মরিটেনিয়াঃ
নাম শুনেছেন? তবে বলি,এটা আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর পশ্চিম
অংশে,আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী একটি স্বাধীন সারবভৌম দেশ।যার সম্পূর্ণ নাম ইসলামিক
রিপাব্লিক অফ মরিটেনিয়া। তাঁরা ফ্রান্স থেকে ১৯৬০ সালের শেষের দিকে স্বাধীনতা লাভ করে,এবং
২৮ নভেম্বরে তাঁদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে।
২০১৭ সালে তাঁদের অর্থনীতি তে আবার এক অভুথ্যান আসে যার ফলে
তখন ২০১৮ সালে আবার নতুন ভাবে বাজারে নোট ছাড়া হয় এবং আগের নোট কে এক শুন্য কম মূল্যমানের
বলে ঘোষণা করা হয়। যেমন পুরোনো ১০০ এর নোটকে ব্যাঙ্কে দিলে ব্যেঙ্ক নতুন ১০ ফেরত দিত।
সরকারি তথ্যমতে তাঁরা মুদ্রার শক্তিকে সমুন্নত রাখা,অর্থ
জালিয়াতি প্রতিরোধ করা, মানুষের হাতে থাকা অর্থ কমিয়েআনা ইত্যাদি দিক ভেবে এই পদক্ষেপ
নিয়েছিলো কিন্তু বাজারে কানাঘুষা আছে যে মুদ্রাস্ফীতি এই কঠিন পদক্ষেপের মূল কারন।
এই নতুন পলিমার ব্যাংক নোট নিয়ে আসার পদক্ষেপের কারনে তাঁদের ইন্টারন্যাশেন্যাল মনিটরি
ফান্ড [IMF] থেকে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে হয়েছিলো। যা আন্তর্জাতিক বাজারে কাচা
লোহার চাহিদার কমতির কারনে আরও বেশী চাপ তৈরি করেছে।
সমুদ্রতীরবর্তী হওয়ার পাশাপাশি সাহারা মরুভূমিরও বেশ খানিকটা
এই দেশে পড়েছে। তাই এই দেশকে মরুময় খনিজ দেশ বললে ভুল হবে না।
প্রাকৃতিক খনিজের অধিক্য থাকার পরেও এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ
কৃষি কাজ,গবাদি পশু পালন ইত্যাদি করে জীবিকা নির্বাহ করে। মাছ,মাছের তেল,শামুক জাতীয়
প্রাণী, তামা,ডায়মন্ড,খনিজ তেল, ইত্যাদি রপ্তানির পাশাপাশি তাঁরা প্রচুর স্বর্ণ এবং
লোহা রপ্তানি করে। তারপরও জানলে আশ্চর্য হবেন যে তাঁরা এখনো নিন্ম মধ্যবিত্ত অর্থনীতির
দেশ।
এখানে আমি যা যা বললাম তাঁর ছাপ আপনি তাঁদের ব্যাংক নোট,কয়েন
এবং ডাক টিকেটেও দেখতে পাবেন।
রাজধানীঃ নোয়াকচত
মূদ্রার নামঃ ওইগ্যায়া [Ougiya]
ISO: ৪২১৭
চিহ্নঃ UM
প্রধান ভাষাঃ আরবি,ফ্রেন্স,ইংলিশ
প্রধান ধর্মঃ ইসলাম
জনসঙ্খ্যাঃ প্রায় ৩০ লক্ষ
বর্তমান চলতি নোট গুলু হচ্ছেঃ৫০,১০০,২০০,৫০০ এবং ১০০০। গার্ডিয়ান
পলিমারে তৈরি তাঁদের এই নোট গুলু কানাডিয়ান ব্যাংক নোট কোম্পানি (CBN) থেকে ছাপানো
শুরু করে ২০১৪ সালে কেবল ১০০০ এর নোট দিয়ে। তারপর যখন ২০১৭/২০১৮ তে অর্থনৈতিক পুনরঘঠন
হয় তখন সকল নোট ই পলিমারে ছাড়া হয়।
আরও জানতেঃ ইতিহাস থেকে জানা
যায় , ১১ শতকের দিকে সুদানে যখন ইসলামের প্রচারনা তুঙ্গে ছিলো তখন মধ্য যুগীয় সাহারা
পরবর্তী দাস প্রথার হাত ধরে মরিটেনিয়াতে ইসলামের বিস্তার ঘটতে থাকে। একই সাথে আরব্যকরন
ঘটতে থাকে।
১৯শতকের দিকে ইউরোপিয়ান পরাশক্তির এই জায়গায় প্রতি বিশেষ
কোন মোহ না থাক্লেও,ফ্রান্স যখন চিন্তা করে যা উত্তর এবং দক্ষিন আফ্রিকার মাঝ খানে
ঘাটি জমানোর এটা একটা ভালো যায়গা কারন তাঁদের ইতিমধ্যেই উত্তর এবং দক্ষিন আফ্রিকাতে
উপনিবেশ স্থাপিত ছিলো। দেশটি ২০০৫ থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি অভ্যুথানের মধ্যে দিয়ে
গিয়ে আজকের অবস্থায় পৌঁছেছে। একটি বিশেষ কারনে মরিটেনিয়াকে আফ্রিকার
চোখও বলা হয় দাস প্রথা বিলুপ্ত হওয়া দেশ গুলুর মধ্যে এটি সবশেষের দেশ গুলুর মধ্যে একটি।
তাঁর কিন্তু G 20 এর অথিতি রাষ্ট্র।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন