জুলাই ১৪, ২০২৩

Bonds {প্রাইজবন্ড}: Prize Bonds

Bonds {প্রাইজবন্ড}:  Prize Bonds
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন ধরনের বন্ড সংগ্রহের মধ্যে প্রাইজ বন্ড সংগ্রহ এবং বিনিয়োগ বেশ উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি নিউমেস্মেটিকস ঘরানার স্ক্রিপ্টোফিলি বিভাগের [Scripophily]র   অন্তর্ভুক্ত। যেখানে Scripophily ইংরেজি শব্দ "scrip", যার অর্থ একটি মালিকানা অধিকার, এবং গ্রীক শব্দ philos, যার অর্থ "ভালবাসা" একত্রিত হয়।  Scripophily হল একটি শখ যা স্টক সার্টিফিকেট, বন্ড সার্টিফিকেট এবং একই ধরনের আর্থিক উপকরণ সংগ্রহ করা তাদের ঐতিহাসিক মূল্য এবং বিরলতার জন্য।

ব্যাংক নোটের মতো প্রাইজবন্ড ও একটি financial instrument. বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডগুলো এর কোন সুদ প্রদান করা হয় না তবে যেহেতু এটি একটি সরকারী ভাবে জনগন থেকে টাকা তোলার মাধ্যম তাই বিশেষ করে রাষ্ট্র প্রধানের (রাষ্ট্রপতির) পক্ষ থেকে আর্থিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার রোমাঞ্চের একটি উত্তেজনাপূর্ণ মিশ্রণ অফার করে৷ বিভিন্ন দেশেই প্রাইজবন্ড বা এর মত অন্যান্য ধরনের বন্ড এর প্রচলন আছে। সহজ কথায় বলতে একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের জনগণের থেকে নেয়া ঋণ বলতে পারেন।

 উদ্দেশ্য এবং ইস্যুকরণ: প্রাইজ বন্ডগুলি সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি তহবিল তৈরির উপায় হিসাবে জারি করে।  তারা একটি দ্বৈত উদ্দেশ্য পরিবেশন করে: অংশগ্রহণকারীদের মূল্যবান পুরস্কার জেতার সুযোগ প্রদান করার সাথে সাথে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।  দেশভেদে এই পুরস্কারগুলির মধ্যে প্রায়ই নগদ পুরষ্কার, বিলাসবহুল আইটেম বা এমনকি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 ব্যাঙ্কনোট থেকে পার্থক্য: প্রাইজ বন্ড এবং ব্যাঙ্কনোটের মধ্যে প্রাথমিক পার্থক্য তাদের উদ্দেশ্য এবং কার্যকারিতার মধ্যে নিহিত।  ব্যাঙ্কনোটগুলি লেনদেনের জন্য আইনি দরপত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট দেশের মুদ্রার প্রতিনিধিত্ব করে।  অন্যদিকে, প্রাইজ বন্ড বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে না বরং পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা সহ একটি বিনিয়োগের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।  প্রাইজ বন্ড ধারীরা পর্যায়ক্রমিক ড্রতে অংশগ্রহণ করে, যেখানে তাদের বন্ড নম্বরগুলি লটারির মতো সিস্টেমে প্রবেশ করানো হয়। ব্যাংক নোটের ক্ষেত্রে যেখানে কোন কোন নাম্বারের নোট বাজারে আছে তার কোন রেকর্ড থাকে না, কিন্তু প্রাইজবন্ডের দিক থেকে কেবলমাত্র বিকৃত প্রাইজবন্ডগুলোর নাম্বার থেকেই লটারির ড্র হয়।

 প্রচলন প্রক্রিয়া: প্রাইজ বন্ড সাধারণত অনুমোদিত এজেন্ট বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা বিক্রি হয়। আপনার আমার মত   বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন মূল্যের বন্ড ক্রয় করে এবং ব্যাংক নোটের মত প্রতিটি বন্ডকে একটি সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে শনাক্তকরণ করা যায়।  এই সংখ্যাগুলি তারপর একটি ড্রতে প্রবেশ করা হয়, যার ফলাফল নিয়মিত প্রকাশিত হয়।  
 ব্যাংক নোট সংগ্রহের সাথে তুলনা করলে এটি একটি তুলনামূলক নিরাপদ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের মাধ্যম। কারণ কমপক্ষে এই মাধ্যমে আপনি একটি লটারির ড্র তে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, আর অন্যদিকে আপনার সংগ্রহও এগিয়ে চলছে। তবে অন্যদিকে ব্যাংক নোটের নানান ডিজাইন,মোটিফ  এবং সিকিউরিটি ফিচার বেশিরভাগ সময়কের মনেই আলোড়ন জাগায়। যা সাধারণত বন্ডে দেখা যায় না।
 
 প্রাইজ বন্ডের সুবিধা: 
 ক.  বিনিয়োগের সম্ভাবনা: প্রাইজ বন্ডগুলি যথেষ্ট পুরষ্কার জেতার সম্ভাবনা অফার করে, যা আর্থিক লাভ এবং উত্তেজনা উভয়ের জন্যই এগুলিকে একটি লোভনীয় বিনিয়োগের বিকল্প হিসাবে দেখা হয়৷  
 খ.  নিরাপত্তা: প্রাইজ বন্ডগুলি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান/দেশ দ্বারা সমর্থিত, যা বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগে নিরাপত্তা এবং আস্থার অনুভূতি প্রদান করে।  
 গ.  তারল্য: অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের বিপরীতে, প্রাইজ বন্ড যে কোনো সময় তাদের গায়ের মূল্যের/ফেস ভ্যালুতে ভাংঙ্গানো যেতে পারে, যা বন্ডের সংগ্রাহক এবং ব্যাবহারকারীদের জন্য তারল্য নিশ্চিত করে।
ঘ. সরকার এভাবে জনগণ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করতে পারে দেশের কোন কাজের জন্য।  
ঙ. সকল অর্থ সামাজিক অবস্থার জনগনই এই ধরনের বিনিয়োগে সহজ ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। যা ব্যাংক নোটের দ্বারা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। কারণ অনেকেরই খরচ করার প্রবণতা সঞ্চয়ের প্রবণতা থেকে প্রবল। 

 প্রাইজ বন্ডের অসুবিধা: 
 ক.  জেতার সম্ভাবনা: প্রচুর সংখ্যক বন্ডহোল্ডার এবং ড্রয়ের এলোমেলো প্রকৃতির কারণে একটি পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা কম হতে পারে।  কিছু অংশগ্রহণকারী কখনও পুরস্কার জিততে পারে না।  
 খ.  কোনো সুদ নেই: প্রথাগত বিনিয়োগ বাহন যেমন স্থায়ী আমানত বা বন্ডের বিপরীতে, প্রাইজ বন্ড সুদ প্রদান করে না।ফলে দেশের বাজারে অর্থের মূল্যমান কমার সাথে সাথে বন্ডের মূল্যমান ও কমতে থাকে।

আমরা অনেক সময় দেখেছি যে বিয়ে বা জন্মদিনের  গিফট হিসাবেও প্রাইজবন্ডের ব্যবহার হয়েছে। অনেক সময় ই এটিকে একটি তুলনামূলক নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের মাধ্যমিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কারণ চাইলেই এটিকে দোকানে নিয়ে খরচ করা যায় না। ব্যাংকে নিয়ে যেতে হয়। 
ব্যাংক নোট সংগ্রাহকদের মতোই, প্রাইজবন্ড সংগ্রহরাও গভর্নরের স্বাক্ষর, প্রিফিক্স, বিশেষ নাম্বার, অবস্থা, বয়স,ঐতিহাসিক গুরুত্ব  ইত্যাদির ভিত্তিতে কে প্রাইজবন্ডকে মূল্যায়ন করেন। প্রাইজ বন্ডে একটি সিরিয়াল নাম্বার থাকবে, স্বাক্ষর থাকবে, ইসুকৃত ব্যাংকের স্ট্যাম্প থাকবে,কোন এক্সপায়ারি ডেট থাকবে না ।
প্রাইজবন্ড ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের বন্ড হয়ে থাকে যা অনেকে সংগ্রহ করে। যেমন :
Government Bonds
Corporate Bonds
Municipal Bonds
Treasury Bonds
Savings Bonds
Convertible Bonds
High-Yield Bonds (Junk Bonds)
Mortgage-Backed Securities (MBS)
Foreign Bonds
Zero-Coupon Bonds

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন