ডিসেম্বর ০৩, ২০২১

স্টেইন বাঁ দাঁগ এবং ফক্সিং বাঁ বিবর্ণতা টোন

 স্টেইন বাঁ দাঁগ এবং ফক্সিং বাঁ বিবর্ণতা কিন্তু এক কথা না। স্টেইন সাধারণত সেই দাগ গুলুকে বলা হয় যা এমনি এমনি হয় না। কৃত্তিম ভাবে করা হয় বিভিন্ন কারনে। এর মধ্যে অসাধু কিছু কারণও আছে।

যেমনঃ জাল এরর, চুরির নোট সনাক্ত করণ, যুদ্ধের সময় দুর্ঘটনা বশত রক্ত লাগা ইত্যাদি।

স্টেইনের রং সাধারণত উজ্জ্বল হবেঃ যেমন বেগুনি, সবুজ, নীল, লাল বাঁ কালো। কোন কোন দেশে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কি রং ব্যাবহার হবে সেটা সেটা সেই দেশের আন্ত নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ঠিক হয়। চুরির নোট কে চিহ্নিত করার জন্য অনেক চুরির সময় ডাই প্যাক [Dye pack] এক্সপ্লোশন হয়,যা সেই রং চিরতরে নোটের গায়ে বসিয়ে দেয়। তাই বলে ভাববেন না বাঘের ও টাঘ নেই। এই যেই ব্যাবস্থার মাধ্যমে চুরির সময় ব্যাংক নোট গুলুকে নিস্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াকে বলে  intelligent banknote neutralisation system (IBNS)। সেই ডাই প্যাকের রঙের আবার নোট প্রিন্টিং করার রঙের সাথে অনেক মিল আছে (যা অন্য দিনের টপিক)।

যারা বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে তাঁরা এর সম্পর্কে জ্ঞ্যান রাখে,কেননা এই ধরনের ব্যাবস্থা কেবল ব্যেঙ্কনোটেই না বরং হীরা, গোপনীয় রাষ্টীয় দস্তাবেজ ইত্যাদি সংরক্ষনেও ব্যাবহার হয়।

স্টেইন্ড ব্যাংক নোট গ্রহন করা অনেক দেশের আইনেই দন্ডনীয়। খেয়াল করবেন এখানে আমি “বাজারে চালানো” টার্ম টি কিন্তু ব্যাবহার করি নি।(এই নিয়ে অনেক কথা বলা যায়)। বেশিরভাগ এ টি এম মেশিনে এই প্রযুক্তির অবাধ ব্যাবহার দেখা যায়।

অন্যদিকে ফক্সিং [Foxing]: এই নাম টি এসেছে শিয়ালের গায়ের বাদামী ছোপে সাথে সাদৃশ্যের কারনে। ফক্সিং হচ্ছে বার্ধক্য বাঁ অবহেলা জনিত কারনে কাগজে পড়ে যাওয়া হালকা বাদামী দাগ যা;যদি কোন পদক্ষেপ না নেয়া হয় ধীরে ধীরে সেই কাগজের সৌন্দর্য কে নষ্ট করে দেয়,কারন এতে বুঝা যায় যে সেটা পুরোনো। এই প্রক্রিয়া কে সংশোধন করা বেশ কঠিন এবং পাশ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন না। কিন্তু ফক্সিংকে আটকানো যায় বাঁ ধীর করা যায়। (বিস্তারিত Trust collector)। এখন আপনারা বাজারে বেশিরভাগ যে সকল নোট বিক্রি হতে দেখেন তাঁর অনেক ই এই সমস্যায় আক্রান্ত। অনেকে একে ভুলে স্টেইন বলে, অনেকে একে বলে “হলুদ দাগ”। যে কাগজে এই সমস্যা দেখা যায় তাকে ফক্সড পেপার বলে উচিৎ।

কারনঃ অনেকগুলু কারনের মধ্যে অধিক আদ্রতা, মোল্ড, ফাঙ্গাস অন্যতম তবে কাগজের পাল্প বানানোর সময় যে জল মেশানো হয় তাতে উচ্চ মাত্রায় লোহা এবং তামার উপস্থিতি, ধোঁয়া, তেল,রাসায়নিক বাষ্প, ভুল লাইটের ব্যাবহার, ভূল ক্যামিকেল ট্রিট্মেন্ট,  ইত্যাদি। এখানে লক্ষনীয় যে মোল্ড/ছত্রাকের কারনে ও হয় তাই এই ছত্রাক আপনার অন্যান্য কালেকশনের আইটেমে ছড়াতে পারে। তাই গভীর ভাবে না জেনে সেই ধরনের আইটেম না কেনা বাঁ ইতিমধ্যেই কিনে থাকলে সেটা অন্য আইটেমের সাথে না মেশানই ভালো।

আর ইতিমধ্যেই আক্রান্ত আইটেম গুলুকে সম্ভব হলে ট্রিটমেন্ট করে ক্যাপসুলে রাখতে পারেন। এখন সেটা কি সম্পূর্ণ আবদ্ধ হওয়া উচিৎ নাকি আংশিক সেটাও অন্য দিনের আলোচনা,এমন কি এটা নিয়ে একটা সম্পূর্ণ পোস্ট লেখা যাবে। অনেকে বলে বায়ুরোদ্ধ জায়গায় সংরক্ষণ করা ভালো।অন্য আইটেম থেকে আলাদা,অনেক্তা আই সি ইউর মতো। আবার আমি অনেক জাদুঘরের প্রজেক্টে দেখছি যে সেখানে কিন্তু পুরপুরি আবদ্ধ রাখা হয় না। কোন আর্ট কে বিভিন্ন লেয়ারের এসিড বিহীন টিস্যুর ভিতরে রাখা হয়। এখন এত সব ঝামেলার কারনেই সাধারণত ফক্সড আইটেমের মুল্য কম ধরা হয়,কারন এটা ধীরে ধীরে যদি বাড়তে থাকে তাহলে এক্সময় সেই নোট বাঁ কাগজী আইটেমের প্রাণশক্তি শেষ হয়ে যায়।আমি মনে করি সমস্ত জৈব পদার্থ (বিশেষ করে,এখানে ফিলাটেলিক এবং প্রিন্টেড পেপার) সহজাতভাবে অ্যাসিডিক এবং এই কারণে অনিবার্যভাবেই আজ না হয় কাল তাঁদের পচন ঘটবে৷ যখন একটি সম্পূর্ণ সিলযুক্ত আবদ্ধ জায়গা তাদের সংগ্রক্ষনের বা প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পচনের উপজাতগুলি প্লাস্টিক  ধারকের অভ্যন্তরীণ স্থানের মধ্যে আটকে যায়৷ প্লাস্টিক ধারকটি শ্বাসনিতে না পারলে, ধারকের মধ্যে একটি "মাইক্রো-ক্লাইমেট" তৈরি হয়। এখন ভেতরের অনুজীব গুলু কি অক্সিজেনের সাহায্যে বাচে নাকি অক্সিজেন ছাড়াও বাছতে পারে সেটার উপর নির্ভর করবে আপনার আইটেম সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া। কেননা যদি ঐ মোল্ড অক্সিজেন ছাড়াও বাচে তাহলে এই ধরনের মাইক্রোক্লাইমেট পচনকে সমর্থন করবে অন্য দিকে যদি সেই মোল্ড কেবল অক্সিজেনের সাহায্যেই বাচে তাহলে একটি মাইক্রো-জলবায়ুর মধ্যে কাগজ সিল করলে হয়তো আপনার আইটেমের ক্ষতি আপাতত রদ করা সম্ভব কেননা তখন আর সেই মোল্ড বিস্তার ঘটাতে পারবে না।

 

টোনিংঃ যদিও ফক্সিং এবং টোনিং কে পৃথক করাটা অনেক সুক্ষ। এই নিয়ে নানান পণ্ডিতদের নানান মত আছে যা অল্প সময়ে আলোচনায় বুঝানো কষ্টকর। তবে দুটি প্রধান মত অনুসারে ফক্সিং হয় অরগানিক (জৈব) উপাদানের আর টোনিং হয় ধাতব বাঁ অজৈব উপাদানের যেমন কয়েন, বাঁ প্লাস্টিক ইত্যাদি। কিন্তু রং বুঝানোর ক্ষেত্রে যেহেতু “টোন” টার্ম টি ব্যাবহার করা হয় তাই কোন কাগজী আইটেমের বর্ণনায় যদি বলা হয় “ইয়েলো টোন আছে” সেটাও কিন্তু ভুল না,যদিও আমার মতে সেটা আংশিক সত্য। কারন টন কেন আছে সেটা না জানলে/জানালে শুধু সেটা জাহির করে লাভ নেই, কেননা দক্ষ চোখ সেটা দেখতে পারে। সাধরনত অনেক সংগ্রাহকরাই যেহেতু কোন আইটেম প্রথম যেভাবে নতুন অবস্থায় বাজারে এসেছে সেভাবেই তাঁদের সংগ্রহকে রাখতে চায় তাই পরবর্তীতে টোন পড়ে যাওয়া আইটেমের দাম করে যায়,কারন অনেক ক্ষেত্রে সেতাএ বয়সের ছাপ প্রকাশ পায়। অন্য দিকে আরেকদল আছে যারা দৃষ্টি নান্দনিকতার জন্য আইটেম সংগ্রহ করে,তাদের কাছে আবার টোন হওয়া বিশেষ করে ধাতব মুদ্রার আগ্রহ থাকে ,তাই তাঁরা সেটার জন্য অনেক সময় প্রিমিয়াম ও দেয়। আর এজন্য বাজারে আবার আসাধু ভাবে কৃত্তিম টোনিংও অনেকে করে বিক্রি করে। আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে টোনিং করা বাঁ হওয়া পছন্দ করি না। বলতে পারেন আমি অন্য সকল তথাকথিত সংগ্রাহকদের মতো কোন আইটেমের প্রথমকার অবস্থারই অনুরাগী। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন