জানুয়ারি ১১, ২০২৩
প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency],আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue],উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত মুদ্রা [Salvage Looted money]
প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency] কোন মুদ্রার/নোটের মূল কাজ বিনিময় প্রথা হিসেবে ব্যাবহার হওয়ার সাথে সাথে/পরিবর্তে তা যদি একটি রাস্ট্রের জনগনের মধ্যে কোন বার্তা/ভাবধারা প্রচাররে(মনোবল গঠন,পরিবর্তন বা নষ্ট করার) ব্যাবহার হয় তখন তাদের প্রোপাগান্ডা কারেন্সি বলে। এটা হতে পারে কোন গ্রাফিটি, অভার প্রিন্ট, ছবি বা লিখার মাধ্যমে বা আকাশ থেকে অগনিত মুদ্রা বৃষ্টির মাধ্যমে, ইতিহাস সাক্ষি। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই একসময় সেই সকল কারেন্সি বাজার থেকে তুলে নেয়া হয় বা জব্দ করা হয়। ফলে তা প্রপাগান্ডা কারেন্সি সংগ্রাহকদের মধ্যে কেবল ঐতিহাসিক কারনেই নয় বরং দুর্লভ্যতার কারনেও সমাদৃত।
সাধারণত, যখন কোন প্রতিরোধী বাহীনি/মিত্র বাহিনী/শোষিত গোষ্ঠী; স্বাধীনতা এবং সারবভৌমত্বের স্বার্থে; তাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি ভাবধারা এবং মনোবল গঠন করার চেষ্টা করে। অন্য দিকে শত্রু/বহিঃশত্রু/আক্রমনাত্বক বাহিনী চেষ্টা করে সেই ভাবধারা/ অর্থনীতি/ মনোবল নষ্ট করার।
যেমনঃ ১৯৪২ এ তৎকালীন জাপান (সাম্রাজ্যবাদী) যখন ফিলিপাইনে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে তখন তারা ফিলিপিন প্রশাসন থেকে জারি করা সকল নোট এবং কয়েনকে বায়জাপ্ত করে দেয়। কিন্তু যুদ্ধ চালানোর স্বার্থে বিভিন্ন সত্তা (প্রতিরোধ বাহীনী/ফিলিপাইনের কমনওয়েলথ সরকার, প্রাদেশিক,উপ প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ) তাদের নিজস্ব নোট জারি করা শুরু করে। যা বিনিময় মূল্যের খাতিরে খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও সার্বভৌমত্বের ভাবধারা প্রকাশ এবং ছাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।ফিলিপিনি পেসোর আদলে সেই মুদ্রা কে ‘গেরিলা পেসো’ বলা হতো। প্রচারের সরঞ্জাম হিসাবে ব্যাবহার হওয়ার কারনে সেই ‘গেরিলা পেসো’ জাপানিদের রোষানলের সম্মুখীন হয়েছিলো ফলে তা তা বহন করা অবৈধ ঘোষণা হয় । এমনকি যাদের কাছে এই ধরনের নোট পাওয়া যেত তাদের জন্য হয়রানী,গ্রেফতারি এবংমৃত্যুদন্ডের মতো শাস্তিও অবাক কিছু নয়।
যুদ্ধপরবর্তী কালীন সময়ে , ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার সেই সকল অন্তর্বর্তীকালীন সকল নোট ‘গেরিলা পেসো’ কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে জমা নেয় এবং নতুন নোট জারি করে।
গুপ্ত ম্যাসেজ/লুকনো বার্তা [Hidden meaning]- এই ক্যাটাগরি টি প্রোপাগান্ডা ক্যাটাগরির কাছাকাছি হলেও সুক্ষ পার্থক্য হচ্ছে -এখানে কোন একটি জাতি/দল/গোষ্ঠি কে উদ্দেশ্য করে, সাধারন ডিজাইনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। যখন এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে এবং যদি দেখা যায় এই অস্বাভাবিকতা কেবল কিছু নোটেই আছে তখন তা সংগ্রাহকদের বিশেষ আগ্রহের কারন হয়ে দাঁড়ায়।
আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue]
কোন রাস্ট্রের / সরকারের বা আইনি সত্ত্বার দ্বারা আপদকালীণ সময়ে বের করা মুদ্রা কে ইমারজেন্সি ইস্যু মুদ্রা বা [Emergency Currency] বলা হয়।
দাঙ্গা, ধর্মঘট,অবরোধ, বিক্ষোভ,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সন্ত্রাস,নাশকতা, জিম্মি পরিস্থিতি , মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি কে নোটাফিলির ভাষায় আপদকাল ধরা হয় এবং আমি এদের ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করছি।
১) অর্থনৈতিক
২) রাজনৈতিক এবং
৩) সামরিক
অর্থনৈতিকঃ উদাহরনঃ কোন দেশের অর্থনীতিতে মূদ্রা ভারসাম্য হারালে (স্বল্পতা,আধিক্য,স্ফীতি,বিচ্যুতি ইত্যাদি) ঘটলে সেই রাষ্ট্র বা আইনি সত্তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে তারা তাদের বর্তমান মুদ্রাকে বিসর্জন দিয়ে নতুন মুদ্রা প্রচলন করবে। কিন্তু কখনও কখনও দেশ ব্যাপি এই পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়তো সম্ভব হয় না। তখন সীমিত পরিসরে বা অলিখিত ভাবে একটি মুদ্রা সম ব্যাবস্থা গড়ে উঠে যেমনটা Genmany (Notegeld), Zimbabwe (Emergency bearer cheque) ইত্যাদির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
সামরিকঃ কোন সামরিক শক্তির প্রভাবে যে মুদ্রা জারি হয়। নোটাফিলির স্বার্থে এদেরও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ অবরোধকালীন,যুদ্ধাপরাধী ক্যাম্প,সশস্ত্র বাহিনী,রাজবন্দীশিবির,সংখ্যালঘু বন্দীশিবির ইত্যাদি।
ক্যাম্প মানিঃ সাধারণত যেকোন হাজত, শংশোধনাগার, মিলিটারি ক্যাম্প বা বন্দী শিবির ইত্যাদি গুলুতে খুব একটা মুদ্রার প্রচলন দেখা যায় না। তাই কখনও কখনও কোন এই ধরনের সংস্থাপনায় বাইরে থেকে আসা বা ভেতরেই বিকশিত হওয়া কোন বিনিময় মাধ্যম মুদ্রা হিসেবে স্বকৃত হয়। যা সংরাহকদের জন্য আলাদা একটি ক্যাটাগরি। যেমনঃ যখন ফিলিপাইনে সামরিক পরাজয় অনিবার্য ছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ, অনেক অনেক সেন্টাভো এবং পেসো মুদ্রা কাবালো উপসাগরে [Caballo Bay] ফেলে দেয়। যদিও তৎকালীন জাপানি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবন্দীদের বাধ্যকরে কয়েনগুলু পুনরুদ্ধার করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কিছু মুদ্রা পকেটে রেখে ক্যাম্পে নিয়ে যায় যা ক্যাম্প এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন ও ফিলিপিনো বাহিনীকে বিতরন করা হয়। যদিও তা যথষ্ট না হওায় পরবর্তীতে প্রতিরোধ বাহিনীকে অন্য ভাবে মুদ্রা জারি করতে হয়েছিলো।
সশস্ত্র বাহিনীর থাকাকালীন অবস্থায় মুদ্রা আবার দুই ধরনের হতে পারে- যুদ্ধকালীন এবং শান্তিকালীন। ক্ষেত্র বিশেষে এদের Pre-Surrender and Post-surrender currency হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্য একটি ক্ষেত্রে Post-war administration currency বলা হয়।
যুদ্ধকালীন অবস্থার মুদ্রা আবার কয়েক ধরনের হতে পারে- Guerilla issue, Invasion issue, Occupation issue
রাজনৈতিকঃ যেমনঃ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় যখন ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার পলাতক সরকার [Absconded government] ছিলো *যা অনেকের ভাষায় নির্বাসনে [Exile] ছিলো তখন তারা Guerrilla Pesos নামে মুদ্রা বের করেছিলো। খন্ড যুদ্ধকালীন অবস্থায় এই কারেন্সি গুলু আসে বিধায় এগুলু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপদকালীন মুদ্রা ধরা হয়।
কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং সামরিক কিছু কিছু ঘটনা সম্পৃক্ত থাকার কারনে কিছু প্রকরন ওভারল্যাপ করতে পারে।
কোন আইনি সত্তার [Legal entity] কর্তৃত্বে প্রচলতি বা প্রচলন পূর্ববর্তী/পরবর্তী মুদ্রা যা কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হয় তা ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারনে অনেক সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। ইতিহাসে ট্রেন লুট থেকে শুরু করে,টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক মুদ্রা ই বিভিন্ন সময়ে সংগ্রাহক বাজারে উঁকি দিয়েছে, যা চড়া দামে বিক্রি হয়েছে।
কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া গিয়েছে সেটার ভিত্তিতে ভাগ করলে সংগ্রাহকদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী আছে যা উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত
উদ্ধারকৃত মুদ্রা [Salvage Currency]: প্রাপ্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এদের ২ ভাগে ভাগ করছি
খনন [Excavation]: Hidden treasure (Purpose treasure hunt, Accidental discovery)
অভিজান [Expedition]: Ship rake (Plane crash, Shipwreck, Trainwreck)
লুন্ঠনকৃত [Looted] (Looted by a group from the authorised custodian of the currency)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন