নভেম্বর ১৮, ২০২১

G 20

 বিভিন্ন থিমের আলোচনার ধারাবাহিকতায় বলা যায়-

বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে তাঁদের নিজের মধ্যে সমঝোতা করে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করেছে বাঁ নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেমনঃ SAARC, TIGER CLUB ECONOMY, USAN,  ARAB LEAGUE, BALKAN STATES, BIG FOUR, COMMONWEALTH NATIONS, EEA, G7,G20,IMEA ইত্যাদি হচ্ছে কিছু পরিচিত নাম। অনেকেই হয়তো তাঁদের সংগ্রহ এই রকম কোন গ্রুপের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন বাঁ একটি থেকে বাকি গুলুতে বিস্তার করেন।

Group of Seven (G20)- হচ্ছে বিশ্বের অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শিল্পায়িত ৭ টি দেশ এসে প্রথম যখন Group of Seven (G7)  বানায় তাঁর পর থেকে আরও দেশ যেগুলু ক্রমান্বয়ে বিশ্বের অরথনৈতিক,রাজনৈতিক পরাশক্তি হয়ে চলেছে, সেই সকল দেশ সমূহের সমন্বয়েই Group of Seven (G20)- গঠিত।

G20 হচ্ছে সেই সকল দেশ গুলুর, তাঁদের প্রধান ব্যাংক এবং তাঁদের রাষ্ট্র প্রধানদের একটি বিশেষ গ্রুপ যারা সাধারণত তাঁরা বছরে ১ বার দেখা করে কিন্তু খুব বড় কোন সমস্যা না হলে তখন তাঁরা দুই বারও দেখা করেছে। * (G7 থেকে কিভাবে ক্রমান্বয়ে G20 তৈরি হয়েছে তা আরেক দিনের গল্প)।

G20 গ্রুপের দেশ গুলুতে বিশ্বার দুই তৃতীয়াংশ জনগণও বসবাস করে।ধরা হয় বিশ্বার ৮৫% সম্পদ বাঁ উৎপাদন এই সকল দেশ থেকেই আসে। তাই বিশ্ব কূটনীতিতে G20 একটি প্রভাবশালী মহল। যদিও মজার বিষয় হচ্ছে G20 কিন্তু কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা না। তাঁদের কোন হেড অফিস নেই, কোন পার্মানেন্ট স্টাফ নেই, কোন ফিক্সড আলোচনার এজেন্ডাও নেই। তাঁরা সর্বোপরি বিশ্বের অর্থনীতির কল্যান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জন সচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন অগ্রদূত এবং পরিকল্পনা নির্মাণে আলোচনা এবং দৃষ্টিভঙ্গির আদান প্রদান করে।

G20র অন্তর্ভুক্ত সদস্যা সমূহ হচ্ছে - অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, ফ্রান্স,  জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিন আফ্রিকা, দক্ষিন কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্ত রাজ্য, যুক্ত রাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

এর মধ্যে ২০২০ সালের G20 আড্ডাটি হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। এবং সেই উপলক্ষে সৈদি আরব তাঁদের একটি নতুন বিনিময় যোগ্য স্মারক নোট বাজারে আনে। সেটিতে আবার ভারতের ম্যাপের কিছু অংশ এমন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে যা অনেক মন মালিন্যের সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে ভারত অনুরোধ জানায় সেই নোট টি কে বাজার থেকে তুলে নিতে।(সেটা ও আরেক দিনের গল্প)। 

সংগ্রাহক অমনিবাসঃ পর্ব ১

 সংগ্রাহক অমনিবাসঃ সংগ্রহ যেমন একটি চলমান প্রক্রিয়া,তেমনি সংগ্রাহকের সংজ্ঞাও একটি ডাইনামিক সংজ্ঞা যা হয়তো এর বৈশিষ্ট আলোচনায় ভালো ফূটে উঠবে।

সংগ্রাহকের সংজ্ঞায় না গিয়ে বরং চলুন দেখা যাক একজন সংগ্রাহকের বৈশিষ্টঃ

যে কোন কিছুর কমার্শিয়াল এবং সেন্টিমেন্টাল দুটি দিক থাকে। কমার্শিয়াল সংগ্রাহক তাঁর সংগ্রহয়ের ইচ্ছার/শখের সাথে সাথে এর বানিজ্যিক লাভকে ও চোখে রাখে,তার মানে তিনি ভবিষ্যতের মূল্য বৃদ্ধিকে প্রাথিমিক উদ্দেশ্য হিসাবে মনে রাখেন। ধরতে পারেন কখনও কখনও সে একে সাইড বিসনেস হিসাবে ও নিয়ে নেয়। অতয়েব কমার্শিয়াল স্বার্থ না থাকলে তিনি সহজে অন্য কারোর সাথে কথা বলেন না,অতটা সামাজিক না। তিনি বাজারের উঠা নামা নিয়ে তৎপর থাকেন। তিনি সবসময় তাঁর সংগ্রহকে একটি ভ্যালু দিয়ে টাকার অঙ্কে মাপতে পারেন। তিনি সহজে কোন আইটেমের সাথে মানসিক ভাবে সম্পৃক্ত হন না। ভালো দাম পেলে সবই বেঁচে দেন।

অন্য দিকে একজন সেন্টিমেন্টাল সংগ্রাহক যিনি মূলত শখের বশে সংগ্রহ করেন তাঁর সংগ্রহের পরিমানের সাথে সাথে তাঁর অবশ্যই তাঁর কোন না কোন বিষয়ে বিশেষত্ব থাকবে যেখানে তাঁর সেই সংগ্রহের প্রতিটি আইটেমের ব্যাপারে *বিস্তর জ্ঞান থাকাটা কাম্য। ব্যাঙ্ক নোটের কথা বলতে গেলে- সংগ্রাহক তাঁর সংগ্রহের সংখ্যা, মিন্টজ, ব্যাংক, প্রিন্টার, সাবস্ট্রেট, সিগ্নেটরি, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা জনিত তথ্য,বিরলতা, চিত্র কর্মের গুনগত মান, আসল নকল চেনার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, পৃষ্ঠপোষন, সংরক্ষণ সম্পর্কে অবগত থাকবে যা তাঁদের একজন সংগ্রাহক হিসাবে পদবি দেবে। তিনি তাঁর মনের খোরাক যোগানোর জন্য সংগ্রহ করেন, অর্থনৈতিক প্রাপ্তি তাঁর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। তেমনি তিনি সব সময় সবচেয়ে সস্তায় কিছু কেনার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন না। সংগ্রহের নেশার কারনে তিনি কখনো কখনো কোন আইটেম বের হওয়ার সাথে সাথে সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন,কারন এটা তাকে আত্মতৃপ্তি দেয়। তাঁর মানে অনেকাংশেই তিনি তাঁর সংগ্রহের সাথে মানসিক ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যান, এবং কেবল টাকার জন্যই কিছু বিক্রি করে দেন না। খরচ সেকেন্ডারি বিষয়। তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে তিনি কেন ঐ জিনিস সংগ্রহ করে তবে তিনি তাঁর যথাযথ কারন দিতে পারবেন তবে মূলত ভালো লাগাই বড় কারন। সাধারনত তাঁর নিজস্ব আলাদা পেশা থাকবে যা হয়তো সংগ্রহের সাথে কোন ভাবেই সম্প্রিক্ত নয়।

তিনি অনেক সামাজিক মানুষ হবেন,কারন তিনি সমমনা,একই জগতের লোকজনদের সাথে কথা বলতে ভালোবাসেন। শেয়ার, কালেকশন, ডিসপ্লে, এই নিয়ে কারোর সাথে কথা বলা,এই সকল বিষয়ে তিনি মানসিক আনন্দ পাওয়া তাঁর উপভোগ্য কাজের মধ্যে একটি।

তাঁর খ্যাতি বা সুনামের থেকে তিনি বরং তথ্য বণ্টনের নীতিতে বিশ্বাসী।

কেম্বোডিয়া

 আমার নাম কেম্বোডিয়া। আমি দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। C দিয়ে শুরু হওয়া বর্তমান স্বতন্ত্র গুলুর মধ্যে প্রথমেই আমার নাম। আজ ৯ নভেম্বর আমার স্বাধীনতা দিবস (জন্মদিন বলতে পারেন)।আমার মূদ্রা সম্পর্কে কিছু বলি তাহলে?

চলতি নোটকে বলা হয় রিয়াল বা, কেম্বোডিয়ান রিয়াল, যার বানান-RIEL. অন্য আরও যেসব দেশে রিয়াল চলে তাঁদের বানান কিন্তু আলাদা আলাদা। যেমন ইরানের রিয়ালের বানান -RIAL. কাতারের রিয়াল এর বানান – RIYAL.

যদিও আমেরিকান ডলারকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেয়া দেই তবে, ছোট খুচরা দেওায় সময় আধুনিক নোট সমূহের মধ্যে ৫০,১০০,২০০, ৫০০,১০০০,৫০০০,১০০০,২০০০০,৫০০০০ এর নোট ব্যাবহার করি। তবে সবখানে সব কিছুর দাম আমেরিকান ডলারে লেখা এবং বলা থাকে। আর একটি বিষয় মনে রাখবেন আমার কাছে আমেরিকান ডলার খুব ভালো লাগে তাই আমিও চেস্টা করি কেবল ফাইন বাঁ এক্সট্রা ফাইন নোট ই নেওয়ার। বিশ্বের তিনটি এমন দেশের মধ্যে আমিও একটি যেখানে মূল দেশীয় মূদ্রার বদলে আমেরিকান ডলারকে প্রাধান্য দেয়া হয়, তো বলেন আমার দোষ কোথায়?

বলে রাখি;আমার কাছে কোন জীর্ণ আমেরিকান ডলার দিলে কিন্তু আমি নেব না। তাই আসার সময় ভালো নোট গুলু নিয়ে আসবেন।

আমার স্মারক নোট আছে কয়েকটি যেমনঃ ২০০০,১৫০০০,৩০০০০ , ১০০০০০।

যদিও সব নোটে খুব বেশি নিরাপত্তা ফিচার নেই তবে যেখানে আছে সেখানে নিরাপত্তার জন্যঃ জলছাপ, পার্শ্বপাক্ষিক মুদ্রন,(জি এই বাংলা আমিই বানিয়েছি), হলোগ্রাফিক স্ট্রাইপ, নিরাপত্তা সূতা ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয়েছে।

আমার এখানে কেবল বন্যা প্রতিরধী ধান (একদিনে ৬ সেঃমিঃ বাড়তে পারে), আর সর্ব বৃহৎ ক্রিত্তিম হ্রদ ই নয়,বরং বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ধর্ম স্থান ও রয়েছে, যার বৈচিত্রতার প্রকাশ এখানের ব্যেকনোটে দেখা যায়।

সম্ভাব্যা ব্যাংক নোট থিমঃ ব্যেক্তিত্ব, ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক স্থান, বুদ্ধ, ব্রিজ, নৌকা,হেড অফ স্টেট, পৌরাণিক কথা,

সম্প্রতি ৩০০০০ এর নোট বাজারে এসেছে।

সাবস্ট্রেটঃ পেপার

Currency code: KHR

ISO code: 4217

Printer name: PNBC (Printing works of national Bank of Cambodia)

ব্রুনেইএর ৫০০ রিঙ্গিট এর নোট

 এশিয়া মহাদেশের অন্যতম ধনী দেশ ব্রুনেই,যাদের মূল সম্পদের মধ্যে খনিজ তেল প্রধান রপ্তানি।

এই নোটের ফেস ভ্যালু/ক্রয় ক্ষমতাঃ  প্রায় ৩২ হাজার টাকা। তবে ভাল অবস্থায় পাওয়ার দুষ্প্রাপ্যতার কারনে সংগ্রাহক মহলে এর মুল্য আরও অনেক বেশি ধরা হয়।

ব্রুনেই এর এই নোট টি গার্ডিয়ান পলিমারে তৈরি যা NPA (Note printing Australia) তে ছাপা হয়েছে। এটি প্রথম এটা বাজারে আসে ২০০৬ এবং তারপর ২০১৩ এ একই ডিজাইনে এটা পুনর্মুদ্রণ হয়।

ব্রুনেই একটি রাজ তান্ত্রিক দেশ। যার ফলে তাঁদের সকল নোটেই রাজার ছবি দেখা যায়। এই নোটের অপর পাশে আছে সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দীন মসজিদ এবং সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়া ফাউন্ডেশন বিল্ডিং (ইয়াসান)।

 

১৯৬৭ সালের ব্রুনেই -সিঙ্গাপুর মুদ্রা অদলবদল চুক্তির আওায়তায় ব্রুনেই এর অর্থ সিঙ্গাপুরের অর্থের সাথে একই দরে অদল বদল করা যায়।  তাই কিছু দিন আগে যখন ব্রুনেই তাঁদের ১০০০০ ডলারের নোট গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নেয় তখন অনেকেই তাঁদের সেই অর্থ সিঙ্গাপুর ডলার এ পরিবর্তন করে নেইয়ার চিন্তা করে।

তাঁদের প্রায় ১০ টি চলতি নোটের রয়েছে যার মধ্যে ১০০০০ নোট টি কে বর্তমান কালের সবচেয়ে বেশি ক্রয় ক্ষমতার নোট বলা যায়। যদিও সেটা অনেক স্থানীয় ব্রুনেইবাসী ই চোখে দেখে নি,আর আমার সংগ্রহের টি ও ঘরে রাখার মত আমার সাহস হয় না তাই তাঁর ছবি দিলাম না।

পিক কোড # ৩১

সম্ভাব্য থিমঃ ফুল, ফুল, পাতা, মসজিদ, উদ্ভিদ, গাছপালা,রাষ্ট্র প্রধান, ভবন।

 



 

ব্রাযিলের ২০০ নোটের তোলে আলোচনার তুফান

 ২০২০ এর অগাস্ট সেপ্টেম্বরের দিকে; ব্রাজিল যখন তাঁদের ২০০ রিয়ালের নোট প্রথম বাজারে নিয়ে আসলো তাঁর পর জনগনের চায়ের কাপে যে আলচনার ঝড় উঠেছিলো তাঁর কথাই আজকে বলবো।

 

কোভিড ১৯ এর কারনে বাজারে যখন অর্থ সঙ্কট দেখা দেয়, ব্রাজিল মনিটরি অথরিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে তাঁরা প্রথম বারের মতো ২০০ রিয়ালের নোট বাজারে নিয়ে আসবে। যেই কথা সেই কাজ।

নোট হাতে পাওয়ার পর অক্টোবর মাসে তাঁদের দেশের জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার বিষয়ঃ যেন এই নোট তুলে নেয়া হয়। কারনঃ এই নোট তাঁদের ২০ রিয়ালএর নোটের সাথে আকারগত ভাবে সাদৃশ্য পোষন করে। যা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। তাঁরা আদালতের কাছে দাবি জানায় -হয় এই নোট তুলে নেয়া হোক,না হলে প্রতিদিন প্রায় ৭৬ লক্ষ (বাংলাদেশি মূদ্রায়) সরকারকে জরিমানা দিতে হবে।

তখন সরকার জানায়,”প্রথমত ১০০ রিয়ালের নোটে যে খরচ তা বিবেচনায় ২০০ রিয়াল বাজারে আনা হয়েছে,তাছাড়া বাজারে বর্তমানে(২০২০ সালে) অনেক ১০০ রিয়াল আছে, দ্বিতীয়ত,স্বল্প সময়ের সিদ্ধান্তের কারনে; এই নোটের আকার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়ে উঠে নি।“

বলে রাখিঃ প্রায় ৪৫ কোটি নোট ইতিমধ্যেই বাজারে ছাড়া হয়েছে,যার প্রতিটি নোটের পেছনে খরচ এসেছে প্রায় ৫ টাকার (বাংলাদেশি মূদ্রায়)  মতো। অতয়েব প্রায় ২২৫ কোটি টাকা গচ্চা।

যাইহোক,মুল কথা নতুন নোট বাজারে ছাড়লে সাইয,শেপ আলাদা করে যেন ছড়া হয়,(স্বল্প আলোর ব্যাবহারকারি,অন্ধ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কথা মথায় রেখে)।যেমনটা তাঁদের অন্য নোট গুলুতে দেখা যায়।

আরেকটি বিষয় যা ব্রাজিলের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি করে;তা হচ্ছে- নোটে যে প্রাণীর (ম্যেন্ড ওলফ)) ছবি রয়েছে তা নিয়ে। একদল বলে যে এটি নাকি ব্রাজিল কে যথার্থ ভাবে বিশ্ব বাজারে উপস্থাপন করে না,এবং এর বদলে আরও ভালো প্রাণীর ছবি ব্যাবহার করা যেত, যেমন ব্রাজিলের স্থানীয় রাস্তার কুকুর (ক্যারামেল মঙ্গো)। এটা নিয়ে অনলাইনে অনেক তামাশাচিত্র ও পেয়ে যাবেন।

বিঃদ্রঃ ম্যেন্ড ওলফ- এই প্রাণীটি প্রকৃত পক্ষে না একটি শিয়াল,না একটি নেউলে, এইধরনের এটিই একমাত্র প্রাণী। এটি সাধারনত দল নিয়ে চলে না।

নোটের বিবরনঃ সম্মুখ ভাগে যে ছবিটি আছে তা হলে প্রজাতন্ত্রের নরোত্বরমুখ।যেখানে প্রজাতত্রকে নর রূপে ভাবা হয়েছে। আর অন্য দিকে ম্যেন্ড ওলফ নামে একটি শিয়াল সদ্রিশ্য প্রাণীর প্রতিকৃতি আছে।

 

ক্রয় ক্ষমতাঃ প্রায় ৩০০০ টাকা (বাংলাদেশি মূদ্রায়)

প্রিন্টারের নামঃ কাসা দে ময়েদা [CdM-Casa da Moeda do Brasil]

ISO code : 4217

Currency code: BRL

মুদ্রা চিহ্ন: R$

ভগ্নাংশ: Centavo (1⁄100)

আগের মুদ্রার নাম: Cruzeiro Real

পলিমার ব্যাংক নোটের সুচনা

 সেখানে ছিলো চার বন্ধু। একজন ছিলো দরজি,একজন ফটোগ্রাফার,একজন চিত্র শিল্পী, এবং দোকানদার। সবাই তাঁদের নিজ নিজ জীবন নিয়ে বীতশ্রদ্ধ।একদিন তাঁরা ঠিক করলো তাড়াতড়ি বড়লোক হওয়া লাগবে।

যেই কথা সেই কাজ। কিভাবে?-বাজারে জাল টাকা ছাড়া হোক। তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই টাকার ব্যাবসা করবে।

তো ফান্ডিং তো লাগবে। কিছুদিন খুঁজাখুঁজির পর দেখা গেল বিনিয়োগকারীও এক পায়ে খাঁড়া।

তাঁরা প্রথমে কিছ কিছু সাধারন কাগজ, নস্ট ক্যেমেরার লেন্স এবং রঙ্গিন প্রিন্টিং প্রেস কিনলো। এখন যার যার দক্ষতা কাজে আসলো। ফোটোগ্রাফার করলো ভালো ভাবে ছবি তোলার কাজ, চিত্র শিল্পী করলো জলছাপ আঁকার কাজ, সিকুরিটি সূতা বুননের কাজ নিলো দর্জি এবং একই সাথে প্রিন্টিঙের কাজও সাথে সাথে করতে লাগলো। আর অন্যদিকে দোকানদার বন্ধুও বসে নেই। সে তাঁর দোকানের সুবাদের সেই জাল টাকা বাজারে ছাড়তে লাগলো।

না এই কাহিনী কোন কল্পকথা নয়। ষাটের দশকের যখন অস্ট্রেলিয়া ’পাউন্ড’ থেকে তাঁদের বর্তমান মুদ্রায় (ডলারে) চলে আসে,তখন ইতিহাসের সর্ব বৃহৎ যোচ্চুরিটি সরকারের এবং তারপর মানুষের নজরে আসে।

তখন নিরাপত্তা সুচক হিসাবে নোটে কেবল জলছাপ,ইনটাগ্লিও প্রিন্টিং এবং মেটাল থ্রেড (ধাতব সূতা) ব্যাবহ্রিত হতো।

সরকার এই নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো,কি করা যায়? বাজারে তখন হয়তো আসল টাকার থেকে জাল টাকার ছড়াছড়িই বেশি বলা যায়।

এই ছিলো গল্পের শুরু। যা পরবর্তীতে ব্যাংক নোটের জগতে এক নতুন প্রযুক্তির অগমনী বার্তা নিয়ে আসে।

আপনাদের ভালো লাগলে এই গল্পের দ্বিতীয় পার্ট এবং ক্লাইমেক্স আসবে।

লেখনি এবং চিত্রঃ যথারীতি নিজ, (প্রীতম চক্রবর্তী)

 

বিঃদ্রঃ ছবির নোট গুলুর কথা ভাবুন,কমেন্টে জানান। সবার আগে এই ধরনের পোস্ট পেতে Trust Collector ব্যাবহার করুন। আর জানতে হলে প্রশ্ন করুন।

স্বর্ণের এবং রুপার ব্যাংক নোট যা বাজারে চলতি।

সবাই তো কাগজী বা পলিমার নোট নিয়ে মাতামাতি করেন। আচ্ছা আপনাদের মধ্যে কজনে এর বাইরে আর কোন নোট ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে জানেন?

পলিমার ছাড়াও আরও যে প্যাপাইরাস, থাইভ্যাক,ব্রডভেক,মিটসুমাটা, বিভিন্ন রকম হাইব্রিড, কটন,কমার্শিয়াল পলিমার, ডিউরো সেইফ, অরাম (সোনা ,রূপা ইত্যাদি)।

আজকের কথা এর মধ্যে একটি নিয়েই-

প্রাইভেট, গোল্ড ন্যানো টেকনোলজি কোম্পানিঃ  ভ্যালুরাম, স্বতন্ত্র মুদ্রা মিন্ট।শুরুঃ ২০১২ থেকে

উদ্দেশ্যঃ যেন এমন একটি পন্য প্রস্তুত করা যা গতানুগতিক ভাবে ত ব্যাবহার করা যাবেই বরং মূল্যবান ধাতুকে জনসাধারণের প্রতিদিনের লেনদেনের বা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসাবেও ব্যাবহার করা যাবে।

এর অন্যতম নিরাপত্তা প্রযুক্তি সমূহের মধ্যে স্ফটিক স্কেল এফেক্ট এবং গিলেশ্যে (guilloche) অন্যতম। গিলেশ্যে একটি আলংকারিক কৌশল যেখানে একটি খুব সুনির্দিষ্ট, জটিল এবং পুনরাবৃত্তিমূলক প্যাটার্নকে যান্ত্রিকভাবে ইঞ্জিন টার্নিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়, যে মেশিন ব্যবহার করে এটি করা হয় তাকে রোজ ইঞ্জিন লেদ বলা হয়।

যদিও তাঁরা প্রথম কুক আইল্যেরন্ড সাথে প্রথম বৈধ ব্যঙ্কনোট নিয়ে আসে যেটি ছিলো প্রিন্স হ্যারি এবং মেগানের বিয়ে উপলক্ষে স্মারক নোট । এরপর তাঁরা – স্কাইলাইন সিরিজ নিয়ে আসে ২০১৭ সালে যা স্কাইলাইন ডলার নামে পরিচিতি পায়, যা বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শহরগুলিকে বৈশিষ্ট্যযুক্ত করে। সেই সিরিজ এ প্রতিটি নোট 5 গ্রাম সূক্ষ্ম রৌপ্য থেকে তৈরি এবং পরিমাপ ১৫০ × ৭০ মিমি। । সবগুলুই বিশ্বব্যাপী ৫০০০ পিস পর্যন্ত সীমিত মিন্টেজ।

এখানে আমি বিখ্যাত চিত্র শিল্পি গুস্তাভ কিমটের  [Gustav Klimt] জগত বিখ্যাত চিত্র কর্ম,যার নাম ট্রি অফ লাইফ বা জীবন বৃক্ষ তুলে ধরেছি। আমি নিশ্চিত আপনি উনার এই নিপুন কাজের নমুনা কোথাও না কোথাও অবশ্যই দেখেছেন।

বলা হয় এই নোট টি বিশ্ব জুড়ে ৮৮৮ পিস বের করা হয়। ওজন ৩০ গ্রাম, প্রুফ কোয়ালিটি (উপাদানঃ খাটি রুপা ),কুক আইলয়েন্ড থেকে এটা স্মারক নোট হিসাবে ছাড়া হয়েছে।নোট টি তাঁর নিজস্ব ফোল্ডারে আসে । সাদৃশ্য প্রমানের জন্য আমি এই চিত্র কর্মের কিছু অন্যান্য নমুনা ইন্টারনেট থেকে ও দিলাম।

খাটি সোনা এবং রুপার তৈরি এরকম নোট আরও বেশ কিছু দেশ থেকেও বের হয়েছে,তার মধ্যে মঙ্গোলিয়া, ঘানা, কুক আইল্যেন্ড,ক্যামেরুন,টাঞ্জেনিয়া অন্যতম। আরও অন্যন্য দেশ এই লিস্টে সংযুক্ত হচ্ছে।