বিভিন্ন আলাদা আলাদা ধরনের প্রক্রিয়ায় তৈরি করার ফলে বিভিন্ন আলাদা আলাদা ফলাফল লক্ষ্য করা যায়।
প্রস্তুত প্রনালীর দিক
থেকে প্রধানত দুইটি প্রধান প্রসেস দেখা যজায়ঃ
ড্যান্ডি রোল প্রসেস [Dandy roll process]
সিলিন্ডার মোল্ড [Cylinder mould process]
ড্যান্ডি রোল প্রসেস
[Dandy roll process]
১২৮২ সালে যা প্রথম ইতালিতে প্রসিদ্ধ হয়।যিও এই প্রক্রিয়াকে সহজীকরন এবং আধুনিককরন
করেন জন মার্শাল [John Marshall] নামক একজন ব্যেক্তি ১৮২৬ সালে। তিনিই প্রথম বানিজ্যিক ভাবে; জলে ভেজানো ধাতব পাতের
সাহায্যে কাগজে জলছাপ ফুটিয়ে তোলার কাজটি করে দেখান।
সিলিন্ডার মোল্ড প্রসেস
[Cylinder mould ] Created in 1848
১৮৪৮ সালে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিতে
আরো ভালো এবং উন্নত ভাবে জলছাপ বসানো সম্ভব হয়েছে যা আধুনিক নোট গুলুতে ব্যাবহার হচ্ছে।
জলছাপে শেড/বিভিন্ন স্তরের গাড়ত্ব নিয়ে আসার জন্য; এই প্রযুক্তিতে কাগজ শুকানোর পরে
আবারো এতে এম্বুশ করা সম্ভব। ফলে অন্তিম ফলাফলকে বেশ স্পষ্ট ডিটাইলস সম্পন্ন এবং ত্রিমাতৃক
ভাবে ফুটিয়ে তুলা সম্ভব হয়।
পেপার টোনের ভিত্তিতে জলছাপ
কয়েক প্রকার হয়ঃ
সিঙ্গেল টোনঃ কাগজের তুলনার হাল্কা বাঁ গাড়ো,যেকোন
এক বর্ণের হয়।
ডুয়ো টোনঃ কাগজের তুলনার হাল্কা এবং গাড়ো
দুটি বর্ণই এক সাথে দেখা যায়।
হালফ এবং মাল্টি টোনঃ[Half Tone & Multitone watermark]: ক্রমশ হাল্কা থেকে
ঘন এবং ক্রমশ ঘন থেকে হাল্কা এই সকল এফেক্ট ই একটি ছাপে দেখা যায়, যা দেখতে অনেক বাস্তবসম্মত
মনে হয়।
কম্বিনেশনঃ যেখানে একাধিক ধরনের জলছাপ প্রযুক্তি একসাথে ব্যাবহার হয়
হাইলাইট [Highlight watermark] বাঁ ইলেক্ট্রোটাইপ [Electrotype]ঃ বিশেষ করে
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (নোটের ডিনমিনেশন/মান, সিরিজ ইত্যাদি) যখন হাইলাইট করা হয়
কিন্তু তাও জলছাপের মাধ্যমে তখন এই প্রযুক্তি ব্যাবহার হয়। যদিও এতে কাগজ আরোও পাতলা
হয়ে যায় তবে ফলাফল খুবই স্পষ্ট।
পিক্সেল [Pixel watermark]: মাল্টি টোন এবং হালফ টোন
এফেক্টের মত অন্যান্ন বিভিন্ন প্রযুক্তির একত্রে
ব্যাবহারের মাধ্যমে ;সাধারণত পিক্সেলের মতো গাড় বিন্দু ব্যাবহার করে এই ধরনের আকর্ষক
জলছাপ ফুটিয়ে তুলা হয়। এই প্রযুক্তিতে নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব যা সুক্ষতার
অভাবে আগে সম্ভব ছিলো না।
কোডেড [Coded watermark]ঃ কোন কোন ক্ষেত্রে জলছাপে একটি ছবি ব্যাবহার না করে
বাঁ ছবি ব্যাবহারের পাশাপাশি কাগজে টান টান ছোপ ফুটিয়ে তোলা হয়,যা সাধারণত কাগজের মজবুতি
বাঁ মেশিন রিডেবল নিরাপত্তার জন্য ব্যাবহ্রিত হয়।
নোটের কোথায় জলছাপ আছে
সেটার ভিত্তিতে আরোও কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
সাধারন বাঁ সর্বত্রঃ কাগজের সব জায়গায় ই জল ছাপ থাকে
স্থানীয়ঃ নোটের একটি নির্দিষ্ট ধার্য কৃত জায়গায় থাকে
স্ট্রিপঃ একটি ব্যান্ডের মতো নোটের সম্পূর্ণ একদিক জুড়ে থাকে
কর্নার স্টোনঃ নোটের চারিদিকের চার কোনে থাকে,
এছাড়াও জলছাপ
[Watermark] কি ধরনের কাজ করছে তাঁর উপর ভিত্তি
করে একে আরও বিভিন্ন ভাবে বিশেষায়িত করা যায় যেমনঃ Window watermark, Parameter
watermark, Electrotype, ইত্যাদি।
জলছাপের
অসুবিধা সমূহঃ কাগজ খুব মজবুত
হলে জলছাপ ততটা ভালো ভাবে বসানো কঠিন হয়ে যায়। কাগজের মন্ড ভাল ভাবে পিষে বানানো হলে
সে মন্ডে ফাইবার ছোট হয়ে যায় ফলে জলছাপ বসানোর সময় ছোট ফাইবার গুলু এদিক সেদিক সরাতে
কোন সমস্যা হয় না ,কিন্তু অপরদিকে ফাইবার
ছোট হলে কাগজও দুর্বল হয়ে পড়ে। সে জন্য
জলছাপ দেয়া কাগজের জীবনকাল সাধারণত জলছাপ ছাড়া কাগজের চেয়ে কম। এজন্যই যেসব দেশে নোটে
পিন,স্টেপ্লার,সেলাই ইত্যাদি করা হয় ,তা অধিকাংশই জলছাপের জায়গায় এবং নোটের সবচেয়ে
দুর্বল স্থানও সেটাই হয়।
বাজারে সহজলভ্য কিছু ক্যেমিক্যেল
আছে যার মাধ্যমে জলছাপের কাছাকাছি ফলাফল লাভ করা সম্ভব,যদিও সুক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই
যায়।
আধুনিক সমাজের দ্রুত গতির
জীবনের সাথে জলছাপ নিরীক্ষণ একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া এতে হাতের অনেক বেশী
নারাচাড়া করার প্রয়োজন হয়।
তাছড়া এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ
ব্যাবহার করতে,নোট টি কে আলোতে ধরার প্রয়োজন,অতয়েব আবছায়া বাঁ অন্ধকার স্থানে এই প্রযুক্তি
প্রায় অচল।
জলছাপ যেহেতু কাগজের তৈরির
শুরুর দিকে বসানো হয় তাই এই প্রক্রিয়া পলিমার নোটের জন্য খাটে না,যদিও পলিমার নোটের
জন্য আজকাল স্যাডো ইমেজ [Shadow Image] নামে
অন্য একটি প্রযুক্তির ব্যাবহার দেখা যাচ্ছে।
সবশেষে, যেহেতু এটা কেবল
“ছাপ”, পূর্ণাঙ্গ “চিত্র” না যে পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠবে, তাই এ সত্বেও বাজারের আসাধু
চক্র অপরিস্কার প্রিন্ট কে জল বলে চালানোর চেষ্টা করে ই যাচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন