সংগ্রাহকের গুনগতমান,দেশি বিদেশী সংগ্রাহকদের মধ্যে পার্থক্যঃ
মানের কথা বলতে
গেলে পার্থক্যের কথা বলতে হয়। “সংগ্রহ” যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই একটি সময় এবং খরচ সাপেক্ষ
শখ তাই ছাপোষা ভাবে বলতে গেলে এটা বলে ভূল হবে না যে, যে দেশের মানুষের অর্থ এবং সময়
তুলনামূলক বেশী সে দেশে শৌখিনতা করা এবং “সংগ্রহ” নামক শখ টা কে প্রশ্রয় দেয়া তুলনামূলক
সহজ তাই তা ম্যাচিয়ুর হয়েছে অনেক আগে থাকে। কারন সেখানের জীবন যাত্রা সেই রকম শখে সময়
এবং অর্থ ঢালার মতো ফ্লেক্সিবল।আর তাছাড়া যে দেশে এখনো বেকারত্বের হার এতো বেশী,দারিদ্রের
কষাঘাতে মানুষ পিষ্ট হয় প্রতিদিন,দ্রব্য মূল্যের কারনে ভাল মন্দ খেতে গিয়ে পকেট খালি
হয়ে যায়;সেখানে শখ এবং শৌখিনতা গ্রো করা কঠিন। তাই সেখানে ব্যাবসায়িক চিন্তা ভাবনা
আগে আসবে যা আপনি নিশ্চই দেখতে পাচ্ছেন।
তাই অনেক বহিঃ
বিশ্বের দেশেই এই রকম অনেক শখ তুলনামূলক অনেক আগে থেকেই ডেভলাপ করেছে এবং ফলে সেখানের
সংগ্রাহক সমাজও বাংলাদেশের তুলনায় তুলনামূলক ম্যাচিয়ুর বাঁ পরিপক্ক।
ম্যাচিয়ুর হওয়ার
মানে, তাঁরা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন কায়দা কানুন,আচার,ব্যাবহার,গেট টুগেদার,নিয়ম তন্ত্র
,সোসাইটি,সংঘ,গাইড লাইন, ক্যটালগ,মাসিকি,ম্যাগাজিন,পলিসি,ইত্যাদি ডেভলাপ করার সময় এবং
সুযোগ পেয়েছে,যেদিক থেকে বাংলাদেশ এখনো শৈশবে।
ফলে কি হয়েছে?
ফলে সেখানে
যে সকল সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে তাঁদের সেই সকল পরিবেশে এক্সপোজার বেশী হয়েছে এবং তুলনামূক
অধিকত গুন গত মান সম্পন্ন সংগ্রাহক তৈরি হয়েছে বাঁ হচ্ছে বাঁ সুযোগ পাচ্ছে।
মান কিভাবে
আলাদা করা যায়?
সাহায্য করার
মনোভাব (একে অন্যের লেজ ধরে টানে না)বরং কাস্টমার ফরোয়ার্ড করে।
কোয়ালিটি প্রডাক্ট
এবং সার্ভিসের জন্য অর্থ খরচ করার ফ্লেক্সিবালিটি থাকে,তাই করে।
অধিকাংশ সময়
কর/সরকারি শুল্ক দিয়ে মালামাল ক্রয় করে,কারন সেটা বৈধ।
আয়ের উৎস কর
নিয়মিত পরিশোধ করে,কারন সেটা বাধ্যতামূলক।
বিক্রয় কর বাঁ
লাইসেন্সের যেহেতু ব্যাবস্থা থাকে তাই লাইসেন্স ভুক্ত ব্যাবসা হওয়ার/করার সম্ভাবনা
বেশী থাকে।
প্রফেশনার বডির
অস্ত্বিত্ব এবং সাথে যুক্ত থাকার কারনে প্রফেশনার এটিচিয়ুড,ইটিকেট,কায়দা কানুন,আইন
শৃঙ্খলা ইত্যাদিতে নলেজ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।
সময় এবং মনমানসিকতার
ফ্লেক্সিবলিটি থাকার কারনে তাঁরা এই নিয়ে সময় কাটানো,অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং পড়াশুনার
সময় এবং সুযোগ বেশী পায়।
সংগ্রহের পন্য
কোথায় কিভাবে ভালো ভাবে সংগ্রহের রাখতে হবে তা জানতে এবং এই ক্ষাতের পেছনে তুলনা মূলক
বেশী অর্থ ব্যায় করে।
এখানে গিফট
দিয়ে মিত্রতা করা লাগে না (উপহার দিয়ে নির্বাচনে ভোট পাওয়া লাগে না)। ভালো মানুষের
এমনিই সাপোরটার থাকে।
নেটওয়ার্কিং;
বিভিন্ন মেলা,এক্সিবশন যেহেতু বেশী হয় তাই সেগুলুর মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং বাঁ কেন্দ্রীয়
আলোচনা ব্যাবস্থা শক্ত থাকে।
অর্থের ফ্লেক্সিবলিটি
যেহেতু বেশী থাকে তাই কেবল সংখ্যার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে মানের দিকে গুরুত্ব দেয়ার
সুযোগ থাকে।
বিশ্বায়ন এবং
প্রাযুক্তিক উৎকর্ষের কারনে আন্তর্জাতিক এক্সপোজার বাড়ানোর সুযোগ বেশী থাকে।
তো এখন কি করনীয়ঃ
এই সকল কারনে
দেখা যায় অনেক সময় ই একজন বিদেশী সংগ্রাহকের মতো একই পরিমানের সংগ্রহ একজন দেশি সংগ্রাহক
করতে তুলনা মূলক কম অর্থ ব্যায় করে। এর মানে এই না যে তাঁদের প্রচেষ্টা কম বাঁ বেশী,
আমি বলবো সময় এবং সামর্থ্যের পার্থক্যের কারনে দেশী সংগ্রাহকগন একটু পিছিয়েই থাকে।
আর দেশী মাধ্যম গুলুতে অতিরিক্ত ব্যেবসায়ী স্যাচুরেশনের কারনে সবার ই একটা লেজ টানাটানির
অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। এর বড় একটা কারন,যে তাঁদের শেখানোর কেউ নেই যে কিভাবে এই লাইনে
নেভিগেট করা উচিৎ। আর শেখানোর থাকলেও তাঁদের সেটা শেখার আগ্রহই নেই। তাই সকলকে শেখা
এবং শেখানোর জন্য মন-মানসিকতা উন্মুক্ত রাখার আমন্ত্রন জানাচ্ছি। তা না হলে শিশু সমাজ
শিশু ই থাকবে বহুদিন।
একমত হলে বাঁ
না হলে কমেন্ট করতে পারেন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন