জুলাই ১৭, ২০২২

চুরি প্রতিরোধ [Temper proof posting/Anti theft shipment]

চুরি প্রতিরোধ করতে আপনাকে টেম্পার রেসিস্টেন্ট প্যাকেজিং ব্যাবহার করতে হবে। যেন চোরের কষ্ট তো হয় ই সাথে সাথে চুরি হলে তাঁর যাথেষ্ট আলামত থেকে যায়।

আর প্রতিকার পেতে আপনাকে টমম্পার প্রুফ প্যাক্যেজিং ব্যাবহার করতে হবে,কিন্তু সেটা বেশ ব্যায় সাপেক্ষ এবং সস্তা মূল্যের আইটেমের জন্য যথাযথ বিকল্প নয়। তাই টেম্পার রেসিস্টেন্ট প্যাকেজিং এর সাথে সাথে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কেন্দ্রীয় ফিডব্যাক সিস্টেমের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষীয় ফিডব্যাক দিলে পরবর্তী ক্রেতা বিক্রেতা রা সেটা দেখে যাচাই করতে পারে। তাছাড়া কিভাবে পোষ্ট করা হয়েছে তাঁর ছবি দিয়ে দিলে বায়ার সেটা দেখে ই প্রডাক্ট রিসিভ করতে পারে। সেই সকল ব্যাবস্থা ট্রাষ্ট কালেক্টর মার্কেটপ্লেসে আছে।

হেরিটেজে শিক্ষানবিশ থাকাকালীন দেখেছি যে তাঁরা বিশেষ টেম্পার প্রুফ এবং টেম্পার রেসিস্টেন্ট প্যাকেজিং ব্যাবহার করে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারের জন্য হয়তো অনেকই সেই খরচ করেন না। তাই আমি সহজে টেম্পার রেসিস্টেন্ট নীতিমালা গুলু ব্যাবহার করে একটি প্যাকেজিং স্ট্যাইল দেখাচ্ছি যা চাইলে ব্যাবহার করতে পারেন।

ধাপ ১-  আইটেম কে তাঁর চেয়া বড় পাউচ/পলি তে নেবেন। এবং কার্ডবোর্ড/হার্ড পেপার নেবেন।

ধাপ ২- পলিতে আইটেম ঢুকাবেন এবং মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ করবেন (*)।

ধাপ ৩ - চিকন এবং পাতলা সেলোটেপ নেবেন (*) ।

ধাপ ৪- আইটেম যেনো হার্ড পেপারের ভেতর থাকে এভাবে রাখবেন।

ধাপ ৫- আইটেমের চারিদিকে টেপ দিয়ে সেটাকে হার্ড পেপারের সাথে লাগিয়ে দেবেন (*)

ধাপ ৬- পলির মুখ ভাল ভাবে হার্ড পেপারের সাথে টেপ দিয়ে লাগিয়ে দেবেন (*)

ধাপ ৭-একটি খাম বাঁ এমন কাগজ নেবেন যেটা দিয়ে আপনার হার্ড পেপার টি মুড়িয়ে রাখা যায়।

ধাপ ৮- আঠা নেবেন

ধাপ ৯- আঠাকে হার্ড পেপারের পেছনের দিকে ভালো করে লাগাবেন।

ধাপ ১০- এবার হার্ড পেপার টি নোট সহ সেই খাম বাঁ কাগজী আবরিনীর ভেতরে ঢুকিয়ে ভালো করে চাপ দিন যেনো তা (*)

ধাপ ১১- এবার সেই খাম/কাগজী আবরণীর দুই দিকে ভালো করে আঠা লাগান।

ধাপ ১২- যে ফাইনাল খামে এই সব ঢুকাবেন সেটি হাতে নিন এবং ঠিকানা লিখে নিন যা ধাপ নং ১৬ তে আছে।

ধাপ ১৩- দুই দিকে আঠা লাগানো খাম/কাগজী আবরনী টি এবার আপনার  ফাইনাল খামে ঢুকান এবং খালি স্থানে হাল্কা আঠা দিয়ে দিন (*) ।

ধাপ ১৪- ফাইনাল খাম টি কে ভালো করে চাপ দিন যেনো আঠা ভালো ভাবে দুই দিক কে চেপে ধরে রাখে। চেক করুন যে ফাইনাল খামের মুখ আগের মতো আর খোলা যাচ্ছে না।

ধাপ ১৫- ফাইনাল খামের মুখ বন্ধ করুন আঠা দিয়ে। দেখেবন যে আঠার আদ্রতার জন্য খামের উপর এবড়ো থেবড়ো হয়ে আছে। সেটি ভালো

ধাপ ১৬- খামের উপর যথাযথা স্থান তৈরি করে প্রেরক এবং প্রাপকের ঠিকানা মোবাইল নাম্বার সহ ভিন্ন কালিতে লিখুন (যেনো সেটা সহজেই কপি না করা যায়)। এছাড়া অন্য কোথাও কিছু লিখবেন না।

ধাপ ১৭- খামের চারিদিকের পরিধি বরাবর পাতলা সেলোটেপের একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করুন।

ধাপ ১৮- টিকেট লাগালে লাগান সেলোটেপের বাইরে। দুইদিকের ছবি তুলে পোর্টালে দিয়ে দিন যেনো বায়ার সেই রকম হলেই ফাইনাল খাম এক্সেপ্ট করে।

 

(*)= যেনো খুলতে সময় লাগে বাঁ খুলতে গেলে নষ্ট হয়ে যায়।

চুরি প্রতিরোধে সেলারের যেমন ভুমিকা আছে,তেমনি বায়ারের ও ভুমিকা আছে। আপনারা স্ব স্ব ভুমিকা পালন না করলে কেউ এর প্রতিকার আনতে পারবে না। আমি যেভাবে দেখালাম সেটি হচ্ছে তেম্পার রেসিস্টেন্ট প্যাকেজিং এর বিশিষ্ট। আপনি এভাবে করলে আইটেম চুরি করা চোরের জন্য কষ্ট সাধ্য এবং চুরি হলে আপনি বুঝতে পারবেন তা গ্রহন করার আগেই কারন ফাইনাল খাম নষ্ট না করে আইটেম বের করা প্রায় অসম্ভব। আমার এই প্রস্তাবনা টি আন্তর্জাতিক ব্যাংক নোট সোসাইটি দ্বারা প্রশংসিত। আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এভাবে বাঁ এর উন্নততর প্রকরন ব্যাবহার করে প্যাকেজিং করে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকের ই এই গাইডলাইন টি  দরকার কিন্তু তাঁদের মুখ খুলে জিজ্ঞাস করার অভ্যাস নেই তাই লিখতে বাধ্য হলাম।

এগুলুর মধ্যে আমি “কেনো” প্রশ্নের উত্তর দেই নি। সেগুলু জানতে কমেন্টে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। এই প্রসেস কে আরো রিফাইন ভাবে দিতে পারতাম কিন্তু সরল রাখার চেষ্টা করেছি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন