পলিমার ব্যাংক নোট কি?
গ্রিক শব্দ (poly) মানে অনেক এবং (mer) মানে অংশ। এটি একটি
সিন্থেটিক বস্তু যা অনেক বেশি অনুর সমন্বয়ে আণুবীক্ষণিক স্তরে; জালের মতো আকৃতি নেয়
তাই একে পলিমার বলা হয়।
পলিমার কিন্তু বিভিন্ন ধরনের হয়। আপনার বাজারের ব্যাগ থেকে
শুরু করে জলের বোতল পর্যন্ত অনেক কিছুই বিভিন্ন ধরনের পলিমার জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।
তবে আমাদের বর্তমান ব্যাবহ্রিত পলিমার নোটগুলু বাই এক্সিয়াল পলিমার (বিস্তারিত অন্য
পোস্টের বিষয়) যা তাঁর জীবন ছোট দানা থেকে প্রথমে একটি বালুনের আকৃতিতে আসে তারপর তা
থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রিন্টিঙে যায়। পলিমার নোটের পূরুত্ব সেই বালুনের
ভেতরের বাতাসের চাপের উপর নির্ভর করে (বিস্তারিত অন্য পোস্টে)। এক এক দেশের পলিমার
নোটের পুরুত্ব যেমন আলাদা আলাদা হয় তেমনি সেই ভেতরের বাতাসের চাপ কতো হবে তা বলতে পারেন
রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য। সেই নোটের ৩য় লেভেলের নিরাপত্তা বিশিষ্ট সমূহও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়
তথ্য। বিঃদ্রঃ আধুনিক নোটের তিনটি লেভেলের নিরাপত্তা সূচক থাকে (বিস্তারিত অন্য পোস্টের
বিষয়)।
কিভাবে বুঝব যে কোন নোট কোন পলিমারের?
উত্তরঃ বাজারে বর্তমানে দুইটি প্রধান পলিমার সাবস্ট্রেট প্রস্তুতকারী
প্রতিষ্ঠান আছে, একটি হলো “গার্ডিয়ান” অন্যটি “সেইফ গার্ড” । আধুনিক পলি প্রোপেলিনের
যে পলিমার গার্ডিয়ান প্রস্তুত করে তা সি সি এল সিকিউর [CCL secure]নামে একটি প্রতিষ্ঠান
থেকে আসে। আর অন্য দিকে সেইফ গার্ডের পলিমার সাবস্ট্রেট আসে ডি এল আর [DLR] নামে অন্য
একটি কম্পানি থেকে যা তাঁরা ২০১৩ থেকে শুরু করেছে। তাঁর মানে ২০১৩ সালের আগের সব আধুনিক
পলিমার নোট গার্ডিয়ানের তৈরি।
এখন হয়তো খেয়েল করেছেন আমি বার বার আধুনিক পলিমার কথাটি ব্যাবহার
করছি। কারন হচ্ছে শুরুর দিকের পলিমার নোট ডেভ্লাপ হওয়ার আগে ছিলো টাইভ্যেক নামে আরেকটি
ম্যাটেরিয়াল,যেটি নিয়ে আমার অন্য পোস্ট আছে। সেটিকে আধুনিক পলিমারের আদি পুরুষও বলতে
পারেন। এছাড়াও বাজারে আরও কয়েকটি সাবস্ট্রেট আনার চেস্টা করা হয়েছিলো যা বিভিন্ন কারনে
হয়ে উঠেনি যেমন -কালি শুকানোর সময়, কালি ঝড়ে পড়ার আশংকা, ঝাপসা প্রিন্টিং, যথেষ্ট নিরাপত্তার
অভাব, প্রাণীজ ফ্যাট ব্যাবহারের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি।
বলে রাখা ভালো রাশিয়া তাঁদের সাম্প্রতিক যে ২০১৮ উপলক্ষে
যে S1 স্মারক নোট বের করেছে তাঁর প্রিন্টারের নাম গজনেক [Goznak] এবং বিস্বস্ত সূত্রমনে জানা গেছে যে তাঁরা বাজারের
সাধারন ব্যাবসায়ী কাজে বিক্রিত পলিমার দিয়ে ঐ নোট গুলু বানিয়েছে। যা আবার অনেক আনেক
অসাধু ব্যাবসায়ী সংগ্রহ করে অন্য অনেক দেশের ভূয়া পলিমার নোট, প্রাইভেট ডিজাইন ইত্যাদি
ধরনের প্রোডাক্ট বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে। সেই গল্প না হয় অন্য এক দিনের জন্য থাক।