কি?
কোন কয়েন,নোট,টিকিট বাঁ অন্য যে কোন কালেক্টেবল আইটেমের মূল্যায়ন করা হয় সেটির বিভিন্ন ফ্যাক্টর বিবেচনার করে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে; প্রায়ই গভীর পর্যবেক্ষণ বা কিছু ধরনের পরীক্ষা জড়িত থাকে, অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন কেবল ধরার,ছোয়ার, দেখার এবং কখনো কখনো শুধু ছবি দেখার মাধ্যমে মত প্রদান হয়। এপ্রাইসাল হলো বস্তুগত সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি পেশাদার পরীক্ষা। সাধারণত একজন অনুমোদিত ব্যক্তির দ্বারা কোন বস্তুর মান এবং দাম অনুমান করা কে এপ্রাইসাল বলে। অনুমোদিত মূল্যায়নকারীর অবশ্যই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে একটি পদবী থাকতে হবে।
কে করেন?
একজন এপ্রাইসার (মূল্য নির্ণায়ক) যার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে, যিনি ঐ নির্দিষ্ট থিম বাঁ টপিক সম্পর্কে জানেন (বিশেষজ্ঞ), যার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। সাধারণত অন্যান্য বিষয়ের এপ্রাইসাল দেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা এবং সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলেও সংগ্রহ সম্পর্কিত আইটেমের এপ্রাইসালের জন্য কেবল রেপুটেশন এবং অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞ্যান ই প্রধান রসদ। অভিজ্ঞতা এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে আপনি বিভিন্ন স্তরের আপ্রাইসারও হতে পারেন- যেমন এম্যাচিউর এপ্রাইসার, ট্রেইনি এপ্রাইসর,সার্টিফাইড এপ্রাইসার, ইত্যাদি।
একজন প্রফেশনাল এপ্রাইসারের তাঁর পেশা সম্পর্কিত প্রফেশনাল অরগানাইজেশনের সাথে মেম্বেরশিপ থাকবে সেখান থেকে রেগুলার CPD ট্রাইনিং করবেন তাঁর জ্ঞ্যান এবং যোগ্যতা কে চর্চার মাধ্যমে আপ্টুডেট রাখার জন্য। আমি IBNS,British numesmetic association,Americal numesmetic association, Paper money society,IBDA ইত্যাদি কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল অর্গানাইজেশনের সাথে থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশে খুলনা এবং যশোর কালেক্টর সোসাইটি, টাকা মিউজিয়াম ডোনার ক্লাব সহ বিবিধ সংস্থার সাথে যুক্ত আছি। তবে আমি পেশাগত ভাবে এপ্রাইস করি না। তাই আমি নিজেকে প্রফেশনাল এপ্রাইসার (মূল্যায়নকারী) বলবো না।
কি কি জিনিস দেখা হয় এবং কিভাবে?
একজন এপ্রাইসার কাছে সেই এইটেম সম্পর্কিত বিস্তর রেফারেন্স বাঁ সোর্স ম্যাটেরিয়াল থাকবে। তিনি বুঝতে পারবেন যে সেটি আসল কি না।তবে সে ক্ষেত্রে সেটি ধরে দেখা অনেক সময় ই জরুরি। তিনি সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিক্রিত তুলনা করা যায় এমন আইটেমের ইতিহাস দেখবেন। তিনি সেই আইটেমের বয়স, কন্ডিশন, উপাদান, সংস্কারকর্ম, দূরল্যভ্যতা, অতীত এবংবর্তমান বাজার,বর্তমান অর্থনীতি,চাহিদা, আইটেমের মালিকানা ইতিহাস ইত্যাদি অনেক ফ্যাক্টর বিবেচনা করে একটি স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র মতামত দিবেন। এর মধ্যে আবার কোনটি কিসের আগে প্রাধান্য পাবে সেটা ক্ষেত্র বিশেষে আলাদা হয় (সেটা নিয়ে আলাদা পোস্ট আছে)। তিনি আইটেম আসল কি না নকল সেটি পরিক্ষা করে তা ও বলবেন। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার জন্য আমার অন্য পোষ্ট পড়তে পারেন।
আপনি আসল নোট না পাঠাতে পারলে কি করণীয়?
তাহলে আপনার নোট (গুলি)র অবস্থা বিশদভাবে বর্ণনা করুন:যেমন পিনহোল, গর্ত, ছেঁড়া,ফাটা, ধোয়া, টিপে, জং,ফক্সিং,স্টেইন, দাগ, বিভিন্ন ধরনের গর্ত, নোটের ঢেউ, নিরাপত্তা স্ট্রিপ, জলছাপ এবং আরো অনেক ব্যাপার (*সেটা নিয়ে অন্য পোষ্ট আছে) যা ফটোতে সহজে বুঝা যায় না তাঁর বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিতে হবে। সাধারণত আপনার বর্ণনা যতো সুনির্দিষ্ট হবে মূল্যায়নও ততো সঠিক হবে।
কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
তা সে ক্রয়/বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে হোক বাঁ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হোক, আপনার কাছে যা আছে,তার প্রকৃত মূল্য যদি আপনি জানতে চান তাহলে আপনি সেগুলু কোন না কোন ভাবে তো মূল্যায়ন করে চাইবেন,তাই না?
মূল্যায়ন এবং মতামতের মধ্যে পার্থক্যঃ
প্রধান পার্থক্য হচ্ছে রেপুটেশনের তাঁর পর আসে জ্ঞ্যান এবং অভিজ্ঞতার। অর্থাৎ আপনি যদি যে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করেন যে আপনার কয়েন বাঁ নোটের দাম কতো?আসল কি নকল তাহলে তাঁদের উত্তর হবে “মতামত”। অন্য দিকে যদি কোন প্রফেশনাল ব্যাক্তি বাঁ প্রতিষ্টানের কাছে প্রশ্ন রাখেন তাহলে তাঁদের উত্তর হলে “মূল্যায়ন”। বাংলাদেশে আপাতত এমন কোন নিবন্ধিত এপ্রাইসাল সার্ভিস নেই।
খরচের কে দেয়?
যেহেতু এটি একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই পারিস্রমিকের কথা এসেই যায়।বিক্রির চুক্তি পাকাপাকি হলে; সাধারণত ক্রেতা এই পারিশ্রমিক বহন করেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ক্রেতার সুবিধার জন্য বিক্রেতা এই সুবিধার ব্যাবস্থা করে দিতে পারেন।
সবশেষে, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকেই আজকাল ঘরোয়া ভাবে এপ্রাইসাল দিচ্ছে। তাই বুঝতেই পারছেন যে সংগ্রহ সম্পর্কিত বিষয়ে বাংলাদেশ কোন নিবন্ধিত এপ্রাইসাল সার্ভিস নেই। তাই আপনি আপনার মেন্টরের সাহায্যে আপনার দক্ষতাকে বাড়াতে থাকুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন