ডিসেম্বর ১২, ২০২৩

মুদ্রা সংগ্রহের বাজারে বিনিয়গের টিপস এবং টাকা নষ্ট হওয়া এড়াবেন কিভাবে? [How to invest in Collectable market and avoid loosing money]

 মুদ্রা সংগ্রহের বাজারে বিনিয়গের টিপস এবং টাকা নষ্ট হওয়া এড়াবেন কিভাবে?

ব্যাঙ্কনোট/কয়েন সংগ্রহ করা একটি জনপ্রিয় শখ যা বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। যেহেতু এই বাজার অনেকানংশেই আকাঙ্খা এবং সংগ্রহযোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত এবং সবসময় আইটেমের অভ্যন্তরীণ মূল্যের সাথে সামনঞ্জস্য রেখে লেনদেন হয় না। তাই এই ধরনের সংগ্রহের বাজার তাদের ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে যারা প্রকৃতপক্ষে এই জগতের সাথে পরিচিত নয়। সংগ্রহের বাজারে অর্থ হারানো এড়াতে, এবং এই সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং কীভাবে আপনার নিজস্ব শখের কারনে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাচতে পারেন তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে, আমরা বেশ কিছু বিষয়কে তুলে ধরব যা আপনাকে মুদ্রা সংগ্রহের বাজারে অর্থ নষ্ট হওয়া এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বিনয়োগ সবার জন্য নয়।সংগ্রাহকরা তাদের ঐতিহাসিক, নান্দনিক এবং ব্যক্তিগত তাৎপর্যকে মূল্যায়ন করে মুদ্রার প্রতি আবেগ এবং মানসিক টানের কারনে সংগ্রহ করে। তারা বৈচিত্র্য, সেটের সম্পূর্ণতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের উপর ফোকাস করে, আর্থিক লাভের চেয়ে উপভোগকে অগ্রাধিকার দেয়। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা আর্থিক রিটার্ন, বিশদ গবেষণা পরিচালনা এবং বাজারের প্রবণতার উপর ভিত্তি করে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর নজর দেয়।  প্রায়ই একটি ছোট হোল্ডিং পিরিয়ড রেখে তারা তাদের মুনাফা ও মার্জিন, ঝুঁকি ইত্যাদি হিসেব করে। তারা আবেগের টানের পরিবর্তে আর্থিক লাভের সম্ভাবনার উপর জোড় দেয়।

কেনার আগে গবেষণা করুন: বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সেই থিম বা মুদ্রার ইতিহাস, বিরলতা এবং বাজার পরিস্থিতি সহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করুন বা যারা গবেষনা করে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।

একটি মুদ্রার মূল্য বোঝা: ধাতুর মানের জন্য একটি মুদ্রার মূল্য এবং মুদ্রাসংক্রান্ত বিরলতা এবং অবস্থার কারনে মূদ্রার মূল্য আলাদা হতেই পারে। সেটা মাথায় রাখুন। তাই বিভিন্ন ধরনের মূল্য নিরধ্ধারণ পদ্দধতি সম্পর্কে জানুন।

নিজের জ্ঞ্যান কে বিশেষীকরণের সুবিধা: মনে রাখবেন- একজন সব বিষয়ে দক্কষ হতে পারে না। তাই দক্ষতা অর্জন করতে, মূল্যবান ধাতু শনাক্ত করতে এবং আরও মূল্যবান সংগ্রহ তৈরি করতে মুদ্রার একটি নির্দিষ্ট ধরন বা যুগে বা থিমে ফোকাস করুন।

বিরল মুদ্রায় বিনিয়োগ: বিনিয়োগ করার আগে বিরল মুদ্রার ঐতিহাসিক তাৎপর্য, বিরলতা, উৎস এবং অবস্থা বিবেচনা করুন।

সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ: মূল্যবান মুদ্রার সম্মুখীন হলে, বাজারের প্রবণতা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং একটি একটি নির্দিষ্ট ধরনের সংগ্রহের কৌশল এবং বাজেট থাকলে দ্রুত কাজ করুন।

কমে কিনুন, উচ্চ বিক্রি করুন পদ্ধতি: ক্রয় এবং বিক্রয়ের জন্য উপযুক্ত মুহূর্তগুলি সনাক্ত করতে গ্রেডিং, বিরলতা, চাহিদা এবং ঐতিহাসিক তাত্পর্যের জ্ঞান ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন কেনার সময় কমে কেনার কেননা সেটি আপনার নিয়ন্ত্রনে, বিক্রির সময়টি হয়তো আপনার নিরন্ত্রনে নাও থাকতে পারে কারন সেটা অনেকটা ই বাজার নির্ভর।

প্রত্যয়িত বা গ্রাডিং করা আইতটেম নিশ্চয়তা: কোন আইটেমের মান নিশ্চিত করতে এবং আপনার বিনিয়োগ রক্ষা করতে সুনাম সম্পন্ন গ্রেডিং পরিষেবা দ্বারা প্রত্যয়িত আইটেম বেছে নিতে পারেন।

বৈচিত্র্যকরণ কৌশল: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ছড়াতে বিভিন্ন যুগ, ধরন, গ্রেড, দেশ এবং ধাতু থেকে মুদ্রার একটি বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও একত্রিত করতে পারেন। কারন সবসময় একই ধরনের াআইটেমের বাজার যে ভালো থাকবে এমনটি নয়।

আন্ডারপারফর্মারদের সরিয়ে ফেলা: নিয়মিতভাবে আপনার সংগ্রহ পর্যালোচনা করুন এবং আপনার পোর্টফোলিওর সামগ্রিক ভারসাম্য এবং সম্ভাব্য মান উন্নত করতে নিম্নমানের বা নিম্নমানের কয়েন/নোট বাদ দিন। যা স্লো আইটেম সেগুলুকে কম রাখুন বা সরিয়ে ফেলুন।

দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ: দ্রুত লাভের প্রলোভন এড়িয়ে চলুন; মান সম্মত আইটেমের উপর ফোকাস করুন, পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা পরিচালনা করুন এবং রোগীর দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতির বজায় রাখুন। নতুন আইটেম বলে তাড়াতাড়ি কিনে অল্প দিনে বেশী লাভ করার মন্মানসিকতা অনেক সময় ই সুফল বয়ে আনে না।

নেটওয়ার্কিং: নিজের জ্ঞান প্রসারিত করতে, এবং আপনার সংগ্রহে মূল্যবান সংযোজন খুঁজে পেতে ভালো ডিলার, কয়েন শো, মেলা এবং নিলাম গুলুতে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করুন।

বাজার সম্পর্কে অবগত থাকা: বাজারের প্রবণতা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, সুদের হার, চাহিদার পরিবর্তন এবং গ্রেডিং এবং প্রমাণীকরণ সম্পর্কিত খবর সম্পর্কে আপডেট থাকুন।

প্রাইভেটলি মিন্টেড মেমোরেটিভ নিউমিসমেটিক্স এড়িয়ে চলুন (কয়েন/ব্যাংকনোট): প্রকৃত মূল্য ছাড়া নোট/কয়েনে বিনিয়োগ এড়াতে স্বীকৃত এবং সরকারী জারি করা আইটেমের সাথেই লেগে থাকুন। কারন আপনার একটি আইটেম জাল/ ফ্যান্টাসি/ভূয়া/নকল পাওয়া গেলে সেটা আপনার ক্রেডিবলিটি কে এফেক্ট করে এবং মনে করা হতে পারে যে আপনার সংগ্রহের অন্যান্য আইটেমেরও সমস্যা থাকতে পারে।  যা আপনার সমগ্র সংগ্রহের মান কমিয়ে দেয়।

প্রকাশনা এবং প্রচার সম্পর্কিত তথাকথিত সংগ্রহের আইটেম এড়িয়ে চলুন: ম্যাগাজিন বা সংবাদপত্রে প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকুন; তারা দাম কমিয়ে বা বাড়িয়ে বলতে পারে। এছড়া ব্যাক্তিগত ভাবে প্রকাশিত কালেক্টেবল আইটেম সহজে বাজারে খায় না। তাই বিনিয়োগ আরোও ঝুকি পূর্ণ হয়ে যায়। এছাড়া অনেক সময় কেবল বিজ্ঞাপনের জোড়ে অনেক আইটেম সাময়িক ভাবে বাজার দধরে ফেলে। এবং প্রাইজ বাবল তৈরি হয়। সেগুলু এড়িয়ে চলুন।  

সীমিত মিন্টেজের বিদেশী স্মারক (কয়েন/ব্যাংকনোট): এই মুদ্রাগুলি প্রায়শই অতিরিক্ত দাম হয় এবং এগুলুতে প্রকৃত মূল্যের অভাব হয়। তাই সরকারজারি লিগ্যাল আইটেমের সাথে লেগে থাকুন।

মূল্যবান ধাতু ছাড়া উচ্চ মিন্টেজ আধুনিক কয়েন এড়িয়ে চলুন: মূল্যবান ধাতু ছাড়া; সাধারন ব্যাবহারের জন্য উৎপাদিত আইটেমের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তাই সম্ভব হলে মূল্যবান ধাতু দিয়ে তৈরি এবং বিরল বলে বিবেচিত আইটেমের বিনিয়োগ করুন।

ডিজাইনার বা রঙিন নিউমিসমেটিক্স থেকে দূরে থাকুন (কয়েন/ব্যাংকনোট): এই আইটেমগুলি সরকারী উৎস থেকে আসে না বিধায় এগুলুর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কম এবং কেবল নান্দনিকত্বের জন্যই সংগ্রাহক বাজারে চলে আসে। তাই এগুলু বিক্রি করা কঠিন হতে পারে। খাঁটি, স্বীকৃত আইনি আইটেমের সাথেই থাকুন।

মূল্যবান ধাতুর স্পট মূল্য পরীক্ষা করুন: সর্বদা ক্রয় করার আগে মূল্যবান ধাতুর বর্তমান স্পট মূল্য যাচাই করুন। বেশী দামে কেনা লোকসান হতে পারে। বর্তমান স্পট মূল্যের কাছাকাছি একটি ন্যায্য মূল্যে গবেষণা করুন এবং কিনুন।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৩

The ethical aspect of selling replica and copy item

কপি বা রেপ্লিকা আইটেম ছড়ানোর যৌক্তিকতা এবং আদর্শ 


আইণের দৃষ্টিতে কোন বেয়াইনি জিনিস নিজের কাছে রাখার/বারামত হওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি যৌক্তিকতা বসানো যায়। একটি হচ্ছে সরবরাহ এর উদ্দেশ্যে, অন্যটি হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাবহার বা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে যখন হাতেনাতে ধরা হয় তখন -অন্যের মাল,ভুলে রেখেছি,এই প্রথম বার ইত্যাদি যুক্তি কম ই খাটে।


কোন জিনিস কখন বেয়াইনি হয়?

রাস্ট্রীয় সংজ্ঞা ধরলে যা রাস্ট্র দ্বারা নির্ধারিত আইটেম নির্ধারিত কারণে বেয়াইনি হয়ে থাকে। 


ফেইক বা রেপ্লিকা বিক্রি করা কি বেয়াইনি?

ক্রেতা এবং বিক্রেতার উভয়ের জ্ঞ্যান সত্বে লেনদেন হলে সেটা বেয়াইনি লেনদেন নয়। তবে কোন ফেইক আইটেম নিজের কাছে সরবরাহ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখাটা গভীর ঝামেলার বিষয়। কেননা এটা প্রমান করা দূরহ যে আপনি অসৎ উদ্দেশ্য তা রাখেননি। তাই বিক্রি বেয়াইনি না হলে নিজের কাছে রাখাটা যথেষ্ট শক্ত প্রমানের অভাবে বেয়াইনি প্রতিপন্ন হতে পারে। আর ক্রেতা কে না জানিয়ে ফেইক আইটেম বিক্রি করা অবশ্যই বেয়াইনি।


তাহলে ক্রেতাকে জানিয়ে ফেইক বা রেপ্লিকা বা কপি বিক্রি করা কি ভাবে দেখা যায়?

আমি এটাকে প্রথমেই Moral ground বা নিজস্ব আদর্শের দাঁড়িপাল্লায় মাপবো। অর্থাৎ যে কপি আইটেমটি বাজারে ছাড়ছি তার ভবিষ্যৎ ইম্প্যাক্ট কি হতে পারে? 

এটা অনেকটা বিষ বা ড্রাগ বিক্রি করার মতো। যে কিনছে সে হয়তো জেনেই কিনছে। কিন্তু যেহেতু আইটেমটির কোন রেগুলেটরি বডি নেই, তারপর সেই বিষ বা ড্রাগ কার কাছে,কি ফর্মে যাবে, সেটার ইম্প্যাক্ট কি হতে পারে, হয়তো আপনার এক ফ্রেড ই সেটাকে আসল বলে এক দিন কিনতে পারে, নতুন কেউ সেটাকে আসল ভেবে আকাশ কুশুম স্বপ্ন বাঁধতে পারে বা আসল আইটেমের বিক্রেতা কখনো হেনস্তার শিকার হতে পারে কি না তা ভাবেন না।

তাই, আমরা যারা সংগ্রহের Critic বা vigilante তারা বলি যে "ফেইক আইটেম সংগ্রহের ঘুন পোকা"। কারন তা কোন না কোন ভাবে ক্রমে ক্রমে মানুষের আস্থা নষ্ট করবেই,তা হোক আজ বা কাল। যা কেনাকাটা কে আরো বিরক্তিকর, ঝামেলাপূর্ণ  অস্বস্তিকর করে তুলবে কারন প্রতিনিয়ত মাথায় রাখতে হবে যে "আমার মাথায় তো যে কেউ কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারে"।


এখন আইনের আরেকটি  টার্ম আছে " Peraon in position". 

অর্থাৎ আপনি যদি কোন বড় পদে থেকে অপরাধ করেন, সেই একই অপরাধ যদি অন্য কেউ ছোট পদে থেকে করে, তাহলে আপনার শাস্তি বেশী হবে। কারন আপনার culpability বেশী। আপনার ইনফ্লুয়েন্স বেশী,ফলোয়ার বেশী, ইম্প্যাক্ট বেশী। একারনেই স্পিইডার ম্যান সিনেমার বলেছে যে "With great power comes great responsibility" অর্থাৎ যখন আপনার ক্ষমতা বেশি থাকে আপনার দায়িত্বও বেড়ে যায়। 


ডিসেম্বর ০১, ২০২৩

উল্ট জেনি [Inverted jenny]

আজকে, আমরা স্ট্যাম্পের জগতের গভীরে ডুব দিচ্ছি যা সর্বকালের সবচেয়ে লোভনীয় এবং মূল্যবান স্ট্যাম্পগুলির মধ্যে একটির পিছনের গল্প নিয়ে।

উল্টো জেনি/ ইনভার্টেড জেনি [Inverted Jenny]৷ 

এই স্ট্যাম্পটি, তার বিশেষ উলটো-প্লেনের নকশার জন্য পরিচিত। শুধুমাত্র সংগ্রাহকদের মধ্যেই নয়, সিনেমা এবং টিভি শোতেও খ্যাতি অর্জন করেছে। সুতরাং, আসুন জেনে নেওয়া যাক কী এই স্ট্যাম্পটিকে এত অসাধারণ করে তোলে এবং কেন এটি ফিলাটেলিস্টদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পত্তি।

স্ট্যাম্পের ত্রুটির গল্পের আগে বলতে হবে এই স্ট্যাম্পের ইতিহাস নিয়ে। এটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত-এয়ারমেইলের জন্মের সাথে সম্পর্কিত। ১৯শতকের গোড়ার দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশ এয়ারমেইলের ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিলো। ১৯১৮ সাল নাগাদ, এয়ারমেইল সেবা গুলু শুরু হতে থাকে,এবং একটি আলাদা স্ট্যাম্পের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।

মার্কিন পোস্ট অফিস বিভাগ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এয়ারমেইলের এই সূচনা হয়। কারন তখন আমেরিকান বিমান চালকরা এটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতির করার মিডিয়াম হিসেবেও ব্যাবহার করার সুযোগ পায়। কার্টিস এয়ারোপ্লেন এবং মোটর কোম্পানিকে মেইল পরিবহনের জন্য কার্টিস JN-4 মডেলের প্লেন ব্যাবহার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই প্লেন গুলির সামনের সিটগুলি মডিফাইড করে চিঠির বস্তা নেয়ার হতো। প্লেন গুলিকে, যাদের মজা করে "জেনিস" বলা হতো।

জেনি প্লেনের ছবি বসানোর ফলে স্ট্যাম্প নিজেই, এয়ারমেইলের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এয়ার মেইলে ব্যাবহার হওয়া অন্যান্য প্লেনের বদলে স্ট্যাম্পটি কার্টিস JN-4 মডেলের ছবি ই ব্যাবহার করে যায়।

তখন এই স্ট্যাম্পের মূল্য ধরা হয় ২৪ সেন্ট। যা তখননকার প্রথাগত তিন সেন্টের নিয়মিত ডাক মাশুলের থেকে অনেক বেশী। তাই এই স্ট্যাম্পটির মূল্যমান কমানোর আগে মাত্র দুই মাস প্রচলন ছিল। যাইহোক, মুদ্রণ প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি ত্রুটির কারণে উল্টো জেনি অস্তিত্বে আসে। কেননা তকখন দুটি আলাদা কালার প্রিন্ট করতে দুটি মেশিনে আলাদা আলাদা ভাবে কাগজের শিট গুলুকে ঢুকাতে হতো। অর্থাৎ এক রঙের নকশা প্রিন্ট হওয়ার পর সেটি শুকানোর পর আবার অন্য রনঙের নকশাটিকে প্রিন্ট করার জন্য মেশিনে ঢুকানো হতো। তাই কিছু শীট উল্টো ঢুকানোর পর উড়োজাহাজের নকশা ভুলবশত লাল ফ্রেমের মধ্যে উল্টো করে প্রিন্ট করা হয়েছিল।

সংগ্রাহক বাজারে ইনভার্টেড জেনির প্রবেশ ঘটে যখন একজন স্ট্যাম্প সংগ্রাহক, উইলিয়াম টি. রবি, ওয়াশিংটন ডিসি পোস্ট অফিসে স্ট্যাম্প কিনতে গিয়ে হটাত করে পাতা উল্টাতে উল্টাতে খেয়াল করলেন যে এক্টি পুরো শিটে ডিজাইন উল্ট প্রিন্ট হয়েছে। তিনি সুযোগটি কাজে লাগাতে সাথেসাথেই ১০০ টি ইনভার্ট জেনির শিট কিনে নিয়েছিলেন এবং পরে সেগুলিকে কয়েক হাজার গুন লাভে বিক্রি করে দেন কারন নিজের কাচছে রাখলে সেটা রাষ্ট্রীয় বায়জাপ্তকরনের কারনে হাতে হতে পারতো। এর মধ্যে তিনি পেন্সিল দিয়ে প্রত্যেক্টি স্ট্যাম্পের পেছনে তাদের আলাদা পজিশন অনুসারে নাম্বারিং করেন।

ইনভার্টেড জেনির বিরলতার প্রধান কারন  যে শুধুমাত্র ১০০ টি স্ট্যাম্প এভাবে মুদ্রিত হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগ্রাহক থেকে এই স্ট্যাম্পগুলি পুনরুদ্ধার করার প্রচেষ্টা, হারিয়ে বা চুরি যাওয়া ইত্যাদির ঘটনা ঘটেছে।এমনকি একটি নিখোঁজ ইনভার্টেড জেনি সম্পর্কিত একটি চলমান এফবিআই মামলাও এই কাহিনীতে ঘি ঢেলেছে।

ইনভার্টেড জেনির প্রতি মুগ্ধতা শুধু এর আর্থিক মূল্যের কারনে নয় বরং এর পেছনে গল্পের কারনেও। ডাক ব্যাবস্থা এবং যোগাযোগের বিবর্তনের সাথে স্ট্যাম্পের মিলন এবং এর বিভিন্ন মালিকদের এই স্ট্যাম্প পাওয়ার গল্প এই স্ট্যাম্প কে সংগ্রহক সমাজের কোহিনুর বানিয়েছে। আসল একটি ইনভার্টেড জেনির মালিকানা হয়তো বেশিরভাগ সংগগ্রাহকের নাগালের বাইরে থাকতে পারে। কিন্তু এই গল্প কেনো অজানা থাকবে?