বেশীরভাগ ব্যাংক
নোট কটন এবং লিনেনের সমন্বয়ে তৈরি হলেও জাপানিজ ব্যাংক নোট তৈরি হয় ওয়াশি [Washi] থেকে।
অতয়েব অনেক ব্যাংক নোট থেকে জাপানী নোটের সাবস্ট্রেট আলাদা।
ওয়াশি শব্দের
অর্থ অনুবাদ করলে দাঁড়ায় জাপানি কাগজ। এর মূল উপাদান মিটসুমাতা [Mitsumata] নামে এক
প্রকার গুল্মের বাকল । কেবল যে একটি গাছের বাকল দিয়ে কাজ টা হয়ে যায় এমনটা কিন্তু না,বিভিন্ন
জাপানি কাগজের জন্য উৎপাদকরা বিভিন্ন ধরনের গুল্মের বাকল ব্যাবহার করে যেমন (মাল্বেরি,
গাম্পি)। আবার বিভিন্ন উৎপাদক তাঁদের কাগজের রসায়নের উপর ভিত্তি করে সেটা বিভিন্ন নামে
ট্রেডমার্ক ও করিয়েছে যেখানে কেবল তারাই সেই নাম ব্যাবহার করতে পারবে।
এই কাগজের তন্তু
অন্য কাগজের তন্তুর থেকে বড় হয়,যার ফলে একটা তন্তু অন্য একটা তন্তু কে খুব ভালো ভাবে
আঁকরে ধরে রাখে,ফলে সেই কাগজ নমনীয় হওয়ার পাশাপাশি আরও বেশী শক্ত হয়, (আপনি হয়তো পারচমেন্ট
পেপারের নাম শুনেছেন)।ভেতরে ফাইবার বেশী থাকার কারনে কোথাও লাগানোর জন্য এতে তুলনামুলক
কম আঠা প্রয়োজন হয়। আর একবার আঠা লাগানোর পর
সেটা খুলতে গেলেও এই কাগন শক্তিশালী হওয়ার কারনে ছেঁড়ার সম্ভাবনা কম।(সেটা হয়তো আপনি
আপনার কোন জাপানি চিঠি খুলতে গিয়ে খেয়াল করবেন)।এছাড়াও অনেকে তো এর পোকামাকড় নিরধী
গুনাগুনের জন্যও মনে করে যে একে সরকারি কাজে ব্যাবহার করা হয়। যারা কাগজ চেনেন তাঁরা
জাপানি ব্যাংক নোট ধরলে বুঝতে পারবেন যে এটা আলাদা।
সাধারন কাগজের
সাথে এর কি পার্থক্য?
সাধারন কাগজের
মূল উপাদান বৃক্ষ, এখানে মূল উপাদান গুল্ম। সাধারন কাগজে তন্তু গুলুকে ছোট ছোট করে
কেটে ফেলা হয়, এখানে তন্তু গুলুকে ছোট করা হয় না। ছোট তন্তুর কারনে সাধারন কাগজ সহজে
ছিঁড়ে যেতে পারে, বড় তন্তু থাকার কারনে এই কাগজ সহজে ছিঁড়ে না। সাধারন কাগজে তৈরির
বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যাবহার হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া অনেকটাই যান্ত্রিক,
এখানে জবা ফুলের কষ ব্যাবহার করে আপনিও চাইলে ঘরে এই কাগজ বানাতে পারবেন। সাধারন কাগজ
যে কোন আবহাওয়ায় উৎপাদন করা যায়, এই গুল্মের বাকল যেন পচে না যায় তাই এই কাগজ সাধারণত
ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বানানো হয়।
এই ধরনের কাগজের
আবিস্কারের পেছনে অন্যতম একটি কারন জাপানি গরম আবহাওয়া এবং আদ্রতা,তাছাড়া অনেক আগে
কাগজ তৈরি করাও ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম হিসাবে ধরা হতো কেননা এটা প্রধানত
ইশ্বরের বানী লেখার কাজে লাগত। তারপর অভিজাত সমাজের লোকেররা এর ব্যাবহার শুরু করে সাহিত্য
এবং চিত্র কর্মের জন্য। বর্তমানে জাপানে প্রথাগত জাপানি কাগজের বহুল ব্যাবহার লক্ষনীয়।
দরজা, পর্দা, বই,হাতপাখা, র্যাপিং পেপার থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যেখান তাঁদের
স্থানয়ীয় এই কাগজের ব্যাবহার দেখা যায় না। আপনি কোন জাপানি টিভি সিরিজ বাঁ সিনেমা দেখলে
সেটা খেয়াল করবেন। অতীতে এই কাগজ তৈরির বেশিরভাগ ধাপ ই হাতে সম্পন্ন করা হতো তাই ধীরে
ধীরে এই শিল্পে লোক ধাটতি দেখা যাচ্ছে।
জাপানি ব্যাংক
নোট পাওয়া যাওয়া বর্তমান নিরাপত্তা সূচক সমূহঃ
ইন্টিগ্লিও
প্রিন্টিং,টেক্টাইল মার্ক, ওয়াটার মার্ক, ওয়াটার মার্ক বার প্যাটার্ন,হলোগ্রাম, ল্যটেন্ট
ইমেজ,পার্ল প্রিন্টিং, পার্ল ইঙ্ক,কালার শিফটিং ইঙ্ক, মাইক্রো প্রিন্ট, লুমিনিসেন্ট
ইঙ্ক ইত্যাদি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন