মে ০৮, ২০২৩

Is Philately a dying hobby?

আমি এটা বলার অধিকার রাখি না যে ফিলাটিলির লোক বাড়ছে কি বাড়ছে না। তবে এতা বলতে পারি যে আমার মতে কি কি প্রতিবন্ধকতা আছে।

১) যদিও নোটাফিলির তুলনায় ফিলাটিলি একটি প্রবীনতর সংগ্রহের ক্ষেত্র কিন্তু সেটি ই এর পিছিয়ে পড়ার কারন ও হতে পারে কারন কয়েন বাঁ নোটের মতো এই ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ কম।

২) আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যেখানে ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ (ই-মেইল) প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে গিয়েছে সেখানে ডাক এবং তৎসম্পর্কিত বস্তুগুলু সাধারন ব্যাবহারকারীদের কাছে ব্যাবহারযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

৩) আধুনিক রঙচঙ্গে জগতে জৌলুসে, অনেকের ই পুরোনো ডিজাইন বাঁ রুপ্সজ্জা ভাল না ও লাগতে পারে।

৪) ক্রমে আমরা প্রজাতি এবং জাতী হিসেবে বিকশিত হচ্ছি, যা ক্রমে আমাদের আমাদের অতিত এবং ইতিহাস থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে।

৫) সাধারণত কয়েন ধাতু দিয়ে তৈরি হয়, আর ইতিহাস দেখলে ধাতুর মূল্য সব সময়ই ছিলো,সেই ক্ষেত্রে ফিলাটেলির সামগ্রী কয়েন জাতিয় জিনিস গুলুর সাথে তুলনা যোগ্য না। কারন ধাতুকে অত যত্ন করে রাখতে হয় না।

৬) নোট এবং অন্যান কাগজী আইটেমের সাথে তুলনা করলে, নোটে যেমন প্রাযুক্তিক উৎকর্ষ সহযে ফুটিয়ে তুলা যায় ,স্ট্যাম্পে সেটা হয় না কারন জায়গা নেই। তাই শৈল্পিক ভাবনার অনেক বেশি প্রকাশ বুঝা সম্ভব হয় না।

৭) আজ কাল ছোট ছোট জিনিসের প্রতি মানুষের মনযোগ কম। সবাই বড় বড় জিনিস রাখতে, দেখতে, কিনতে, চায়। এটা বলতে পারেন মনমানসিকতার পরিবর্তন।

৮) এই শখ টা কে যারা ভালোবাসতো তাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে এবং তারা নতুন শিষ্য নিচ্ছে না। এই নিয়ে কথা বলছে না, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ কম করছে, ফলে নবীন সংগ্রাহক কোথা থেকে তৈরি হবে?

৯) অনেকের ব্যাস্ত কম্পিটিশন জিততে, বাঁ লোক দেখাতে। কেউ যে এটা নিয়ে মাসিক,বাতসরিক কথা বলবে, গেট টুগেদার আয়োজন করবে, লেখালেখি করবে তেমন তো দেখি না। এমন কি কোন খুব সোচ্চার গ্রুপ/ক্লাবও নেই যারা নতুনদের মেন্টরিং করবে ফিলাটিলি নিয়ে।

১০) যে কোন সংগ্রহে খরচ তো আছে ই। তবে মানুষ হিসেবে স্বাভাবসুলভ ভাবেই অনেকে আমরা কোয়ালিটি না দেখে কোয়ান্টিটি দেখি। ফলে ছোট জিনিসের উপর শত/হাজার টাকা খরচ না করে অনেকে ভাবে বড় এবং ত্রিমাতৃক কোন নিজিসের উপর সেই টাকা খরচ করলে ভালো হবে।

১১) সহজে না পাওয়া যাওয়াও একটি কারন। যেহেতু এখন ডিজিটাল যুগে চিঠি ই কম লেখা হয় তাই ব্যাবহার করা স্ট্যাম্প ও এখন কিনতে হবে। পত্র মিতালির যুগ তো প্রায় শেষ বল্লেও ভূল হবে না।

১২) বাংলাদেশের কথা ই যদি বলি,দেখুন কতো জন রাতারাতি নোট আর কয়েনের ডিলার বনে যায়,আর কতো জন লট হিসেবে বাঁ কিলোঅয়ার সেল করে চলছে। এর কারন কি?

১৩) কয়েন বাঁ নোটের একটি ফেস ভ্যালু ছিলো বাঁ থাকবে যা ষ্ট্যাম্প বাঁ নোটাফিলিক আইটেমের ক্ষেত্রে বলা মুশকিল, কারন কয়েন বাঁ নোট কে সরাসরি অর্থ/সম্পদ হিসেবে অনেকে মনে করেন। এবং মনে করেন খুব প্রয়জনে এটার তরলীকরণ ফিলাটিলিক আইটেমের তুলনায় সহজতর। ফিলাটিলিক আইটেম সেল করতে হএলে সেই আইটেম সম্পর্কে যে জানে এবং বুঝে কেবল সে ই তার সঠিক মূল্যায়ন করবে। অন্য দিকে কালকে একটু সস্তায় দিলে আপ্নিও ডলার বাঁ গোল্ড কয়েন কারো থেকে কিনে রেখে দেয়ার চিন্তা করবেন।

১৪) প্রচুর ভ্যারিয়েশন যেমন একদিকে প্লাস পয়েন্ট, অন্যদিকে সেটা নেগেটিভ ও। কারন এতো ভেরিয়েশন থাকার ফলে এই ক্ষেত্রে সর্ব বিদ্যা বিশারদ হওয়া মুশকিল। তাই কোন টা কেনো দামী সেটার ইতিহাস না পড়লে জানা বুঝা কঠিন। যেটা নোটের ক্ষেত্রে হলেও সেটা তুলুনামূলক কম।  

 কারনের লিস্ট এখানেই শেষ না। আপনারা আরও বলতে পারেন।

অনেক লোক ই শখ পালাকে একটা সামাজিকিকরনের অংশ হিসেবে দেখে। তাই সর্বোপরি Public awareness বাড়ালে, এই নিয়ে মুভমেন্ট হলে, লেখালেখি, শো, মেলা ইত্যাদি হলে মানুষ জানবে এবং ক্রমে আরও উদবুদ্ধ হবে । তারা জানবে যে এটার ও একটা সমাজ আছে, এটা অসামাজিক কার্যকলাপ বাঁ পাগলামি না, এটা কে শখ হিসেবে ভাবার প্ররোচনা এবং সাহস পাবে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন