বিষয়ঃ বাংলাদেশের প্রথম সিরিজের ১ টাকার নোট (যাকে আপনারা অনেকে ম্যাপ সিরিজ বলে থাকেন) তা নিয়ে বিভ্রান্তি গুলু দূর করা।
একজন স্বতন্ত্র সরকারী মন্ত্রনাদানকারী হিসেবে আজকে আমার ল্যাবে একটি নোট প্রত্যয়নের জন্য আসে।সেটির নিরীক্ষা সনদ দেয়ার সময় অনেক ধরনের পরীক্ষা করেছি,যেমনটি আমি সচরাচর করি। বিভিন্ন স্তরের পরিক্ষা নিরীক্ষার পর প্রকাশযোগ্য কিছু ফলাফল আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশাকরছি যারা শিখতে চান তারা শিখতে পারবেন।
ছবি ১) দেখুন নোট টির চারিদিক,পরিসীমা,কাটিং,কাজের সূক্ষতা,সাবলীলতা।
ছবি ২) এই নোটে লেদওয়ার্কের সূক্ষ কাজ আছে যা সাধারন প্রিন্টারে করলে লেপ্টে যাবে।
ছবি ৩) এই লেদওয়ার্কের কাজের জন্য মেশিন ব্যাবহার করা।হয়েছে যে এর প্রান্ত ভাগের কাজের জ্যামিতিক প্যাটার্ন দেখলেই অনুধাবন করা যায়।
ছবি ৪) কমলা থেকে সবুজ রঙের যে পরিবর্তন সেটা স্মুথ,হটাৎ করে না। গ্রেজুয়াল ট্রাঞ্জিশন।
ছবি ৫) এই নোটে যে কমলা রঙ এর ব্যাবহার দেখা যায় তা কোন প্রিন্টারের না, কারন প্রিন্টারের মুদ্রন কে এতো কাছে থেকে দেখলে RGB ( Red,Green,Blue) রঙের মিশ্রনে তৈরি বলে বুঝা যায়।
ছবি ৬) বাকি সম্পূর্ণ নোট টি অফসেট প্রিন্ট হলেও নোটের সিরিয়াল নাম্বারটি লিথোগ্রাফিক প্রিন্ট যা কাছে থেকে দেখলে টেক্সচার দেখে বুঝতে পারবেন।
ছবি ৭) নোট টির ওজন প্রায় ০.০১৬ আউন্স বা ৬.৯ গ্রেইন এর কাছাকাছি। (*১০% উঠানামা করতে পারে)।
ছবি ৮) প্রবাহিত আলোতে দেখলে এই নোটের দুই পাশের মুদ্রন ই একই স্থানে শুরু হয় এবং শেষ হয়। যা "Perfect register" ফিচার নামে পরিচিত।
ছবি ৯) UV আলোতে কোন অতিরিক্ত ফিচার দৃশ্যমান হয় না বা গায়েব হয় না।
ছবি ১০) দুটি আলাদা তরঙ্গ দৈর্ঘের ইনফ্রারেড রশ্মির আলোতে দেখলেও এই নোটের কোন কিছু অদৃশ্যমান থাকে না বা অতিরিক্ত কিছু দৃশ্যমান ও হয় না।
ছবি ১১) আনুবিক্ষনিক স্তর থেকে দেখলে এই নোটের ফাইবার সাধারন কাগজের ফাইবার থেকে বড় এবং মোটা।
ছবি ১২) এই নোটের সাবস্ট্রেটে ছোট ছোট সবুজ সুতোর টুকরো খুজে পাওয়া যায়।
ছবি ১৩) এই নোটের সাইড গুলুর কাটিং আনুবিক্ষনিক X-Ray তরঙ্গে দেখলে সাধারন কাগজের কাটিং থেকে স্নুথ দেখা যাবে।
ছবি১৪) সাধারন কাগজ UV আলোতে তে অতি উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করে, এই নোটের সাবস্ট্রেট UV অনুজ্বল থাকে।
ছবি১৫ঃ এই নোটের মুদ্রন স্পেক্ট্রোমাইক্রস্কোপে দেখলে যে কোন রঙ পিওর এবং সাবস্ট্রেটে শোষিত দেখা যাবে,অন্য দিকে একটি রঙের অন্য কিছু যা কোন প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করা সেটাতে তিন রঙের মিশ্রন CMY (Cyan, magenta, yellow) দেখা যাবে যা প্রিন্টারের উপরে নির্ভর করে কখনো কাগজের উপর দানা হিসেবে বসে থাকে কখোনো শোষিত হয়।
ভিডিও ১) আয়োডিন পেন দিয়ে এই নোটে দাগ বসে না,কিন্তু সাধারন কাগজে দাগ বসে।
ভিডিও ২) এই নোটে কোন চৌম্বকীয় কালির ব্যাবহার নেই,থাকলে এই ম্যাগ্নেটিক ফিন্ড ডিটেক্টরে আওয়াজ হতো।
বিঃদ্রঃ সকল পরিক্ষার ফলাফল পাব্লিক ভাবে প্রকাশ করা উচিৎ না। তাই যা প্রকাশ করা যথাযথ মনে হয়েছে তা প্রকাশ করলাম। তবে এর বাইরের আমি আর ৫ টি টেস্ট করেছি যার ফলাফল আমার কাছে আছে। তবে আশাকরি এর মাধ্যমে সকলের বিবাদ ভঞ্জন হবে,এবং সন্দেহ দূর হবে। পরামর্শের জন্য কমেন্টে প্রথম যোগাযোগ করুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন