মার্চ ০১, ২০২০

সংগ্রহের সাইড এফেক্ট

 সাইড এফেক্টঃ ডপমিনের আধিক্য নেশা ও বদ অভ্যাস ও তৈরি করতে পারে। কালো টাকা সাদা করার ভালো উপায়, সরকারি রাজ্বস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশের ক্ষতি করণ, ও সি ডি কম্পপ্লেক্স, এক্সট্রিম ক্ষেত্রে মস্তিকের ক্ষতি (ডান ফ্রন্টাল লোব কর্টেক্স ড্যামেজ)।

 

ফ্রয়েডবাদী মনস্তত্ববিদগন বলেন যে, যারা সংগ্রহ করে তাঁরা হয়তো শিশু কালে বাঁ জীবনের কোন বিশেষ সময়ে নিঃসঙ্গতার স্বিকার হয়েছে। বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ ও সঙ্কলন করে তাঁরা তাঁদের সেই শুন্য স্থানকে ভরাট করার চেষ্টা করে যায়।

এখন এগুলু থেকে আপনি আপনার কোনটি, তা বের করে নিতে পারবেন। এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে ,আপনি যেন আপনার ভেতরের স্পার্ক টি খুঁজে পান যে কেন সংগ্রহ করবো?কি সংগ্রহ করবো?

 

“সংগ্রাহক” কি সংগ্রহ করবে তাঁর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে,জানে যে কি সংগ্রহ হচ্ছে। আর “জমারু” সব কিছুই জমায়,কিছুর বিশেস্বত্ব না জেনেই।

ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

একজন সংগ্রাহক কি কি বিষয় নিয়ে ভাবেন?

 একজন সংগ্রাহক কি কি বিষয় নিয়ে ভাবেন?

শুধু কি সংগ্রহ করবেন? কিভাবে/কোথায় সংগ্রহ করবেন?না আরও অনেক ভাবার আছে।

আজকের সংক্ষিপ্ত বিষয় যারা নোট সংগ্রহ করেন তাঁরা কি কি আনুসাঙ্গিক জিনিস রাখতে ব্যাবহার করতে পারেন?

উত্তরঃ ,স্টোরেজ সিস্টেম, সেফটি বক্স, আতসী কাচ, অনুবিক্ষনীক গ্লাস, ইউ ভি ল্যাম্প, লাইট বক্স, ডি হিউমিডিফায়ার, হিউমিডিফায়ার,রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল, সাবস্ক্রিপশন, ক্রয় রশিদ, স্কেন্যার, স্কেল,মাইক্রোমিটার, আই আর স্ক্যানার, গ্লাভস,আয়োডিন পেন, চিমটা, ট্রান্সিট পাউচ, স্টিকি নোট ইত্যাদি।

সংগ্রহের সিরিয়াসনেস উপর এই লিস্ট টি আরও বড়ো করা সম্ভব, তাছাড়া চাইলে এখানের প্রত্যেকটি পয়েন্ট নিয়ে আলাদা পোস্ট করা যেতে পারে (এতো কিছু জানার আছে)। যদি আপনাদের যথেষ্ট আগ্রহ থাকে।

জানুয়ারি ০৪, ২০২০

মানুষ কেন সংগ্রহ করে?

 সংগ্রহ কেন করে তাঁর অনেকগুলু কারন আমি আমার বইএ লিপিবদ্ধ করেছি। যেহেতু সব কপি শেষ তাই আপনাদের জন্য তাঁর অনুবাদ এখানে দিলামঃ

শৈশব কে পুনঃনির্বাহ করা

আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অভাব মোচন করার স্বার্থে; অতীতকে আঁকরে ধরে রেখে বর্তমানকে বাঁচিয়ে রাখা,

প্রথম সংগ্রহের সময় পাওয়া মানসিক অনুভুতিকে পুনঃউজ্জিবিতকরণ,

কেনা বাঁ সংরহের মাধ্যমে নতুন কোন কিছু পাওয়ার সাথে মস্তিস্কের আনন্দকেন্দ্রের থেকে নিঃসৃত এক হরমোন সম্প্রক্ত,যার নাম ডপোমিন।

টিকে থাকার সফল্যের লক্ষ্যে ,প্রজাতিগত বৈশিষ্ট

অন্যের সাথে সংযুক্ত হওয়ার বাসনা

কোন সমাজের সাথে পরিচিত হওয়ার আকাঙ্খা

পরোপকার

ভ্রমনের সুযোগ বাঁ না হওয়া

বিদেশী আত্বীয় স্বজনের আনাগোনা

নিয়ন্ত্রনের মনোবৃত্তিঃ বিশ্বের ছোট বাঁ বড় কোন কিছুর প্রতিকৃতিকে,

সম্পদের আহোরন, বিভক্তিকরণ ও বন্টন

অনুসন্ধিৎসা

ব্যেক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ

চ্যালেঞ্জ

মানসিক অনূভুতিঃ সময়ের অধিকতর ভালো ব্যাবহার

কোন কিছু খুঁজে বের করার শিহরণ

স্বীকৃতি

শেখার ইচ্ছা,

সময় কাটানোর জন্য নেয়া কাজ

নিজের একার জগতে হারিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা

খ্যাতি

মালিকানার গর্ব

মালিকানার অনূভূতি

এন্ডাওমেন্ট এফেক্ট (অন্য পোস্টের টপিক)

নিজের এবং অন্যদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন

নিজের কাছে বিরল কিছ আছে এমন চিন্তা করার ইচ্ছা

হারানো ব্যাক্তি বাঁ প্রেমের স্মৃতিচারণ

পরিবর্তিত দৃষ্টিকোণ থেকে পার্থিব জগতকে দেখার চেষ্টা

সবই জমিয়ে রাখা প্রবণতা (তিনি কিছুই ফেলে দিতে পারেন না)

অর্থকরী মধ্যম হিসাবে নেয়ার আগ্রহ

নেশা

নিয়ত বিস্মিত হওয়ার আকাংখা

কোন ঘটনার স্মৃতি মনে রাখা

হারিয়ে যাওয়া সময়কে পুনরায় বাঁচা

দেখে মন ভরানো

স্মৃতিচারণ

একাকিত্ব ভোলানোর চেষ্টা

আদিম প্রবৃত্তির প্রকাশ

উত্তরাধিকার সুত্রে প্রপ্তি

সাজ সজ্জা

সম্পদ আহোরন

দৃষ্টিনন্দন

লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধৈর্য পরিক্ষা করণ

মন ভোলানোর উপকরন

গল্প বলার উপকরন

চিত্ত বিনোদন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

আজানাকে জানা বে শেখার উদ্দিপনা উপকরন

ভবিষ্যতের সম্বল বিপদের বন্ধু মনে করা

ইতিহাস,কলা,বিজ্ঞা্ন ও নিরাপত্তা প্রযুক্তির প্রতি আনুরাগ

বিনিয়গ

ধনের উপস্থিতি

সংগ্রহের সামগ্রীর সাথে একটি বস্তুগত সম্পর্ক স্থাপন

নভেম্বর ১৮, ২০১৯

পলিমার নোটের কথা

 পলিমার ব্যাংক নোট কি?

 

গ্রিক শব্দ (poly) মানে অনেক এবং (mer) মানে অংশ। এটি একটি সিন্থেটিক বস্তু যা অনেক বেশি অনুর সমন্বয়ে আণুবীক্ষণিক স্তরে; জালের মতো আকৃতি নেয় তাই একে পলিমার বলা হয়।

পলিমার কিন্তু বিভিন্ন ধরনের হয়। আপনার বাজারের ব্যাগ থেকে শুরু করে জলের বোতল পর্যন্ত অনেক কিছুই বিভিন্ন ধরনের পলিমার জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। তবে আমাদের বর্তমান ব্যাবহ্রিত পলিমার নোটগুলু বাই এক্সিয়াল পলিমার (বিস্তারিত অন্য পোস্টের বিষয়) যা তাঁর জীবন ছোট দানা থেকে প্রথমে একটি বালুনের আকৃতিতে আসে তারপর তা থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রিন্টিঙে যায়। পলিমার নোটের পূরুত্ব সেই বালুনের ভেতরের বাতাসের চাপের উপর নির্ভর করে (বিস্তারিত অন্য পোস্টে)। এক এক দেশের পলিমার নোটের পুরুত্ব যেমন আলাদা আলাদা হয় তেমনি সেই ভেতরের বাতাসের চাপ কতো হবে তা বলতে পারেন রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য। সেই নোটের ৩য় লেভেলের নিরাপত্তা বিশিষ্ট সমূহও রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য। বিঃদ্রঃ আধুনিক নোটের তিনটি লেভেলের নিরাপত্তা সূচক থাকে (বিস্তারিত অন্য পোস্টের বিষয়)।

কিভাবে বুঝব যে কোন নোট কোন পলিমারের?

উত্তরঃ বাজারে বর্তমানে দুইটি প্রধান পলিমার সাবস্ট্রেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে, একটি হলো “গার্ডিয়ান” অন্যটি “সেইফ গার্ড” । আধুনিক পলি প্রোপেলিনের যে পলিমার গার্ডিয়ান প্রস্তুত করে তা সি সি এল সিকিউর [CCL secure]নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসে। আর অন্য দিকে সেইফ গার্ডের পলিমার সাবস্ট্রেট আসে ডি এল আর [DLR] নামে অন্য একটি কম্পানি থেকে যা তাঁরা ২০১৩ থেকে শুরু করেছে। তাঁর মানে ২০১৩ সালের আগের সব আধুনিক পলিমার নোট গার্ডিয়ানের তৈরি।

এখন হয়তো খেয়েল করেছেন আমি বার বার আধুনিক পলিমার কথাটি ব্যাবহার করছি। কারন হচ্ছে শুরুর দিকের পলিমার নোট ডেভ্লাপ হওয়ার আগে ছিলো টাইভ্যেক নামে আরেকটি ম্যাটেরিয়াল,যেটি নিয়ে আমার অন্য পোস্ট আছে। সেটিকে আধুনিক পলিমারের আদি পুরুষও বলতে পারেন। এছাড়াও বাজারে আরও কয়েকটি সাবস্ট্রেট আনার চেস্টা করা হয়েছিলো যা বিভিন্ন কারনে হয়ে উঠেনি যেমন -কালি শুকানোর সময়, কালি ঝড়ে পড়ার আশংকা, ঝাপসা প্রিন্টিং, যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাব, প্রাণীজ ফ্যাট ব্যাবহারের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি।

বলে রাখা ভালো রাশিয়া তাঁদের সাম্প্রতিক যে ২০১৮ উপলক্ষে যে S1 স্মারক নোট বের করেছে তাঁর প্রিন্টারের নাম গজনেক [Goznak]  এবং বিস্বস্ত সূত্রমনে জানা গেছে যে তাঁরা বাজারের সাধারন ব্যাবসায়ী কাজে বিক্রিত পলিমার দিয়ে ঐ নোট গুলু বানিয়েছে। যা আবার অনেক আনেক অসাধু ব্যাবসায়ী সংগ্রহ করে অন্য অনেক দেশের ভূয়া পলিমার নোট, প্রাইভেট ডিজাইন ইত্যাদি ধরনের প্রোডাক্ট বানিয়ে বাজারে ছেড়েছে। সেই গল্প না হয় অন্য এক দিনের জন্য থাক।

অন্য দিকে আমার দেখা মতে মরিশাস এবং এঙ্গোলা এরাও যদিও দুটি সাবস্ট্রেট ই তাঁদের নোটে ব্যাবহার করে তবে তাঁরা তা একই ডিনমিনেশনে এখনো দুটি সাবস্ট্রেট একসাথে ব্যাবহার করে নি।কোনটি কি সাবস্ট্রেট তা অপরিপক্ক চোখে বুঝা প্রায় অসম্ভব, আমি বললেও বুঝবেন না। তবে আপনাদের যথেষ্ট আগ্রহ থাকলে আমি লিখতে পারবো। আমার জানামতে এখন বর্তমানে এমন কমপক্ষে তিনটি রাষ্ট্র আছে যারা গার্ডিয়ান এবং সেইফ গার্ড দুটি সাবস্ট্রেট দিয়েই তাঁদের একই ডিনমিনেশনের কিছু নোট বাজারে নিয়ে এসেছে। ( * আমি আমার আগের একটি পোস্টে যুক্তরাজ্যের দুটি আলাদা সারস্ট্রেটের নোটেরই ছবি দিয়েছিলাম,দেখতে পারেন)

নভেম্বর ২৩, ২০১৮

থিম নির্বাচনঃ পর্ব ১

 থিম নির্বাচনঃ পর্ব ১

এক্ টা নোটে বাঁ কয়েনের অনেক গুলু অংশ থাকে, প্রতিটি অংশের নিজস্বতা আছে যা মধ্যে কমন কিছু থাকা কে আমরা থিম বলি। এটা বুঝলে অনেক সহজ কিন্তু তারপরও অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। অভিধানের শব্দের মত থিমের কোন শেষ নেই। কিন্তু বিভিন্ন থিমের বিভিন্ন স্তরের তাৎপর্য আছে। তাই নতুন যারা আসছে তাঁদের সুবিধার জন্য থিমের কিছু উধারন দিলামঃ

আপনি সিগনেচার বাঁ মানুষের ছবিঃ বিজ্ঞানী, নোবেল পুরস্কার বিজেতা, আইনজীবী, সঙ্গীত বাঁ চিত্র শিল্পী, জাতির পিতা/মাতা, বাঁ যে কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি।

বাঁ টেস্ট ইস্যু, ডেমো ইস্যু, প্রুফ ইস্যু, স্মারক, রিপ্লেস্মেন্ট, স্পেচিমেন্ট, প্রমোশনাল, ইরর, প্রাইভেট ইস্যু, সুভেনিয়ার নোট, টোকেন নোট, নিউমেস্মেটিক প্রডাক্ট ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারেন, কিন্তু এখানের যে কোন টি ই এতো বিশাল ফিল্ড যে কেউ আপনার হাত না ধরলে আপনি হারিয়ে যাবেন। এজন্যই আপনার ঐ ফিল্ডের একজন এক্সপার্টকে মেন্টর হিসাবে নেয়া উচিৎ। মেন্টরদের সহায়তার জন্য এখানের প্রতি বিষয় নিয়ে আলাদা পোষ্ট করা যাবে। লাগলে জানাবেন।   

এমন করে প্রতিটি ডিকশনারি শব্দের পেছনে খুজলে আপনি কোন না কোন থিম পেয়ে যাবেন। আপনি যদি ১৯ এবং ২০ শতকের অনেক পুরাতন নোট গুলূ দেখেন তাহলে খেয়াল করবেন যে, যে সব দেশের নোটে সময়কাল বাঁ সাল দেয়া নেই তাঁদের নোট গুলু সাধারণত ডিজাইন,ব্যাংকের নাম, *কোট অর আর্মস,সিরিজ বাঁ সিগনেচার ইত্যাদি দিয়ে সময়কাল নির্ণয় হতো। পরবর্তীতে কিছু সংগ্রাহক সেটাকেই একটা থিম বলে ধরে নেন,এবং এভাবেই সিগনেচার থিম সংগ্রহের উৎপত্তি। (*কোট অফ আর্মস এবং এম্বলাম নিয়ে আলাদা পোষ্ট দেয়া যাবে যদি জানতে চান।)

কয়েনের ব্যাপারে ধাতু, সময়কাল,ওজন,আকার, শাসনকাল,মিন্টেজ, ঔপনিবেশিক তত্ত্ব  ইত্যাদি অনেক অনেক বিষয় ই ভাবতে পারেন। আসলে সেই বিষয় নিয়ে বলতেই কষ্ট হয় যে বিষয় নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। এই সকল  বিষয় নিয়ে বাজারে বিভিন্ন জনের লেখা বই পর্যন্ত আছে।

কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো আপনি নির্বাচন কিভাবে করবেন?

উত্তরঃ আপনি প্রথমে ভাবুন যে আপনার আগ্রহ কিসে? বাঁ আপনার কি সম্পর্কে জানার ইচ্ছা? আপনার উচিৎ সেই বিষয়কে থিম হিসাবে নেয়া যা আপনি চালিয়ে যেতে পারবেন আপনার বর্তমান আগ্রহের কারনে। 

আপনার উচিৎ কোন মেন্টরের সাথে পরামর্শ করে,আপনার আর্থিক, সামাজিক ইত্যাদি অবস্থা বিবেচনায় কি থিম করা যুক্তিপূর্ণ হবে তা নির্বাচন করা। এ কথা বলার কারন হচ্ছে ধরুন আপনি নির্বাচন করলেন যে কেবল বিড়ালের ছবি আছে এমন নোট বাঁ কয়েন সংগ্রহ করবেন, তবে আমি আগে থেকেই বলে রাখি যে ১০ বছর পড়েও হয়তো আপনার সংগ্রহ এক হাতে গুনা যাবে। আশাকরি উধারন টি বুঝতে পেড়েছেন। আপনি হয় কোন জনপ্রিয় থিম করতে পারেন অথবা কয়েকটি একই ধাঁচের থিম নিয়ে একটি থিমের ফ্যামিলি করতে পারেন। যেমন প্রথমে শুরু করলেন কচ্ছপ দিয়ে (স্থলচর এবং জলচর)। সেটা করতে করতে আপনি ভাবলেন যে কচ্ছপে এমন কি আছে যা অন্য প্রানীতে কমন? কচ্ছপ উভয়চর, ডিম পারে ইত্যাদি ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে আপনি হয়তো সমগ্র সামুদ্রিক প্রানী নিয়ে একটি থিম দাঁড় করালেন। 


মেন্টরগন থিম নির্বাচনের সময় যা ভাববেন- জনপ্রিয়তা,ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংগ্রহকের সামর্থ্য, শিষ্যের জ্ঞানের স্তর,বাজারের নাব্যতা, মূদ্রাধিক্য,মুদ্রা স্বল্পতা, অভিবাসন,যাত্রি আগমন হার, শিষ্যের সামাজিক ব্যাপ্তি ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। 

এখন মনে হবে এত কিছু না করেই তো এতো দিন চলে এসেছি,তো কি হয়েছে?

উত্তরঃ একই বলে ব্যাবস্থাপনা, একজন রাজমিস্ত্রি এবং একজন প্রকৌশলীর মধ্যে যেমন পার্থক্য আছে ঠিক তেমনি কেউ চিন্তা করে কাজ করার মধ্যে এবং কাকতালিয় পরামর্শ দেয়ার মধ্যে একই রকম পার্থক্য আছে।


নভেম্বর ১৮, ২০১৮

সংগ্রাহক অমনিবাসঃ পর্ব ২

 একজন প্রকৃত সংগ্রাহক সবসময় তাঁর ফিল্ডের আইটেম সম্পর্কিত জ্ঞানের অন্বেষী থাকেন, এর মানে সবসময় এই না যে তিনি তাঁর আইটেম কে এক্সিবিশনে দেবেন,বরং হতে পারে যে তিনি তথ্য সমূহ এমন ভাবে সংরক্ষণ করছেন যেন তার কাছে যদি তাঁর ডোমাইন ম্যাটারে এক্সপার্ট মতামত চাওয়া হয়,তবে তিনি যেন দিতে পারেন। উদাহরনঃ আপনি যদি এমন হামিদুল্লহা,১০০ টাকার নোট কিনেন,তা সে যতটাই দুর্লভ হোক না কেন;যদি না আপনি এটাই না জানেন যে সেটা কেন এতটা দুর্লভ,কিভাবে আসল নকল চিনবেন, কিভাবে নোটটির ইতিহাস পড়বেন বা বের করবেন এর কেনই বা এই নোটটি অন্য নোট থেকে আলাদা তাহলে এই সংগ্রহ মূল্যহীন। আপনি যদি আপনার সংগ্রহের সকল আইটেমের সম্পর্কে জানেন ও কিন্ত তা কোথাও লিখে রাখেন নি,আতয়েব অন্যকে সহজে জানাতে পারবেন না,তাহলেও সেই জ্ঞানের সার্থকতা কম। সহজ কোথায় বললে -আপনি যদি রোলেক্স ঘড়ির সংরক্ষণ বা আসল নকলই না চেনেন আপনার সেটা ব্যাবহার অফলপ্রসূ।

আপনাকে আপনার ডোমেইন নলেজ তো রাখতেই হবে তাঁর উপর আপনার ডমাইনে আর কে কে আছে তাঁদের সাথেও সম্পর্ক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া, প্রফেশনাল মেম্বারশিপ এর সাথে অতিরিক্ত শক্তি ও বল যোগায়।কারন এর মাধ্যমে আপনি এই ইকোসিস্টেমের সাথে সহজে সংযুক্ত থাকতে পারেন। তাঁরা কোন জার্নাল বের করলে তাঁর থেকে নলেজ রেফারেন্স বা আইটেম সোর্স করতে পারেন, মেম্বেরশিপ ফি দিয়ে সংরহজগতকে পৃষ্টপোষন করতে পারেন। কোন সংগ্রহজনিত সমস্যার গন আলচনার মাধ্যমে সমাধান পেতে পারেন,এই জগতে অন্যের চিন্তা ধারা বুঝতে পারেন, স্বীকৃতি পেতে পারেন,নিয়মিত সেমিনার বা CPD তে অংশগ্রহণ করে নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারেন,এমন ইত্যাদি আরও অনেক কাজ আছে। হয়তো তিনি প্রদর্শন,প্রদর্শনী, সংগ্রহ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, কিন্ত সেটা অপশনাল।

একই আইটেম সংখ্যাঃ আপনার নিয়ত এখানে বিবেচ্য বিষয়, বিভিন্ন ধরনের পরিক্ষা নিরিক্ষার উদ্দেশ্যে কেউ একই আইটেমের তিনটি কপি রাখেন। একটি হাতানোর জন্য,একটি প্রদর্শনীর জন্য,একটি পরীক্ষার জন্য।

কি জিনিস সংগ্রাহক আইটেম হতে পারে?

যদি আপনি মনে খোরাক দিতে সংগ্রহ করেন তাহলে যা ইচ্ছা তাই সংগ্রহ করেন,আমার কিছুই বলার নেই, কিন্ত যদি তার সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি চান তাহলেই কেবল আমার উপরের কথা গুলু কাজে আসবে। বিভিন্ন বিরল সংগ্রহের মধ্যে আমি- ইট,পারফিউম,কনডম, বোতাম, চুইংগাম, পাথর, মাটি, পাতা, প্রজাপতি, প্রাণীর দাঁত, উল্কা পিন্ড,কাঠের টুকরা, পেন্সিল শাপ্রনার, সিগারেট, ইত্যাদি সংগ্রহ করতে দেখেছি। 

নভেম্বর ১৮, ২০১৭

আবারো একটি ব্যাংক নোট সাবস্ট্রের জন্মোপাখ্যানঃ তাইভ্যেক

 আবারো একটি ব্যাংক নোট সাবস্ট্রের জন্মোপাখ্যানঃ

যদিও কাগজের মতো দেখতে, থাইভ্যাক [Tyvek] আসলে একটি সম্পূর্ণ সিন্থেটিক (মানব নির্মিত) উপাদান। ১৯৫৫ সালের দিকে, ডিউপন্টে নামের একটি ক্যেমিকেল প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক জনাব জিম হোয়াইট একদিন তাঁর একটি ল্যাবের পরীক্ষা চলাকালে পাইপ থেকে পলিথিনের তুলতুলে গুটি গুটি (ফ্লাফ) বের হতে দেখেলেন, তিনি এর আগে এরকম আর কখনো দেখেননি। তো একজন করিতকর্মা গবেষক হিসাবে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টির ব্যাপারে এবং এর ব্যাবহারিক প্রয়োগের ব্যাপারে উপরমহলে জানালেন, এই ভাবে থাইভ্যাক ষাঠের দশকের শেষ দিকে বাজারে আসে।

কাপড়ের মতো; থাইভ্যাক বুননের মাধ্যমের বানানো হয় না বরং প্রথমে প্লাস্টিক গলিয়ে একে অনেক জোরে ঘুরিয়ে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো তন্তুতে পরিবর্তন করা হয়,তারপরে  অনেক তাপ এবং চাপের দ্বারা অনেকটা পারটিক্যাল বোর্ডের মতো ব্যাবহারিক রূপ দেয়া হয়। মূলত এটি ওলেফিন পরিবারের একধরনের তন্তু দিয়ে গঠিত যার ইতিহাস নিয়ে আলাদা গল্প লেখা যাবে। এখানে না হয় থাইভ্যাকের কথাই বলি।

একটি প্রোডাক্ট ডেভলাপ করার সময় আমদের অনেক বিষয়ের খেয়াল রাখতে হয়,আর তা যদি জাতীয় সম্পদ (মুদ্রা) হয়,তাহলে তো কথাই নেই। কতো যে ধাপ পেরোতে হয় কেবল একটি সামান্য পরিবর্তনের জন্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আলোচনাকে সহজতর করতে আমি সামান্য কয়েকটি বিষয়য়ের ব্যাপারে ধারনা দিচ্ছি।

হালকা ওজন ও নমনীয়তা, অভঙ্গুরতা,জল প্রতিরোধ্ ক্ষমতা, মুদ্রণ এবং রূপান্তরযোগ্যতা, পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা ইত্যাদি আরও অনেক শর্ত থাকে যা দেশ ভেদে আলাদা হয়।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে থাইভ্যাক অনেকাংশেই এসকল দাবি সমূহকে পূরণ করে। এটি রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় (কারন কোন আঠা ব্যাবহার হয় না)। যখন এটিতে পর্যাপ্ত তাপ ও চাপ প্রয়োগ করা হলে এটি আধা-শক্ত অবস্থায় ফিরে আসে (থার্মোপ্লাস্টিক ধর্মের কারনে) তাছাড়া, থাইভ্যাকের সাথে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরণের ক্যেমিক্যালি নিষ্ক্রিয় উপাদান বাজারে আছে যা এর ব্যাবহার এবং রূপায়নযোগ্যতা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।

থাইভ্যাকে কেন জনপ্রিয় হয়েছে?

ব্যাঙ্ক নোটের শর্ত পূরণ ছাড়াও থাইভ্যাকের জনপ্রিয়তার অন্যান্য কারন সমূহ হচ্ছে-এটি দেখতে কাগজের মত মনে হলেও, আদতে এটি কাগজ নয় তাই অনুভূতিতে আলাদা মনে হয়। থাইভ্যাক -৭০ ° C থেকে +১১৮ ° C পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। জল-প্রতিরোধী, কিন্তু বাষ্প বের হতে দেয়, , যার অর্থ হল জলীয় বাষ্প উপাদানটির পাতলা চাদরে প্রবেশ করতে সক্ষম, কিন্তু তরল জল নয়। ছেঁড়া বেশ কস্টসাধ্য কিন্ত কাটা সহজ। পরিস্কার করা সহজ তাই জীবানুমুক্ত রাখা সহজঅধিকাংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মুদ্রণযোগ্য এবং ল্যামিনেটিং,ওয়েল্ডিং,আঠা লাগানো ইত্যাদি অনেক ভাবে ব্যাবহারযোগ্যতা আছে। থাইভ্যাক ছেঁড়া ছাড়া বারবার ভাঁজ করলেও অনেকবার পর্যন্ত টিকে থাকে। ১০০% পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এমনকি এফ ডি এ পর্যন্ত একে খাদ্য সামগ্রীর কন্টেইনার হিসাবে ব্যাবহারের অনুমতি দিয়েছে।

থাইভ্যাক বর্তমানে সুরক্ষা কাপড়,বইয়ের পাতা এবং মলাট, ইন্সুলেশন উপকরন,ভবনকে জলীয় বাষ্প প্রতিরোধী করতে, মেডিক্যেল প্যাকেজিং,ডায়পার, গাড়ির সিট কভার,ড্রাইভিং লাইসেন্স, পরিধেয় কাপড়, ব্যেগ, ওয়ালপেপার, এমন আরও নানা অভাবনীয় ক্ষেত্রে ব্যাবহার হচ্ছে। এর মধ্যে আইলস অফ ম্যন, কোস্টারিকা এবং হেইতি এই তিনটি রাষ্ট্র আশির দশকের শুরুতে; ব্যাংক নোটে আলাদা উপকরন ব্যাবহারের জন্য চিন্তা শুরু করে। (*কেন শুরু করে এবং কেন বন্ধ হলো এবং তারপর কি হলো তা অন্য দিনের গল্প,জানতে চাইলে প্রশ্ন করুন)। 

 

 

সমস্যাঃ তাহলে বলবেন এটা চলছে না কেন ব্যেঙ্ক নোটে?

যদিও যেহেতু জল প্রতিরোধী তাই সাধারন পানি বাহিত রঙের কালি শুকাতে অনেক সময় লাগে,
আর লেজার প্রিন্টিং এর তাপে কখনো কখনো ম্যেটেরিয়ালটি বিকৃত হয়ে যার। 
যদিও এটি অগ্নি প্রতিরোধি না কেননা প্রায় ৮০ ° তাপমাত্রা কাছকাছি এতে গঠনগত বিকৃতি
 আস্তে শুরু করে। জল-প্রতিরোধী, কিন্তু বায়ু প্রতিরোধী না. UV ইনহিবিটর ব্যবহার 
না করলে খুব বেশি সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে. 
তেল-ভিত্তিক দাগগুলির জন্য একটি অনুরাগ আছে, যা পরিষ্কার করা খুব কঠিন হতে পারে,
 ভাঁজ করলে ক্রিয়েজ হয়