ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৩

নকল টাকা এবং জাল টাকা নিয়ে দুটি গল্প[Counterfeit and frogery,How they can be more valuable than the original]

 

সাধারন ভাষায়, নোটে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট যা থাকার কথা; তা না থাকলেই সেটাকে নকল নোট বলা হয়। তবে জাল নোটে হতে গেলে সেটা একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট থাকতে হবে যা হচ্ছে -সেই নোট টির মটিভ বা বাজারে চালানোর প্রচেষ্টা।

রিপ্রোডাকশন [Reproduction] বা প্রতিরূপ তৈরিকরনঃ ইংল্যেন্ডের অল্ড বেইলি আদালত থেকে স্বীকৃত কিছু শর্ত মতে কোন বস্তুর প্রতিরূপ কখনোই আসল বস্তুর দামের চেয়ে বেশী হতে পারবে না এবং প্রতিরূপ টি প্রকৃত আইটেম থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে দেখতে আলাদা হবে।

জেনেশুনে নিজের কাছে নকল নোট রাখা আইনত অবৈধ। কারন আপনি আইনপ্রশাসনের কাছে সহজেই এটা প্রমান করতে পারবেন না যে আপনি সেটা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করার জন্য রাখেন নি।

 

কোন কোন ব্যাংকে এই প্রথা প্রচলন আছে যেখানে কোন কাউন্টারে নকল নোট দিলে সেটা তারা রেখে দেবে, আপনার নাম পরিচয় নথিভুক্ত করে আপনাকে সেটার একটা রশিদ দেবে। কোন এক লেনদেনে ৪ টির বেশী নকল নোট পাওয়া গেলে পুলিশ ষ্টেশনে প্রতিটি লেনদেনের আলাদা আলাদা রিপোর্ট ব্যাংক কত্রিপক্ষের জমা দিতে হবে। কোন কোন দেশের আইন অনুসারে সেই নোট পুলিশের কাছে জমা না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দেয়া হয়। তবে যে কোন ক্ষেত্রেই গ্রাহকের কাছ থেকে নকল নোট নেয়ার পর প্রতিষ্ঠান কে একটি রশিদ দিতেই হবে।

প্রতিটি দেশ এবং রাষ্ট্র ই তার দেশের নোট কে জাল হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে যায়। একারনেই সহসাই একটি জাল নোট বাজারে পাওয়া যায় না। ফলে একজন সংগ্রাহকের ভাষায়, কোন নোট নকল হওয়া মানেই কিন্তু এটা নয় যে সেটা অর্থহীন। বিশেষ করে তার পেছনে যদি একটি ইতিহাস থেকে থাকে। এই নিয়ে দুটি গল্পঃ

একটি হচ্ছে “Boggs Note”.  ১৯৮০ দশকের মাঝ দিকে, J.S.G Boggs নামে একজন আমেরিকান আর্টিস্ট যিনি ইংল্যেন্ডে চলে এসেছিলেন তার করা কিছু চিত্র কর্ম যা ব্রিটিশ ৫ পাউন্ডের আদলে ছিলো বিধায় সেগুলু পরবর্তীতে “Boggs Note” নামে পরিচিত হয়। একসময়; তিনি বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কেনাকাটার পর দোকানদার দের একটি আসল ৫ পাউন্ডের নোট এবং একটি তার করা ড্রয়িং দিয়ে বলতে যেটা তাদের ইচ্ছা তারা নিতে পারে। তবে দোকানদার যেটাই নেয় তাকে বাকি খরিদমূল্য রেখে বাকি টাকা ফেরত দিতে হবে। তারপর জনাব “বগস” সেই ফেরত দেয়া খুচরা এবং তার রশিদ দুটোই নিজের কাছে রেখে দিতো। 

একসময় তার যখন এক্সিবিশন হতো,তার গ্যালারি সেই সকল দোকানদার থেকে সেই সকল নোট আবার কিনে নিতো (অধিকাংশ সময়েই অতরিক্ত দামে) এবং প্রদর্শনীতে তিনটি আইটেম (সেই হাতে আঁকা নোট, তার পরিবর্তে ফেরত পাওয়া খুচরো এবং সেই লেনদেনের রশিদ) একসাথে প্রদর্শিত হতো। উনার এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ছিলো শিল্প, মুদ্রা এবং এদের ব্যাবহারকে একীভূত করা। এটা প্রমান করার জন্য যে; শিল্প দিয়েও কোনকিছু কেনাকাটা করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু হওয়ার পর উনি গভর্নরের কাছে দুইবার চিঠিও লেখেন তার কাজ কে চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য। কিন্তু সেটা না করে বরং তার গ্যালারিতে পুলিশ হানা দেয় তার তার প্রায় সব শিল্পকর্ম গুলুকে জব্দ করে। সেগুলুর ভিত্তিতে “Bank of England” ১৯৮৭ সালে তার বিরুদ্ধে নোট জালিয়াতির মামলা আনে। সেই মামলাতে জনাব “বগস” জিতে যান কারন তার উকিল আদালতের জুরিদের মাধ্যমে; প্রতিরূপ [Reproduction] টার্ম টি সেই দিন আইনি ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। এবং প্রমান করেন যে “বগেস” কোন রিপ্রোডাকশন তৈরি করছেন না বা জাল নোট ও তৈরি করছেন না। এগুলু কেবল ই শিল্পকর্ম।  এর পর সেই হারের লজ্জা থেকে ইংল্যান্ড তার ব্যাংক নোটে ডিজাইনে সংশোধন আনে এবং কপিরাইট চিহ্ন সহ একটি সতর্কতা বার্তা যুক্ত করে যা এখন অনেক দেশেই নোটেই দেখতে পাওয়া যায়। ফলে কখনো এই ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্যাংক; কারো বিরুদ্ধে জালিয়ালির মামলা না জিতলেও কপিরাইট ভঙ্গের মামলা দিতে পারে।

কয়েকবছর পর ব্রিটিশ মিউজিয়াম “জাল বস্তু” বিষয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। যেখানে “বগেসের” একটি চিত্রকর্ম স্থান পায়। যা পরবর্তীতে “বগেস” ব্রিটিশ মিউজিয়াম কে দান করেন। ১৯৯০ এ জনাব “বগস” এর পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এবং সাথে তার প্রায় সকল শিল্প কর্ম সাথে নিয়ে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত এর কিছুদিন পরেই উনার একটি স্টুডিও তে আবারো যুক্তরাজ্যের সিক্রেট সার্ভিস হানা দেয় এবং সকল আইটেম জব্দ করে। এর ফলে খোলা বাজারে বগসের আর কোন সেই ৫ পাউন্ডের ছবি পাওয়া যায় নি। ফলে তা অনেক সংগ্রাহকের আকাঙ্ক্ষার বস্তু হিসেবে রয়ে যায়।

 

দ্বিতীয় গল্প টি হচ্ছে- Banksey Note বা প্রিন্সেস ডায়ানা নোট নামে অনেকের কাছে পরিচিত।

২০০০ সালের দিকে ইংল্যেন্ডের এক ব্যাংক্সি [Banksy] ছদ্দনামধারী একজন আর্টিস্ট রাস্তা ঘাটের গ্রাফিটি আঁকাআঁকি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার ই একটি শিল্পকর্মের নাম হয় “বেঙ্কক্সি নোট”। যেখানে নোট টি দেখতে তৎকালীন ইংল্যান্ডের ১০ পাউন্ডের মতো দেখতে কিন্তু সেখানে রানী এলিজাবেথের বদলে রাজকন্যা ডায়ানার ছবি সহ বেশ কিছু পার্থক্য ছিলো। তাই অনেকে নোট টি কে বলে [Di faced Tenner]. অনেকে আবার জাল ব্যাঙ্কসি টেনার [Banksey fake Tenner] ও বলে। কিন্তু এখন সেই ব্যাঙ্কসির জাল নোটই আসল টি পাওয়া দুস্কর। কারন স্ক্রিন প্রিন্টিং এবং অফসেট প্রযুক্তির ব্যাবহারে নোট টি অনেক পরিমানে ছাপা হলেও আর্টিস্টে এবং তার কাজের জনপ্রিয়তার জন্য সংগ্রাহক সমাজে নোট টি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

বহুল জনপ্রিয়তার কারনে বাজারে সেই ব্যাংক্সির প্রায় সকল নোট এবং কাজের ই আবার জাল কপি বের হয়। তাই প্রথমে  Picture on wall [POW] নামে এবং পরবর্তীতে “Pest Control” নামে একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংক্সির মতো অনেক আর্টিস্টের কাজের আসলত্ব যাচাই করার জন্য সনদ দিয়ে থাকে।  

 

ব্যাংক্সির কাজ অনেকটা স্বৈরাচার বিরোধী শিল্পের আওতায় পড়ে এবং যেসকল আর্টিস্টগন আভিজ্যাত্য বিরোধী [Anti elitist] আর্টের সাথে যুক্ত তাদের মধ্যে ব্যাঙ্কসি [Banksy] একজন অজ্ঞাতনামা গ্রাফিটি আর্টিস্ট হিসেবে । তিনি নাম করেছেন তার ছদ্দনাম,অজ্ঞাতনাম পরিচয় এবং রহস্য সৃষ্টি করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন