Specimen স্পেসিমেন/ নমুনা নোটঃ
নমুনা আইটেম/নোট সাধারণত কোন দেশ,সরকার, প্রতিষ্ঠান,আইনপ্রশাসন,রাজস্ব এবং তাঁদের কর্মীদের সেই আইটেম/নোট সম্পর্কে পরিচিত করিয়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে উৎপাদিত হয়। প্রকৃত নোট বাঁজারে আসার আগে নমুনা নোট আসে যেনো লোকজন সেটা সম্পর্কে জানে। সেগুলু কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক,শাখা ব্যাংক, আন্তর্জাতিক কারেন্সি ব্যুরু, ক্যাটালগ পারলিশারস, আন্তর্জাতিক বন্দর,ক্যাসিনো, বড় মাল্টি ন্যাশ্যানাল ট্রেডিং হাউসের পাঠানো হয় তাদেরকে নতুন ডিজাইন এবং সেই নোটের সিকিউরিটি ফিচার সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে।
সিকিউরিটি ফিচার গুলো কে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হচ্ছে সাধারণ জনসাধারণের জন্য। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষণ নিরীক্ষণের জন্য।এবং তৃতীয়টি হচ্ছে ফরেনসিক।
নমুনা বা Specimen নোটের সিকিউরিটি ফিচার সাধারণ জনসাধারণের জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষন নিরীক্ষণের জন্য সকল সমান।
দাম এক এক দেশের ক্ষেত্রে নমুনা নোটের জন্য বেশী কম হয়। এবং এমনও হতে পারে যে নমুনা নোটের মূল্য প্রকৃত নোটের চেয়ে কম।সেটা ডিনমিনেশন এবং রাস্ট্রভেদে আলাদা আলাদা।
বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিধি আছে। যেমনঃ
নমুনা নোট প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই আসল নোটের মতো তবে কখনো কখনো তাঁদের বিশেষ প্রিফিক্স বাঁ চিহ্ন বাঁ সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়,যেমনঃ ০০০০০০০ বাঁ ১১১১১১১১ বাঁ ১২৩৪৫৬৭৮৯০ বাঁ ৯৯৯৯৯৯৯৯ বাঁ কোন সিরিয়াল নাম্বার না উল্লেখ করে, বাঁ নমুনা নোট কথাটি বিভিন্ন রঙে উল্লেখ করে, “স্পেসিমেন” কথা টি কোথায় থাকবে, কখনো সম্পূর্ণ সেটের সব গুলু ডিনমিনেশনের সিরিয়াল নাম্বার একই রাখা ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অভারপ্রিন্ট (যেমনঃ বাতিল,কেন্সেল্ড,সৌজন্য,মূল্য হীন, নমুনা নোট ইত্যাদি) দিয়ে এটা পরিস্কার করা হয় যে এই নোট টি আদান প্রদান যোগ্য না। কোন কোন সময়কালে “নমুনা নোটে” পাঞ্চ (ছিদ্র) করা থাকে যেনো সাধারন জনগন বিভ্রান্তিতে না পড়ে।
নমুনা নোটে অধিকাংশ সময় ই আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট থাকে আবার ক্ষেত্র বিশেষে থাকেও না, সেটা নির্ভর করে সেই নোটের কতৃপক্ষের উপর।যেহেতু এগুলু লিগ্যাল টেন্ডার না তাই এদের কোন ফেস ভ্যালু ও নেই। তবে যেহেতু সাধারন নোটের মতো এগুলু এত বেশী পরিমানে ছাপা হয় না তাই সংগ্রাহক সমাজে চাহিদার তুলনার যোগান কম বিধায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নমুনা নোটের দাম সেই নোটের সাধারন ইস্যুর দামের থাকে বেশী হয়ে থাকে তবে কোন কোন দেশে তা কম ও হয়ে থাকে কারন এর কোন ফেস ভ্যালু নেই (যেমন সিঙ্গাপুরের ১০০০০ ডলার)। কোন কোন দেশে সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্পেসিমেন নোট উপহার হিসেবা দেয়া হয়। আবার কখনো কোন কোন দেশে নমুনা নোট সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রিও হয়। এমন ও হয় যে কোন নোট বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে অতয়েব সংগ্রাহকদের কাছে সেই নোট টির নমুনা নোট সংগ্রহ করা ছাড়া কোন উপায় ই নেই।
নমুনা নোটের কিছু শর্তের উদাহরনঃ
সেটা যদিও সংস্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন একটি নিয়ম বলে যে- দেশের নোটের গায়ে নমুনা নোট কথা টি লিখা থাকতে হবে যদি আসল নোটের ডিজাইনের ৫০% এর বেশী নমুনা নোটে প্রদর্শিত হয়। এবং যদি কোন ছবি তে নোটের ছবি টি ২০ডিগ্রীর কমে বাকানো থাকে। অর্থাৎ যদি নোটের ছবি এমন কোন ম্যাটেরিয়ালে ছাপা হয় যা আসল নোটের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, ২০ ডিগ্রি এর বেশী কোনে ছবি হেলানো বাঁ আসল নোটের ৫০% এর কম দেখা যায় তাহলে “নমুনা নোট” কথা টি উল্লেখ করতে হবেই না। কোথাও কোথাও আবার সাইজের নির্দেশিকা দেয়া আছে যে আসল নোটের থেকে ২৫% বড় বাঁ ছোট হতে হবে। কোথাও আবার আক দিকে ছাপা হবে।কি রঙের ফন্তে নমুনা নোট কথা টি লিখা হবে, কতো ডিগ্রি কোনে সেই লেখা ই বাকানো থাকবে তা (যেমনঃ ৪৫ ডিগ্রি)।
যা ই বলা হোক মূল উদ্দেশ্যে যে মানুষ যেনো ভুলে একে আসল নোট মনে না করা বিভ্রান্তি তে না পড়ে। তাই এতো সব নিয়ম কানুন।
Collector series specimen: প্রথম দিকের নমুনা নোটের উদ্দেশ্য ছিল- সকল দেশ,তাদের কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক,ক্যাসিনো ইত্যাদি গুলুকে বাজারের চলতি নোট গুলু সম্পর্কে ব্যাবহারিক ধারনা দেয়া। পরবর্তীতে যখন বিভিন্ন দেশ গুলু দেখলো যে সংগ্রাহকদের আগ্রহ সে দিকে যাচ্ছে তখন বিভিন্ন দেশের থেকে সংগ্রাহকদের জন্যই আলাদা প্রকাশিত নমুনা নোট বের করার প্রচলন শুরু হলো। যেখানে নোট গুলুর দৃষ্টি নান্দনিকত্ব বজায় রাখার পূর্ণ প্রয়াশ করা হয়। একটি সাধারণ নমুনা নোট একটি মুদ্রার নকশার একটি সাধারণ উপস্থাপনা হিসাবে কাজ করে,যা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাউন্সিলেট,দূতাবাস ইত্যাদিতে পাঠানো হয়। অন্য দিকে কালেক্টর সিরিজের নমুনা নোট সাধারণত একটি নির্দিষ্ট চরিত্র বা থিমকে কেন্দ্র করে বের করা হয়, প্রায়শই একটি সাংস্কৃতিক বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বা ঘটনা কে স্মরণ করে প্রকাশ করা হয়। এবং তা বিক্রির উদ্দেশ্য করা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন