ডিসেম্বর ০১, ২০২৩

উল্ট জেনি [Inverted jenny]

আজকে, আমরা স্ট্যাম্পের জগতের গভীরে ডুব দিচ্ছি যা সর্বকালের সবচেয়ে লোভনীয় এবং মূল্যবান স্ট্যাম্পগুলির মধ্যে একটির পিছনের গল্প নিয়ে।

উল্টো জেনি/ ইনভার্টেড জেনি [Inverted Jenny]৷ 

এই স্ট্যাম্পটি, তার বিশেষ উলটো-প্লেনের নকশার জন্য পরিচিত। শুধুমাত্র সংগ্রাহকদের মধ্যেই নয়, সিনেমা এবং টিভি শোতেও খ্যাতি অর্জন করেছে। সুতরাং, আসুন জেনে নেওয়া যাক কী এই স্ট্যাম্পটিকে এত অসাধারণ করে তোলে এবং কেন এটি ফিলাটেলিস্টদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পত্তি।

স্ট্যাম্পের ত্রুটির গল্পের আগে বলতে হবে এই স্ট্যাম্পের ইতিহাস নিয়ে। এটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত-এয়ারমেইলের জন্মের সাথে সম্পর্কিত। ১৯শতকের গোড়ার দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশ এয়ারমেইলের ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিলো। ১৯১৮ সাল নাগাদ, এয়ারমেইল সেবা গুলু শুরু হতে থাকে,এবং একটি আলাদা স্ট্যাম্পের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।

মার্কিন পোস্ট অফিস বিভাগ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এয়ারমেইলের এই সূচনা হয়। কারন তখন আমেরিকান বিমান চালকরা এটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতির করার মিডিয়াম হিসেবেও ব্যাবহার করার সুযোগ পায়। কার্টিস এয়ারোপ্লেন এবং মোটর কোম্পানিকে মেইল পরিবহনের জন্য কার্টিস JN-4 মডেলের প্লেন ব্যাবহার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই প্লেন গুলির সামনের সিটগুলি মডিফাইড করে চিঠির বস্তা নেয়ার হতো। প্লেন গুলিকে, যাদের মজা করে "জেনিস" বলা হতো।

জেনি প্লেনের ছবি বসানোর ফলে স্ট্যাম্প নিজেই, এয়ারমেইলের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এয়ার মেইলে ব্যাবহার হওয়া অন্যান্য প্লেনের বদলে স্ট্যাম্পটি কার্টিস JN-4 মডেলের ছবি ই ব্যাবহার করে যায়।

তখন এই স্ট্যাম্পের মূল্য ধরা হয় ২৪ সেন্ট। যা তখননকার প্রথাগত তিন সেন্টের নিয়মিত ডাক মাশুলের থেকে অনেক বেশী। তাই এই স্ট্যাম্পটির মূল্যমান কমানোর আগে মাত্র দুই মাস প্রচলন ছিল। যাইহোক, মুদ্রণ প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি ত্রুটির কারণে উল্টো জেনি অস্তিত্বে আসে। কেননা তকখন দুটি আলাদা কালার প্রিন্ট করতে দুটি মেশিনে আলাদা আলাদা ভাবে কাগজের শিট গুলুকে ঢুকাতে হতো। অর্থাৎ এক রঙের নকশা প্রিন্ট হওয়ার পর সেটি শুকানোর পর আবার অন্য রনঙের নকশাটিকে প্রিন্ট করার জন্য মেশিনে ঢুকানো হতো। তাই কিছু শীট উল্টো ঢুকানোর পর উড়োজাহাজের নকশা ভুলবশত লাল ফ্রেমের মধ্যে উল্টো করে প্রিন্ট করা হয়েছিল।

সংগ্রাহক বাজারে ইনভার্টেড জেনির প্রবেশ ঘটে যখন একজন স্ট্যাম্প সংগ্রাহক, উইলিয়াম টি. রবি, ওয়াশিংটন ডিসি পোস্ট অফিসে স্ট্যাম্প কিনতে গিয়ে হটাত করে পাতা উল্টাতে উল্টাতে খেয়াল করলেন যে এক্টি পুরো শিটে ডিজাইন উল্ট প্রিন্ট হয়েছে। তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে সাথেসাথেই ১০০ টি ইনভার্ট জেনির শিট কিনে নিয়েছিলেন এবং পরে সেগুলিকে কয়েক হাজার গুন লাভে বিক্রি করে দেন কারন নিজের কাচছে রাখলে সেটা রাষ্ট্রীয় বায়জাপ্তকরনের কারনে হাতে হতে পারতো। এর মধ্যে তিনি পেন্সিল দিয়ে প্রত্যেক্টি স্ট্যাম্পের পেছনে তাদের আলাদা পজিশন অনুসারে নাম্বারিং করেন।

ইনভার্টেড জেনির বিরলতার প্রধান কারন  যে শুধুমাত্র ১০০ টি স্ট্যাম্প এভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগ্রাহক থেকে এই স্ট্যাম্পগুলি পুনরুদ্ধার করার প্রচেষ্টা, হারিয়ে বা চুরি যাওয়া ইত্যাদির ঘটনা ঘটেছে।এমনকি একটি নিখোঁজ ইনভার্টেড জেনি সম্পর্কিত একটি চলমান এফবিআই মামলাও এই কাহিনীতে ঘি ঢেলেছে।

ইনভার্টেড জেনির প্রতি মুগ্ধতা শুধু এর আর্থিক মূল্যের কারনে নয় বরং এর পেছনে গল্পের কারনেও। ডাক ব্যাবস্থা এবং যোগাযোগের বিবর্তনের সাথে স্ট্যাম্পের মিলন এবং এর বিভিন্ন মালিকদের এই স্ট্যাম্প পাওয়ার গল্প এই স্ট্যাম্প কে সংগ্রহক সমাজের কোহিনুর বানিয়েছে। আসল একটি ইনভার্টেড জেনির মালিকানা হয়তো বেশিরভাগ সংগগ্রাহকের নাগালের বাইরে থাকতে পারে। কিন্তু এই গল্প কেনো অজানা থাকবে?

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন