ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৩

নিরাপত্তা সুতা [Security thread]

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

প্রথম দিক কার নিরাপত্তা সুতা ছিলো একটি সিল্কের/কটনের সুতার মতো এবং সলিড(Stitched বা ভাঙ্গা ভাঙ্গা না)। তারপর আধুনিক নিরাপত্তা সুতার ডিজাইন ১৮৪৮ সালে পেটেন্ট হলেও কোন পেটেন্ট পাব্লিকের জন্য উন্মুক্ত হতে ১০০ বছর লাগে বিধায় ১৯৪৮ সালের দিকে প্রথম নিরাপত্তা সুতা সহ ব্যাংকনোট বের হয়। আধুনিক নিরাপত্তা সুতা সিল্ভার বা এলুমিনিয়াম ধাতুর তৈরি হলেও ক্রমশ তার নোট জালকারীদের জন্য আর চ্যালেঞ্জ থাকে না। তাই পরবর্তীতে প্লাস্টিক সহ অন্যান্য পদার্থ দিয়ে তৈরি স্বচ্ছ, রঙ্গিন, চকচকে, ইত্যাদি আরো অনেক ফিচার সহ সলিড এবং ভাঙ্গা ভাঙ্গা থ্রেড প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটে যেখানে নোটের এক পাশে মনে হয় সেলাইয়ের মতো কিন্তু অন্য পাশ থেকে দেখলে থ্রেড টি সম্পূর্ণ ভাবে নোটের কাগজে ঢুকানো মনে হবে।

এর পর ক্রমশ নিরাপত্তা বাড়ানোর স্বার্থে চিকন সুতা থেকে মোটা ফিতা,প্রশস্ত ফিতা থেকে আরও প্রশস্ত ফয়েলে প্রযুক্তি বিবর্তিত হয়,যেখানে সিকিউরিটি থ্রেড কেবল আকৃতিগত ভাবে না বরং সাথে প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত হতে থাকে। আধুনিক সময়কালে মাইক্রোলেন্সিং প্রযুক্তি বেশ জনপ্রিয় যেখানে একটি নোট কে নাড়াচাড়া করলে রিবন/ফয়েলে প্যাটার্ন টিকে ভেতরে একটি ত্রিমাত্রিক তলে নাড়াচাড়া হতে দেখা যায়।

আধুনিক থ্রেডগুলি ধাতু, প্লাস্টিক বা অন্য কোনও উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য, কোন কোন দেশের নোটে একটি থ্রেড সহ ফয়েল বা রিবনের উপস্থিতিও পর্যন্ত দেখা যায়। এমন অনেক মেশিন আছে যেখানে গণনা এবং শনাক্ত করার জন্য থ্রেড মেশিন রিডেবল ও হতে পারে।

 

নোটাফিলিতে ব্যাবহারঃ

তাই এই প্রযুক্তির বিবর্তন দেখাও আমরা নোটাফিলিতে নোটের সিরিজ বা সময়কাল ধারনা করতে পারি। কোন এক দেশের অন্যান্য নোটের সাথে তুলনায় অন্য নোটের মূল্যমান তুলনায় ও ব্যাবহার করতে পারি, কেননা নোটের যত বেশী মূল্যমান থাকবে সেখানে স্বভাবতই নিরাপত্তাও ততো বেশী থাকবে। নোটাফিলিতে কি ধরনের নিরাপত্তা সুতা বা ফিতা ব্যাবহার হয়েছে, সেটা কি একটানা বা অবিচ্ছিন্ন না ভাঙ্গা ভাঙ্গা , সেটা কি দুই দিক থেকেই কাগজের ভেতরে বন্দী নাকি এক দিক ভাঙ্গা ভাঙ্গা দেখা যায়, একটি দৃশ্যমান অংশ থেকে অন্য অংশের দুরত্ব কতো, প্রশস্ততা কেমন, ইত্যাদি নানান বিষয় সেই নোটের ভিবিন্ন ভ্যারাইটি দেখায় যা আলাদা আলাদা উৎপাদন বা প্রকাশের ইশারা দেয়। যেহেতু সংগ্রাহক রা আইটেমের প্যাটার্ন খুজতে এবং সেগুলুকে নিজের মতো গুছাতে ভালোবাসে, তাই সংগ্রাহক মহলে সেই সকল প্রকরন আলাদা আলাদা গুরুত্ব পায়।

 

প্রযুক্তি উন্নতির কারনঃ

অর্থ যেদিন থেকে তৈরি হয়েছে, অর্থ জালকারীও হয়তো তার পর দিন ই তৈরি হয়েছে। ইতিহাসের শুরু থেকেই কিছু আসাধু মানুষ এই পদ্ধতিতে লোক ঠকিয়ে আসছে। হয়তো এ কারনেই প্রযুক্তি দিনকে দিন উন্নত হচ্ছে।

থ্রেড, যা সাধারণত একটি নোটের কাগজ তৈরি হওয়ার সময় (মন্ড অনস্থায়) ; নোটের উপরে থেকে নীচে ঢোকানো হয়/দেখা যায়, আলোতে ধরলে একটি কালো রেখা ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় না। তাই প্রথম দিকের জালকারীরা এই বিষয়টি কে নকল করার জন্য তাদের নোটে একটি কালো রেখা আঁকত।  কম আলোতে ধোঁকা দেয়ার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী কৌশল ছিলো৷

এর পর যখন রিবন/ফয়েল এর মতো প্রযুক্তি আসে,তখন সাথে সাথে মানুষের মধ্যে কম্পিউটার এবং ব্যাবহার দক্ষতার ও বিকাশ হয়। একটা সময় আসে যেখানে আসাধু ব্যাক্তিরা নোট কে স্ক্যান করে সেই ফয়েল বা/রিবন জাল নোটে প্রিন্ট করে বাজারে ছাড়ে, যা অনেক অনভিজ্ঞ চোখ কে ফাকি দিতে পারে।

এর পর একসময় যখন দেখা যায় কোন কোন জালকারী নোটে ব্লিচ করে এক নোটের মূল্যমান পরিবর্তন করে বড় মূল্যমান বসাচ্ছে তখন অন্যান্য নিরাপত্তা ফিচারের সাথে সাথে সুতার মধ্যে মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। যেখানে নিরাপত্তা সুতার ডিনমিনেশন বা এমন কিছু লেখা থাকে যা কেবল সেই মূল্যমানের নোটে ই থাকবে।

বিশেষত, যখন সলিড থ্রেড প্রচলিত ছিলো ; তখন অনেক জালকারী নোট থেকে কৌশলে থ্রেড বের করে সেই নোট বাজারে চালাতো কারন অনেকেই তাড়াহুড়ার কারনে থ্রেডের দিকে নজর দিতো না। আর অন্য দিকে সেই সকল থ্রেড আবার সাধারন নোটে লাগিয়ে সেগুলুকে আসল হিসেবে চালানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতো।

তাই ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ড Stitched thread (ভাঙা নিরাপত্তা থ্রেড,*যাকে আপনারা অনেকে কাঁথা  সেলাই থ্রেডও বলেন) সহ একটি ২০ পাউন্ডের নোট নিয়ে আসে যেখানে নিরাপত্তা সুতা বুননের মতো দেখা যায়। তখনকার ,সিকিউরিটি থ্রেডের জন্য এটি ছিলো সর্বাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট। তাই যদি ইতিহাস কে সত্য মানা হয় তাহএল এর আগের দেখা সকল নোট যেখানে সলিড থ্রেড না হলে কিছু টা ভাঙ্গা ভাঙ্গা থ্রেডের মতো দেখা যায় তা কেবল গুনগত মানের অবহেলা, এমনিতে আলাদা ভ্যারাইটি নয়।

যদিও পরবর্তীতে জালকারীরা কেবল তাদের জাল মুদ্রার উপর সুপার-গ্লূ  দিয়ে ড্যাশের একটি সিরিজ তৈরি করে বাজারে আবার লোক ঠকাতে শুরু করে। তাই তখন পর থ্রেডের উপর মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তির কাজ শুরু হয়। এই মাইক্রো প্রিন্টিং প্রযুক্তি প্রথমে সলিড থ্রেডের উপর আসে তার পর স্টিচড থ্রেডের উপরও আসে।

 

কিছু আধুনিক প্রযুক্তি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম সমূহঃ

কোম্পানি

প্রযুক্তির নাম

যে নোটে ব্যাবহার হয়েছে

De La Rue

Active

 

De La Rue

Cleartext

 

De La Rue

Depth

 

De La Rue

FACET

 

De La Rue

Gemini

 

De La Rue

Ignite

 

De La Rue

Kinetic StarChrome

 

De La Rue

Magform

 

De La Rue

Nexus

 

De La Rue

Optiks

 

De La Rue

StarBright

 

Loisenthal

ColourSHift/ColourFix

 

Loisenthal

InVisio

 

Loisenthal

LaserCut

 

Loisenthal

LEAD

 

Loisenthal

Pole

 

Crane

Rapid

 

Crane

Motion

 

Crane

BREEZE

 

Nanotech

KolourDepth

 

Nanotech

KolourOptic

 

Nanotech

M2

 

Giesecke & Devrient

Galaxy

 

Giesecke & Devrient

RollingStar

 

Fabriano

Janus

 

CCL Secure

Horizon

 

CCL Secure

MAGred

 

Oberthur Fiduciaire

STARsheen MULTI

 

 

 

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৩

ফুটো কয়েন (মাঝখানে ছিদ্রযুক্ত কয়েন) এর কাহিনী [Story of hole coin(Coin with centre hole)]

ধরুন আপনি এমন একটা সময়ে বসবাস করছেন যে সাধারন মানুষ হিসেবে আপনি গননা জানেন না আবার লেখালেখিও জানেন না। কিন্তু আপনার কাছে মুদ্রা (ধাতব) আছে খরচ বা ধার দেয়ার জন্য। তো কিভাবে লেনদেন টি হবে?কিভাবে ধার দেয়ার/করার প্রমান রাখবেন?

 

বলা হয়ে থাকে, চিন (China) এ প্রথম মাঝখানে ছিদ্র যুক্ত কয়েন প্রচলন শুরু হয়। আপনার কাছে কেউ টাকা চাইলে সে একটি রশি/দড়ি নিয়ে আসবে বা আপনি আপনার কাছে থাকা দড়িতে কিছু কয়েন ঢুকিয়ে তাকে দেখিয়ে দিলেন যে কয়টি কয়েন আপনি দিচ্ছেন বা সে নিচ্ছে। তার পর রশির শেষ মাথায় গিট দিয়ে দিলেন।

 এখন  তাকে কয়েন দেয়ার সময় এই রকম দুটি রশি/দড়ি তৈরি করে, একটি রাখলেন আপনার কাছে অন্য টি সে নিয়ে গেলো। তারপর কিছু পুরনিমা/অমাবস্যা/ বা শীত/ বর্ষা আসার পর সে যখন আপনার কয়েন আপনাকে ফেরত দিতে আসবে তখন তার দড়ি/রশি এবং আপনার রশি দুটো ই মিলিয়ে দেখে কয়েন ফেরত নিলেন।

এই ছিলো ছিদ্র যুক্ত কয়েন বাজারে আসার প্রাথমিক কারন। এছাড়াও পরিবহনের সুবিধা, মালার মতো অলঙ্কার হিসেবে, ধাতুর পরিমান কমানো, সহজে দেখেই চেনার জন্য, সহজে কোন বস্তুর দাম জানানো, ধার দেনার প্রমান রাখা ইত্যাদি কারন তো আছে ই, যা পরবর্তীতে ধীরেধীরে বিবর্তিত হয়েছে।

দেখবেন কোন কয়েনের ভেতরের ছিদ্র টা গোল না হলে চারকোণা, তার কারন ইতিহাসবিদ রা বলেন যে, কেন যেন রশি/দড়ি তে লাগানোর পর ঘুরতে না থাকে।  

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৩

কেন আধুনিক কাগজ দ্রুত নষ্ট হয়ে , আধুনিক কাগজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস [Reason for deterioration of modern paper]

 কীভাবে অ্যাসিডিক কাঠের পাল্প কাগজ শুরু হলো?

 

আমেরিকায় কাগজের ইতিহাসের প্রথম দিকের আমেরিকান কাগজ প্রস্তুতকারীরা সীমিত পরিসরে টেকসই কাগজ তৈরি করতো। যেখানে তুলনামূলকভাবে কম বাহ্যিক ক্যামিকেল ব্যাবহার হতো এবং তুলা এবং লিনেনের পুরনো কাপড় ব্যবহার হতো,আজকালের মতো কাঠ ব্যাবহার হতো না। কোন যান্ত্রিক উপায় ব্যাবহার না হওয়ায়, তুলা এবং লিনেনের আঁশ গুলু খুব ছোট ছোট করা হতো না। আমেরিকান হাতে তৈরি এই প্রথম দিকের কাগজে লম্বা সেলুলোজ ফাইবার এবং সামান্য গ্রেইন থাকতো, ফলে সেই দীর্ঘ আঁশযুক্ত কাগজগুলিকে অস্বাভাবিকভাবে মজবুত এবং টেকসই হতো।

লেখার সময় ব্লিডিং ছাড়াই যেন কাগজে কালি বসতে পারে তার জন্য প্রাণীজ আঠা এবং জেলটিন আবরণ যোগ করা হতো।

প্রথমদিককার সেই সকল শীটগুলুতে প্রান্ত পালকের মত অমসৃণ বা অলঙ্কৃত থাকতো। ১৫শ শতকের পর থেকে অনেক পেপার প্রস্তুতকারক তাদের তৈরি কাগজে জলছাপ রেখে দিতো নিজেদের মার্ক রাখার জন্য। কাগজের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারনে প্রযুক্তির উন্নিতি দ্রুত হতে থাকে। ১৮০৬ সালে কাগজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মন্ডের রেজিনকে থিতিয়ে প্রসারিত করার জন্য তুঁতে [Alum] ব্যবহার শুরু হয়। । “তুঁতে” রাসায়নিক ভাবে অ্যাসিডিক এবং ধোয়ার প্রক্রিয়া থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সরিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন বাড়লেও অন্তিম ফলাফলের কাগজের  স্থায়ীত্ব কমে যায়।

শিল্প বিপ্লবের সময় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি কাগজ তৈরিতে খাটো ফাইবারযুক্ত কম টেকসই কাগজের প্রচলন এবং চাহিদা শুরু হয় যার উৎপাদন বেশী। সেগুলু খবরের কাগজ, যুদ্ধের লিফলেট, বন্দরের মাসিক রিপোর্ট, থিয়েটারের নাটকের বিজ্ঞাপন ইত্যাদির কাজে ব্যাবহার হতো।  ক্রমে অ্যালাম/রেসিনের সাথে, ক্লোরিন তথা ব্লিচ যুক্ত করার ফলে কাগজের তন্তু আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কাগজের অম্লতা, বিবর্ণতা এবং ভঙ্গুরতা দেখা দেয়,কিন্তু কাগজের অধিকাংশ কাগজের প্রয়োজন ই যেহেতু স্বল্পকালীন ছিলো তাই এটা তখনকার জন্য খুব বড় মাথা ব্যাথা ছিলো না। সেজন্যই এখন সেগুলু কনজারভেটরদের জন্য ভোগান্তির কারন।

এই উপাদানগুলির প্রতিটি আমেরিকান কাগজের আয়ুষ্কাল হ্রাস করতে প্রভাব রেখেছে। আধুনিক কাগজের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় একক কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় র‍্যাগ এবং লিনেন ব্যাবহার বাদ দিয়ে কাঠ/গাছ থেকে কাগজের মন্ড প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া কে। র‍্যাগ,লিনেন বা তুলার ন্যাকড়ার তুলনায়, কাঠ অনেক বেশী ছিলো এবং সস্তাও ছিল, যা কাগজ তৈরির জন্য এটিকে ফাইবারের একটি অন্যতম উৎস হিসেবে তুলে ধরে।

 

মন্ড থেকে তৈরি কাগজ [Wood pulp] এ তিনটি প্রধান সমস্যা তৈরি হয়ঃ

বিশেষকরে; গুড়া করা মন্ড থেকে তৈরি পেপারের ফাইবার গুলু তুলনামূক ছোট সাইজের হয়ে যায় তাই সেগুলুর সংযোগে তৈরি কাগজ এমনিতেই দুর্বল হয়ে যায়।  কাগজের মন্ডে উচ্চ লিগ্নিনের উপস্থিতির কারনে কাগজে আসিডিটি, কাগজ ময়লা মনে হওয়া, দাগ হয়ে যাওয়া, অন্য জিনিসে দাগ লাগার সম্ভাবনা, ক্রমে ক্রমে কাগজের আয়ু কমে যাওয়া  ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।  কাগজের উচ্চ আসিডিটি কাগজের ভঙ্গুরতা এবং বিবর্ণতার অন্যতম কারন যদি না সেগুলুতে ক্ষারীয় উপাদান সংযোগ করা অম্লতাকে আসাড় করা হয়।





জানুয়ারি ৩১, ২০২৩

আন কাট শিট।[Uncut sheet] এবং প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]

বিষয়: আন কাট শিট।[Uncut sheet] এবং প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]

Uncut sheet: অনেক দেশের ব্যাংক ই সংগ্রাহকদের জন্য আন কাট শিট (নোট গুলু কাটার আগে) বাজারে ছাড়ে। আন কাট শিট যে কোন সংখ্যার হতে পারে,তবে সর্বোচ্চ সংখ্যা সব সময় সেই নোটের রেগুলার প্রিন্টিং প্রসেসের উপর নির্ভর করে। সাধারনত তা সর্বোচ্চ ৬০ টি পর্যন্ত দেখা যায়। তবে কিছু কিছু দেশ ৭২ টি পর্যন্ত করেছে।
সেখানে প্রতিটি নোট স্ব স্ব ভাবে লিগ্যাল টেন্ডার এবং প্রত্যেক্টির আলাদা সিরিয়াল নাম্বার ও থাকে। এক কথায় বলতে গেলে নোট ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়ার ঠিক আগের ধাপ হচ্ছে প্রিন্টেড শিট থেকে কেটে সেগুলো বান্ডিলবদ্ধ হওয়া, যা ধাপ টি আন কাট শিটের বেলা অগ্রাহ্য করা হয়। অর্থাৎ আপনি যদি চান সেই শিট থাকে সঠিক আকারে নোট গুলু কেটে নিয়ে সেই দেশে বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জে ব্যাবহার করতে পারবেন।

কোন কোন দেশ সেগুলো রোল হিসেবে,কোন কোন সময় শিট হিসেবে,কোন কোন সময় ফ্রেমে বা বিশেষ চ্যারিটি ফাংশনে এই ধরনের আন কাট শিট ছেড়ে থাকে। 
সকল দেশের নোট ই যে বৈধ ভাবে আন কাট শিট হিসেবে পাওয়া যাবে তেমন টা নয়। অনেক দেশ ই তাদের একটি প্লেট থেকে তৈরি করা শেষের দিকের নোট গুলু কে আন কাট শিট হিসেবে ছেড়ে দেয় কারন সেগুলোর মান প্রথম দিককার ছাপার তুলনায় ভালো থাকে না। আবার কখনো রাস্ট্রিয় কোষাগারে অর্থ সংগ্রহের জন্য আন কাট শিট রিলিজ করা হয়।
আন কাট শিট দেখলে আপনি সেই নোটের নাম্বারিং এ কোথায় কোন নাম্বার বা নোটের পজিশন পড়ে তা জানতে পারবেন। তাছাড়া ফেস ভ্যালুর তুলনায় সেই সকল শিটের মূল্য সবসময়ই বেশী তাই সংগ্রাহকদের মধ্যে চাহিদাও থাকে।
গ্রেডিং এ আন কাট শিটের আলাদা ক্যাটাগরিও আছে যা গ্রেডিং এবং  বিক্রয় মূল্যে আলাদা প্রিমিয়াম ডেকে আনে।

☝🏾প্রিন্টারের বর্জ[Printer's Waste]
হাতি মরলেও লাখ টাকা,কথা টির এর চেয়ে যথাযথ ব্যাবহার বোধহয় কালেক্টরদের জন্য অন্য কোথাও হতে পারে না।
যে কোন মেশিনের কাজের সময়, বিভিন্ন ত্রুটির কারনে ডিফেক্টিভ মালামাল যেমন তৈরি হয়,তেমনি নোট প্রিন্টিং এ ও বিষয়টি ঘটে। তার মধ্যে যেগুলো দগরা পড়ে সেগুলো কে অনেকে প্রিন্টারস্ ওয়েস্ট বা প্রিন্টারের বর্জ বলে। আর যেগুলো ধরাপড়ে না সেগুলো বাজারে এরর বা ত্রুটি পূর্ণ নোট হিসেবে পরিচিত। 

এরর নোটের ব্যাতিক্রমে, প্রিন্টারের বর্জ শিট হিসেবে আসতে পারে আবার একটি নোট হিসেবেও আসতে পারে, তবে কাটা যেহেতু সব শেষের কাজ তাই অনেক ক্ষেত্রেই সেই বর্জ কর্তন পর্যায়ে যাওয়ার আগেই ধরা পড়ে এবং অপসারন করা হয়। যেহেতু মধ্যবর্তী ধাপেই ধরা পড়ে তাই এরর নোটের চেয়েও সেখানে বেশী গুরুতর ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা থেকে যায়। যেখানে হয়তো সিরিয়াল নাম্বার মিসিং বা স্বাক্ষর মিসিং বা ইন্টাগ্লিও মিসিং বা নিরাপত্তা স্ট্রিপ মিসিং, বা কালার ঠিক নেই বা এক দিকে প্রিন্টিং বা ক্ষতিগ্রস্ত  বা এংরেভিং এ ত্রুটি ইত্যাদি থাকে।

কোন কোন সময় দেখা যায় কোন দেশ কোন একটি সিরিজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে (সেটা ডাকাতির জন্য হোক আর নিরাপত্তার স্বার্থে হোক)। তখন অন্যান্য কালেক্টেবল সিরিজের মতো সেই সিরিজের আন কাট শিট ও চাহিদা সম্পন্ন হয়ে যায়।

জানুয়ারি ১২, ২০২৩

মুদ্রা [Currency], নোট [Note] এবং ব্যাংক নোট [Bank note]

☝🏾মুদ্রা [Currency] কি?

কোন বিনিময় এবং পরিশোধের মাধ্যমকে মুদ্রা বলা যায়। মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস দেখলে সময়ের ধারার সাথে সাথে যথাক্রমে তিনটি প্রধান প্রকরন উঠে আসে।

১) পণ্য মুদ্রা (Commodity money)

২) ঘোষিত মুদ্রা (FIAT money)

৩) ডিজিটাল এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা

পণ্য মুদ্রা (Commodity money): যখন কোন দুস্প্রাপ্য ধাতব বস্তুর মূল্য নির্ধারিরন করে তাদের বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করা হয় তখন তাদের Comodity money বলা হয়। অতীতে সোনা,রূপা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি কয়েন গুলু ছিলো Commodity money. যেহেতু ধাতু গুলু নিষ্কাশন কঠিন এবং দুর্লভ তাই মুল্য দুষ্প্রাপ্যতার উপর নির্ভর হয়ে রয়ে যায়।

 এরপর আসে, ঘোষিত মুদ্রা যুগ (FIAT moey): যেখানে রাষ্ট্র বা সরকার ঘোষনা করে যে আজ থেকে এই কাগজ বা ধাতুর মূল্য ‘এতো’ নির্ধারণ করা হলো। তা সে যে ধাতু বা কাগজ ই হোক না কেন। এই যুগে ই ‘নোট’ বা কাগজী মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। ফলে এখানে মুদ্রা মূল্য কেবল বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে রয়ে যায়।

তারপর শুরু হয় ডিজিটাল এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা (Crypto currency): এতো দিন পর্যন্ত মুদ্রার একটি সাধারন বৈশিষ্ট ছিলো যে তা বস্তুগত অর্থাৎ হাতে ধরা ছোঁয়া যায়। এই যুগে পদার্পণের পর মুদ্রা তার বস্তুগত আকার আকৃতি ছেড়ে ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল জগতে পদার্পণ করে। যা সাধারণত কম্পিউটারের সাহায্যে কোন কঠোর শর্ত পূরনে তৈরি এবং হাতবদল হয়। এই পর্যায়ে মুদ্রার মূল্য চাহিদা এবং যোগানের উপর নির্ভরশীল হয়।

☝🏾নোট [Note] কি?

প্রাথমিক দিকে বানিজ্যিক ব্যাংক গুলু থেকে মসলা বা লবনে, সোনা বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রা অথবা মতো কোন চাহিদাসম্পন্ন বস্তু কে বিনিময়/পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি পত্র দেয়া হতো। যেখানে লিখা থাকতো যে বহনকারীকে চাহিদা মাত্র এই প্রতিশ্রিতি পত্রের প্রেক্ষিতে এখানে উল্লেখিত পরিমান আইনবদ্ধ মুল্য [Legal tender] (তৎকালীন সময়ে যা সোনা বা রূপার মতো মুল্যবান ধাতব মুদ্রার ওজন সমপরিমান) দিয়ে পরিশোধ করা হবে। এই শপথ/প্রতিশ্রুতিটি একটি *কাগজে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান হিসাবরক্ষকের সাক্ষর সহ লিখা থাকতো। এই টার্ম টি আমরা এখনো ব্যাবহার করি যেমন [Could you please note it down for me] . এই Note ই সেই Note.

পরবর্তীতে সেই বানিজ্যিক ব্যাংক সমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় ,জাতীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গিয়েছে। যেখানে তাদের মূল আদর্শ ছিলো যে কেউ কখনো কোন ‘নোট ’ বা ‘প্রতিশ্রুতি পত্র ’ নিয়ে আসলে তাদের যেন [Legal Tender] দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখা যায়। অর্থাৎ প্রথম দিককার সকল ‘নোট’ ই এক সময় মুল্যবান কয়েন/ধাতব মুদ্রা [Legal Tender] দ্বারা সমর্থিত ছিলো। অন্য ভাবে বলতে গেলে নোট কে আসল মুদ্রা হিসেবেই ধরা হতো না। মূলত পরিবহন সুবিধার স্বার্থেই নোট ব্যাবহার শুরু হয়েছিলো যা একটি প্রতিশ্রুতি পত্র ছাড়া অন্য কিছু না।

একসময় যখন ব্যাংক গুলু সেই আদর্শ কে ত্যাগ করে তাদের ইচ্ছামতো ধাতু এবং কাগজী নোট জারি করে ঘোষনা দিলো যে ‘’আজ থেকে এই ধাতব/কাগজের টুকরোর দাম ‘এতো’ নির্ধারিত হলো’’, তখন থেকেই প্রকৃতভাবে শুরু হলো FIAT money তথা ব্যাংক নোটের ব্যাবহার।

অতএব কাগজে লিখিত সকল মুদ্রা যা ধাতব মুদ্রার/কয়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাবহ্রিত হতো তাদের নোট বলা যায়। সেই যুক্তিতে ব্যাংক নোট; কেবল এক ধরনের কাগজী মুদ্রা। মানে সকল কাগজী মুদ্রা ব্যাংক নোট নয় কিন্তু সকল ব্যাংক নোট ই কাগজী মুদ্রা।

 

☝🏾ব্যাংক নোট কি? [Bank note]:

নোট হচ্ছে, একটি *কাগজী (এখানে কাগজী শব্দ টি জেনারালাইস করা হচ্ছে) প্রতিশ্রুতি পত্র যা সধারন্ ত কোন একটি *অনুমোদিত (এখানে অনুমোদন শব্দটি জেনারালাইস করা হচ্ছে) ব্যাংক বা সত্তা দ্বারা জারি করা বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে তাই অনেক সময় ‘ব্যাংক নোট’ শব্দটি ‘নোট’ শব্দের সাথে  উতপ্রত ভাবে ব্যবহৃত হয়।

সাধারন,বৈশিষ্ট বিবেচনায় নোটের অন্য একটি সংজ্ঞা দাঁড় করানো যায়। এমন একটি অধাতব (কাগজ,কাপড়,পলিমার ইত্যাদি) বিনিয়োগ/বিনিময়/পরিশোধ মাধ্যম যা কোন রাজনৈতিক সত্তা দ্বারা কঠোর নিয়ন্ত্রনের ভেতরে জাড়ি করা হয়,যেখানে অনুমোদনকারীর স্বাক্ষর, সীমিত ক্রমিক সংখ্যা [Serial number],আইনি সমর্থন, ভবিষ্যতে মূল্য পরিশোধযোগ্যতার প্রতিশ্রুতিমূলক বার্তা [Promissory clause] ইত্যাদি সহ কিছু সাধারন উপাদান অবশ্যই থাকে।

উল্লেখ্যঃ ব্যাংক নোট Credit certificate, Cheque, coin, Credit note , Travellers cheque, Token, Tickets, Stamps, Exonumia ইত্যাদি থেকে আলাদা।

 

 

জানুয়ারি ১১, ২০২৩

প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency],আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue],উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত মুদ্রা [Salvage Looted money]

প্রোপাগান্ডা কারেন্সি [Propaganda Currency] কোন মুদ্রার/নোটের মূল কাজ বিনিময় প্রথা হিসেবে ব্যাবহার হওয়ার সাথে সাথে/পরিবর্তে তা যদি একটি রাস্ট্রের জনগনের মধ্যে কোন বার্তা/ভাবধারা প্রচাররে(মনোবল গঠন,পরিবর্তন বা নষ্ট করার) ব্যাবহার হয় তখন তাদের প্রোপাগান্ডা কারেন্সি বলে। এটা হতে পারে কোন গ্রাফিটি, অভার প্রিন্ট, ছবি বা লিখার মাধ্যমে বা আকাশ থেকে অগনিত মুদ্রা বৃষ্টির মাধ্যমে, ইতিহাস সাক্ষি। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই একসময় সেই সকল কারেন্সি বাজার থেকে তুলে নেয়া হয় বা জব্দ করা হয়। ফলে তা প্রপাগান্ডা কারেন্সি সংগ্রাহকদের মধ্যে কেবল ঐতিহাসিক কারনেই নয় বরং দুর্লভ্যতার কারনেও সমাদৃত। সাধারণত, যখন কোন প্রতিরোধী বাহীনি/মিত্র বাহিনী/শোষিত গোষ্ঠী; স্বাধীনতা এবং সারবভৌমত্বের স্বার্থে; তাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি ভাবধারা এবং মনোবল গঠন করার চেষ্টা করে। অন্য দিকে শত্রু/বহিঃশত্রু/আক্রমনাত্বক বাহিনী চেষ্টা করে সেই ভাবধারা/ অর্থনীতি/ মনোবল নষ্ট করার। যেমনঃ ১৯৪২ এ তৎকালীন জাপান (সাম্রাজ্যবাদী) যখন ফিলিপাইনে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে তখন তারা ফিলিপিন প্রশাসন থেকে জারি করা সকল নোট এবং কয়েনকে বায়জাপ্ত করে দেয়। কিন্তু যুদ্ধ চালানোর স্বার্থে বিভিন্ন সত্তা (প্রতিরোধ বাহীনী/ফিলিপাইনের কমনওয়েলথ সরকার, প্রাদেশিক,উপ প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ) তাদের নিজস্ব নোট জারি করা শুরু করে। যা বিনিময় মূল্যের খাতিরে খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও সার্বভৌমত্বের ভাবধারা প্রকাশ এবং ছাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।ফিলিপিনি পেসোর আদলে সেই মুদ্রা কে ‘গেরিলা পেসো’ বলা হতো। প্রচারের সরঞ্জাম হিসাবে ব্যাবহার হওয়ার কারনে সেই ‘গেরিলা পেসো’ জাপানিদের রোষানলের সম্মুখীন হয়েছিলো ফলে তা তা বহন করা অবৈধ ঘোষণা হয় । এমনকি যাদের কাছে এই ধরনের নোট পাওয়া যেত তাদের জন্য হয়রানী,গ্রেফতারি এবংমৃত্যুদন্ডের মতো শাস্তিও অবাক কিছু নয়। যুদ্ধপরবর্তী কালীন সময়ে , ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার সেই সকল অন্তর্বর্তীকালীন সকল নোট ‘গেরিলা পেসো’ কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে জমা নেয় এবং নতুন নোট জারি করে। গুপ্ত ম্যাসেজ/লুকনো বার্তা [Hidden meaning]- এই ক্যাটাগরি টি প্রোপাগান্ডা ক্যাটাগরির কাছাকাছি হলেও সুক্ষ পার্থক্য হচ্ছে -এখানে কোন একটি জাতি/দল/গোষ্ঠি কে উদ্দেশ্য করে, সাধারন ডিজাইনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। যখন এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে এবং যদি দেখা যায় এই অস্বাভাবিকতা কেবল কিছু নোটেই আছে তখন তা সংগ্রাহকদের বিশেষ আগ্রহের কারন হয়ে দাঁড়ায়। আপদ কালীন ইস্যু [Emergency Issue] কোন রাস্ট্রের / সরকারের বা আইনি সত্ত্বার দ্বারা আপদকালীণ সময়ে বের করা মুদ্রা কে ইমারজেন্সি ইস্যু মুদ্রা বা [Emergency Currency] বলা হয়। দাঙ্গা, ধর্মঘট,অবরোধ, বিক্ষোভ,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সন্ত্রাস,নাশকতা, জিম্মি পরিস্থিতি , মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি কে নোটাফিলির ভাষায় আপদকাল ধরা হয় এবং আমি এদের ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করছি। ১) অর্থনৈতিক ২) রাজনৈতিক এবং ৩) সামরিক অর্থনৈতিকঃ উদাহরনঃ কোন দেশের অর্থনীতিতে মূদ্রা ভারসাম্য হারালে (স্বল্পতা,আধিক্য,স্ফীতি,বিচ্যুতি ইত্যাদি) ঘটলে সেই রাষ্ট্র বা আইনি সত্তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে তারা তাদের বর্তমান মুদ্রাকে বিসর্জন দিয়ে নতুন মুদ্রা প্রচলন করবে। কিন্তু কখনও কখনও দেশ ব্যাপি এই পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়তো সম্ভব হয় না। তখন সীমিত পরিসরে বা অলিখিত ভাবে একটি মুদ্রা সম ব্যাবস্থা গড়ে উঠে যেমনটা Genmany (Notegeld), Zimbabwe (Emergency bearer cheque) ইত্যাদির ক্ষেত্রে দেখা যায়। সামরিকঃ কোন সামরিক শক্তির প্রভাবে যে মুদ্রা জারি হয়। নোটাফিলির স্বার্থে এদেরও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ অবরোধকালীন,যুদ্ধাপরাধী ক্যাম্প,সশস্ত্র বাহিনী,রাজবন্দীশিবির,সংখ্যালঘু বন্দীশিবির ইত্যাদি। ক্যাম্প মানিঃ সাধারণত যেকোন হাজত, শংশোধনাগার, মিলিটারি ক্যাম্প বা বন্দী শিবির ইত্যাদি গুলুতে খুব একটা মুদ্রার প্রচলন দেখা যায় না। তাই কখনও কখনও কোন এই ধরনের সংস্থাপনায় বাইরে থেকে আসা বা ভেতরেই বিকশিত হওয়া কোন বিনিময় মাধ্যম মুদ্রা হিসেবে স্বকৃত হয়। যা সংরাহকদের জন্য আলাদা একটি ক্যাটাগরি। যেমনঃ যখন ফিলিপাইনে সামরিক পরাজয় অনিবার্য ছিল, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ, অনেক অনেক সেন্টাভো এবং পেসো মুদ্রা কাবালো উপসাগরে [Caballo Bay] ফেলে দেয়। যদিও তৎকালীন জাপানি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবন্দীদের বাধ্যকরে কয়েনগুলু পুনরুদ্ধার করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কিছু মুদ্রা পকেটে রেখে ক্যাম্পে নিয়ে যায় যা ক্যাম্প এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন ও ফিলিপিনো বাহিনীকে বিতরন করা হয়। যদিও তা যথষ্ট না হওায় পরবর্তীতে প্রতিরোধ বাহিনীকে অন্য ভাবে মুদ্রা জারি করতে হয়েছিলো। সশস্ত্র বাহিনীর থাকাকালীন অবস্থায় মুদ্রা আবার দুই ধরনের হতে পারে- যুদ্ধকালীন এবং শান্তিকালীন। ক্ষেত্র বিশেষে এদের Pre-Surrender and Post-surrender currency হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্য একটি ক্ষেত্রে Post-war administration currency বলা হয়। যুদ্ধকালীন অবস্থার মুদ্রা আবার কয়েক ধরনের হতে পারে- Guerilla issue, Invasion issue, Occupation issue রাজনৈতিকঃ যেমনঃ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় যখন ফিলিপিন কমনওয়েলথ সরকার পলাতক সরকার [Absconded government] ছিলো *যা অনেকের ভাষায় নির্বাসনে [Exile] ছিলো তখন তারা Guerrilla Pesos নামে মুদ্রা বের করেছিলো। খন্ড যুদ্ধকালীন অবস্থায় এই কারেন্সি গুলু আসে বিধায় এগুলু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপদকালীন মুদ্রা ধরা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং সামরিক কিছু কিছু ঘটনা সম্পৃক্ত থাকার কারনে কিছু প্রকরন ওভারল্যাপ করতে পারে। কোন আইনি সত্তার [Legal entity] কর্তৃত্বে প্রচলতি বা প্রচলন পূর্ববর্তী/পরবর্তী মুদ্রা যা কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হয় তা ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারনে অনেক সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। ইতিহাসে ট্রেন লুট থেকে শুরু করে,টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক মুদ্রা ই বিভিন্ন সময়ে সংগ্রাহক বাজারে উঁকি দিয়েছে, যা চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। কোথায় এবং কিভাবে পাওয়া গিয়েছে সেটার ভিত্তিতে ভাগ করলে সংগ্রাহকদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী আছে যা উদ্ধারকৃত এবং লুন্ঠনকৃত উদ্ধারকৃত মুদ্রা [Salvage Currency]: প্রাপ্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এদের ২ ভাগে ভাগ করছি খনন [Excavation]: Hidden treasure (Purpose treasure hunt, Accidental discovery) অভিজান [Expedition]: Ship rake (Plane crash, Shipwreck, Trainwreck) লুন্ঠনকৃত [Looted] (Looted by a group from the authorised custodian of the currency)