সংক্ষিপ্ত
ইতিহাসঃ
প্রথম দিক কার
নিরাপত্তা সুতা ছিলো একটি সিল্কের/কটনের সুতার মতো এবং সলিড(Stitched বা ভাঙ্গা ভাঙ্গা
না)। তারপর আধুনিক নিরাপত্তা সুতার ডিজাইন ১৮৪৮ সালে পেটেন্ট হলেও কোন পেটেন্ট পাব্লিকের
জন্য উন্মুক্ত হতে ১০০ বছর লাগে বিধায় ১৯৪৮ সালের দিকে প্রথম নিরাপত্তা সুতা সহ ব্যাংকনোট
বের হয়। আধুনিক নিরাপত্তা সুতা সিল্ভার বা এলুমিনিয়াম ধাতুর তৈরি হলেও ক্রমশ তার নোট
জালকারীদের জন্য আর চ্যালেঞ্জ থাকে না। তাই পরবর্তীতে প্লাস্টিক সহ অন্যান্য পদার্থ
দিয়ে তৈরি স্বচ্ছ, রঙ্গিন, চকচকে, ইত্যাদি আরো অনেক ফিচার সহ সলিড এবং ভাঙ্গা ভাঙ্গা
থ্রেড প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটে যেখানে নোটের এক পাশে মনে হয় সেলাইয়ের মতো কিন্তু অন্য
পাশ থেকে দেখলে থ্রেড টি সম্পূর্ণ ভাবে নোটের কাগজে ঢুকানো মনে হবে।
এর পর ক্রমশ
নিরাপত্তা বাড়ানোর স্বার্থে চিকন সুতা থেকে মোটা ফিতা,প্রশস্ত ফিতা থেকে আরও প্রশস্ত
ফয়েলে প্রযুক্তি বিবর্তিত হয়,যেখানে সিকিউরিটি থ্রেড কেবল আকৃতিগত ভাবে না বরং সাথে
প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত হতে থাকে। আধুনিক সময়কালে মাইক্রোলেন্সিং প্রযুক্তি বেশ জনপ্রিয়
যেখানে একটি নোট কে নাড়াচাড়া করলে রিবন/ফয়েলে প্যাটার্ন টিকে ভেতরে একটি ত্রিমাত্রিক
তলে নাড়াচাড়া হতে দেখা যায়।
আধুনিক
থ্রেডগুলি ধাতু, প্লাস্টিক বা অন্য কোনও
উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য, কোন
কোন দেশের নোটে একটি থ্রেড সহ ফয়েল বা রিবনের উপস্থিতিও পর্যন্ত দেখা যায়। এমন অনেক
মেশিন আছে যেখানে গণনা এবং
শনাক্ত করার জন্য থ্রেড
মেশিন রিডেবল ও হতে পারে।
নোটাফিলিতে
ব্যাবহারঃ
তাই এই প্রযুক্তির
বিবর্তন দেখাও আমরা নোটাফিলিতে নোটের সিরিজ বা সময়কাল ধারনা করতে পারি। কোন এক দেশের
অন্যান্য নোটের সাথে তুলনায় অন্য নোটের মূল্যমান তুলনায় ও ব্যাবহার করতে পারি, কেননা
নোটের যত বেশী মূল্যমান থাকবে সেখানে স্বভাবতই নিরাপত্তাও ততো বেশী থাকবে। নোটাফিলিতে
কি ধরনের নিরাপত্তা সুতা বা ফিতা ব্যাবহার হয়েছে, সেটা কি একটানা বা অবিচ্ছিন্ন না
ভাঙ্গা ভাঙ্গা , সেটা কি দুই দিক থেকেই কাগজের ভেতরে বন্দী নাকি এক দিক ভাঙ্গা ভাঙ্গা
দেখা যায়, একটি দৃশ্যমান অংশ থেকে অন্য অংশের দুরত্ব কতো, প্রশস্ততা কেমন, ইত্যাদি
নানান বিষয় সেই নোটের ভিবিন্ন ভ্যারাইটি দেখায় যা আলাদা আলাদা উৎপাদন বা প্রকাশের ইশারা
দেয়। যেহেতু সংগ্রাহক রা আইটেমের প্যাটার্ন খুজতে এবং সেগুলুকে নিজের মতো গুছাতে ভালোবাসে,
তাই সংগ্রাহক মহলে সেই সকল প্রকরন আলাদা আলাদা গুরুত্ব পায়।
প্রযুক্তি
উন্নতির কারনঃ
অর্থ যেদিন
থেকে তৈরি হয়েছে, অর্থ জালকারীও হয়তো তার পর দিন ই তৈরি হয়েছে। ইতিহাসের শুরু থেকেই
কিছু আসাধু মানুষ এই পদ্ধতিতে লোক ঠকিয়ে আসছে। হয়তো এ কারনেই প্রযুক্তি দিনকে দিন উন্নত
হচ্ছে।
থ্রেড,
যা সাধারণত একটি নোটের কাগজ তৈরি হওয়ার সময় (মন্ড অনস্থায়)
; নোটের উপরে থেকে
নীচে ঢোকানো হয়/দেখা যায়, আলোতে ধরলে একটি কালো রেখা
ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না। তাই প্রথম দিকের জালকারীরা
এই বিষয়টি কে নকল করার জন্য তাদের নোটে একটি কালো
রেখা আঁকত। কম
আলোতে ধোঁকা দেয়ার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী
কৌশল ছিলো৷
এর পর যখন রিবন/ফয়েল
এর মতো প্রযুক্তি আসে,তখন সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কম্পিউটার এবং ব্যাবহার দক্ষতার
ও বিকাশ হয়। একটা সময় আসে যেখানে আসাধু ব্যাক্তিরা নোট কে স্ক্যান করে সেই ফয়েল বা/রিবন
জাল নোটে প্রিন্ট করে বাজারে ছাড়ে, যা অনেক অনভিজ্ঞ চোখ কে ফাকি দিতে পারে।
এর পর একসময়
যখন দেখা যায় কোন কোন জালকারী নোটে ব্লিচ করে এক নোটের মূল্যমান পরিবর্তন করে বড় মূল্যমান
বসাচ্ছে তখন অন্যান্য নিরাপত্তা ফিচারের সাথে সাথে সুতার মধ্যে মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির
বিকাশ ঘটে। যেখানে নিরাপত্তা সুতার ডিনমিনেশন বা এমন কিছু লেখা থাকে যা কেবল সেই মূল্যমানের
নোটে ই থাকবে।
বিশেষত, যখন
সলিড থ্রেড প্রচলিত ছিলো ; তখন অনেক জালকারী নোট থেকে কৌশলে থ্রেড বের করে সেই নোট
বাজারে চালাতো কারন অনেকেই তাড়াহুড়ার কারনে থ্রেডের দিকে নজর দিতো না। আর অন্য দিকে
সেই সকল থ্রেড আবার সাধারন নোটে লাগিয়ে সেগুলুকে আসল হিসেবে চালানোর চেষ্টা অব্যাহত
রাখতো।
তাই ১৯৮৪ সালে
ইংল্যান্ড Stitched thread (ভাঙা নিরাপত্তা
থ্রেড,*যাকে আপনারা অনেকে কাঁথা সেলাই থ্রেডও বলেন) সহ একটি ২০
পাউন্ডের নোট নিয়ে আসে যেখানে নিরাপত্তা সুতা বুননের মতো দেখা
যায়। তখনকার ,সিকিউরিটি
থ্রেডের জন্য এটি ছিলো সর্বাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট। তাই যদি ইতিহাস কে সত্য মানা
হয় তাহএল এর আগের দেখা সকল নোট যেখানে সলিড থ্রেড না হলে কিছু টা ভাঙ্গা ভাঙ্গা থ্রেডের
মতো দেখা যায় তা কেবল গুনগত মানের অবহেলা, এমনিতে আলাদা ভ্যারাইটি নয়।
যদিও পরবর্তীতে
জালকারীরা কেবল তাদের জাল মুদ্রার উপর
সুপার-গ্লূ দিয়ে
ড্যাশের একটি সিরিজ তৈরি
করে বাজারে আবার লোক ঠকাতে শুরু করে। তাই
তখন পর থ্রেডের উপর মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির কাজ শুরু হয়। এই মাইক্রো প্রিন্টিং
প্রযুক্তি প্রথমে সলিড থ্রেডের উপর আসে তার পর স্টিচড থ্রেডের উপরও আসে।
কিছু আধুনিক
প্রযুক্তি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম সমূহঃ
|
কোম্পানি |
প্রযুক্তির নাম |
যে নোটে ব্যাবহার হয়েছে |
|
De La Rue |
Active |
|
|
De La Rue |
Cleartext |
|
|
De La Rue |
Depth |
|
|
De La Rue |
FACET |
|
|
De La Rue |
Gemini |
|
|
De La Rue |
Ignite |
|
|
De La Rue |
Kinetic StarChrome |
|
|
De La Rue |
Magform |
|
|
De La Rue |
Nexus |
|
|
De La Rue |
Optiks |
|
|
De La Rue |
StarBright |
|
|
Loisenthal |
ColourSHift/ColourFix |
|
|
Loisenthal |
InVisio |
|
|
Loisenthal |
LaserCut |
|
|
Loisenthal |
LEAD |
|
|
Loisenthal |
Pole |
|
|
Crane |
Rapid |
|
|
Crane |
Motion |
|
|
Crane |
BREEZE |
|
|
Nanotech |
KolourDepth |
|
|
Nanotech |
KolourOptic |
|
|
Nanotech |
M2 |
|
|
Giesecke & Devrient |
Galaxy |
|
|
Giesecke & Devrient |
RollingStar |
|
|
Fabriano |
Janus |
|
|
CCL Secure |
Horizon |
|
|
CCL Secure |
MAGred |
|
|
Oberthur Fiduciaire |
STARsheen MULTI |
|
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন