দর্শন বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন এর সময়কালে, একটা সময়ে ইংল্যান্ড এর হেরিটেজ অকশন হাউজের সাথেও কাজ দেখার সুযোগ হয়েছিলো। সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।
যেভাবে ভিডিও সেল দুইভাবে হতে দেখেছি- অকশন এবং সরাসরি বাই। সাধারন অকশন এর আবার দুটি প্রধান প্রকরন আছে - আবদ্ধ নিলাম, উন্মূক্ত নিলাম।
বাংলাদেশের নিউমিস্মেটিক এবং ফিলাটিলিক বাজারে আমি উন্মূক্ত নিলাম ই বেশী দেখে যাচ্ছি। কিন্তু খেয়াল করার বিষয় এই যে অ একেই আবদ্ধ/গোপন নিলাম পছন্দ করেন,যেখানে কে বিড করছে তা জানা যাবে না। কেবল আউটবিড নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে এবং নতুন বিড করা যাবে। বহির্বিশ্বে আবদ্ধ নিলাম গুলুই বেশী আকর্শন পায়।
পরামর্শঃ
✔️ব্রকগ্রাউন্ডে বিড স্ল্যাব লিখা রাখা ।
✔️বিড প্রতি কমপক্ষে ১৫ সেকেন্ড স্ল্যাব রাখা ভালো।কোন বিড না পড়লে পরবর্তী আইটেম এ যাওয়া যাওয়াই উত্তম এবং বিড পরলে সেটার ই ৩ বার কল করার পর হ্যামার করা উচিৎ।
✔️আইটেম কে যেনো ক্রেতারা ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করতে পারে সেটা নিলামকারীর কর্তব্য।
🤙অকশন বা নিলামের কিছু নীতি আছে যা আমাকে শিখতে হয়েছিলো যেমনঃ সততা,সম্মান,গোপনীয়তা, আনুগত্য,সম্মতি, বিশ্বস্ততা এবং পেশাদ্বারিত্ব।এই গুন গুলু একজন সফল নিলামকারীর মধ্যে থাকতেই হবে। যার জন্য লেখাপড়া করর NAA এর মেম্বারশিপ আবেদন করেও আমি পাই নি।
পেশাদ্বারীত্ব বলতে -একজন অকশনিয়ার হিসেবে "অনেক কমে চলে যাচ্ছে", "এখনো কেনা ই উঠে নি"," আরে ভাই আরও বাড়ান" এইসব আনপ্রফেশনাল উক্তি ব্যাবহার করা উচিৎ না। একজন অকশনিয়ার নিরপেক্ষ হয়। নিলামকারীর পরিচিত বা পরিবারের লোক নিলামে অংশগ্রহণ করলে তা আগেই প্রকাশ করা হয়ে থাকে। তাই নিলাম কারীকে নিরপেক্ষ হতে হয়।
জালিয়াতি, ভূল তথ্য উপস্থাপন, অন্যের প্রডাক্ট বা দাম এর উপর উক্তি করা ইত্যাদি থেকে অনেক দূরে থাকা উচিৎ। কেননা এগুলু একজন নিলামকারীর দ্বায়িত্বের ভেতর পড়ে।
✔️নিউট্রাল ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যাবহার করা উচিৎ যেনো প্রডাক্ট কালার এবং ত্রুটির সহজে বুঝা যায়।
✔️যেহেতু আইটেম আগে থেকে দেখে চয়েজ করার সুবিধা বায়ার রা পাচ্ছে না তাই যে কোন আইটেম বিবরনি তে নিচের গুলু থাকা উচিৎ।
প্রডাক্ট কন্ডিশন এবং ত্রুটির(যদি থাকে)
নোটের মটিফ এর বিবরনি (কে বা কি আছে)
দেশের নাম
ক্যাটালগ নাম্বার
সাল
সেই দেশের লোকেশন
নোটের সিকিউরিটি ফিচার
থিম বৈশিষ্ট্য যদি থাকে (ডেনো, ওমেন, ব্রিজ, মিউজিক ইত্যাদি)
প্রতিটি নিলামের একটি কন্টিজেন্সি প্ল্যান থাকে যে কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং তারা টাকা না দিলে কি করা যায়। প্রত্যেকে অংশগ্রহণ কারীর KYC নেয়া এবং সেই মোতাবেক তাদের একটা ক্রেডিট রেটিং এর আওতায় ফেললে নিলাম সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।
✔️এছাড়াও যদি সম্ভব হয় তাহলে ক্রেতারা, এই টাইপের আইটেম আগে কতো তে বিক্রি হচ্ছে এবং বর্তমানে কতো তে বিক্রি হচ্ছে তা কোথায় দেখার ব্যাবস্থা রাখলে তা ভালো হয়। কিন্তু ফেসবুকে শিশুসুলভ সিস্টেমের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। এজন্যই সবাইকে বর্তমানে এই সকল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্লাটফর্ম www.trust-collector.com ব্যাবহার করতে উদবুদ্ধ করি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন