নভেম্বর ২৩, ২০১৮

থিম নির্বাচনঃ পর্ব ১

 থিম নির্বাচনঃ পর্ব ১

এক্ টা নোটে বাঁ কয়েনের অনেক গুলু অংশ থাকে, প্রতিটি অংশের নিজস্বতা আছে যা মধ্যে কমন কিছু থাকা কে আমরা থিম বলি। এটা বুঝলে অনেক সহজ কিন্তু তারপরও অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। অভিধানের শব্দের মত থিমের কোন শেষ নেই। কিন্তু বিভিন্ন থিমের বিভিন্ন স্তরের তাৎপর্য আছে। তাই নতুন যারা আসছে তাঁদের সুবিধার জন্য থিমের কিছু উধারন দিলামঃ

আপনি সিগনেচার বাঁ মানুষের ছবিঃ বিজ্ঞানী, নোবেল পুরস্কার বিজেতা, আইনজীবী, সঙ্গীত বাঁ চিত্র শিল্পী, জাতির পিতা/মাতা, বাঁ যে কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি।

বাঁ টেস্ট ইস্যু, ডেমো ইস্যু, প্রুফ ইস্যু, স্মারক, রিপ্লেস্মেন্ট, স্পেচিমেন্ট, প্রমোশনাল, ইরর, প্রাইভেট ইস্যু, সুভেনিয়ার নোট, টোকেন নোট, নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারেন, কিন্তু এখানের যে কোন টি ই এতো বিশাল ফিল্ড যে কেউ আপনার হাত না ধরলে আপনি হারিয়ে যাবেন। এজন্যই আপনার ঐ ফিল্ডের একজন এক্সপার্টকে মেন্টর হিসাবে নেয়া উচিৎ। মেন্টরদের সহায়তার জন্য এখানের প্রতি বিষয় নিয়ে আলাদা পোষ্ট করা যাবে। লাগলে জানাবেন।   

এমন করে প্রতিটি ডিকশনারি শব্দের পেছনে খুজলে আপনি কোন না কোন থিম পেয়ে যাবেন। আপনি যদি ১৯ এবং ২০ শতকের অনেক পুরাতন নোট গুলূ দেখেন তাহলে খেয়াল করবেন যে, যে সব দেশের নোটে সময়কাল বাঁ সাল দেয়া নেই তাঁদের নোট গুলু সাধারণত ডিজাইন,ব্যাংকের নাম, *কোট অর আর্মস,সিরিজ বাঁ সিগনেচার ইত্যাদি দিয়ে সময়কাল নির্ণয় হতো। পরবর্তীতে কিছু সংগ্রাহক সেটাকেই একটা থিম বলে ধরে নেন,এবং এভাবেই সিগনেচার থিম সংগ্রহের উৎপত্তি। (*কোট অফ আর্মস এবং এম্বলাম নিয়ে আলাদা পোষ্ট দেয়া যাবে যদি জানতে চান।)

কয়েনের ব্যাপারে ধাতু, সময়কাল,ওজন,আকার, শাসনকাল,মিন্টেজ, ঔপনিবেশিক তত্ত্ব  ইত্যাদি অনেক অনেক বিষয় ই ভাবতে পারেন। আসলে সেই বিষয় নিয়ে বলতেই কষ্ট হয় যে বিষয় নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। এই সকল  বিষয় নিয়ে বাজারে বিভিন্ন জনের লেখা বই পর্যন্ত আছে।

কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো আপনি নির্বাচন কিভাবে করবেন?

উত্তরঃ আপনি প্রথমে ভাবুন যে আপনার আগ্রহ কিসে? বাঁ আপনার কি সম্পর্কে জানার ইচ্ছা? আপনার উচিৎ সেই বিষয়কে থিম হিসাবে নেয়া যা আপনি চালিয়ে যেতে পারবেন আপনার বর্তমান আগ্রহের কারনে। 

আপনার উচিৎ কোন মেন্টরের সাথে পরামর্শ করে,আপনার আর্থিক, সামাজিক ইত্যাদি অবস্থা বিবেচনায় কি থিম করা যুক্তিপূর্ণ হবে তা নির্বাচন করা। এ কথা বলার কারন হচ্ছে ধরুন আপনি নির্বাচন করলেন যে কেবল বিড়ালের ছবি আছে এমন নোট বাঁ কয়েন সংগ্রহ করবেন, তবে আমি আগে থেকেই বলে রাখি যে ১০ বছর পড়েও হয়তো আপনার সংগ্রহ এক হাতে গুনা যাবে। আশাকরি উধারন টি বুঝতে পেড়েছেন। আপনি হয় কোন জনপ্রিয় থিম করতে পারেন অথবা কয়েকটি একই ধাঁচের থিম নিয়ে একটি থিমের ফ্যামিলি করতে পারেন। যেমন প্রথমে শুরু করলেন কচ্ছপ দিয়ে (স্থলচর এবং জলচর)। সেটা করতে করতে আপনি ভাবলেন যে কচ্ছপে এমন কি আছে যা অন্য প্রানীতে কমন? কচ্ছপ উভয়চর, ডিম পারে ইত্যাদি ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে আপনি হয়তো সমগ্র সামুদ্রিক প্রানী নিয়ে একটি থিম দাঁড় করালেন। 


মেন্টরগন থিম নির্বাচনের সময় যা ভাববেন- জনপ্রিয়তা,ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংগ্রহকের সামর্থ্য, শিষ্যের জ্ঞানের স্তর,বাজারের নাব্যতা, মূদ্রাধিক্য,মুদ্রা স্বল্পতা, অভিবাসন,যাত্রি আগমন হার, শিষ্যের সামাজিক ব্যাপ্তি ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। 

এখন মনে হবে এত কিছু না করেই তো এতো দিন চলে এসেছি,তো কি হয়েছে?

উত্তরঃ একই বলে ব্যাবস্থাপনা, একজন রাজমিস্ত্রি এবং একজন প্রকৌশলীর মধ্যে যেমন পার্থক্য আছে ঠিক তেমনি কেউ চিন্তা করে কাজ করার মধ্যে এবং কাকতালিয় পরামর্শ দেয়ার মধ্যে একই রকম পার্থক্য আছে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন