এপ্রিল ১৮, ২০২২

How to buy from eBay

 ১৯৯৫ থেকে ই-বে শুরু হলেও আমার কম্পিউটার ব্যাবহার শুরু হয় ১৯৯৮ এর দিকে এবং তখন থেকেই আইটি নিয়ে ভীষণ গভীর পর্যন্ত যাওয়া। তাই  ই-বে ব্যাবহার করছি ১৯৯৯ সাল থেকে। তখন ই-বে তে লাখ তিরিশের মতো আইটেম পাওয়া যেতো,আর প্রায় ২০০০ এর মতো ক্যাটাগরি ছিলো। তাছাড়া দেখতেও আজকের মতো ছিলো না। নানান পথে ই-বে ব্যাবহার করে একসময় ই-বে ভিসা কার্ডও বাগিয়ে নিয়েছিলাম। যাই হোক সে আদিম যুগের কথা। এর পর বিভিন্ন কারনে বহুবার ই-বে একাউন্ট চেঞ্জ করেছি। তাই তাঁদের পলিসির সাথে অনেকদিনেরই পরিচয়। বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হওয়ার কারনে সংগ্রাহক হিসাবে যদিও আমি কেবল ই-বে [e-Bay] থেকে কেনার পক্ষপাতি না, তবে ই-বে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ট্রাষ্ট কালেক্টরের একটা মডিউল যেহেতু ই-বের আদলে করা তাই সাম্প্রতিক অনেক বিক্রেতা এবং গ্রুপ সদস্যগণ অনুরোধ করেছেন; আমি যেন ই-বে সম্পর্কে কিছু লিখি। অভিজ্ঞতার আলোকে লিখলেও এই নিয়ে কয়েক পৃষ্ঠা লেখা যায় তবে পাঠকের ধৈর্য জানার কারনে সারফেস লেভেল থেকে বলছি।

 

সাধারন ভাষায় “ই-বে” একটি বাজার মাত্র,নিজে কোন বিক্রেতা না। অতয়েব আপনি বাজারে যেমন দেখে শুনে,দর কষা কষি করে কেনেন সেভাবে ই-বে থেকেও কিনতে পারবেন। কিন্তু এই বাজারে কোন সমস্যা হলে আগে দোকানদার/বিক্রেতাকে জানাতে হবে,সে সমাধান না করলে তাঁর পর আপনি বাজার মালিক সমতির কাছে সেই বিক্রেতার সম্পর্কে অনুযোগ দিতে পারবেন। কিন্তু দিন শেষে আপনার ই-বের বিরুদ্ধে কিন্তু কিছু করার নেই কারন ই-বে নিয়ে আপনার কাছে কোন পন্য বিক্রি করছে না।

অনেক মানুষ এই সেবা এবং পন্যের পার্থক্যই করতে ভুল করে। কোন প্লাটফর্ম যদি নিজে কোন পণ্য আপনার কাছে বিক্রি না করে (যেমনঃ ফেসবুক, গামট্রি, বিক্রয় ডট কম ইত্যাদি) তাহলে আপনার শেষ অভিযোগের ঠিকনা কিন্তু সেই প্লাটফর্ম ই। এটা মনে রাখুন। আর যদি সেই প্লাটফর্মে ক্রেতা এবং বিক্রেতা কি করছে তাঁর উপর সেই প্লাটফর্মের কোন হস্তক্ষেপ না থাকে তাহলে আনাচার,অবিচার হবেই। এর এই জন্যই Trust Collector এর অভ্যুদয়।

ই-বের বাজারে কেনা কাটি করলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই ট্রান্সেকশন এবং প্লাটফর্ম ফি বাবদ অল্প কিছু অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়,কেননা বাজার মালিক কত্রিপক্ষ আপনাকে কেবল চলাচল নিরাপত্তাই দিচ্ছে না বরং পন্য সন্তুস্টি, মান নিরাপত্তা, পন্য প্রাপ্তি নিরাপত্তা ইত্যাদি আরও অনেক সুবিধা দিচ্ছে। তাছাড়া মনে রাখবেন আপনার তথ্য আপনার জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ,সেটাও বাজার কত্রিপক্ষ দেখছে। কোয়ালিটি চাইলে সেইমতো খরচও করতে হয়। বাংলাদেশের গ্রুপ গুলুতে প্রচুর তথাকথিত সেলার এবং নামসর্বস্ব “কালেক্টরে” ভর্তি কারন এখানে কোয়ালিটি কম্প্রমাইস করে কাজ চলছে। কোয়ালিটি সম্পর্কে জানতে আমার অন্য পোষ্ট গুলু পড়তে পারেন।

বাংলাদেশের অনেক বিক্রেতাই ই বের এবং এর মতো আরও কিছু সাইট থেকে কেনাকাটি করেন এবং সেগুলু দেশের এনে অন্যের সাথে শেয়ার করেন,গিফট দেন বাঁ বিক্রি করেন। ই-বে তে আপনি সাধারণত প্রোডাক্ট না পেলে ,উপুযুক্ত প্রমান প্রদান সাপেক্ষে টাকা ফেরত পাবেন। সে দিক থেকে তাঁদের মানি ব্যাক গ্যারান্টি আছে যা নিয়ে তাঁদের ওয়েবসাইটে লিখা আছে। তাই আমি ই বে কে বেশ নিরাপদ ই মনে করি। ই বের নানান ধরনের পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে কার্ড, পে পল, ব্যাংক ট্রান্সফার, পে লেটার ইত্যাদি আছে। যা নিয়ে আমার আলাদা পোষ্ট আছে। ই বে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেট গুলুর একটি যেখানে আপনি মাঝারি সাইজের এরোপ্লেন থেকে শুরু করে চুলের কিল্প পর্যন্ত সবই পাবেন। এই নিয়ে আরও ৫ টি পোস্ট করা সম্ভব।

 

 

 

বিক্রেতা তো অনেকেই আছে ,কেনার আগে কিভাবে বুঝবো ভালো/রেপুটেড সেলার?

উত্তরঃ প্রফেশনালি কথা বলবে, দ্রুত প্রশ্নের উত্তর দেবে,ফিডব্যেক স্পেকট্রাম ভালো থাকবে,বিজ্ঞাপনে নিজস্বতা থাকবে, কত দ্রুত আপনার অর্ডার প্রসেস করছে (সাধারণত ২-৩ দিন), কি ধরনের শিপিং মেথডের সুযোগ দিচ্ছে, তথ্য বহুল বিজ্ঞাপন থাকবে, কোন প্রফেশনার মেম্বারশিপ বডির মেম্বার হতে পারে, নিজের স্টোর বাঁ ওএবসাইট ও থাকতে পারে, ই-বে থেকে দেওয়া কোন ব্যাজ আছে কি না,

কেনার পর কিভাবে বুঝবো, ভালো/রেপুটেড সেলার

 

ফিডব্যেক স্পেকট্রামে কি দেখতে পারেন?

সেলার কত দিন ধরে লেনদেন করছে?

সেলার সাধারণত কি ধরনের জিনিস বিক্রি করে?

সেলার এর সর্ব মোট ফিডব্যেক কত?

সেলার এর গড় ফিডব্যেক কেমন?

অপেক্ষাকৃত পুরনো একাউন্ট কি না?

বিক্রেতার নিবন্ধন লোকেশন কোথায় ছিলো?

তাঁর নেগেটিভ ফিডব্যেকের ধরন কেমন?

 

এছাড়াও দেখতে পারেনঃ বিক্রেতা কোথা থেকে মাল পাঠাবে?

সেলার চিট করলে কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

উত্তরঃ কিছু শর্ত সাপেক্ষে

 

ক্রেতার ইস্যু কিভাবে দেখা হয়?

উত্তরঃ সাধারণত তিনটি সহজ ধাপ। প্রথমে সেলারের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা নিরসনের চেস্টা, তাঁর পর কাজ না হলে এ-বে পলিসি অনুসারে প্লাটফর্মে রিপোর্ট করা, এতেও কাজ না হলে প্লাটফর্ম (ই-বে) কে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন।

 

ই-বে তে ভালো স্তরের বিক্রেতা হতে হলে তাঁর অনেকগুলু ক্রাইটেরিইয়া মানতে হয়, যেগুলু নিয়ে অন্য দিন পোষ্ট করে যাবে।

এপ্রিল ১৭, ২০২২

বিষয়ঃ UV লাইট

বিষয়ঃ UV টর্চ লাইট
আমার পূর্বের সংগ্রাহকদের খেলনা লেখার আরেকটি পর্ব এটি।
UV (অতি বেগুনী রশ্মি) কে তরঙ্গ দীর্ঘের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। C, B, A.
এর মধ্যে সংগ্রাহক,গবেষক এবং পরিচর্যাকারী হিসেবে আমাদের সবচেয়ে কাজে লাগে UV A তরঙ্গের রশ্মি। তিনটি তরঙ্গ দীর্ঘের মধ্যে এটিকেই সবচে কম ক্ষতিকারক বলে ধরা হয়।

৩৬৫nm এবং ৩৯৫nm ছাড়াও অনেকে ৪০৫nm এর টর্চলাইট ব্যাবহার করে। তবে ৩৬৫ এর দিকের আলো কে ব্ল্যাক লাইট বলা হয় কারন এতে দৃশ্যমান রশ্মি খুবই কম থাকে। তাই অনেক মিনারেল, পাথর, রত্ন, ফসিল,ভূত্বাত্তিক,জৈব বস্তু,ব্যাংক নোট,কয়েন, ডাক টিকেট ইত্যাদির নিরাপত্তাজনিত ফিচার যাচাই করার জন্য ৩৬৫nm এর টর্চলাইটের ব্যাবহার বেশী দেখা যায়। 
বিভিন্ন দেশ যখন তাঁদের ব্যাংক নোটে বাঁ টিকেটে UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট ব্যাবহার করে,অনেক সময় তাঁরা গন সচেতনতার উদ্দেশ্যে পাব্লিক ভাবে জানায় যে তাঁদের ঐ ফিচার দেখতে হলে কতো ওয়েভ লেন্থের আলো ব্যাবহার করতে হবে।
যদি টর্চলাইটের ওয়াটেজ (পাওয়ার) বেশী হয় তাহলে অনেক সময় সাথে কিছু দৃশ্যমান বেগুনী আলো  ব্লিড করে। তাই ৩৬৫nm লাইট থেকে আপনি আরও দৃশ্যমান আলোকে সরাতে চান কেবল UV রিফ্লেক্টশন দেখার জন্য তাহলে Woods glass filter ব্যাবহার করতে পারেন।

দামের দিক থেকে ৩৯৫nm এবং এর উপড়ে যেতে থাকলে টর্চলাইট তুলনামূলক সহজলভ্য হতে থাকে।তাই নিউমেস্মেটিক্স এবং ফিলাটিলিতে  ৩৬৫nm ই সর্বাধিক ব্যাবহ্রিত হয়। কিন্তু সস্তা ৩৬৫nm এর থেকে সস্তা ৩৯৫nm ভালো। তাই যখন আপনি আপনার ইউ ভি টর্চ কিনবেন ভালো ৩৬৫nm এর কিনবেন। সাথে চেষ্টা করবেন কিছু বিষয় মনে রেখে কিনলে আপনি সর্বোত্তম জিনিস্টি ই পাবেন যেমনঃ বেশী ক্ষমতার, রিচারজেবল, স্ট্যান্ড সহ, মাল্টি পারপাস। হয়তো সব ফিচার এক গ্যাজেটে পাবেন না।

এছাড়া যদি নিয়মিত ব্যাবহার করেন তাহলে UV স্ক্যানার বাঁ UV ল্যাম্প কিনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ কেননা তাহলে ঘাটাঘাটিতে সময় এবং পরিশ্রম কম হবে।

আশা করি ইতিমধ্যে এতে জেনে গেছেন যে, আপনার সংগ্রহকে যট কম সময় আলো তে রাখবেন ততো বেশী দিন সংগ্রক্ষন করতে সুবিধা হবে (সম্পদ নষ্ট হওয়ার প্রভাবক সম্পর্কিত পোষ্ট পড়ুন)।
বিস্তারিত বললে এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভালো এবং মন্দ দিক আছে,কিন্তু সেটা বিশেষায়িত জ্ঞ্যান তাই কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর পাবেন।
ছবিঃ এখানে আমি দুই ধরনের UV ব্যাবহার করে একটি নোটের ছবি তুলে দিয়েছি আপনাদের কাছে পার্থক্য তুলে ধরার জন্য।

সৌজন্যেঃ প্রীতম চক্রবর্তী।

এপ্রিল ১৬, ২০২২

বিষয়ঃ ওভার প্রিন্ট (থিমঃ ওভার প্রিন্ট)

বিষয়ঃ ওভার প্রিন্ট (থিমঃ ওভার প্রিন্ট)

নোটের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ আজকাল স্মারক হিসেবে প্রকাশ করার জন্য ওভার প্রিন্টের চল দেখা যায়, তবে একটা সময় আরও অন্যান্য অনেক চাহিদার কারনে ওভার প্রিন্ট ব্যবহার হতো।ডাক টিকেটে এবং ব্যাংক নোট উভয়েই ওভারপ্রিন্ট এর বিভিন্ন কারন আছে,তার মধ্যে নিন্ম লিখিত কারন গুলো আমি বিভিন্ন প্রেক্ষিতে ব্যাবহার হতে দেখে এসেছি।

নতুন আইটেম তৈরির সময়/খরচ বাঁচানো
স্মারক  হিসেবে ঘোষণা করা
ইমারজেন্সি ইস্যু প্রকাশ করা
বায়জাপ্ত ঘোষণা করন
ব্যাবহার এলাকা সীমাবদ্ধ করন
ব্যাবহারকারী নির্দীষ্ট করন
আন্ত ব্যাবস্থাপনা ব্যাবস্থা 
আইটেমের ফাংশন পরিবর্তন
আইটেমের মূল্য এবং সারচার্জ পরিবর্তন 
সরকার ব্যাবস্থা পরিবর্তনের সময় সাময়িক ব্যাবহার 
যুদ্ধ বা আপদকালীন ব্যাবহার 
ব্যাবহার হয়েছে কি না তা বুঝার উপায়
ব্যাক্তিগত করন

ওভার প্রিন্ট আবার কয়েক জায়গা থেকে আসতে পারে,সেটার উপর ভিত্তি করে আইটেম কে আবার বিভিন্ন ভাবে আলাদা করা সম্ভব।  ওভারপ্রিন্টের ধরন,প্রকরন, ভুল নিয়ে আবার আলাদা আলাদা পোস্ট করা সম্ভব, যেহেতু সেটা একটা নিশ্ সেক্টর তাই আর বিস্তারিত বললাম না।আশা করি কিছুটা ধারনা পেয়েছেন।
 ডাক টিকেটের "ওভার প্রিন্ট" টার্ম টা যদিও আরও বিস্তারিত। সেটা নিয়ে আলাদা পোস্ট করতে হবে। কেননা সেখানে কেন্সেলেশন মার্কের সাথে কখনো কখনো "ওভার প্রিন্ট" শব্দ টা উতপ্রত ভাবে ব্যাবহ্রিত হয়,কিন্তু সব সময় না।
আপনার কাছে এর বাইরের কোন নোটের ওভার প্রিন্ট কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন। প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করতে পারেন। অনেকে একেও থিম ধরে সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এপ্রিল ১১, ২০২২

Souvenir Items/Note,Commemorative,Replica/Reproduction,Nobility/Fantasy note,Specimen,Private issue

 Souvenir Items/Note (সুভেনিয়র আইটেম /নোট): সাধারন কোন জায়গার ভ্রমনার্থি পরিচিতি বাড়ানো,ঐতিহাসিক,সাংস্ক্রিতিক বাঁ ঐতিহ্যগত গন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজারে ছাড়া বিভিন্ন রকমারি ডিজাইনের আইটেম কে সুভেনিওর আইটেম বলা হয়। সাম্প্রতিক সবচেয়ে পরিচিত  আইটেম গুলুর মধ্যে “0 ইউরো” নোটের কথা না বললেই না। সাধারণত টুরিস্ট হিসেবে আপনিও সেখানে গেলে সেগুলু নিয়ে আসতে পারবেন স্থানীয় ভেন্ডিং মেশিন বাঁ দোকান থেকে। এগুলু কেবল নিছক নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট, লিগ্যাল টেন্ডার না। আর যেহেতু এর কোন কঠোর রেগুলেশন বডি নেই,তার মানে যেকোন ডিজাইন,যতো ইচ্ছা ততো ,যেদিন ইচ্ছে সেদিন যা ইচ্ছা টা ছাপানে হয় তাই অনেক সংগ্রাহক ই এগুলু কে এড়িয়ে চলেন এবং রঙ্গিন কাগজের মতো এদের সংগ্রহের বস্তু হিসেবে ধরেন না।  

 

 

 

 

 

 

Commemorative (স্মারক) ইস্যুঃ সাধারণত কোন অনুষ্ঠান, ব্যাক্তি,ঐতিহাসিক গুরুতক পূর্ণ ঘটনা বাঁ সময়কে স্বরন করে অথরিটি বাঁ নির্বাহী সংস্থা থেকে ইস্যু হওয়ার আইটেম কে স্মারক আইটেম বলা হয়। যদিও কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বিমত আছে (যেমনঃ রোমানিয়া) এক্ষেত্রে আমি স্মারক নোটের কথা বলবো। কোন কোন দেশ সেগুলুকে লিগ্যাল টেন্ডারের মর্যাদা দিয়ে থাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। যেহেতু সেগুলু অন্য সাধারন নোটের তুলনায় সীমিত সংখ্যায় বের হয় তাই সংগ্রাহক সমাজে সেগুলু চাহিদার তুলনার যোগান কম হয়। সেজন্য দ্রুতই মূল্য বেড়ে যায়। 

স্মারক নোট বিনিময় যোগ্য হতেও হতে পারে আবার না ও হতে পারে। তবে তা উল্লেখ থাকবে।

☝🏾ডিজাইন বিবেচনায় স্মারক নোট দের দুটি দলে ভাগ করা যায়।

অভার প্রিন্ট স্মারক

নতুন ডিজাইন  বা ফিচার চেঞ্জ স্মারক।


☝🏾আবার অন্য দিকে প্রচলন বিবেচনায় ও দুটি ভাবে ভাগ করা যায়।

প্রচলনযোগ্য স্মারক 

অপ্রচলন যোগ্য স্মারক

হয়তো বিশ্বের মধ্যে তবে এশিয়ার মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে বেশী স্মারক নোট ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডে দেখা যায়।

এছাড়াও হাইব্রিড প্রিন্টিং প্রসেস ব্যাবহার করে  আজকাল অনেক দেশ ই স্মারন টিকেট এবং নোট প্রকাশ করছে। সংগ্রাহক সমাজে স্মারক নোটের বেশ কদর আছে,যে স্মারক নোটের বাজার দর দেখলেই বুঝা যায়।এটা একটি পরিচিত এবং স্বীকৃত থিম।

 

 

 

Replica/Reproduction রেপ্লিকা/রিপ্রোডাকশনঃ

দুই ভাবে ভাগ করছিঃ অনুমোদিত এবং নামী প্রতিষ্ঠান থেকে, ব্যাক্তিগত উদ্যোগে।

অনুমোদিত কত্রিপক্ষ/কোম্পানি থেকেঃ

 

উদাহরনঃ Westminster মিন্ট থেকে সিল্ভারের (রুপার) উপর বেশ কয়েকটি পুরোনো ব্রিটিশ নোটের রিপ্রডাকশন বের করা হয়েছে, যেগুলুর প্রতিটির দাম সরাসরি কিনলে প্রায় ১০০০০ টাকার কাছাকাছি। সেগুলোকে আপনি বলতে পারেন যে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সংগ্রক্ষনের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত কিছু নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট । সেগুলু কোন সংগ্রাহক সংগ্রহ করবে কারন হতো সে Westminster মিন্টের সব কিছু ই সংগ্রহ করে ,অথবা সে ব্রিটিশ ঐতিয্যের কদর করে। কেননা সেই রিপ্রডাকশন/রেপ্লিকা পিস গুলু ও সীমিত সংখ্যায় বের করা হয়েছে। এটি একটি বিতর্কিত সংগ্রহের বিষয়। আবার ফ্রাঙ্কলিন মিন্ট এবং ডেলারু থেকে সোয়াজিল্যান্ডের ১৯৭৪ সিরিজের একটি সেট কে রিপ্রোডিউস করা হয়েছে।

 

অন্য দিকেঃ ই বে তে কোন সেলার বাঁ আপনি নিজে যদি ধরে বসে আপনার প্রিন্টার দিয়ে কোন আইটেম প্রিন্ট করেন তাহলে সেগুলু ও রিপ্রডাকশন বলা হবে। ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যে করলে সেগুলুকে রেপ্লিকা বলা হবে। সেজন্য কিছু কিছু কত্রিপক্ষ আবার রিপ্রোডাকশনের জন্য নিয়ম বেঁধে দিয়েছে। যেমনঃ ২৫% বড় বাঁ ছোট হতে হবে, সর্বচ্চ এক সাইডের প্রিন্ট হতে পারবে, প্রিন্টিং ম্যাটেরিয়াল আলাদা হতে হবে, এমন কি স্পেসিমেন্ট (নমুনা ) সিল/মার্ক টি বসানোরও বিধি বিধান আছে।   এত সকল কারনের এটি একটি স্বতসিদ্ধ বিষয় যে রেপ্লিকা বাঁ রিপ্লেস্মেন্ট সংগ্রাহকদের মধ্যে ততোটা জনপ্রিয় না। পরিস্কার করে উল্লেখ থাকতে হবে যে এটি লিগ্যাল টেন্ডার নয়।

 

 

 

Nobility/Fantasy note (নোভিলিটি বাঁ ফ্যান্টাসি নোট)ঃ এগুলু কখনো লিগ্যাল টেন্ডার বাঁ বৈধ অর্থ হয় না। কখনো কখনো কেবল সীমাবদ্ধ কিছু স্থানে এবং সময়ে এগুলুর ব্যাবহার দেখা যায়, যেমনঃ ডিসনি ডলার, অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮ ওয়ার্ল্ড এক্সপো ডলার, । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেদের “Word of art” বাঁ “Work of fiction” হিসেবে ধরা হয়। এগুলু নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট হিসেবেও গন্য হয় না। তবে কেউ কেউ সেগুলু সংগ্রহ করে থাকেন কেননা অনেক নোট ই ইউনিক ডিজাইন এবং সিরিয়াল এবং সিকিউরিটি ফিচার সম্বলিত ছিলো,ফলার সংখ্যা সীমিত। পরিস্কার করে উল্লেখ থাকতে হবে যে এটি লিগ্যাল টেন্ডার নয়।

 

 

 

Specimen স্পেসিমেন/ নমুনা নোটঃ

নমুনা আইটেম/নোট সাধারণত কোন দেশ,সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর কর্মীদের সেই আইটেম/নোট সম্পর্কে পরিচিত করিয়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে উৎপাদিত হয়। প্রকৃত নোট বেজারে আসার আগে নমুনা নোট আসে যেনো লোকজন সেটা সম্পর্কে জানে। সেগুলু কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক,শাখা ব্যাংক, আন্তর্জাতিক কারেন্সি ব্যুরু, ক্যাটালগ পারলিশারস, আন্তর্জাতিক বন্দর,ক্যাসিনো, বড় মাল্টি ন্যাশ্যানাল ট্রেডিং হাউসের পাঠানো হয় তাদেরকে নতুন ডিজাইন এবং সেই নোটের সিকিউরিটি ফিচার সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিধি আছে। যেমনঃ

কখনো কখনো তাঁদের বিশেষ প্রিফিক্স বাঁ চিহ্ন বাঁ সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়,যেমনঃ ০০০০০০০ বাঁ ১১১১১১১১ বাঁ ১২৩৪৫৬৭৮৯০ বাঁ  ৯৯৯৯৯৯৯৯  বাঁ কোন সিরিয়াল নাম্বার না উল্লেখ করে, বাঁ নমুনা নোট কথাটি বিভিন্ন রঙে উল্লেখ করে, “স্পেসিমেন” কথা টি কোথায় থাকবে? কখনো সম্পূর্ণ সেটের সব গুলু ডিনমিনেশনের সিরিয়াল নাম্বার একই রাখা ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অভারপ্রিন্ট  (যেমনঃ বাতিল,কেন্সেল্ড,সৌজন্য,মূল্য হীন, নমুনা নোট ইত্যাদি) দিয়ে এটা পরিস্কার করা হয় যে এই নোট টি আদান প্রদান যোগ্য না। কোন কোন সময়কালে “নমুনা নোটে” পাঞ্চ (ছিদ্র) করা থাকে যেনো সাধারন জনগন বিভ্রান্তিতে না পড়ে।

নমুনা নোটে কখনো আসল নোটের কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট থাকে আবার ক্ষেত্র বিশেষে থাকেও না, সেটা নির্ভর করে সেই নোটের কত্রিপক্ষের উপর। যেহেতু সাধারন নোটের মতো এগুলু এত বেশী পরিমানে ছাপা হয় না তাই সংগ্রাহক সমাজে চাহিদার তুলনার যোগান কম বিধায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নমুনা নোটের দাম সেই নোটের সাধারন ইস্যুর দামের থাকে বেশী হয়ে থাকে তবে কোন কোন দেশে তা কম ও হয়ে থাকে কারন এর কোন ফেস ভ্যালু নেই (যেমন সিঙ্গাপুরের ১০০০০ ডলার)। কোন কোন দেশে সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্পেসিমেন নোট উপহার হিসেবা দেয়া হয়। আবার কখনো কোন কোন দেশে নমুনা নোট সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রিও হয়।

 নমুনা নোটের কিছু শর্তের উদাহরনঃ

নোটের গায়ে নমুনা নোট কথা টি লিখা থাকতে হবে যদি আসল নোটের ডিজাইনের ৫০% এর বেশী নমুনা নোটে প্রদর্শিত হয়। এবং যদি কোন ছবি তে নোটের ছবি টি ২০ডিগ্রীর কমে বাকানো থাকে। অর্থাৎ যদি নোটের ছবি এমন কোন ম্যাটেরিয়ালে ছাপা হয় যা আসল নোটের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, ২০ ডিগ্রি এর বেশী কোনে ছবি হেলানো বাঁ  আসল নোটের ৫০% এর কম দেখা যায় তাহলে “নমুনা নোট” কথা টি উল্লেখ করতে হবেই না। কোথাও কোথাও আবার সাইজের নির্দেশিকা দেয়া আছে যে আসল নোটের থেকে ২৫% বড় বাঁ ছোট হতে হবে। কোথাও আবার আক দিকে ছাপা হবে।কি রঙের ফন্তে নমুনা নোট কথা টি লিখা হবে, কতো ডিগ্রি কোনে সেই লেখা ই বাকানো থাকবে তা (যেমনঃ ৪৫ ডিগ্রি),

যা ই বলা হোক মূল উদ্দেশ্যে যে মানুষ যেনো ভুলে একে আসল নোট মনে না করা বিভ্রান্তি তে না পড়ে। তাই এতো সব নিয়ম কানুন।

 

 

 

 

 

 

Private issue (প্রাইভেট ইস্যু): নিজের বানানো কোন কিছু কে প্রাইভেট ইস্যু বলা হয়। সেটা কোন ব্যাক্তির বানানো হতে পারে, বাঁ কোন কোম্পানির বানানো হতে পারে। তবে সেগুলোকে আমার দুটি ভাবে ভাগ করা যায়-

অনুমোদিত এবং অনুমোদন বিহীন

অনুমোদিতঃ ট্রেডমার্ক বাঁ পেটেন্ট থাকবে। নির্দিষ্ট এবং সীমিত সংখ্যায় বের হবে যে পাব্লিক ভাবে প্রকাশ করা হবে। যেমন বিভিন্ন মিন্ট এবং নোট প্রিন্টার গুলু তাঁদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ কে তুলে ধরার জন্য প্রায় ই প্রাইভেট ইস্যু নোট বাঁ কয়েন বের করে। অনেক সুনাম ধন্য আর্টিস্ট রা ও প্রাইভেট ইস্যু টিকেট, নোট ইত্যাদি বের করে তাঁদের কাজের উৎকর্ষ প্রকাশ করে।

অনুমোদন বিহীনঃ আপনি নিজে ফটশপ দিয়ে ডিজাইন করে কাগজে প্রিন্ট করে সেটা কে যা ইচ্ছা টা ই বলতে পারেন। এগুলু কোন সংগ্রহের বস্তু না,কেননা সেগুলু সংগ্রাহক আইটেমের কোন ক্রাইটেরিয়া ই পূর্ণ করে না। প্রথমত সেগুলু অসীম সংখ্যায় বানান যেতে পারে,কোন রেগুলেশন নেই, ট্রেড মার্কড প্রোডাক্ট না ফলে পরশু আরেকজন ও সেই একই ডিজাইনে একই ম্যাটেরিয়াল দিয়ে এই প্রোডাক্ট বানিয়ে ফেলতে পারে (অর্থাৎ ইউনিকনেস বাঁ অনবদ্যতার অভাব), নিজেই বানিয়ে যদি নিজেই বলেন এটা আমার সংগ্রহ তাহলে সেটা প্রিন্ট করা কাগজের চেয়ে বেশী মূল্যবান কিছু নয়। যেমন একজন দর্জি তাঁর নিজের সেলাই করা জামার গোডাউন কে তাঁর সংগ্রহ ও বলতে পারে না আর নিজেকে সংগ্রাহক ও বলতে পারেন না।যে সকল নোট,কয়েন,টিকেট,দিয়াশলাই হাবিজাবি নিজের মন মতো,বা কল্পনা প্রসূত দৃষ্টি নন্দন ডিজাইনে, যা দেখতে নোট/কয়েন/হাবিজাবির মতো, *মুদ্রন করে তাদের মূলত আর্ট ওয়ার্কের খাতিরে বাজারজাত করা হয়,তাদের ফ্যান্সিনোট/কয়েন/হাবিজাবি আইটেম বলে। সেগুলোর এমনিতে কোন সংগ্রাহক মূল্য নেই তবে ডিজাইন এবং ডিজাইনারের খাতিরে কেউ সংগ্রহ করলে করতেই পারে।

তবে এখানে কিছু শর্ত আছেঃ আপনি যদি ফেমাস কেউ হন,যার ইউনিক কাজ মানুষ জেনে শুনে মূল্যায়ন করে তাহলে আপনার তৈরি করা আইটেম তাঁদের কাছে সংগ্রাহক বস্তু হতে পারে,বিশেষ করে আপনার মৃত্যুর পর। আপনি জিবিত অবস্থায় যদি নিজের করা কাজ কে নিজেই সংগ্রহ বলে চালিয়ে দেন তাহলে সেটা ……… আমি আর না বললাম।  নোটের ক্ষেত্রে এগুলু যেমন নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট হিসেবেও স্থান পায় না তেমনি বেশিরভাগ বিজ্ঞ সংগ্রাহকদের কাছে সেগুলে সংগ্রহ হিসেবে ই স্বীকৃতি পায় না।

বলা ভালোঃ কিন্তু কোন আইটেম প্রাইভেট ইস্যু হলে (টা সে অনুমোদিত হোক আর না হোক) টা দিয়ে যখন ইকোনমিক এক্টিভিটি (ক্রয়/বিক্রয়) হবে তখন সেটা ডিক্লেয়ার করা বাধ্যতা মূলক। টা না হলে সেটা জালিয়াতী। তাই আমি প্রাইভেট ইস্যু কে সংগ্রহের কোন থিম ই ধরি না। সেগুলু হতো কারোর ব্যাক্তিগত মনের খোরাক হতে পারে কিন্তু ক্যাটালগ বদ্ধ না থাকলে, স্বীকৃতি না থাকলে এবং সীমিত সংখ্যায় থাকার বাধ্য বাধকতা না থাকলে তা কিভাবে সংগ্রাহক বস্তু হতে পারে সেটা নিয়ে আমি সন্ধিহান,যারা যারা একমত কমেন্টে জানাবেন।

ব্যাংক নোটের মতো দেখা গেলে ,বিক্রয় পোস্টে পরিস্কার করে উল্লেখ থাকতে হবে যে এটি লিগ্যাল টেন্ডার নয় । আর অন্য কোন আইটেম হলে যেমন (পোস্ট কার্ড, চিত্রকর্ম, সুন্দর লেখনী, ম্যাচ বক্স, বই, ঔষধ, দলিল,শো পিস, মোমবাতি তা সে নিজের তৈরি যা ই হোক না কেনো) বিক্রয় পোস্টে উল্লেখ করা উচিৎ যে সেটা প্রাইভেট ভাবে করা। অর্থাৎ মানুষের এটা জেনে নেয়া উচিৎ যে সেই মুহূর্তে সেটা নিছক একটি শিল্পকর্ম। এমনকি রবিন্দ্রনাথ স্বয়ং ও তাঁর লেখা রচনা সমগ্র কে সংগ্রহ বলবেন না।তাহলে অন্য কারো এই প্রগল্ভতা কিভাবে মানায়। 



Test note:

যখন কোন কতৃপক্ষ নোট নিয়ে আসে,তা আসার আগে তার এ টি এম মেশিনে,ব্যাংক টেলার মেশিনে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারেন্সি  এক্সচেঞ্জে তাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং মেশিনের সাথে কোন বিষয়ে কনফ্লিক্ট করে কি না তা যাচাই করার জন্য টেস্ট নোট পাঠানো হয় যা হয়তো সাইজের,পেপার টাইপ,পুরুত্ব, কালার বা সিকিউরিটির দিক থেকে প্রস্তাবিত নোটের মতো যেন সেই কতৃপক্ষ সেটি দিয়ে টেস্ট করে ফিডব্যাক দিতে পারে। যেমন ফিজির একটি নোট এক সময় থাইভ্যাক মেটেরিয়ালে প্রিন্ট করার পর দেখা যায় যে,আদ্র আবহাওয়ায় সেটি তে কালার বসতে অসুবিধা হচ্ছে।অর্থাৎ সহজেই রঙ উঠে যাচ্ছে। 

এক কথায়,একটি বিধিবৎ প্রকৃয়ার মাধ্যমে আসন্ন নোটের ব্যাবহার যোগ্যতা, পরিস্থিতি, সুপারিশ সমূহ ইত্যাদি পরিক্ষা করার জন্য টেস্ট নোট বের করা হয়। 

এটা কোয়ালিটি কন্ট্রোলের একটি অনন্য মাধ্যম। 

মার্চ ২৭, ২০২২

বিষয়ঃ প্রিফিক্স, সিরিয়াল নাম্বার, কন্ট্রোল নাম্বার, ইস্যু সংখ্যা

সাধারণত কোন সিরিয়াল সংখ্যা/নাম্বারের আগে থাকা কোন অক্ষর বাঁ চিহ্ন কে/দের সংগ্রাহক গন প্রিফিক্স বলে ধরেন। সাধারণত কয়েকটি অক্ষর বাঁ সংখ্যা দিয়ে প্রিফিক্স গঠন হলেও সময়ের সাথে সাথে প্রিফিক্সে ও বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র দেখা যাচ্ছে।

কতটি নোট ছাড়া হয়েছে তাঁর হিসাব রাখা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের প্রিফিক্স কে আরও বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যাবহ্রিত হয়ে দেখা যায়, যেমনঃ

ইস্যু সাল অনুমান করা

কোন গভর্নর বা কতৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে বাজারে এসেছে তা ধারনা করা

ইস্যু সংখ্যা অনুমান করা

ইস্যু সিরিজ ধারণা করা

কি উপলক্ষ্যে ছাড়া হয়েছে তা ধারণা করা

কারো ব্যাক্তির নামের সংক্ষিপ্ত রূপ

কোন বিশেষ ঘটনার সংক্ষিপ্ত রূপ

কোন দেশের ব্যাংকের রূপ

কোন দেশের বিশেষ বস্তু

রিপ্লেস্মেন্ট নোট কি না

ইমেরজেন্সি/ আপদ কালীন নোট কি না

জাল নোট কি না

স্মারক নোট কি না

নমুনা নোট কি না

ট্রেজারি নিয়ন্ত্রিত নোট কি না

ব্রেক নাম্বার বাঁ স্প্লিট প্রিফিক্স কোথায়

পরিক্ষা মূলক নোট

দেশ/ রাষ্ট্র/ শহরের নাম ধারণা করা

কলাম সর্ট নোট

ইত্যাদি এমন অনেক ক্রিয়েটিভ ধরনের প্রিফিক্সের ব্যাবহার দেখা যায় যায় কয়েক্টির উধারন আমার সংগ্রহ থেকে দিলাম। এর বাইরে আপনার জানা আরও কোন ধরনের প্রিফিক্স থাকলে কমেন্টে বলতে পারেন, অন্যরাও জানুক।

কোন কোন সংগ্রাহক,  খুব ছোট বাঁ খুব বড় সিরিয়াল নাম্বের পাশাপাশি কেবল প্রথম বা/এবং শেষ প্রিফিক্সের নোট ই সংগ্রহ করেন, তাই সাম্প্রতিক সংগ্রাহক বাজারে এগুলোর চাহিদা দেখা যায়।

প্রিফিক্সের পাশাপাশি সাফিক্স নামেও একটি টার্ম আছে,যা নিয়ে অন্য পোষ্টে কথা হবে।

মার্চ ১৭, ২০২২

বিষয়ঃ Appraisal (এপ্রাইসাল) বাঁ মূল্যায়ন


কি?
কোন কয়েন,নোট,টিকিট বাঁ অন্য যে কোন কালেক্টেবল আইটেমের মূল্যায়ন করা হয় সেটির বিভিন্ন ফ্যাক্টর বিবেচনার করে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে; প্রায়ই গভীর পর্যবেক্ষণ বা কিছু ধরনের পরীক্ষা জড়িত থাকে, অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন কেবল ধরার,ছোয়ার, দেখার এবং কখনো কখনো শুধু ছবি দেখার মাধ্যমে মত প্রদান হয়। এপ্রাইসাল হলো বস্তুগত সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি পেশাদার পরীক্ষা। সাধারণত একজন অনুমোদিত ব্যক্তির দ্বারা কোন বস্তুর মান এবং দাম অনুমান করা কে এপ্রাইসাল বলে। অনুমোদিত মূল্যায়নকারীর অবশ্যই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে একটি পদবী থাকতে হবে। 

কে করেন?
একজন এপ্রাইসার (মূল্য নির্ণায়ক) যার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে, যিনি ঐ নির্দিষ্ট থিম বাঁ টপিক সম্পর্কে জানেন (বিশেষজ্ঞ), যার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। সাধারণত অন্যান্য বিষয়ের এপ্রাইসাল দেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা এবং সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলেও সংগ্রহ সম্পর্কিত আইটেমের এপ্রাইসালের জন্য কেবল রেপুটেশন এবং অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞ্যান ই প্রধান রসদ। অভিজ্ঞতা এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে আপনি বিভিন্ন স্তরের আপ্রাইসারও হতে পারেন- যেমন এম্যাচিউর এপ্রাইসার, ট্রেইনি এপ্রাইসর,সার্টিফাইড এপ্রাইসার, ইত্যাদি। 
একজন প্রফেশনাল এপ্রাইসারের তাঁর পেশা সম্পর্কিত প্রফেশনাল অরগানাইজেশনের সাথে মেম্বেরশিপ থাকবে সেখান থেকে রেগুলার CPD ট্রাইনিং করবেন তাঁর জ্ঞ্যান এবং যোগ্যতা কে চর্চার মাধ্যমে আপ্টুডেট রাখার জন্য। আমি IBNS,British numesmetic association,Americal numesmetic association, Paper money society,IBDA ইত্যাদি কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল অর্গানাইজেশনের সাথে থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশে খুলনা এবং যশোর কালেক্টর সোসাইটি, টাকা মিউজিয়াম ডোনার ক্লাব সহ বিবিধ সংস্থার সাথে যুক্ত আছি। তবে আমি পেশাগত ভাবে এপ্রাইস করি না। তাই আমি নিজেকে প্রফেশনাল এপ্রাইসার (মূল্যায়নকারী) বলবো না।

কি কি জিনিস দেখা হয় এবং কিভাবে?
একজন এপ্রাইসার কাছে সেই এইটেম সম্পর্কিত বিস্তর রেফারেন্স বাঁ সোর্স ম্যাটেরিয়াল থাকবে। তিনি বুঝতে পারবেন যে সেটি আসল কি না।তবে সে ক্ষেত্রে সেটি ধরে দেখা অনেক সময় ই জরুরি। তিনি সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিক্রিত তুলনা করা যায় এমন আইটেমের ইতিহাস দেখবেন। তিনি সেই আইটেমের বয়স, কন্ডিশন, উপাদান, সংস্কারকর্ম, দূরল্যভ্যতা, অতীত এবংবর্তমান বাজার,বর্তমান অর্থনীতি,চাহিদা, আইটেমের মালিকানা ইতিহাস ইত্যাদি অনেক ফ্যাক্টর বিবেচনা করে একটি স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র মতামত দিবেন। এর মধ্যে আবার কোনটি কিসের আগে প্রাধান্য পাবে সেটা ক্ষেত্র বিশেষে আলাদা হয় (সেটা নিয়ে আলাদা পোস্ট আছে)। তিনি আইটেম আসল কি না নকল সেটি পরিক্ষা করে তা ও বলবেন। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার জন্য আমার অন্য পোষ্ট পড়তে পারেন।

আপনি আসল নোট না পাঠাতে পারলে কি করণীয়?
তাহলে আপনার নোট (গুলি)র অবস্থা বিশদভাবে বর্ণনা করুন:যেমন পিনহোল, গর্ত, ছেঁড়া,ফাটা, ধোয়া, টিপে, জং,ফক্সিং,স্টেইন, দাগ, বিভিন্ন ধরনের গর্ত, নোটের ঢেউ, নিরাপত্তা স্ট্রিপ,  জলছাপ এবং আরো অনেক ব্যাপার (*সেটা নিয়ে অন্য পোষ্ট আছে) যা ফটোতে সহজে বুঝা যায় না তাঁর বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিতে হবে। সাধারণত আপনার বর্ণনা যতো সুনির্দিষ্ট হবে মূল্যায়নও ততো সঠিক হবে।

কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
তা সে ক্রয়/বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে হোক বাঁ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হোক, আপনার কাছে যা আছে,তার প্রকৃত মূল্য যদি আপনি জানতে চান তাহলে আপনি সেগুলু কোন না কোন ভাবে তো মূল্যায়ন করে চাইবেন,তাই না?

মূল্যায়ন এবং মতামতের মধ্যে পার্থক্যঃ
প্রধান পার্থক্য হচ্ছে রেপুটেশনের তাঁর পর আসে জ্ঞ্যান এবং অভিজ্ঞতার। অর্থাৎ আপনি যদি যে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করেন যে আপনার কয়েন বাঁ নোটের দাম কতো?আসল কি নকল তাহলে তাঁদের উত্তর হবে “মতামত”। অন্য দিকে যদি কোন প্রফেশনাল ব্যাক্তি বাঁ প্রতিষ্টানের কাছে প্রশ্ন রাখেন তাহলে তাঁদের উত্তর হলে “মূল্যায়ন”। বাংলাদেশে আপাতত এমন কোন নিবন্ধিত এপ্রাইসাল সার্ভিস নেই। 

খরচের কে দেয়?
যেহেতু এটি একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই পারিস্রমিকের কথা এসেই যায়।বিক্রির চুক্তি পাকাপাকি হলে; সাধারণত ক্রেতা এই পারিশ্রমিক বহন করেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ক্রেতার সুবিধার জন্য বিক্রেতা এই সুবিধার ব্যাবস্থা করে দিতে পারেন।
সবশেষে, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকেই আজকাল ঘরোয়া ভাবে এপ্রাইসাল দিচ্ছে। তাই বুঝতেই পারছেন যে  সংগ্রহ সম্পর্কিত বিষয়ে বাংলাদেশ কোন নিবন্ধিত এপ্রাইসাল সার্ভিস নেই। তাই আপনি আপনার মেন্টরের সাহায্যে আপনার দক্ষতাকে বাড়াতে থাকুন।

National emblem

একটি জাতীয় চিহ্ন হল এমন প্রতীক বা সীল যা একটি রাষ্ট্র বা বহু-জাতীয় রাষ্ট্র তাঁদের জাতির প্রতীক হিসাবে ব্যবহারের করে এবং কেবল তারাই সেটা তাঁদের অফিসিয়াল কাজে ব্যাবহার করতে পারে। 
অনেক জাতিরই একটি জাতীয় পতাকা এবং কোট অফ আর্মস (*সেটি নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে) ছাড়াও একটি আলাদা সিল বা প্রতীক আছে। প্রায় ৮০% দেশের কোন না কোন ব্যাংক নোটে তাঁদের জাতীয় ব্যাংক বাঁ জাতীয় প্রতীক বাঁ তাঁদের কোট অফ আর্মসের ছবি দেখা যায়। অনেকে আবার থিম হিসাবে; কেবল সেই সকল প্রতীক সম্বলিত নোট ই সংগ্রহ করেন । কেউ যেমন আবার পতাকা সম্বলিত নোট সংগ্রহ করে,কেউ সেই দেশের ম্যাপ/নকশা সম্বলিত নোট সংগ্রহ করেন (প্রত্যেক থিম নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে)।

একটি দেশের জাতীয় প্রতীক (National Emblem) এবং কোট অফ আর্মসের মধ্যে সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলাদা পোষ্ট আছে,আমার বইয়ে ও পাবেন। তবে আলোচনার সংক্ষেপ্তিকরনের জন্য দুটি কে একই ধরছি। এর গঠন ,আকৃতি, ডিজাইন ইলিমেন্ট, বাখ্যা, কারন এবং ইতিহাস নিয়ে আলাদা লিখা/পোষ্ট লিখা যায়। ব্যাংক নোটের কমন ডিজাইন ইলিমেন্ট গুলুর মধ্যে এটি অন্যতম। যা আমার “ব্যাংক নোট ডিজাইন ইলিমেন্ট ” নামের লিখা তে আরও ধারণা পাবেন।
প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রতিক ই অনেক গুরুত্ব বহন করে। এটি দেশের শক্তি,সাহস,গরব,বিশ্বাস,নিরাপত্তা, ঐতিয্য, কৃষ্টি,ইতিহাস ইত্যাদির পরিচয় ধারন করে। একটি নোটকে যদি সেই দেশের পরিচয়পত্র ধরা হয় তাহলে সেই দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক সেই রাষ্ট্রের সামগ্রকিতাঁর এবং সার্বভৌমত্বের প্রকাশ করে। প্রতিটি প্রতিকের নকশার পেছনে আলাদা আলাদা গল্প আছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন এবং জানার ইচ্ছা থাকা উচিৎ। এখানে আমি কেবল A থেকে C পর্যন্ত যেসকল দেশের বর্তমান নোটে তাঁদের প্রতীক আছে তাঁদের ছবি দিলাম।

ছবিঃ বরাবরই আমার নিজস্ব সংগ্রহ থেকে। সৌজন্যেঃ Trust Collector
বিঃদ্রঃ আপনার কোনটি সবচেয়ে ভালো লাগলো, বাঁ ভালো লাগার কোন জাতীয় প্রতীক যা আপনার নিজস্ব সংগ্রহের ব্যাংক নোটে আছে তাঁর ছবি কমেন্টে দিতে পারেন।