ডিসেম্বর ০৯, ২০২১

পাল্পিং [Pulping] মন্ড প্রস্তুত করণ ও তাঁদের ধরন

 পাল্পিং [Pulping] বাঁ মন্ড তৈরি করা হচ্ছে কাগজ তৈরির প্রাথমিক ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মধ্যমে উদ্ভিদ আ কাঠ কে কাঠামোগত ভাবে দুর্বল করে তাকে তন্তুসার করা হয় বাঁ এর থেকে সকল ফাইবার বের করে আনা হয়।

কাঠ থেকে ফাইবার আলাদা করার কেয়াক্টি প্রথাগত প্রসেস আছে,যা সেই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে, কিছু প্রসেস আবার আধুনিক বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের ফলে ডেভলাপ হয়েছে। আমি তাঁর মধ্যে তিনটির কথা বলছি- যান্ত্রিক, মিশ্র এবং রাসায়নিক। 

যান্ত্রিক [Mechanical Pulping]

যেসকল কাজে উৎপাদিত পন্যের মজবুতির প্রয়োজন কম হয় সেখানে এই প্রাচীনতম প্রক্রিয়া ব্যাবহার করা হয়, যেমন নিউজ প্রিন্ট কাগজ, টেলিফন ডিরেক্ট্রি,ম্যাগাজিন,পেপার টাওাল, পেপারবোর্ড ইত্যাদি। উৎপাদন সস্তা এবং সাশ্রয়ী তাছাড়া পরিমাণও খুবই ভালো (প্রায় ১ কেজি কাঠ থেকে ৯০০ গ্রামের মতো মন্ড বানানো যায়)। তাই পৃথিবীর উৎপাদিত সকল কাগজের ১ চতুর্থাংশ ই এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। কাগজ সাদা করার জন্য অনেক ব্লিচ প্রয়োজন হয় তাছাড়া বেশী ব্লিচ ব্যাবহার করলে সমগ্রউতপাদন কমে যায়, তাই একে এভাবেই রেখে দেয়া হয়,কেবল মাত্র মুদ্রন উপযোগী করার জন্য যতটুকু না করলেই না ততটুকুই করা হয়। আধুনিকায়নের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়ার অসুবিধাসমূহকে খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রনের আনা হচ্ছে।

উপযোগীতাঃ চেপে আয়তন ছোট করা যায়, কালি বাঁ যেকোন কিছুর শোষণ ক্ষমতা ভালো, স্ত্যায়িত্ব কম, ক্যেমিকেলের ব্যাবহার কম অতয়েব পরিবেশ বান্ধব।

কাগজে উপস্থিত এই লিগ্নিনের কারনে সময়ের আবর্তনে বিভিন্ন কাগজ (বিশেষ করে খবরের কাগজ) হলুদাভ আভা ধারন করে।

 যান্ত্রিক পাল্পিং সাধারণত ৪ প্রকার হয়ে থাকে। 

রিফাইনার মেকানিক্যাল পাল্প [RMP]- কাঠের ছোট টুকরো গুলুকে পেষার সাথে সাথে বিভিন্ন সাইজের ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সাইজের ছাঁকনির মধ্য দিয়ে নিয়ে মিহি করা হয়।  

থার্মো মেক্যানিক্যাল পাল্প [TMP]- গরম বাস্পের ট্রিটমেন্ট করে তারপর “RMP” করা।

স্টোন গ্রাউন্ড ওড পাল্প [SGW]- কাঠের বড় টুকরো গুলুকে পিষে নরম করা হয় ।

প্রেসার গ্রাউন্ড ওড পাল্প [PGW]- গরম বাস্পের ট্রিটমেন্ট করে তারপর “SGW” করা।


মিশ্র/ তাপ-রাসায়নিক-যান্ত্রিক [Chemithermomechanical] বাঁ CTMP- যেই নাম সেই কাজ। সাধারণত পুরনাঙ্গ ক্যেমিক্যেল প্রসেসে কাঠের ভেতর খুব একটা লিগনিন অবশিষ্ট থাকে না। ফলে উৎপাদন বেশ করে যায়, তাই এই মিশ্র প্রক্রিয়ার জন্ম হয়েছে। এটাকে একটা হাইব্রিড প্রসেসও বলতে পারেন। এই  যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রথমে কাঠের টুকরো গুলুকে ক্যামিক্যেলের দ্রবনে ডুবিয়ে রাখা হয়,যদিও সেই ক্যেমিক্যেল ততটা উগ্র না যা কাঠের টুকরো গুলু থেকে লিগনিন কে ভেঙ্গে একাকার করে দিতো তাই সেলুলোজ ফাইবার গুলুর গঠনগত বিন্যাস খুব একটা নষ্ট বাঁ এলোমেলো করে না । এটি বেশহ আধুনিক প্রক্রিয়া।

রাসায়নিক পাল্পিং [Chemical pulping]-, ক্যেমিক্যেল এবং তাপ কাঠের গুড়া সমূহকে ক্যেমিকেলের দ্রবনে ডুবিয়ে রাখা হয়, যতক্ষন না সেই ক্যেমিক্যেল কাঠের টুকরো গুলুথেকে লিগনিন কে ভেঙ্গে একাকার করে দেয় যা সেলুলোজ ফাইবার গুলুর গঠনগত বিন্যাস নষ্ট করে তাঁদের এলোমেলো করে দেয়।সুবিধাঃ শক্ত পোক্ত উপাদান তঈরির জন্য এই প্রক্রিয়া ব্যাবহার হয় কেননা অবিন্যস্ত ফাইবার গুলু যখন শুকিয়ে কাগজ গঠন করে তখন এগুলু একটা আরেক্টির সাথে জট পেকে থাকে যার ফলে উৎপাদিত কাগজটি বেশ মজবুত হয়। দুইটি ভিন্ন ধরনের অনুধটক দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়,যা কাগজী আইটেম বিশেষ করে নিউমেস্মটিক এবং নোটাফিলিক কালেক্টরদের জন্য বুঝা গুরুত্বপূর্ণ।

অম্লীয় [Acidic pulping] বাঁ সালফাইট মেথড [Sulfite pulping] প্রক্রিয়াঃ আধুনিকতর প্রক্রিয়া, লিগ্নিন তাড়াতাড়ি এসিডের সাথে দ্রবিভুত হয়ে যায় ফলে নিস্কাশন সহজতর হয়, ফলে কাগজের রং হাল্কে এবং উজ্জ্বল হয়, ফলে ব্লিচ করা কম লাগে (যা পরিবেশ বান্ধব), সার্বিক কাজ দ্রুত হয় এবং উৎপাদন তুলনামূলক ভালো।

ক্ষারীয় [Alkaline pulping] বাঁ সালফেট মেথড– শত বছরের পুরনো এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশী ব্যাবহ্রিত হয় সাধারণত বাদামী শপিং ব্যেগে। লিগনিন দ্রিবিভূত হয়ে ফাইবারে ছড়িয়ে যায় ফলে উপাদানটি বাদামী বর্ণ ধারন করে এবং তততা উজ্জ্বল হয় না। সাদা করতে প্রচুর ব্লিচ দেয়া লাগে ফলে অনেক উৎপাদক কাগজের রং অপরিবর্তনীয় রেখে দেয়। শত বছর আগের এই উৎপাদন প্রক্রিয়া তখনকার জন্য সবচেয়ে মজবুত কাগজ দিতে পারতো কিন্তু রং বাদামী হওয়ায় এর ব্যাবহার প্যাকেজিং ম্যেটেরিয়ালেই সীমাবদ্ধ। এই জাতীয় কাগজকে ক্র্যাফট পেপার ও বলা হয়। 

উপযোগিতাঃ নরম কাঠ,ঘাস,গুল্ম বাঁ এই ধরনের উদ্ভিদ যেখানে লিগ্নিন কম থাকে বাঁ আলাদা করা সহজ তাঁদের এই প্রক্রিয়ার প্রক্রিয়াজাত করলে সময় ও তাপ কম প্রয়োজন হয়। প্রাচীন প্রক্রিয়া বিধায় এটি যথেষ্ট পরিপক্ক হয়েছে ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত তাপ এবং রাসায়নিক বস্তু সমুহকে কমিয়ে আনা এবং পুনঃব্যাবহারের প্রযুক্তি ভালো ভাবেই আয়ত্তে এসেছে। তাছাড়া কাগজের মজবুতিও বেশ ভালো এবং প্রায় সকল ধরনের উদ্ভিদের সাথেই এর ব্যাবহার চলে। তবে কঠিন কাঠের ক্ষাত্রে বাঁ কাঠ বিহীন উদ্ভিদ আঁশের প্রক্রিয়াজাত করনে ক্যেমিকেল হিসাবে কস্টিক সোডা ব্যাবহ্রিত হয়। এই তথ্য টি ও সংগ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই সকল কিছুর বাইরে আরও পাল্পিং মেথড আছে যাকে তাঁর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত টি হচ্ছে “Organosolv pulping” বাঁ ডিঙ্কিং [Dinking] বলা হয়। সাধারণত রিসাইক্লেনিং বাঁ পুনঃ প্রক্রিয়াজাত করনে এর ব্যাবহার বেশী দেখা যায়।. অনেক নিউজপ্রিন্ট, ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট পেপার, কিচেন  ক্লিনিং রোল, শপিং ব্যেগ এই ধরনের প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। আপনি ফটোকপির কাগজ কিনতে গেলে হতো কখনো “DIP” টার্মটি খেয়াল করতে পারেন। এটিই সেটি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন