কীভাবে অ্যাসিডিক কাঠের পাল্প কাগজ শুরু হলো?
আমেরিকায়
কাগজের ইতিহাসের প্রথম
দিকের আমেরিকান কাগজ প্রস্তুতকারীরা সীমিত
পরিসরে টেকসই কাগজ তৈরি করতো।
যেখানে তুলনামূলকভাবে
কম বাহ্যিক ক্যামিকেল ব্যাবহার হতো
এবং তুলা এবং লিনেনের
পুরনো কাপড় ব্যবহার হতো,আজকালের
মতো কাঠ ব্যাবহার হতো না। কোন
যান্ত্রিক উপায় ব্যাবহার না হওয়ায়, তুলা এবং লিনেনের আঁশ গুলু খুব ছোট ছোট করা হতো
না। আমেরিকান হাতে
তৈরি এই প্রথম দিকের
কাগজে লম্বা সেলুলোজ ফাইবার এবং সামান্য গ্রেইন
থাকতো, ফলে সেই দীর্ঘ আঁশযুক্ত কাগজগুলিকে অস্বাভাবিকভাবে মজবুত এবং
টেকসই হতো।
লেখার সময়
ব্লিডিং ছাড়াই যেন কাগজে
কালি বসতে পারে তার
জন্য প্রাণীজ আঠা এবং জেলটিন
আবরণ যোগ করা হতো।
প্রথমদিককার
সেই সকল শীটগুলুতে
প্রান্ত পালকের মত অমসৃণ বা অলঙ্কৃত থাকতো। ১৫শ শতকের পর থেকে অনেক পেপার প্রস্তুতকারক
তাদের তৈরি কাগজে জলছাপ রেখে দিতো নিজেদের মার্ক রাখার জন্য। কাগজের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারনে প্রযুক্তির
উন্নিতি দ্রুত হতে থাকে। ১৮০৬
সালে কাগজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মন্ডের রেজিনকে থিতিয়ে প্রসারিত করার জন্য তুঁতে
[Alum] ব্যবহার শুরু হয়।
। “তুঁতে” রাসায়নিক ভাবে অ্যাসিডিক এবং ধোয়ার প্রক্রিয়া
থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সরিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন বাড়লেও অন্তিম ফলাফলের কাগজের স্থায়ীত্ব
কমে যায়।
শিল্প
বিপ্লবের সময় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি কাগজ তৈরিতে
খাটো ফাইবারযুক্ত
কম টেকসই কাগজের প্রচলন এবং চাহিদা শুরু
হয় যার উৎপাদন বেশী। সেগুলু খবরের কাগজ, যুদ্ধের লিফলেট, বন্দরের মাসিক রিপোর্ট, থিয়েটারের
নাটকের বিজ্ঞাপন ইত্যাদির কাজে ব্যাবহার হতো। ক্রমে অ্যালাম/রেসিনের সাথে,
ক্লোরিন তথা ব্লিচ যুক্ত করার ফলে কাগজের
তন্তু আরও দুর্বল হয়ে
পড়ে এবং কাগজের অম্লতা,
বিবর্ণতা এবং ভঙ্গুরতা দেখা
দেয়,কিন্তু কাগজের অধিকাংশ কাগজের
প্রয়োজন ই যেহেতু স্বল্পকালীন ছিলো তাই এটা তখনকার জন্য খুব বড় মাথা ব্যাথা ছিলো না।
সেজন্যই এখন সেগুলু কনজারভেটরদের
জন্য ভোগান্তির কারন।
এই
উপাদানগুলির প্রতিটি আমেরিকান কাগজের আয়ুষ্কাল হ্রাস করতে প্রভাব রেখেছে। আধুনিক
কাগজের দুর্বলতার
সবচেয়ে বড় একক কারণ
হিসেবে দায়ী করা যায় র্যাগ
এবং লিনেন ব্যাবহার বাদ দিয়ে কাঠ/গাছ থেকে
কাগজের মন্ড প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া কে। র্যাগ,লিনেন
বা তুলার ন্যাকড়ার তুলনায়,
কাঠ অনেক বেশী ছিলো এবং সস্তাও ছিল, যা কাগজ
তৈরির জন্য এটিকে ফাইবারের
একটি অন্যতম উৎস হিসেবে তুলে ধরে।
মন্ড থেকে
তৈরি কাগজ [Wood pulp] এ তিনটি প্রধান সমস্যা তৈরি হয়ঃ
বিশেষকরে; গুড়া
করা মন্ড থেকে তৈরি পেপারের ফাইবার গুলু তুলনামূক ছোট সাইজের হয়ে যায় তাই সেগুলুর সংযোগে
তৈরি কাগজ এমনিতেই দুর্বল
হয়ে যায়। কাগজের মন্ডে উচ্চ লিগ্নিনের উপস্থিতির কারনে কাগজে আসিডিটি,
কাগজ ময়লা মনে হওয়া, দাগ হয়ে যাওয়া, অন্য জিনিসে দাগ লাগার সম্ভাবনা, ক্রমে ক্রমে কাগজের
আয়ু কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। কাগজের
উচ্চ আসিডিটি কাগজের ভঙ্গুরতা এবং বিবর্ণতার অন্যতম কারন যদি না সেগুলুতে ক্ষারীয় উপাদান
সংযোগ করা অম্লতাকে আসাড় করা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন