অক্টোবর ২১, ২০২২

ব্যাংক নোট পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি এবং গ্যাজেট এর ব্যবহার [uses of technology on observing a banknote ]

একজন সংগ্রাহক হিসেবে আইটেম পর্যবেক্ষনে প্রযুক্তির ব্যাবহার।
নোটাফিলিতে প্রযুক্তির ব্যাবহার অধ্যায় কে তিন টি সেগমেন্টে ভাগ করেছিলাম (সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং পর্যবেক্ষন)। এখানে বলবো "পর্যবেক্ষনে প্রযুক্তির/গেজেটের ব্যাবহার"। এখানে সব বলা সম্ভব না তাই কিছু লিখলাম।

আমার পেশাদারী জীবনে আমি চাইলেই স্প্রেক্ট্রোমিটার বা ইলেক্ট্রনিক স্প্রেক্ট্রস্কোপের মতো হাই এন্ড ডিভাইস ব্যাবহার করতে পারলেও,বাসায় ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে,স্থান ভেদে আমি আলাদা আলাদা ঘরোয়া প্রযুক্তি ব্যাবহার করি।যার কিছু ধারনা দেবো। চাইলে আপনারাও বিভিন্ন গেজেট ব্যাবহার করে নতুন জ্ঞ্যানের জানালা খুলতে পারেন।

মোবাইল মাইক্রস্কোপঃকোন আইটেম (বিশেষতঃস্ট্যাম্প,নোট,কয়েন ইত্যাদির) সুক্ষ ভাবে দেখতে আমি নিজস্ব ব্যাবহারের জন্য কয়েকটি ডিভাইস ব্যাবহার করলেও মোবাইলের মাইক্রস্কোপ যা সব সময়ই সাথে থাকে সেটি হচ্ছে "Oppo find x3 pro" যা দিয়ে আমি কাগজে কালির উচ্চতাকে পর্যন্ত ফুটিয়ে তুলতে পারি। এছাড়া "Clip on macro lense" ব্যাবহার করি যখন কাছে থেকে ছবি ফোকাসে রাখতে হবে। আর "jewellers loupe" ব্যাবহার করি যখন আইটেম পরিস্কার,ট্রিটমেন্ট,খোদাই ইত্যাদি করি,সেখানে পরিমাপের প্রয়োজন হয় আর আমার লুপে LED light এবং Scale দু'টি ই আছে।

ইনফ্রারেডঃ কোন আধুনিক আইটেমের (নোট,পেইন্টিং,স্ট্যাম্প,চেক, ইত্যাদির)নিরাপত্তা ফিচার পর্যবেক্ষন এবং কোন টেম্পারমেন্ট হয়েছে কি না (আগের কলমের দাগ,দাগ উঠানো,ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি) র জন্য এবং ছবি তুলতে আমি
Phasm full spectrum light ব্যবহার করি।এটা একইসাথে আমাকে ইউ ভি, ইউ আর এবং সাধারন আলোতে ছবি তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও আমি 850nm এবং 940nm দুটি তরংগ দৈর্ঘের ই আলাদা আলাদা ইনফ্রারেড ফ্ল্যাশলাইট ব্যাবহার করি বিভিন্ন আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে।

ক্যামেরাঃ প্রথমত সাধারন সকল ছবি নিজের মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তুলি,তাছাড়া প্যানাসনিক লুমিন্স পয়েন্ট এন্ড শুট মডিফাইড ফুল স্প্রেক্ট্রাম ক্যামেরা মাঝে মাঝে ব্যাবহার করি।

ইনফ্রারেড হিট সেন্সরঃ কোন আইটেমের (বিশেষ করে কয়েনের এবং মেটাল) উপাদান,গঠন গত ত্রুটির ইত্যাদি বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষনের জন্য আমি স্বতন্ত্র ডিভাইস হিসেবে
"HTi HT 301 Mobile Phone Thermal Imager" ব্যাবহার করি। যা দিয়ে সহজেই কোনটা রুপা,কোন টা এলুমিনিয়াম, তামা, ইত্যাদি ধারনা করা যায়। কেননা প্রতিটি ধাতুর তাপ পরিবাহীতার গতি আলাদা আলাদা। তাছাড়া কোন আইটেমের (এন্টিক,এনক্লোসড্) ফাটল বা ক্র‍্যাক থাকলে সেটাকে X-rey করানোর আগে আমি চাইলেও সেটার পুরুত্ব,সম্ভাব্য ফাটল ইত্যাদি গবেষণা বাসায় ই সম্পন্ন করতে পারি।

ময়েশ্চার মিটার (সুক্ষতা ০.৫)- যা দিয়ে কোন নোট এর আদর্শ আদ্রতা,নিয়মিত আদ্রতা,ম্যাটেরিয়ালের স্বাস্থ্য, ক্যামিকেল এক্সপোজার লেভেল ইত্যাদি পরিক্ষা করি। এমনকি কোন এলবামে রেখেছি তার আদ্রতাও পরিক্ষা করি।

গার্ডিয়ান পলিমার ডিটেক্টর- কি ধরনের পলিমার সাবস্ট্রেট এবং তাতে মুদ্রনের প্রভাব নীরিক্ষা করার জন্য এটা ব্যাবহার করি।

বাই স্প্রেক্ট্রাম ইউ ভি ফ্ল্যাশ লাইট (365 nm, 395 nm) দুটি আলদা ধরনের UV আলোতে আলাদা আলদা রকম আইটেমের নিরাপত্তা ফিচার গুলু ফুটে উঠে। তাই আমি আলাদা আলাদা লাইট ব্যাবহার করি।
ডুয়েল স্প্রেক্ট্রাম আই আর ফ্ল্যাশ লাইট-এটা পারত এক ই কাজ করে তবে আমি অন্যান্য কাজের জন্য দুটি আলাদা স্প্রেক্ট্রাম রেখেছি যা কোন নোটের IR profile বুঝতে কাজে লাগাই।

পি এইচ মিটার- কোন আইটেমের কি ধরনের ক্যামিকেল এক্সপোজার হয়েছে তার ধারনা নেয়ার জন্য এই প্রসেস ব্যাবহার করি।যদিও খুব কম ই এটা করা লাগে,তবে ডিগ্রেডেশন,রাস্ট,ড্যাম্প,স্পট ইত্যাদির সূত্র বুঝার জন্য এই প্রসেস টি আমায় অনেক সাহায্য করে।

ম্যাগনেটিক ইন্ক ডিটেক্টর- কোন নোটে ম্যাগ্নেটিক ইনক প্রফাইল আছে কি না,থাকলে আনুমানিক কোথায় সেটা জানার জন্য।

ডিজিটাল ক্যালিপার্স (সুক্ষতা ০.০০১ মি মি)- যা কোন আইটেমের পুরুত্ব মাপতে কাজে লাগাই।

লাইট বোর্ড /whatermark লাম্প- জলছাপ দেখতে এবং তার ছবি তুলতে অনেক সহায়তা করে।

ডিভাইস ব্যতীত অন্যান্য যেসকল প্রযুক্তি গুলো আমি ব্যবহার করি -আয়োডিন পেন,লিটমাস পেপার (আইটেমে কেমিক্যাল এর উপস্থিতি এবং অম্লত্ব এবং ক্ষরত্ব তো নির্ণয়ের জন্য),অ্যাসিটোন কিট, মেলামাইন কিট ইত্যাদি আরো নানান ডিভাইস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন