জানুয়ারি ৩১, ২০২৩
আন কাট শিট।[Uncut sheet] এবং প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]
জানুয়ারি ১২, ২০২৩
মুদ্রা [Currency], নোট [Note] এবং ব্যাংক নোট [Bank note]
☝🏾মুদ্রা
[Currency] কি?
কোন বিনিময়
এবং পরিশোধের মাধ্যমকে মুদ্রা বলা যায়। মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস দেখলে সময়ের ধারার
সাথে সাথে যথাক্রমে তিনটি প্রধান প্রকরন উঠে আসে।
১) পণ্য মুদ্রা
(Commodity money)
২) ঘোষিত মুদ্রা
(FIAT money)
৩) ডিজিটাল
এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা
পণ্য মুদ্রা (Commodity money): যখন কোন দুস্প্রাপ্য
ধাতব বস্তুর মূল্য নির্ধারিরন করে তাদের বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করা হয় তখন
তাদের Comodity money বলা হয়। অতীতে সোনা,রূপা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি কয়েন গুলু ছিলো Commodity
money. যেহেতু ধাতু গুলু নিষ্কাশন কঠিন এবং দুর্লভ তাই মুল্য দুষ্প্রাপ্যতার উপর নির্ভর
হয়ে রয়ে যায়।
এরপর আসে, ঘোষিত মুদ্রা যুগ (FIAT moey):
যেখানে রাষ্ট্র বা সরকার ঘোষনা করে যে আজ থেকে এই কাগজ বা ধাতুর মূল্য ‘এতো’ নির্ধারণ
করা হলো। তা সে যে ধাতু বা কাগজ ই হোক না কেন। এই যুগে ই ‘নোট’ বা কাগজী মুদ্রার
প্রচলন শুরু হয়। ফলে এখানে মুদ্রা মূল্য কেবল বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে রয়ে যায়।
তারপর শুরু
হয় ডিজিটাল এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা (Crypto currency): এতো দিন পর্যন্ত মুদ্রার
একটি সাধারন বৈশিষ্ট ছিলো যে তা বস্তুগত অর্থাৎ হাতে ধরা ছোঁয়া যায়। এই যুগে পদার্পণের
পর মুদ্রা তার বস্তুগত আকার আকৃতি ছেড়ে ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল জগতে পদার্পণ করে। যা
সাধারণত কম্পিউটারের সাহায্যে কোন কঠোর শর্ত পূরনে তৈরি এবং হাতবদল হয়। এই পর্যায়ে
মুদ্রার মূল্য চাহিদা এবং যোগানের উপর নির্ভরশীল হয়।
☝🏾নোট
[Note] কি?
প্রাথমিক দিকে
বানিজ্যিক ব্যাংক গুলু থেকে মসলা বা লবনে, সোনা বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রা
অথবা মতো কোন চাহিদাসম্পন্ন বস্তু কে বিনিময়/পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি
পত্র দেয়া হতো। যেখানে লিখা থাকতো যে বহনকারীকে চাহিদা মাত্র এই প্রতিশ্রিতি পত্রের
প্রেক্ষিতে এখানে উল্লেখিত পরিমান আইনবদ্ধ মুল্য [Legal tender] (তৎকালীন সময়ে যা সোনা
বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রার ওজন সমপরিমান) দিয়ে পরিশোধ করা হবে। এই শপথ/প্রতিশ্রুতিটি
একটি *কাগজে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান হিসাবরক্ষকের সাক্ষর সহ লিখা থাকতো। এই টার্ম
টি আমরা এখনো ব্যাবহার করি যেমন [Could you please note it down for me] . এই Note
ই সেই Note.
পরবর্তীতে সেই
বানিজ্যিক ব্যাংক সমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় ,জাতীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়ে গিয়েছে। যেখানে তাদের মূল আদর্শ ছিলো যে কেউ কখনো কোন ‘নোট ’ বা
‘প্রতিশ্রুতি পত্র ’ নিয়ে আসলে তাদের যেন [Legal Tender] দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখা যায়।
অর্থাৎ প্রথম দিককার সকল ‘নোট’ ই এক সময় মুল্যবান কয়েন/ধাতব মুদ্রা [Legal Tender]
দ্বারা সমর্থিত ছিলো। অন্য ভাবে বলতে গেলে নোট কে আসল মুদ্রা হিসেবেই ধরা হতো না। মূলত
পরিবহন সুবিধার স্বার্থেই নোট ব্যাবহার শুরু হয়েছিলো যা একটি প্রতিশ্রুতি পত্র ছাড়া
অন্য কিছু না।
একসময় যখন ব্যাংক
গুলু সেই আদর্শ কে ত্যাগ করে তাদের ইচ্ছামতো ধাতু এবং কাগজী নোট জারি করে ঘোষনা দিলো
যে ‘’আজ থেকে এই ধাতব/কাগজের টুকরোর দাম ‘এতো’ নির্ধারিত হলো’’, তখন থেকেই প্রকৃতভাবে
শুরু হলো FIAT money তথা ব্যাংক নোটের ব্যাবহার।
অতএব কাগজে
লিখিত সকল মুদ্রা যা ধাতব মুদ্রার/কয়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাবহ্রিত হতো তাদের নোট বলা
যায়। সেই যুক্তিতে ব্যাংক নোট; কেবল এক ধরনের কাগজী মুদ্রা। মানে সকল কাগজী মুদ্রা
ব্যাংক নোট নয় কিন্তু সকল ব্যাংক নোট ই কাগজী মুদ্রা।
☝🏾ব্যাংক নোট
কি? [Bank note]:
নোট হচ্ছে,
একটি *কাগজী (এখানে কাগজী শব্দ টি জেনারালাইস করা হচ্ছে) প্রতিশ্রুতি পত্র যা সধারন্
ত কোন একটি *অনুমোদিত (এখানে অনুমোদন শব্দটি জেনারালাইস করা হচ্ছে) ব্যাংক বা সত্তা
দ্বারা জারি করা বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয়
ব্যাংক জড়িত থাকে তাই অনেক সময় ‘ব্যাংক নোট’ শব্দটি ‘নোট’ শব্দের সাথে উতপ্রত ভাবে ব্যবহৃত হয়।
সাধারন,বৈশিষ্ট
বিবেচনায় নোটের অন্য একটি সংজ্ঞা দাঁড় করানো যায়। এমন একটি অধাতব (কাগজ,কাপড়,পলিমার
ইত্যাদি) বিনিয়োগ/বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম যা কোন রাজনৈতিক সত্তা দ্বারা কঠোর নিয়ন্ত্রনের
ভেতরে জাড়ি করা হয়,যেখানে অনুমোদনকারীর স্বাক্ষর, সীমিত ক্রমিক সংখ্যা [Serial
number],আইনি সমর্থন, ভবিষ্যতে মূল্য পরিশোধযোগ্যতার প্রতিশ্রুতিমূলক বার্তা
[Promissory clause] ইত্যাদি সহ কিছু সাধারন উপাদান অবশ্যই থাকে।
উল্লেখ্যঃ ব্যাংক
নোট Credit certificate, Cheque, coin, Credit note , Travellers cheque, Token, Tickets,
Stamps, Exonumia ইত্যাদি থেকে আলাদা।
জানুয়ারি ১১, ২০২৩
প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency],আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue],উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত মুদ্রা [Salvage Looted money]
ডিসেম্বর ৩১, ২০২২
পলিশ করা কয়েন বুঝার উপায়। পর্ব-১.[How to recognise polished coin (Hand polishing)]
ডিসেম্বর ২৮, ২০২২
কিভাবে বুঝবেন আপনার নোট টি ওয়াশ করা বা ট্রিটমেন্ট করা কি না।[How to find out if a note is washed] Part -2
প্রথমে এই নিয়ে আমি যে লেখা গুলু লিখেছি সেগুলো পড়ুন। তার পর না বুঝলে প্রশ্ন করুন। চ্যাট বা টেলিফোনে এসব বুঝানো অনেক কঠিন।এগুলো ব্যাবহারিক অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞ্যান। তাত্বিকভাবে বুঝানো প্রায় অসম্ভব। তারপরও আরও কিছু টোটকা দিলাম বুঝার চেষ্টা করুন।
আমি বাংলাদেশে আসলে সরাসরি দেখা করেও প্রশ্ন করতে পারেন।
এখানে যা দেখিয়েছি-
১) প্রেস করলে এবং কঠোর রাসায়নিক ব্যাবহার করে নোট পরিস্কার করলে ইবটাগ্লিও প্রিন্টিং এর কালি ক্ষয় হয়ে যায়। নোটে মলিন ভাব চলে আসে,নোটের কাগজে মরা মরা ভাব চলে আসে, অনেক সময় ই তা আর কড়কড়ে থাকে না।(*যাকে আমরা ইংরেজীতে Limp বলি)।
২) ক্যামিকেল এবং হিট ব্যাবহার করলে কালি তে সুক্ষ্ম ফাটল বা Crack দেখা দেয় যা আমি আমার মাইক্রোস্কোপের ছবি থেকে দেখালাম।ভালো করে খেয়াল করুন।
৩)হিট প্রেস করলে নিরাপত্তা ফয়েল কিছুটা শেপ চেঞ্জ করে, কুচকে যায়,বিবর্ন হতে পারে,যা ছবিতে আমি তুলনা দেখালাম।
৪) কঠোর ক্যামিকেল ব্যাবহারে নোটের UV ফিচার সহ আরও অন্যান্য ফিচার নষ্ট হতে পারে যা নোটের সামগ্রিক কালেকশন ভ্যালু কে এফেক্ট করে। যা ছবিতে তুলনা দেখালাম।
৫) একটি পুরোনো নোট যা দেখতেও পুরোনো সেটা কে সেলার যতো ই টোকা দিয়ে কসরত করে দেখাক তা প্রেসেড্ নোট।কারন আপনার জন্য নিশ্চয়ই ৩০ বছর ধরে পুরোনো নোট টা কারো পকেটে গিয়ে ভাজ না হয়ে বসে থাকে নি,অতয়েব কমন সেন্স ব্যাবহার করুন।খুব কাছে থেকে দেখলে ভাগের দাগ দেখতে পাবেন।
৬) কলমের কালি যদি পেন্সিলের মতো মলিন বা ছাড়া ছাড়া দেখা যায় তাহলে সেটা কে ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে বুঝতে হবে। কারন নিশ্চয়ই কেউ আপনি সংগ্রহ করবেন বলে আলতো করে কলম দিয়ে নোটের গায়ে লিখে নি।সাধারণ মানুষ কলম দিয়ে নোটে লিখলে বেশ চাপ দিয়েই লিখে থাকে।এমনকি প্রেস করলে সেই চাপ ও গায়েব হয়ে যায় কিন্তু সেই কলমের কালি আবছা ভাবে থেকে যায়।ছবিতে দেখুন।
এমন আরো অনেক বিষয় আছে যা অভিজ্ঞতালব্ধ ব্যাবহারিক জ্ঞ্যান, চাইলেই লিখে শেখানো সম্ভব না। তবে প্র্যাক্টিস করতে করতে বুঝতে এবং শিখতে পারবেন।
ডিসেম্বর ২১, ২০২২
পুরনো নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য [Things to consider before buying ancient banknotes ]
যদিও আমি আন্তর্জাতিক এবং আধুনিক ব্যাংক নোটের অনুরাগী তবে,পুরনো নোট কেনার আগে নিচের বিষয় সমূহ আমি লক্ষ্য করবো-
১)সেই নোট এর বিস্তারিত জানবো এবং পড়বো যে কি কি ধরনের সিকুরিটি ফিচার ছিলো তখনকার সময়ে সেই দেশে যা ব্যবহার হতে পারে,এবং রেফারেন্স কালেক্ট করবো মেলানোর জন্য ।
২) পেডিগ্রি (রেপুটেড সেলার) ৩) নোটের কাগজের স্পর্শ অনুভূতি ( কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সম্ভব)
৪) জলছাপ (যদি থাকে,যা থাকাটা স্বাভাবিক)
৫) সিকুরিটি থ্রেড ( প্রথম যখন এগুলো প্রচলন হয় তখন সলিড ছিলো) তার পর স্টিচ্ড এবং মাইক্র প্রিন্ট এর থ্রেড এসেছে।
৬) নোটে প্রিন্টিং এর গুন গত মান আতসী কাঁচ দিয়ে পরিক্ষা, জল পরিক্ষা, লাইম টেস্ট,মেলামাইন টেস্ট, পেন টেস্ট ইত্যাদি নানা বিধ পরিক্ষা আছে।
কিছুটা আধুনিক হলে UV টেস্ট,ইনফ্রারেড টেস্ট,
৭) সাইজ মাপবেন,পুন্খানুপুনখ ভাবে।
৮) অন্য একটি সেম নোট থাকলে তার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
৯) মুদ্রন কোয়ালিটি এবং ডিজাইন হবে স্পষ্ট এবং ছোট হওয়া সত্বেও লেখা পড়া যাবে।(দেখার জন্য ম্যেগ্নেফাইং গ্লাস ব্যাবহার করুন).
৯) বিজ্ঞদের মূল্যবান পরামর্শ নিতে পারেন,যা ফ্রি পাওয়ার আশা করবেন না।(It costs to learn,so why give free,and if you got something good;you should charge for it and pay for it)
১০) ডিজিটাল হেল্প নিতে পারেন।
আরও অনেক কিছু আছে যা বলা সময় সাপেক্ষ।এই নিয়ে সেমিনার করা যেতে পারে।
আগের কিছু কিছু নোটে এম্বোসিং বা ডিবসিং থাকতে পারে, যা নিজেও একটি নিরাপত্তা ফিচার।
কোন কোন কাগজ লাইম,মেলামাইন ইত্যাদির দ্বারা ট্রিটেড হতো
After some were counterfeited in 1695, the Bank of England had to find a way to secure them. So beginning in 1697, the Sutton Courtenay Mill, in Berkshire south east England, manufactured watermarked paper with a loop pattern for the Bank's smaller denomination banknotes.