যা পরিবেশ বান্ধব), সার্বিক কাজ দ্রুত হয় এবং উৎপাদন তুলনামূলক ভালো।

ক্ষারীয় [Alkaline pulping] বাঁ সালফেট মেথড– শত বছরের পুরনো এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশী ব্যাবহ্রিত হয় সাধারণত বাদামী শপিং ব্যেগে। লিগনিন দ্রিবিভূত হয়ে ফাইবারে ছড়িয়ে যায় ফলে উপাদানটি বাদামী বর্ণ ধারন করে এবং তততা উজ্জ্বল হয় না। সাদা করতে প্রচুর ব্লিচ দেয়া লাগে ফলে অনেক উৎপাদক কাগজের রং অপরিবর্তনীয় রেখে দেয়। শত বছর আগের এই উৎপাদন প্রক্রিয়া তখনকার জন্য সবচেয়ে মজবুত কাগজ দিতে পারতো কিন্তু রং বাদামী হওয়ায় এর ব্যাবহার প্যাকেজিং ম্যেটেরিয়ালেই সীমাবদ্ধ। এই জাতীয় কাগজকে ক্র্যাফট পেপার ও বলা হয়। 

উপযোগিতাঃ নরম কাঠ,ঘাস,গুল্ম বাঁ এই ধরনের উদ্ভিদ যেখানে লিগ্নিন কম থাকে বাঁ আলাদা করা সহজ তাঁদের এই প্রক্রিয়ার প্রক্রিয়াজাত করলে সময় ও তাপ কম প্রয়োজন হয়। প্রাচীন প্রক্রিয়া বিধায় এটি যথেষ্ট পরিপক্ক হয়েছে ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত তাপ এবং রাসায়নিক বস্তু সমুহকে কমিয়ে আনা এবং পুনঃব্যাবহারের প্রযুক্তি ভালো ভাবেই আয়ত্তে এসেছে। তাছাড়া কাগজের মজবুতিও বেশ ভালো এবং প্রায় সকল ধরনের উদ্ভিদের সাথেই এর ব্যাবহার চলে। তবে কঠিন কাঠের ক্ষাত্রে বাঁ কাঠ বিহীন উদ্ভিদ আঁশের প্রক্রিয়াজাত করনে ক্যেমিকেল হিসাবে কস্টিক সোডা ব্যাবহ্রিত হয়। এই তথ্য টি ও সংগ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই সকল কিছুর বাইরে আরও পাল্পিং মেথড আছে যাকে তাঁর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত টি হচ্ছে “Organosolv pulping” বাঁ ডিঙ্কিং [Dinking] বলা হয়। সাধারণত রিসাইক্লেনিং বাঁ পুনঃ প্রক্রিয়াজাত করনে এর ব্যাবহার বেশী দেখা যায়।. অনেক নিউজপ্রিন্ট, ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট পেপার, কিচেন  ক্লিনিং রোল, শপিং ব্যেগ এই ধরনের প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। আপনি ফটোকপির কাগজ কিনতে গেলে হতো কখনো “DIP” টার্মটি খেয়াল করতে পারেন। এটিই সেটি।


উদ্ভিদে কি এমন থাকে যা কাগজ তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যায়?

উদ্ভিদে কি এমন থাকে যা কাগজ তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যায়?

তিনটি উপাদান- সেলুলোস [Cellulose], হেমি সেলূলোস [Hemicellulose] এবং লিগনিন [lignin].

সেলুলোস [Cellulose]- উদ্ভিদ কোষের দেয়ালের প্রধান উপাদান হচ্ছে সেলুলোস। উদ্ভিদ আঁশের অধিকাংশই এই সেলুলোস ফাইবার। বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে এর বিশেষ গুরুত্ব দেখা যায়। কাঠে সাধারণত ৪০-৫০% ফাইবার থাকলেও তুলাতে প্রায় ৯০% সেলুলোস ফাইবার পাওয়া যায়। একে প্রাকৃতিক পলিমারও বলতে পারেন । এই ফাইবারের গুনাগুনের উপর নির্ভর করে সেই কাগজের/কাপরের আদ্রতা শোষণ ক্ষমতা, ধরতে কেমন লাগবে সেটার অনুভূতি, ছিঁড়ে ফেলতে কতো শক্তি প্রয়জন, স্থিতিস্থাপকতা, জলরোধী সহনশীলতা ইত্যাদি।

হেমি সেলূলোস [Hemicellulose]- শর্করার চেয়ে জটিল কিন্তু সেলুলোজের চেয়ে সরল পলিস্যাকারাইড গুলুকে হেমি সেলূলোস বলে। সাধারণত এগুলুকে গরম জলের মাধ্যমে বের করা আনা যায় না তবে  ক্ষারীয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে অম্লিয় দ্রবনের সংস্পর্শে এগুলু দ্রবীভূত হয়। একে উদ্ভিদের শক্তি সামরথের প্রধান কারন ধরা হয়। কাগজের ব্লিচিং এর জন্য এই হেমি সেলূলোসের অনেক অবদান আছে যা বিস্তারিত আলোচনায় আসবে।

লিগনিন [lignin]- এটা উদ্ভিদে সকল সেলুলোস বাঁ কোষ প্রাচীর গুলোকে একসাথে বেঁধে রাখা,ওনেক্টা আঠার মতো। শর্করার পর এটাই উদ্ভিদে সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায়। এটি উদ্ভিদকে শক্তি দেয় ,পচনের হাত থেকে বাঁচায়। ধুপকাঠি এবং আতর তৈরিতে আগর গাছের কষ, বাঁ ধুপ তৈরিতে এর ব্যাবহার নিশ্চই দেখেছেন। এটি সাধারণত কাগজ শিল্পের বাই-প্রোডাক্ট (উপজাত) হিসাবে চলে আসে।বিভিন্ন লিগনিন বিভিন্ন ক্যামিকেলে দ্রবিভূত হয়।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২১

Mentor and mentee

*মেন্টর [Mentor] কি?

মেন্টরের কন্সেপ্ট প্রাচীন  গ্রীক বৈদিক সমাজেও থাকলেও ,পাশ্চাত্ব উপনিবেশ এবং শোষণের ফলে মন মানসিকতার যে অধঃপতন হয়েছে তাঁর কারনে আমাদের মধ্যে আজ বিলুপ্ত প্রায়। হাঁ প্রথম বিশ্বে মেন্টর প্রথা আছে। আমি সেটার সাথেই আপনাদের পুনঃ পরিচয় করাচ্ছি।

কোন অচেনা পথে কেউ আপনার হাত ধরে বাঁ পথ দেখালে তিনি যেমন আপনার পথপ্রদর্শক। তেমনি সংগ্রহ জগত এমন একটি বিশাল পরিসর যেখানে আসার পর আপনি যতই মেধাবী হোন না কেন আপনাকে কেউ পথ না দেখালে  আপনি বিভ্রান্ত হবেনই। কেননা *কোয়ালিটির অভাবে এটা অনেকটা আনিম্যেল ফার্মের মতো হয়ে যাচ্ছে। (*কোয়ালিটি নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে দেখে নিতে পারেন)।

মেন্টরের কাজ কি?

আপনার সংগ্রহের *সাব্জেক্ট ম্যাটারের উপর ভিত্তি করে আপানার একাধিক মেন্টর থাকতেই পারে। কেননা সবাই সব বিষয়ে আগ্রহী বাঁ পারদর্শী না। (*সাব্জেক্ট ম্যাটার নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে)।

সাহায্য মানে কি?

বিশেষত আপনার সংগ্রহের বিষয় বস্তু নিয়ে প্রশ্ন যেমনঃ এটার দাম কতো হতে পারে? *কি থিম করবেন? সেই থিমের ব্যাপারে তথ্য, কোথায় গেলে কি পেতে পারেন? কিভাবে সংগ্রহ করবেন? কোন একটা ডিল ভালো হবে কি না?আপনি পরিপক্ক হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি আপনার যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সাহায্য করবেন। (*থিম নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে)।

যথাযথ সিদ্ধান্ত কি?

যেমন আপনি ফেসবুকের গ্রুপে আপনার পেট ব্যাথার চিকিৎসা করাবেন না, সিম্পটম লিখে জিজ্ঞাসা করবেন না যে এটা কিসের ব্যাথা হতে পারে, ঠিক তেমনি এক্সপার্ট মতামত এমনি এমনি আসে না। একজন অভিজ্ঞ ব্যেক্তির কাছে আপনার অবান্তর নোটের দামের প্রকৃত ভ্যালুয়াশন দেয়ার মতো আজাইরা সময় নাই।

মেন্টরের গুরুত্ব কি?

আপনার মেন্টর আপনাকে বলবে যে কোথায় নক করলে ভালো হবে। কার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন, হয়তো সেই ব্যেক্তি কে আপনার হয়ে সুপারিশও করবেন। সাধারণত একজন মেন্টর তাঁর নিজের কোন প্রত্যক্ষ স্বার্থ ছাড়া আপনাকে সাহায্য করে যাবে। অর্থাৎ “তাঁর নিজের কিছু বিক্রি করবে বলে, আপনাকে তিনি বলবে না যা এটা আপানার কেনা উচিৎ”। তিনি আপানার উদ্দেশ্য,অর্থনৈতিক সঙ্গতি, সীমা, গন্তব্য ইত্যাদি *কালেকশন প্যারামিটার বিবেচনা করে আপনার স্ট্রেটিজি তৈরি করতে সাহায্য করবেন এবং আপনাকে মানসিক ভাবে তৈরি হতে হেল্প করবেন। শুধু তাই না,তিনি আপনাকে এই জগতের নীতি, নিয়ম চর্চা, অধ্যবসায়, সংরক্ষণ প্রণালী ইত্যাদি সম্পর্কেও নিঃস্বার্থ ভাবে গাইড করে যাবেন। কোথাও আপনার সংগ্রহের বিষয়বস্তু নিয়ে রেফারেন্সের দরকার হলে তিনি দিতে পারেন ইত্যাদি আরও অনেক অনেক রোল প্লে করে থাকেন। (* কালেকশন প্যারামিটার নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে)।

 

মেন্টর কে হতে পারেন?-

প্রথমত, আপনার চেয়ে এই বিষয়ে অভিজ্ঞ যে কেউ ই আপনার মেন্টর হতে পারেন। দ্বিতীয়ত তাঁর  জ্ঞ্যান শেয়ার করার ইচ্ছা থাকতে হবে ,সেটা কোন স্বারথের কারনেই হোক আর বিনা স্বার্থেই হোক। সাধারণত অনেক মানুষ চাক্ষুশ কাউকে সামনে পেতে পছন্দ করে তাই

নিজে কিভাবে মেন্টর হবেন?

বই পড়ুন, রিসার্চ করুন, অন্যকে হেল্প করার মন্মানসিকতা তৈরি করুন, নিজে জানুন,অন্যকেও জানান, নীতি পরায়ন হোন, স্বার্থান্বেষী (নিজের মাল নিজের মেন্টরের কাছে বিক্রির ধান্ধা) হলে হবে না। জ্ঞ্যানের আলো বিকশিত করার চেস্টা করুন। একই সাথে ডিলার,সেলার,মেন্টর সম্পর্ক আপনি রাখতে পারেন না( কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট চলে আসে)। ফলোয়ার এম্নেই আসবে যখন আপনি অন্যের জীবনে উপর প্রভাব রাখবেন। শুধু ফেসবুকের গ্রুপে নিজের নতুন সংগ্রহের ছবি আর কার সাথে দেখা হলো সেটার পোষ্ট না দিয়ে সাথে এটাও লিখুন যে কি নিয়ে আলোচনা হলো, নতুন কি কিছু আসছে? আপনার এই পোষ্ট বাঁ অনলাইন উপস্থিতি অন্যকে কিভাবে উপকৃত করে? কিছু আলেখ্য লিখুন। আপনার সংগ্রহের লোহার সিন্ধুকে তো অন্য কেওই যেতে পারবে না,তাহলে লোক দেখিয়ে কি হবে? মনে রাখবেন পার্থিব সম্পদের তুলনা করলে অন্যের কাছে সবসময়ই আপনার থেকে বেশী সম্পদ থাকতে পারে। তাই সেটা লোক দেখানোর বিষয় হতে পারে না।

মেন্টি [Mentee] কি?

এখানে যে মেন্টরের সান্যিদ্ধে থেকে জ্ঞ্যান অর্জন করার চেষ্টা করে সে মেন্টি বাঁ জ্ঞান অনুরাগী। মনে রাখবেন পার্থিব জিনিসের দান অপার্থিব দানের চেয়ে বৃহৎ। উদাহরনঃ পার্থিব দান হচ্ছে টাকা ,পয়সা, রত্ন, জমি। অন্যদিকে অপার্থিব দান হচ্ছে বিদ্যা,প্রজ্ঞা,জ্ঞ্যান, অনুগ্রহ, স্নেহ ইত্যাদি। আজ কালের ট্রেন্ড ,কেবল গিফট দিয়ে দিলেই বড় সংগ্রাহক হওয়া যায় না,তবে হাঁ তাকে দানশীল বলা যেতেই পারে। *সংগ্রাহকের সংজ্ঞায় লেখা নেই যে তাকে পার্থিব গিফট দেয়ার মতো উদার মনের হতে হবে। তবে উদারতা তাঁর ব্যেক্তিগত গুন হতেই পারে। (*সংগ্রাহকের সংজ্ঞা নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে)।

দক্ষিনা কি দেবেন?

সেটা আপনার আর আপনার মেন্টরের উপর নির্ভর করে, পৃথিবীতে সম্পূর্ণ বিনা স্বার্থে কেউই কিছু করে না। কোন না কোন ধরনের কারন/স্বার্থ থাকেই। তাই আপনার ও উচিৎ আলোচনার মাধ্যমে আপনার মেন্টরের সাথে ভালো সম্পর্কে আসা। আপনি যদি এই লাইনে কম হোঁচট খেয়ে, সুস্থ ভাবে,নিরাপদে পদচারনে করতে চান তাহলে মেন্টর সেখানে আপনার পথসঙ্গি। কোন কোন সময় মেন্টর কেবল সমীহ, সম্মান এবং শ্রদ্ধার জন্য জ্ঞ্যান দান করেন, কখনো কখনো যোগ্য ব্যেক্তিকে এমনিতেই জ্ঞ্যান দান করেন, কখনো কখনো সৌহার্দ দেখাতে জ্ঞ্যান শেয়ার করেন, কখনো কখনো ফি চার্জ করবেন কারন তাঁর সময়ের দাম আছে,কখনো বাঁ আপনার সাথে লেনদেন করবেন এমন কিছু যা তাঁর দরকার ইত্যাদি নানা কারনে দক্ষিনার মাত্রাভেদ হতেই পারে। কেননা আপনারাই এই ট্রেন্ড তৈরি করেছেন যে ফ্রি জিনিসের কদর নাই।

 

আমার কথা গুলু সংগ্রহের প্রেক্ষিতে বললেও সেটা জীবনের সকল খাতেই ব্যাবহার করা যায়।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২১

স্টেইন বাঁ দাঁগ এবং ফক্সিং বাঁ বিবর্ণতা টোন

 স্টেইন বাঁ দাঁগ এবং ফক্সিং বাঁ বিবর্ণতা কিন্তু এক কথা না। স্টেইন সাধারণত সেই দাগ গুলুকে বলা হয় যা এমনি এমনি হয় না। কৃত্তিম ভাবে করা হয় বিভিন্ন কারনে। এর মধ্যে অসাধু কিছু কারণও আছে।

যেমনঃ জাল এরর, চুরির নোট সনাক্ত করণ, যুদ্ধের সময় দুর্ঘটনা বশত রক্ত লাগা ইত্যাদি।

স্টেইনের রং সাধারণত উজ্জ্বল হবেঃ যেমন বেগুনি, সবুজ, নীল, লাল বাঁ কালো। কোন কোন দেশে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কি রং ব্যাবহার হবে সেটা সেটা সেই দেশের আন্ত নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ঠিক হয়। চুরির নোট কে চিহ্নিত করার জন্য অনেক চুরির সময় ডাই প্যাক [Dye pack] এক্সপ্লোশন হয়,যা সেই রং চিরতরে নোটের গায়ে বসিয়ে দেয়। তাই বলে ভাববেন না বাঘের ও টাঘ নেই। এই যেই ব্যাবস্থার মাধ্যমে চুরির সময় ব্যাংক নোট গুলুকে নিস্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াকে বলে  intelligent banknote neutralisation system (IBNS)। সেই ডাই প্যাকের রঙের আবার নোট প্রিন্টিং করার রঙের সাথে অনেক মিল আছে (যা অন্য দিনের টপিক)।

যারা বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে তাঁরা এর সম্পর্কে জ্ঞ্যান রাখে,কেননা এই ধরনের ব্যাবস্থা কেবল ব্যেঙ্কনোটেই না বরং হীরা, গোপনীয় রাষ্টীয় দস্তাবেজ ইত্যাদি সংরক্ষনেও ব্যাবহার হয়।

স্টেইন্ড ব্যাংক নোট গ্রহন করা অনেক দেশের আইনেই দন্ডনীয়। খেয়াল করবেন এখানে আমি “বাজারে চালানো” টার্ম টি কিন্তু ব্যাবহার করি নি।(এই নিয়ে অনেক কথা বলা যায়)। বেশিরভাগ এ টি এম মেশিনে এই প্রযুক্তির অবাধ ব্যাবহার দেখা যায়।

অন্যদিকে ফক্সিং [Foxing]: এই নাম টি এসেছে শিয়ালের গায়ের বাদামী ছোপে সাথে সাদৃশ্যের কারনে। ফক্সিং হচ্ছে বার্ধক্য বাঁ অবহেলা জনিত কারনে কাগজে পড়ে যাওয়া হালকা বাদামী দাগ যা;যদি কোন পদক্ষেপ না নেয়া হয় ধীরে ধীরে সেই কাগজের সৌন্দর্য কে নষ্ট করে দেয়,কারন এতে বুঝা যায় যে সেটা পুরোনো। এই প্রক্রিয়া কে সংশোধন করা বেশ কঠিন এবং পাশ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন না। কিন্তু ফক্সিংকে আটকানো যায় বাঁ ধীর করা যায়। (বিস্তারিত Trust collector)। এখন আপনারা বাজারে বেশিরভাগ যে সকল নোট বিক্রি হতে দেখেন তাঁর অনেক ই এই সমস্যায় আক্রান্ত। অনেকে একে ভুলে স্টেইন বলে, অনেকে একে বলে “হলুদ দাগ”। যে কাগজে এই সমস্যা দেখা যায় তাকে ফক্সড পেপার বলে উচিৎ।

কারনঃ অনেকগুলু কারনের মধ্যে অধিক আদ্রতা, মোল্ড, ফাঙ্গাস অন্যতম তবে কাগজের পাল্প বানানোর সময় যে জল মেশানো হয় তাতে উচ্চ মাত্রায় লোহা এবং তামার উপস্থিতি, ধোঁয়া, তেল,রাসায়নিক বাষ্প, ভুল লাইটের ব্যাবহার, ভূল ক্যামিকেল ট্রিট্মেন্ট,  ইত্যাদি। এখানে লক্ষনীয় যে মোল্ড/ছত্রাকের কারনে ও হয় তাই এই ছত্রাক আপনার অন্যান্য কালেকশনের আইটেমে ছড়াতে পারে। তাই গভীর ভাবে না জেনে সেই ধরনের আইটেম না কেনা বাঁ ইতিমধ্যেই কিনে থাকলে সেটা অন্য আইটেমের সাথে না মেশানই ভালো।

আর ইতিমধ্যেই আক্রান্ত আইটেম গুলুকে সম্ভব হলে ট্রিটমেন্ট করে ক্যাপসুলে রাখতে পারেন। এখন সেটা কি সম্পূর্ণ আবদ্ধ হওয়া উচিৎ নাকি আংশিক সেটাও অন্য দিনের আলোচনা,এমন কি এটা নিয়ে একটা সম্পূর্ণ পোস্ট লেখা যাবে। অনেকে বলে বায়ুরোদ্ধ জায়গায় সংরক্ষণ করা ভালো।অন্য আইটেম থেকে আলাদা,অনেক্তা আই সি ইউর মতো। আবার আমি অনেক জাদুঘরের প্রজেক্টে দেখছি যে সেখানে কিন্তু পুরপুরি আবদ্ধ রাখা হয় না। কোন আর্ট কে বিভিন্ন লেয়ারের এসিড বিহীন টিস্যুর ভিতরে রাখা হয়। এখন এত সব ঝামেলার কারনেই সাধারণত ফক্সড আইটেমের মুল্য কম ধরা হয়,কারন এটা ধীরে ধীরে যদি বাড়তে থাকে তাহলে এক্সময় সেই নোট বাঁ কাগজী আইটেমের প্রাণশক্তি শেষ হয়ে যায়।আমি মনে করি সমস্ত জৈব পদার্থ (বিশেষ করে,এখানে ফিলাটেলিক এবং প্রিন্টেড পেপার) সহজাতভাবে অ্যাসিডিক এবং এই কারণে অনিবার্যভাবেই আজ না হয় কাল তাঁদের পচন ঘটবে৷ যখন একটি সম্পূর্ণ সিলযুক্ত আবদ্ধ জায়গা তাদের সংগ্রক্ষনের বা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পচনের উপজাতগুলি প্লাস্টিক  ধারকের অভ্যন্তরীণ স্থানের মধ্যে আটকে যায়৷ প্লাস্টিক ধারকটি শ্বাসনিতে না পারলে, ধারকের মধ্যে একটি "মাইক্রো-ক্লাইমেট" তৈরি হয়। এখন ভেতরের অনুজীব গুলু কি অক্সিজেনের সাহায্যে বাচে নাকি অক্সিজেন ছাড়াও বাছতে পারে সেটার উপর নির্ভর করবে আপনার আইটেম সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া। কেননা যদি ঐ মোল্ড অক্সিজেন ছাড়াও বাচে তাহলে এই ধরনের মাইক্রোক্লাইমেট পচনকে সমর্থন করবে অন্য দিকে যদি সেই মোল্ড কেবল অক্সিজেনের সাহায্যেই বাচে তাহলে একটি মাইক্রো-জলবায়ুর মধ্যে কাগজ সিল করলে হয়তো আপনার আইটেমের ক্ষতি আপাতত রদ করা সম্ভব কেননা তখন আর সেই মোল্ড বিস্তার ঘটাতে পারবে না।

 

টোনিংঃ যদিও ফক্সিং এবং টোনিং কে পৃথক করাটা অনেক সুক্ষ। এই নিয়ে নানান পণ্ডিতদের নানান মত আছে যা অল্প সময়ে আলোচনায় বুঝানো কষ্টকর। তবে দুটি প্রধান মত অনুসারে ফক্সিং হয় অরগানিক (জৈব) উপাদানের আর টোনিং হয় ধাতব বাঁ অজৈব উপাদানের যেমন কয়েন, বাঁ প্লাস্টিক ইত্যাদি। কিন্তু রং বুঝানোর ক্ষেত্রে যেহেতু “টোন” টার্ম টি ব্যাবহার করা হয় তাই কোন কাগজী আইটেমের বর্ণনায় যদি বলা হয় “ইয়েলো টোন আছে” সেটাও কিন্তু ভুল না,যদিও আমার মতে সেটা আংশিক সত্য। কারন টন কেন আছে সেটা না জানলে/জানালে শুধু সেটা জাহির করে লাভ নেই, কেননা দক্ষ চোখ সেটা দেখতে পারে। সাধরনত অনেক সংগ্রাহকরাই যেহেতু কোন আইটেম প্রথম যেভাবে নতুন অবস্থায় বাজারে এসেছে সেভাবেই তাঁদের সংগ্রহকে রাখতে চায় তাই পরবর্তীতে টোন পড়ে যাওয়া আইটেমের দাম করে যায়,কারন অনেক ক্ষেত্রে সেতাএ বয়সের ছাপ প্রকাশ পায়। অন্য দিকে আরেকদল আছে যারা দৃষ্টি নান্দনিকতার জন্য আইটেম সংগ্রহ করে,তাদের কাছে আবার টোন হওয়া বিশেষ করে ধাতব মুদ্রার আগ্রহ থাকে ,তাই তাঁরা সেটার জন্য অনেক সময় প্রিমিয়াম ও দেয়। আর এজন্য বাজারে আবার আসাধু ভাবে কৃত্তিম টোনিংও অনেকে করে বিক্রি করে। আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে টোনিং করা বাঁ হওয়া পছন্দ করি না। বলতে পারেন আমি অন্য সকল তথাকথিত সংগ্রাহকদের মতো কোন আইটেমের প্রথমকার অবস্থারই অনুরাগী।