এপ্রিল ০৭, ২০২৩

[Everything to know about grading,What,How,Why]গ্রেডিং কি কেন কিভাবে।

সংগ্রহ জগতে “গ্রেডিং” শব্দটি উতপ্রতো ভাবে জড়িত কারন এটি কেবল আইটেমটির অবস্থাকেই দর্শায় না বরং আইটেম টি কি আসল কি না তা ও সর্বজন স্বীকৃত ভাবে প্রত্যয়ন করে। ফলে তার মান তথা দাম নির্ণয়নে সুবিধা হয়। ধরুন আপনি কোন আইটেম কিনবেন, আপনার ভাষ্যমতে সেটি অবস্থা আপনি আপনার বিজ্ঞাপনে ১০ এ আপনি ৯ বললেন। কিন্তু আইটেম কেনার পর ক্রেতা অসন্তুষ্ট কারন তার চোখে এই আইটেমের অবস্থা মান ১০ এ ৭ পাচ্ছে। এখন অবস্থা মান বাঁ সৌন্দর্য যেহেতু আপেক্ষিক তাই এখানে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই ধরণের বিভ্রান্তি গুলুকে সমাধানের উদ্দেশ্যেই গ্রেডিং সার্ভিস গুলুর আবির্ভাব। কারন একটি সুনামধন্য গ্রেডিং কোম্পানি সেই পন্যের অবস্থা নিরপেক্ষ ভাবে দেখে একটি নাম্বার দেয় এবং গ্যারেন্টিও দেয় যে পণ্য টি আসল যার বিস্তারিত পরবর্তীতে অনলাইনে যাচাই ও করা যায়।

এখানে আমরা গ্রেডিং কি,একটি আইটেমের কি কি দেখে গ্রেডিং করা হয়,মূল্য নির্ণয়ের চতুরমূখি সূত্র, তার আসলত্ব নির্ণয়, কি ধরণের আইটেম গ্রেডিং করানো যায়,কেন গ্রেডিং করা হয়, অবস্থাশুমারি থেকে দুর্লভ্যতা নির্ণয়, ইত্যাদি বুঝার চেষ্টা করবো।

 

গ্রেডিং কিঃ সাধারন ভাষায়; আপনি কোন আইটেম কেনার/বিক্রির সময় আইটেমের অবস্থা বিচার করাকে গ্রেডিং বলা হয়। তবে সংগ্রহ জগতে- কোন কোম্পানি(তৃতীয় পক্ষ)যারা কেবল এই কাজ ই করে তাদের নিরপেক্ষ বিচার কে “গ্রেডিং” বলা হয়। বিভিন্ন আইটেমের জন্য আলাদা আলাদা গ্রেডিং কোম্পানি আছে। এটা এক দিকে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে ই মানসিক শান্তি দেয় যে নিরপেক্ষ এবং প্রফেশনাল কেউ এই আইটেম টি একটি অবস্থা মান নির্ণয় করে দিয়েছে,যার কোন দিক থেকেই স্বার্থ নেই।

 

মূল্য নির্ণয়ের চতুর্মুখি সূত্রঃ কোন সংগ্রাহক আইটেমের দাম নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে সাধারন সংগ্রাহকদের জন্য ; কোন কোম্পানির স্বরনাপন্ন না হয়ে নিজে থেকে সহজে দাম বের করার একটি সাধারন প্রসেস হচ্ছে এটি।

অনেকেই জেনেশুনে বাঁ অবচেতন মনে নিজের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এই সূত্র ব্যাবহার করে আসছেন। সেটি হচ্ছে আইটেমটির অবস্থা, আইটেমটির দুর্লভ্যতা,বাজারে আইটেমটির চাহিদা এবং সংস্লিষ্ট আইটেমটির কোন ঐতিহাসিক গুরুত্ব; এই চারটি ফ্যাক্টরের গুনফল। এর যে কোন একটির মান শূন্য (০) হলে মোট ফলাফল শূন্যের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা বেশি। যদিও এক এক জনের কাছে এক একটি ফ্যাক্টরের প্রাধান্য বেশি।

 

অবস্থাশুমারীঃ কোন আইটেম কোন গ্রেডে কতো পিস একটি বাজারে আছে তার লগ কে অবস্থাশুমারী [Condition Census] বলা হয়। অভিজ্ঞ সংগ্রাহক এবং ডিলারদের জন্য মূল্য নির্ণয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স।

 

কি ধরণের আইটেম গ্রেডিং করাবো/ করানো যায়ঃ যদি মনে করেন আপনার আইটেমের উল্লেখযোগ্য কোন মূল্য আছে,আপনার আইটেম টি অনন্য এবং আপনি তা সর্বজনবিদীত ভাবে প্রমান করতে চান তাহলে গ্রেডিং করাতে পারেন। আজকাল অনেক ধরণের আইটেমের জন্য গ্রেডিং [Third Party Grading ] সার্ভিস আছে। যেমন কয়েন,নোট,স্ট্যাম্প, কমিক বই, গেমিং কার্ড ইত্যাদি।

 

গ্রেডিং প্রসেসঃ সেটা এক এক ধরণের আইটেম এবং কোম্পানির উপর নির্ভর করে আলাদা আলাদা। তবে সাধারন ভাবে বললে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আইটেমের সার্বিক অবস্থা, আইটেম টি আসল কি না, আইটেম টির বিস্তারিত, আইটেম টি দুর্লভ্যতা ইত্যাদি দেখা হয়। তারপর কয়েকজন স্বতন্ত্র ভাবে তাদের বিবেচনা থাকে আইটেম টি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নাম্বার দেয় যা পরবর্তীতে গড় হিসাবের মাধ্যমে একটি অন্তিম নাম্বারের রুপ নেয়।

 

সৌন্দর্য যদিও আপেক্ষিক। তবে গ্রেডিং এর ক্ষেত্রে যেহেতু অবস্থা ভেদে মান আলাদা হয় তাই কিছু কিছু বিষয় বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা হয়।

১) কাগজের গুনগত মান [Paper quality]: নোটের আসল কাগজ যেমন শক্ত,মজবুত, খসখসে, ঝকঝকে, অমলিন থাকার করা সেরকম আছে কি না। না হলে তার থেকে কত টুকু বিচ্যুতি হয়েছে।

২) কেন্দ্রীকরন [Centering]: সমগ্র ডিজাইন টি নোটের মধ্য ভাগে সুসম ভাবে অবস্থিত হতে হবে। অন্যথায় সেটির গ্রেড খারাপ হবে।

৩) পরিসীমা [Margins]: চারিদিকে সমান পরিসীমা থাকতে হবে। যা প্রশস্ত,আনুপাতিক এবং ত্রুটিবিহীন হতে হবে।

৪) মুদ্রণের গুনগত মান [Printing quality]: মুদ্রন হতে হবে স্পষ্ট,পরিস্কার,ঝকঝকে, এবং ত্রুটিবিহীন।

৫) রং [Color]: রং হতে হবে উজ্বল এবং ঝকঝকে। কোন প্রকার বিবর্ণতা, লেপ্টে যাওয়া, ঝলসে যাওয়া ভালো নাম্বার পায় না।

৬) সিরিয়াল নাম্বার [Serial number]: সিরিয়াল নামার হবে স্পষ্ট,পঠনযোগ্য,যথাযথ যায়গায় বসানো এবং লেপ্টানো না।

৭) সার্বিক রূপ [Overall appearance]: নোট টি দেখে সারবক ভাবে দৃষ্টিনন্দন হবে এবং কোন বিভ্রান্তিকর ত্রুটি বিহীন।

৮) প্রান্তভাগ [Corner]: নোটের প্রতিটি কোন থাকবে ৯০ ডিগ্রি কোনে এবং তীক্ষ্ণ (ভোতা নয়)। ভোতা প্রান্ত ব্যাবহারিত নোটের একটি বৈশিষ্ট।

৯) খোদাইয়ের কাজ [Embossing]: নোটের যেসকল ফিচার উত্থিত থাকার কথা যেমন অন্ধ বিন্দু,ইন্টাগ্লিও প্রিন্টিং এর জায়গা গুলু,বিভিন্ন সিল এবং সিরিয়াল নাম্বারের জায়গাগুলু সেগুলু স্পষ্ট এবং তীক্ষ্ণ ভাবে যেন উত্থিত থাকে।এটি বিভিন্ন প্রিন্টিং প্লেটের মানের উপর নির্ভর করে।

১০) ভাঁজ করা [Folding]: ভাঁজ বিভিন্ন ধরণের হয়। এমন কি নতুন বান্ডেল রাখার খামখেয়ালীর উপর নির্ভর করে UNC নোটেও ডেউ খেলানো ভাঁজ পড়তে পারে। যাকে অনেকে কাউন্টিং ফোল্ড বলে।যা একদম নতুন বান্ডেলের নোট মেশিন দিয়ে বার বার গননার সময় তৈরি হতে পারে।

১১) নাড়াচাড়ার আলামত [Handling]: এছাড়াও একদম নতুন নোটও যদি খালি হাতে ধরা হয় তাহলে হাত থেকে তেল,ময়লা এবং বাতাস থেকে দূষণ নোটের গায়ে লেগে যেতেই পারে।

১২) ইস্ত্রি করা বাঁ চাপ দিয়ে সমান করা [Pressing]: কোন নোট কে ইস্ত্রি করা হয়েছে কি না তার আলামত যদি পাওয়া যায় তাহলে তা এমনিতেই সেই নোটের গ্রেডের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৩) সারাই করা [Restoration]: কোন নোটের সারাইয়ের কাজ নোটের গ্রেড কে ভিষন ভাবে আহত করে, এমন সেটা মাত্রাতিরিক্ত হলে সেই নোট কে আসল বলে গন্য ই করা হয় না অনেকসময়।

১৪) দাগ [Stain]: সেটা খামখেয়ালি ভাবে নাড়াচাড়া হোক বাঁ রাখার যায়গার দুর্বলতা হোক, নোটে কন ধরনের দাগ যা নোট প্রথম বের হওয়ার সময় ছিলো না, এমন তৈরি হলে তা অটমেটিক ভাবে সেই নোটের গ্রেড কমিয়ে দেয়।

১৫) ছেঁড়া [Tears]: কোন ছেঁড়া বাঁ কাটা থাকলে সেটা কতো টা এবং কি ধরণের তা নোটের গ্রেডের উপর বিভিন্ন লেভেলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১৬) জলছাপ [Watermark]:জলছাপ ভালো ভাবে বুঝা যায় কি না, যেখানে যেভাবে থাকার কথা সেখানে সেভাবে আছে কি না এসব কোয়ালিটি কন্ট্রোলের ব্যাপার,যা একটি UNC নোট কেও ভিবিন্ন গ্রেডে স্থান দেয় অবস্থান এবং স্পস্টতা ভেদে।

১৭) লেখালেখি [Annotation]: সেটা হোক কোন কলমের ফালতু লেখা বাঁ কোন বিখ্যাত ব্যাক্তির স্বাক্ষর, যদি সেটির কোন খুব ভালো এবং নির্ভরযোগ্য প্রমান এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব না থাকে তাহলে সেই নোটের কন্ডিশন ভালো হলেও তার আকর্ষণ কমে যাবে ফলে গ্রেডও কম হবে।

১৮) পরিষ্কার করা [Washing]: নোটের কাগজ শক্ত করার জন্য কি মাড় দেয়া হয়েছে? কোন দাগ উঠানোর জন্য কি ব্লিচ বাঁ এসিড ব্যাবহার করা হয়েছে? কোথাও ই রাবার দিয়ে ঘষাঘষি করা হয়েছে? ইত্যাদি ফ্যাক্টর নোট ধৌত করার আলামত হিসেবে ধরা হয়। তখন গ্রেডিং এ নাম্বার কম পাওয়া যায়।

নিচে কিছু গ্রেডিং কোম্পানির নাম উদাহরন হিসেবে দেয়া হলোঃ

 

1)   Professional Coin Grading Service (PCGS)

2)   Numismatic Guaranty Corporation (NGC)

3)   Sports Card Guaranty (SGC)

4)   Beckett Grading Services (BGS)

5)   Certified Guaranty Company (CGC)

6)   Certified Sports Guaranty (CSG)

7)   Comics Guaranty (CG)

8)   World Banknote Grading (WBG)

9)   Paper Money Guaranty (PMG)

10) Professional Sports Authenticator (PSA)

 

বিভিন্ন কোম্পানির গ্রেডিং এর মানদন্ড আলাদা আলাদা। তার কিছু নমুনা নিচে দেয়া হলোঃ

1)    International Bank Note Society (IBNS): তারা তাদের প্রকাশনায় নোটের কন্ডিশন কে ৯ টি মানে ভাগ করেছে। (Uncirculated, About Uncirculated, extremely Fine, Very Fine, Fine, Very god, Good, Fair, Poor)

2)    PSA/DNA Autograph Grading standards: নান্দনিকত্ব এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে তারা স্বাক্ষরের অবস্থাকে ১০ টি মানে ভাগ করেছে। (GEM-MT10, MINI 9, NM-MT 8, NM7, EX-MT 6, EX5, VG-EX 4, VG 3, GOOD2, PR-FR 1, )

3)    Sheldon Coin Grading Scale  for Coin: যেখানে অব্যাবহ্রিত কয়েন কে Perfect Uncirculated, Superb Gem Uncirculated, Gem Uncirculated, Choice Uncirculated, Select/Choice Uncirculated, Uncirculated (MS60-MS70 পর্যন্ত) ১০ টি গ্রেডে ভাগ করা হয়। এবং ব্যাবহ্রিত কয়েন কে Choice About Uncirculated, About Uncirculated, Choice Extremely Fine, Extra Fine, Choice Very Fine, Very Fine, Choice Fine, Fine, Choice Very Good, Very Good, Choice Good, Good, About Good, Fair, Poor এই সকল শ্রেনীতে ভাগ করা হয়। 

4)    Sheldon Coin Grading Scale  for Banknotes:১৯৪০ এর শেষ ফিকে ডঃ উইলিয়াল শেল্ডন [William Sheldon] গ্রেডিং এর একটি মানদন্ড প্রস্তাব করেন যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভাবে জনপ্রিয়তা এবং স্বীকৃতি পায়। যেখানে ১ থেকে ৭০ পর্যন্ত নাম্বার দেয়া হয়। যেখানে সবচেয়ে ভালো অবস্থার নোট কে ৭০ এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থার নোট কে ১ ধরে নাম্বার দেয়া হয়।

5)    Adjectival Grade: শেল্ডন গ্রেডিং স্কেল প্রবর্তন হওয়ার আগে Gem Uncirculated, Uncirculated, About Uncirculated, Extremely Fine, Very Fine, Fine, Very good, Good এই কয়েকটি বিশেষন দিয়েই কেবল একটি নোটের অবস্থা বুঝানো হতো। যা সরল হলেও সূক্ষ ছিলো না।

6)    Traditional Coin Grading System: এটি একটি সরলীকৃত রূপ যেখানে Proof, FDC, Brilliant Uncirculated, Uncirculated, Extremely Fine, Very fine, Fine এই কয়েকটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়।

সংগ্রাহক হিসেবে আইটেমের “চতুর্মুখি মূল্য নির্ধারণ” একটি অপরিহার্য অনুশীলন। এটি কেবল আপনাকে একজন ভালো সংগ্রাহক হতেই সাহায্য করবে না বরং সংগ্রহের ব্যাপারে বিভিন্ন গুরুত্ব সিদ্ধান্ত নিতেও আপনাকে পথ প্রদর্শন করবে। নোটের কোন অস্বাভাবিক ত্রুটি যেমনঃ পিন হোল, গজাল ছিদ্র,জং, পেন্সিলের দাগ, আঠা, টোনিং ইত্যাদি হয়তো নোটের গ্রেড কে আকাশ পাতাল উঠানামা করাবে না তবে, পরিচ্ছন্ন লেনদেনের স্বার্থে সেগুলুকে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা এবং যথাযথ মূল্য চাওয়াটা প্রফেশনাল বিক্রেতার লক্ষন।

 

কোন গ্রেডিং করা আইটেমের থেকে কি কি তথ্য জানা যায়?

যদিও সেটা আইটেম এবং কোম্পানি অনুযায়ী আলাদা আলাদা। কিছু কোম্পানি তাদের নাম, আইটেমের ক্যাটালগ নাম্বার,আইটেমের উৎপাদন সাল, আইটেমের সিরিয়াল নাম্বার ইত্যাদি দেয়। আবার কিছু কিছু কোম্পানি নোটের ডিনমিনেশন, কোন জলছাপ ব্যাবহার হয়েছে, সিরিয়াল নাম্বারের কোন বিশেষত্ব থাকলে, দেশের নাম, কন্ডিশন গ্রেডিং স্কোর, তাদের সিস্টেমে আইটেমের নিবন্ধন নাম্বার ইত্যাদি প্রকাশ করে।

কিছু কিছু কোম্পানি আইটেমের ডিজাইনারের নাম, আইটেমের কোন স্বাক্ষর থাকলে স্বাক্ষরকারির নাম এবং স্বীকৃতি, আইটেম তৈরি হওয়ার ফ্যাক্টরির নাম ,কোন অন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ্য এবং থিমেটিক তথ্যও প্রকাশ করে।

আবার কোন কোন কোম্পানি এটি আসল হওয়ার সনদ পৃথক ভাবে প্রকাশ করে।

 

গ্রেডিং এর কিছু নেতিবাচক দিকঃ অনেক সস্তা আইটেম গ্রেডিং করিয়ে বিশেষ লাভ পাওয়া যায় না। তাছাড়া সবসময় যে গ্রেডিং পক্ষাপাতশূন্য হয় সেটাও না। যদিও চেষ্টা করা হয় আন্তর্জাতিক ভাবে একটি মান রক্ষা করার তবে কখনো কখনো এক ই আইটেমের দুটি আলাদা সময়ে গ্রেডিং করিয়ে আলাদা নাম্বার পাওয়ার নজির আছে। যদিও গ্রেডিং হওয়ার কথা অব্জেক্টিভ তবে এতে হিউম্যান ফ্যাক্টর থাকার কারনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সাব্জেক্টিভ হয়ে যায়। আবার অনেকে আইটেম স্পর্শ করা পছন্দ করেন। গ্রেডিং করালে যেহেতু আইটেম কি একটি বন্ধ ক্যাপ্সুলে ফেরত পাওয়া যায় তাই এজন্যও অনেকে গ্রেডিং পছন্দ করেন না। এছাড়া গ্রেডিং করার পর নোট কে আল্ব্যামে রাখা মুশকিল। সেগুলুকে তখন বক্সে বাঁ ফ্রেমে রাখতে হয়ে। প্রদর্শন করাতে গিয়ে জায়গা এবং সময় বেশি প্রয়োজন হয়। আর গ্রেডিং এর অতিরিক্ত খরচ তো আছে ই। তাই চেষ্টা করবেন যদি গ্রেডিং করানো হয় তাহলে যেন নামী কোম্পানি থেকে তা করানো হয়।

অন্যদিকে একজন সংগ্রাহকের চোখে নোটের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা অন্যরকম। আমি আমার দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করলাম।

শৈল্পিক মূল্যায়নঃ একটি ব্যাংক নোট কে তার নকশা এবং সেটি কিভাবে নোটে ফুটে উঠেছে তার দেখা হয়। শিল্পকর্মরে গুনগত মান শিল্পীর কাজের সুক্ষতা,খুঁটিনাটিতে মনযোগ দেয়া ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।

রঙের ব্যাবহারঃ রঙের যথাযথ ব্যাবহার একটি মোটামুটি ডিজাইনকেও ভালো ভাবে উপস্থাপন করতে পারে।সেজন্য কালার হুইল সহ আরও নানান মেথড আছে যার যথাযথ ব্যাবহারে একটি সাধারন নোটও অসাধারন হয়ে উঠে। নোটের সার্বিক ডিজাইনের সাথে রঙের সামঞ্জস্য রাখাও একটি ফ্যাক্টর।

ডিজাইনঃ গোল্ডেন রেশিও,রঙের মনস্তত্ব, কম্পোজিশন, প্রপোরশন, কন্ট্রাস্ট, রিপিটিশন, হাঁয়ারাকি, সিম্লিসিটি,ইউনিটি, ব্যালেন্স,মুভমেন্ট, টেক্সচার ইত্যাদি অনেক বিষয়ের সমন্বয়ে একটি ভালো ডিজাইন তৈরি হয়। এছাড়া কোন নোট মনে লাগার জন্য ডিজাইনে নতুনত্ব থাকাটাও অনেকের অবচেতন মনে থাকে। আবার অনেক আইটেমের উপস্থিতিতে বিভ্রান্তি বাঁ বিশৃঙ্খলাও যেন তৈরি না হয়।

নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনঃ কোন নতুন নোট যদি কোন অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট নিয়ে প্রবর্তিত হয়/বাজারে আসে তাহলে সেটা অনেক সংগ্রাহকের অনুসন্ধিৎসার অধিকারী হয়।

প্রতিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বঃ একটি ব্যাংক নোট যখন সেই রাষ্ট্রের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রদর্শন করে তখন তা অনেকের চোখেই অন্যন্য সুন্দর মনে হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রতীকের ব্যাবহার ঐতিহাসিক ব্যাক্তির প্রতিকৃতি নোটের সার্বিক গাম্ভীর্য কে বাড়িয়ে দেয় এবং বিশেষত যারা থিমেটিক সংগ্রহ করে তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠে।

ব্যাবহারযোগ্যতাঃ নোটের ব্যাবহার হতে হবে সহজ,যেন বেশিরভাগ মানুষ সেটার সর্বোচ্চ ব্যাবহার করতে পারে। একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমেশনের নোটের আলাদা আলাদা রং, সহজবোধ্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট, অন্ধদের সুবিধার জন্য থাকা চিহ্ন ইত্যাদি এর উদাহরন।

টাইপোগ্রাফিঃ যেকোন লেখার ফন্টের ডিজাইন এবং সাইজ হবে এমন যা সাধারন জনগন পড়তে এবং বুঝতে পারে। নোটের ভাষাও এর মধ্যে একটি ফ্যাক্টর। সাধারণত যে সকল নোটে স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা (যেমনঃ ইংরেজি) থাকে তা আমার চোখে মনে হয় যে বেশি চিন্তাভাবনা করা আন্তর্জাতিক মহলের জন্য তৈরি হয়েছে এবং সেই দেশ ভ্রমণকারীদের জন্য উন্মুক্ত।

আকার এবং আকৃতিঃ এমন নোট বানিয়ে কোন লাভ নেই যা পকেটে রাখার জন্য খুব ছোট বাঁ খুব বড়। সেটা সমসাময়িক মেশিন,মানি ব্যাগ, মানি কাউন্টার এবং অন্যান্য মেশিনে এবং স্লটে বসে কি না সেটাও দেখার বিষয়। তাছাড়া একটি সেটের বিভিন্ন ডিনমিনেশনের মূল্যমান অনুযায়ী যদি তাদের সাইজ দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ অনুসারে ছোট থেকে বড় হয় তাহলে সেটাও একটা ভালো লাগার ব্যাপার। তবে    

মুদ্রণের গুনগত মানঃ নোটের লেখা,মাইক্রোপ্রিন্টিং, গিল্যেশ্যে এবং অন্যান্য সূক্ষ মুদ্রিত ছাপা গুলু হতে হবে পরিষ্কার, স্পষ্ট এবং ঝকঝকে।

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন